০৫:৪৩ এম
রক গানের অনুষ্ঠান বিভিন্ন উপায়ে সমাজ সংক্রান্ত বার্তা বহন করে। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ‘ফসিল্স’-এর তিন ঘণ্টার অনুষ্ঠানও এর বাইরে রইল না।
গানে প্রতিবাদ হবে। সুরে প্রতিরোধ। এটি একটি নতুন বিষয় নয়। তবে বিভিন্ন সময়ে এর গুরুত্ব এক এক রকম হয়ে থাকে। যখন গানে এটি উঠে আসে তখন ঠিক যেমন হওয়া উচিত! রক গান এই ধরনের কাজ করেছে দেশ-বিদেশে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, বাংলাতেও এটি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
বর্তমান সময়টি অন্যরকম। একে রাজনৈতিক পালাবদল রাজ্যে। তার উপরে আবার যুদ্ধ চলছে। বড় এই দেশে ‘ফরফরানি’-র অন্ত নেই। সম্প্রতি একটি মঞ্চে ‘আরশোলার ফরফরানি’ থেকে ‘পচা ডিম’-এর গন্ধ সবগুলোই গানের ফাঁকে ফাঁকে উঠে এসেছিল। যুদ্ধ-জর্জরিত সময়ে বার্তা গিয়েছে, জয় করার জন্য ভালবাসার চেয়ে বড় কিছু হয় না।
আরও পড়ুন: জয়ের বাবার সঙ্গে স্পিকারের পুরোনো ছবি, ভক্তদের মন্তব্য ‘এবার জমি নিশ্চিত’
রূপমের ‘রাজনৈতিক খোঁচা’ও নিজস্ব চিত্র তুলে ধরে।
সময়টা যেমনই হোক, শিল্প সেই ছবিটি তুলে ধরছে। এটি বহু মানুষের প্রত্যাশা। বিভিন্ন সময় দেখা গেছে রক সঙ্গীত এমন দায়িত্ব আরও বেড়ে নিয়ে পালন করছে। বিদেশে ‘দ্য বিটল্স’, ‘দ্য রোলিং স্টোনস্’, ‘পিঙ্ক ফ্লয়েড’ হোক, কিংবা বাংলার ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’— রক গানের অনুষ্ঠান এইভাবে সমাজ সংক্রান্ত বার্তা বহন করতে থাকে। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ‘ফসিল্স’-এর তিন ঘন্টার অনুষ্ঠানও এর ব্যতিক্রম নয়।
বাংলায় রক সঙ্গীত তৈরির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত রূপম ইসলামের কণ্ঠে কখনও তাঁদের বহু পরিচিত ‘হাসনুহানা’ ছিল, আবার শোনা গিয়েছিল সাম্প্রতিক অ্যালবামের ‘শুনেছি’। ভালবাসার গান হোক বা বিপ্লবের, প্রেক্ষাপট বদলানোর সঙ্গে নতুনভাবে গানের অর্থ তৈরি হয়। এই ব্যান্ড বিভিন্ন সময়ে তা স্পষ্ট করেছে। রবিবারের অনুষ্ঠানে বার বার ফিরে আসা গানের মাধ্যমে রাজনীতি, সমাজ নিয়ে এই রক-ব্যান্ডের বহুবিধ বার্তা উঠে এল।
প্রায় প্রতিটি গানের আগে মঞ্চ থেকেই যেন স্বভাবজাত কঠিন বার্তা দিতেন রূপম। বাদ্যযন্ত্রে সঙ্গ দিচ্ছিলেন দলের অন্যান্য সদস্যেরা। রূপম একটি মজার ছলে নিজের গানের সঙ্গে পারফরম্যান্সে তুলনা টানলেন ‘আরশোলার নৃত্য’- এর। এ সময়ে এ দেশে যা কিছু আলোচ্য, তার অনেক কিছুরই ইঙ্গিত কথায় কথায় ধরা রইল।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
সম্প্রতি তাঁদের দলের অ্যালবাম ‘ফসিল্স ৭’ মুক্তি পেয়েছে। এর পর থেকেই সেটি নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। এর সাফল্য উদ্যাপন করতে উঠে পড়েছে ইন্ডাস্ট্রি। তার পর এমন একটি অনুষ্ঠান করা হলো ওই দলের। সাধারণ দর্শকের ভিড়ে দেখা গেল অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও। চেয়ার ছেড়ে উঠে কখনও রূপমের ‘ডিলিট করছি তোমার এসএমএস’-এর সঙ্গে গলা মেলালেন উষশী, বিবৃতিরা। দেখা গেল সাহেব-সুস্মিতাকেও। কখনও আবার ‘হাসনুহানা’ গানে রূপমের কায়দায় মাথা ঝাঁকালেন অভিনেতা অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়। সব মিলিয়ে বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় ‘ফসিল্স’-এর ভক্তেরা ফিরে গেলেন রক-উদ্যাপনের অভ্যাসে। আর শহর দেখল, চারপাশ-সমকাল-সমাজ কীভাবে ধরা পড়ে রক গানের ছন্দ-কথায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন