ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে গাড়ি রপ্তানির জন্য নতুন চুক্তি


পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে গাড়ি রপ্তানির জন্য নতুন চুক্তি

পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে গাড়ি রপ্তানির লক্ষ্যে এমজি জেডব্লিউ অটোমোবাইল পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের র‌্যানকন গ্রুপের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

পাকিস্তানের শিল্প ও উৎপাদন মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা গেছে যে, এ চুক্তির আওতায় চলতি বছরের মধ্যে বাংলাদেশে ১০০টি গাড়ি রপ্তানি করা হবে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাচ্ছেন

আগামী চার বছরে মোট ৫ হাজার ৮০০টি গাড়ি রপ্তানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এ অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের গাড়ির বাজারে নতুন মডেলের যানবাহন যুক্ত হবে। প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং ক্রেতারা প্রতিযোগিতামূলক দামে আরও বেশি বিকল্প পাবেন।

একই সাথে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার হবে এবং দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হবে।

সমঝোতা সই অনুষ্ঠানে র‌্যানকন গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রশীদ ভূঁইয়া বলেন, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের অটোমোবাইল খাতে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে।

আরও পড়ুন: জামায়াত আমিরের বক্তব্যে মানুষ হাসি-তামাশা করছে: রাশেদ খান

এছাড়া, পাকিস্তানে উৎপাদিত উচ্চমানের গাড়ি বাংলাদেশের ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও উৎপাদনবিষয়ক বিশেষ সহকারী হারুন আখতার খান এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের অংশীদারত্ব বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে।

এবং এই চুক্তি দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করবে।

অনুষ্ঠানে দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সরকারি প্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: সোনাতলা গ্রামে বাঘের পায়ের ছাপ ঘিরে আতঙ্ক, সতর্ক করতে মাইকিং

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিজেই গাড়ি চালিয়ে ঢাকায় নাগরিক সেবার কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১১ এম


নিজেই গাড়ি চালিয়ে ঢাকায় নাগরিক সেবার কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বিভিন্ন এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বৃক্ষরোপণ, সবুজায়ন এবং পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ধরনভেদে কিছু বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনকে সাথে নিয়ে এ পরিদর্শনে বের হন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে গুলশানের বাসভবন থেকে যাত্রা শুরু করে সরকারপ্রধান রাজধানীর ইসিবি চত্বর, মিরপুর ডিওএইচএস, দিয়াবাড়ি, উত্তরা, বিমানবন্দর সড়ক, মহাখালী, ফার্মগেট, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, মিরপুর, কচুক্ষেত, ক্যান্টনমেন্ট, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন। পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যায় তিনি বাসভবনে ফিরে যান।

এছাড়া, পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বৃক্ষরোপণ, সবুজায়ন, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা এবং নগর ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন। বিভিন্ন স্থানে সমস্যা চিহ্নিত করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নগরসেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন।

এছাড়া উল্লেখযোগ্য যে, এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতেও ঢাকার সড়ক পরিদর্শন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চরকাউয়ার কর্ণকাঠিতে গোপন আস্তানা বানিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকাণ্ড ও নাশকতার ছক: নেপথ্যে ছাত্রলীগ নেতা শাওন ও সাবেক মেম্বার কালাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল:

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৪৯ এম


চরকাউয়ার কর্ণকাঠিতে গোপন আস্তানা বানিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকাণ্ড ও নাশকতার ছক: নেপথ্যে ছাত্রলীগ নেতা শাওন ও সাবেক মেম্বার কালাম

বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কর্ণকাঠি এলাকায় গোপন আস্তানা বানিয়ে নাশকতার পরিকল্পনা এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকের অনুসারী শাওন খাঁ এবং তার চাচা, সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর অনুসারী সাবেক ইউপি সদস্য (মেম্বার) কালামের নিয়ন্ত্রণে সেখানে এই অপতৎপরতা চলছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রাপ্ত অভিযোগে জানা যায়, সাবেক মেম্বার কালাম ও তার ভাতিজা শাওন খাঁ কর্ণকাঠি এলাকার একটি গোপন আস্তানায় বসে নিয়মিত সরকারবিরোধী ও নিষিদ্ধ সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। কালাম মেম্বার ছাত্রলীগ নেতা শাওনকে অর্থ জোগান ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই অর্থ দিয়ে শাওন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের চরকাউয়ার কর্ণকাঠিতে একটি গোপন আস্তানায় দাওয়াত দেওয়ার নামে একত্রিত করে নাশকতার পরিকল্পনা ও নিষিদ্ধ সংগঠনের সামাজিক-রাজনৈতিক তৎপরতা চালায়।

শুধু তা-ই নয়, স্কুলপড়ুয়া কোমলমতি ছাত্রদের অর্থের লোভ দেখিয়ে নানা কৌশলে নিজেদের দলে ভেড়ানোর অভিযোগ উঠেছে শাওনের বিরুদ্ধে। সুযোগ বুঝে খুব ভোরে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন গলিপথে আচমকা ঝটিকা মিছিল বের করে চাঞ্চল্য তৈরি করে তারা। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে বন্দর থানা পুলিশ এখন পর্যন্ত তাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশকে ম্যানেজ করেই তারা অবাধে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন প্রসঙ্গে চরকাউয়া ইউনিয়নের এক বিএনপি নেতা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, "জুলাই ও আগস্ট মাসে কালাম মেম্বার এবং তার ভাতিজা শাওন সাধারণ ছাত্র-জনতার ওপর সরাসরি হামলা চালিয়েছে। তারপরও আমাদের দলের কিছু নেতার অনাকাঙ্ক্ষিত আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।"

তিনি আরও জানান, বর্তমানে রাজ্জাকের অনুসারী শাওন ও তার চাচা কালাম মেম্বার যেকোনো কর্মসূচির আগে বিভিন্ন এলাকা থেকে তরুণ ও কিশোরদের ভাড়া করে এনে কর্ণকাঠিতে গোপন আস্তানায় জড়ো করে। সেখানে নাশকতার পরিকল্পনা ও নিষিদ্ধ সংগঠনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। বিষয়টি ইতোমধ্যেই বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করা হয়েছে এবং অতি দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কর্ণকাঠি এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মশিউর রহমান জানান, "শাওন খাঁ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত—বিষয়টি আমরা জানি। তবে সে যে আস্তানা বানিয়ে গোপন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তা সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারলাম। আমরা অভিযান পরিচালনা করে যেকোনো মুহূর্তে তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনবো।"

সার্বিক বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, তাদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও ছাত্র-জনতার ওপর হামলার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে এবং যেকোনো সময় তাদের গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বালুবোঝাই ট্রাকের নিচে মোটরসাইকেল, নিহত ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:০৯ এম


নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বালুবোঝাই ট্রাকের নিচে মোটরসাইকেল, নিহত ২

রাজশাহীতে একটি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বালুবোঝাই ট্রাকের নিচে পড়ে দুজনের প্রাণহানী ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের অপর আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এই ঘটনার প্রকৃতি শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটে। ঘটনাস্থল ছিল মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট ডিগ্রি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে, রাজশাহী-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে।

নিহতদের তালিকায় রয়েছে কেশরহাট পৌর এলাকার সাকেয়া গ্রামের রফিজ উদ্দিনের ছেলে কাইয়ুম ইসলাম রাতুল (১৮) এবং পৌর এলাকার সিংহমারা গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে লিমন (২২)। আঘাতপ্রাপ্ত স্বাধীন (২২) অভিযানের সময় আহত হন। তিনি নিহত রাতুলের বড় ভাই।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তিন যুবক একটি মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন। সেই সময় মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নওগাঁর দিক থেকে আসা রাজশাহীগামী বালুবোঝাই ট্রাকের নিচে পড়ে যায়। এর ফলে ঘটনাস্থলে দুজনের মৃত্যু হয় এবং একজন গুরুতর আহত হয়।

পরে স্বাধীনকে উদ্ধার করে প্রথমে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। এছাড়াও ট্রাকটি জব্দ করেছে পুলিশ এবং থানায় নিয়ে গেছে।

মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান এই বিষয়ে বলেছেন, "এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তীব্র গরমে বছরে ১৮০ কোটি ডলার ক্ষতি বাংলাদেশের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:১২ এম


তীব্র গরমে বছরে ১৮০ কোটি ডলার ক্ষতি বাংলাদেশের

বাংলাদেশে তীব্র গরমের কারণে শ্রমের উৎপাদনশীলতা মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিপুল কর্মঘণ্টাও নষ্ট হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে তাপপ্রবাহের কারণে দেশের অর্থনীতির আনুমানিক ১৩০ কোটি থেকে ১৮০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতি হবে। আর এটি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ০.৩ থেকে ০.৪ শতাংশের সমান।

‘আ লিভেবল ফিউচার : প্রটেক্টিং জবস অ্যান্ড গ্রোথ ফ্রম এক্সট্রিম হিট ইন সাউথ এশিয়াস সিটিজ’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে দেশের রাজধানী ঢাকা। তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে প্রতিবছর ঢাকায় মোট কর্মঘণ্টার প্রায় ৩ শতাংশ কার্যকরভাবে নষ্ট হচ্ছে, যা চার লাখ ৬৫ হাজার পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান বা চাকরির সমপরিমাণ।

বিদ্যমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে ২০৮০ সালের মধ্যে এই ক্ষতির পরিমাণ অর্ধেকেরও বেশি বাড়বে। তখন ঢাকা শহরের মোট উৎপাদনশীল কর্মঘণ্টার প্রায় ৭.৪ শতাংশই চরম গরমের কারণে নষ্ট হবে।

গত ২৯ জুলাই প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, দিনের তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করলে উৎপাদনশীলতার ক্ষতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।

প্রতিবেদনটিতে শুধু যে বাংলাদেশকে নিয়ে করা হয়েছে তা কিন্তু নয়, ভারত, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কা জুড়ে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা কীভাবে শ্রমিক, ব্যবসা, অবকাঠামো, জনসেবা এবং নগর অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে তাও খতিয়ে দেখা হয়েছে।

২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় ২৮০ মিলিয়ন কর্মক্ষম মানুষ যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে, তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য এই দেশগুলোর শহরগুলোকে চরম তাপ থেকে রক্ষা করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য চরম গরম একটি বড় হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। চরম গরমের কারণে এই অঞ্চলে প্রতি বছর প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থার যদি কোনো পরিবর্তন না ঘটে, ২০৫০ সালের মধ্যে এটি দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিকে প্রায় ৭ শতাংশ কমিয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে আরও বলা হয়েছে, ২০৭০ সালের মধ্যে, প্রায় ৫২ কোটি মানুষ প্রতি বছর অন্তত এক মাস বিপজ্জনক তাপপ্রবাহের সম্মুখীন হতে পারে, যা আজকের তুলনায় চারগুণ বেশি।

প্রতিবেদনটিতে পূর্বাভাসে এটাও উঠে এসেছে যে ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে ২৮ কোটি কর্মক্ষম মানুষ শ্রমবাজারে যুক্ত হবেন। ঠিক সেই সময়ে তীব্র তাপমাত্রা কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশন (আইএফসি) ও কর্নেল ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউটের যৌথ বিশ্লেষণের তথ্য উদ্ধৃত করে বিশ্বব্যাংক জানায় যে, তাপজনিত কারণে কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার এই সংকট সমাধান না হলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার পোশাক খাত ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৬ হাজার ৫৮০ কোটি ডলারের রপ্তানি আয় হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে। তবে বিশ্বব্যাংক মনে করে, সঠিক ও লক্ষ্যভিত্তিক অর্থায়নের মাধ্যমে এই সংকট কাটানো সম্ভব। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ ও পানির সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং কারখানার পরিবেশ উন্নত করতে ২০১৬ সালে সরকার গঠিত ‘গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড’ অল্প কয়েকটি কারখানা থেকে শুরু হয়ে আজ পুরো খাতজুড়ে ইতিবাচক রূপান্তর এনেছে।

‘গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতে তাপজনিত মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। আর শ্রীলঙ্কায় এই মৃত্যুর হার বেড়েছে প্রায় চার গুণ।

প্রতিবেদনটিতে জোর দিয়ে বলা হয়, চরম গরম ইতোমধ্যেই শ্রম উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে এবং এ অঞ্চলের শহরগুলোর প্রতিযোগী সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও জাতীয় অবকাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এর সবচেয়ে ভয়াবহ শিকার হচ্ছেন নিম্নআয়ের পরিবার, অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক, নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষ।

প্রতিবেদনটিতে তাপ সহনশীলতাকে একটি মৌসুমী জরুরি অবস্থা হিসেবে না দেখে উন্নয়নের একটি মূল অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করার আহবান জানানো হয়েছে। এতে এমন কিছু বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে যা সরকারগুলো বিদ্যমান প্রতিষ্ঠান ও অর্থায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রহণ করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে তাপ-সহনশীল অবকাঠামোতে বিনিয়োগ, তাপ কর্ম পরিকল্পনা ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমিকদের সুরক্ষা, টেকসই শীতলীকরণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ একত্রিত করা।

দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলো ইতোমধ্যেই প্রমাণ করছে যে, এই সমাধানগুলোর অনেকগুলোই জীবন বাঁচাতে, জীবিকা রক্ষা করতে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি কমাতে পারে। এগুলো ব্যাপক প্রয়োগ এই অঞ্চলকে আরও সহনশীল, প্রতিযোগিতামূলক এবং বাসযোগ্য শহর গড়তে সাহায্য করতে পারে, পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগও সুরক্ষিত রাখতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%