ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বালুবোঝাই ট্রাকের নিচে মোটরসাইকেল, নিহত ২


নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বালুবোঝাই ট্রাকের নিচে মোটরসাইকেল, নিহত ২

রাজশাহীতে একটি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বালুবোঝাই ট্রাকের নিচে পড়ে দুজনের প্রাণহানী ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের অপর আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এই ঘটনার প্রকৃতি শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটে। ঘটনাস্থল ছিল মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট ডিগ্রি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে, রাজশাহী-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে।

নিহতদের তালিকায় রয়েছে কেশরহাট পৌর এলাকার সাকেয়া গ্রামের রফিজ উদ্দিনের ছেলে কাইয়ুম ইসলাম রাতুল (১৮) এবং পৌর এলাকার সিংহমারা গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে লিমন (২২)। আঘাতপ্রাপ্ত স্বাধীন (২২) অভিযানের সময় আহত হন। তিনি নিহত রাতুলের বড় ভাই।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে রাস্তার ধারে উদ্ধার হলো নবজাতক ছেলেশিশু

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তিন যুবক একটি মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন। সেই সময় মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নওগাঁর দিক থেকে আসা রাজশাহীগামী বালুবোঝাই ট্রাকের নিচে পড়ে যায়। এর ফলে ঘটনাস্থলে দুজনের মৃত্যু হয় এবং একজন গুরুতর আহত হয়।

পরে স্বাধীনকে উদ্ধার করে প্রথমে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। এছাড়াও ট্রাকটি জব্দ করেছে পুলিশ এবং থানায় নিয়ে গেছে।

মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান এই বিষয়ে বলেছেন, "এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।"

আরও পড়ুন: বরুড়ায় পাগলা কুকুরের কামড়ে ২৫ জন আহত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তীব্র গরমে বছরে ১৮০ কোটি ডলার ক্ষতি বাংলাদেশের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:১২ এম


তীব্র গরমে বছরে ১৮০ কোটি ডলার ক্ষতি বাংলাদেশের

বাংলাদেশে তীব্র গরমের কারণে শ্রমের উৎপাদনশীলতা মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিপুল কর্মঘণ্টাও নষ্ট হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে তাপপ্রবাহের কারণে দেশের অর্থনীতির আনুমানিক ১৩০ কোটি থেকে ১৮০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতি হবে। আর এটি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ০.৩ থেকে ০.৪ শতাংশের সমান।

‘আ লিভেবল ফিউচার : প্রটেক্টিং জবস অ্যান্ড গ্রোথ ফ্রম এক্সট্রিম হিট ইন সাউথ এশিয়াস সিটিজ’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে দেশের রাজধানী ঢাকা। তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে প্রতিবছর ঢাকায় মোট কর্মঘণ্টার প্রায় ৩ শতাংশ কার্যকরভাবে নষ্ট হচ্ছে, যা চার লাখ ৬৫ হাজার পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান বা চাকরির সমপরিমাণ।

বিদ্যমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে ২০৮০ সালের মধ্যে এই ক্ষতির পরিমাণ অর্ধেকেরও বেশি বাড়বে। তখন ঢাকা শহরের মোট উৎপাদনশীল কর্মঘণ্টার প্রায় ৭.৪ শতাংশই চরম গরমের কারণে নষ্ট হবে।

গত ২৯ জুলাই প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, দিনের তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করলে উৎপাদনশীলতার ক্ষতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।

প্রতিবেদনটিতে শুধু যে বাংলাদেশকে নিয়ে করা হয়েছে তা কিন্তু নয়, ভারত, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কা জুড়ে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা কীভাবে শ্রমিক, ব্যবসা, অবকাঠামো, জনসেবা এবং নগর অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে তাও খতিয়ে দেখা হয়েছে।

২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় ২৮০ মিলিয়ন কর্মক্ষম মানুষ যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে, তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য এই দেশগুলোর শহরগুলোকে চরম তাপ থেকে রক্ষা করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য চরম গরম একটি বড় হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। চরম গরমের কারণে এই অঞ্চলে প্রতি বছর প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থার যদি কোনো পরিবর্তন না ঘটে, ২০৫০ সালের মধ্যে এটি দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিকে প্রায় ৭ শতাংশ কমিয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে আরও বলা হয়েছে, ২০৭০ সালের মধ্যে, প্রায় ৫২ কোটি মানুষ প্রতি বছর অন্তত এক মাস বিপজ্জনক তাপপ্রবাহের সম্মুখীন হতে পারে, যা আজকের তুলনায় চারগুণ বেশি।

প্রতিবেদনটিতে পূর্বাভাসে এটাও উঠে এসেছে যে ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন করে ২৮ কোটি কর্মক্ষম মানুষ শ্রমবাজারে যুক্ত হবেন। ঠিক সেই সময়ে তীব্র তাপমাত্রা কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশন (আইএফসি) ও কর্নেল ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউটের যৌথ বিশ্লেষণের তথ্য উদ্ধৃত করে বিশ্বব্যাংক জানায় যে, তাপজনিত কারণে কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার এই সংকট সমাধান না হলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার পোশাক খাত ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৬ হাজার ৫৮০ কোটি ডলারের রপ্তানি আয় হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে। তবে বিশ্বব্যাংক মনে করে, সঠিক ও লক্ষ্যভিত্তিক অর্থায়নের মাধ্যমে এই সংকট কাটানো সম্ভব। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ ও পানির সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং কারখানার পরিবেশ উন্নত করতে ২০১৬ সালে সরকার গঠিত ‘গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড’ অল্প কয়েকটি কারখানা থেকে শুরু হয়ে আজ পুরো খাতজুড়ে ইতিবাচক রূপান্তর এনেছে।

‘গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতে তাপজনিত মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। আর শ্রীলঙ্কায় এই মৃত্যুর হার বেড়েছে প্রায় চার গুণ।

প্রতিবেদনটিতে জোর দিয়ে বলা হয়, চরম গরম ইতোমধ্যেই শ্রম উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে এবং এ অঞ্চলের শহরগুলোর প্রতিযোগী সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও জাতীয় অবকাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এর সবচেয়ে ভয়াবহ শিকার হচ্ছেন নিম্নআয়ের পরিবার, অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক, নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষ।

প্রতিবেদনটিতে তাপ সহনশীলতাকে একটি মৌসুমী জরুরি অবস্থা হিসেবে না দেখে উন্নয়নের একটি মূল অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করার আহবান জানানো হয়েছে। এতে এমন কিছু বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে যা সরকারগুলো বিদ্যমান প্রতিষ্ঠান ও অর্থায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রহণ করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে তাপ-সহনশীল অবকাঠামোতে বিনিয়োগ, তাপ কর্ম পরিকল্পনা ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমিকদের সুরক্ষা, টেকসই শীতলীকরণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ একত্রিত করা।

দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলো ইতোমধ্যেই প্রমাণ করছে যে, এই সমাধানগুলোর অনেকগুলোই জীবন বাঁচাতে, জীবিকা রক্ষা করতে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি কমাতে পারে। এগুলো ব্যাপক প্রয়োগ এই অঞ্চলকে আরও সহনশীল, প্রতিযোগিতামূলক এবং বাসযোগ্য শহর গড়তে সাহায্য করতে পারে, পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগও সুরক্ষিত রাখতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আশুলিয়ায় ‘প্রেসারকুকার’ বোমা উদ্ধার, থানায় মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:১৪ এম


আশুলিয়ায় ‘প্রেসারকুকার’ বোমা উদ্ধার, থানায় মামলা

আশুলিয়ার একটি চায়ের দোকানের সামনে রেখে যাওয়া একটি ব্যাগের ভিতর থেকে ‘প্রেসারকুকার বোমা’ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে।

এই ঘটনায় আশুলিয়া থানায় বিস্ফোরক দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার বিকেলে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বোমা উদ্ধারের বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১১টার সময় আশুলিয়ার খেজুর বাগান এলাকার হৃদয় চাকমার মালিকানাধীন ‘জয়ী জেনারেল স্টোর’ নামে একটি চায়ের দোকানের সামনে স্থানীয়রা একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ দেখতে পান। তারা দীর্ঘ সময় ব্যাগটি পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ করেন।

পরে, তারা ব্যাগটি খুলে ভেতরে প্রেসারকুকারের আকৃতির একটি বোমাসদৃশ বস্তু দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পুলিশে খবর দেন।

পুলিশি খবর পেয়ে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে মহানগর পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটে বিষয়টি জানালে বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোমাটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে শুক্রবার সকালে ৬টা ২২ মিনিটে পাশের একটি খোলা মাঠে নিয়ে মাটিতে গর্ত করে প্রেসার কুকারটি সেখানে রেখে বিশেষ প্রক্রিয়ায় বোমাটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।

বোম ডিসপোজাল ইউনিট জানায়, রাত প্রায় ১টার দিকে তাদের কাছে কল আসে। রাত ৩টার দিকে বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটি উদ্ধার করেন। ভোরে পাশের একটি খালি মাঠে গর্ত খুঁড়ে, চারপাশে বালুর বস্তা চাপা দিয়ে বোমাটির নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একটি প্রেসার কুকারের ভেতর বিয়ারিংয়ের বল ও রাসায়নিক ঢুকিয়ে শক্তিশালী বোমাটি তৈরি করা হয়েছিল।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, একটি দোকানের সামনে ব্যাগের ভিতরে বোমাসদৃশ বস্তুটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে জানায়। পরে বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে বোমাটি উদ্ধার করে নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করেন।

এই ঘটনায় আশুলিয়া থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পরাজিত শক্তির উত্থান হলে কেউ নিরাপদ থাকবে না: রিজভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নাটোর প্রতিনিধি

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:১৬ এম


পরাজিত শক্তির উত্থান হলে কেউ নিরাপদ থাকবে না: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ মন্তব্য করেছেন, ‘পরাজিত শক্তির উত্থান হলে কেউ স্থির বা নিরাপদ থাকতে পারবেন না’। তিনি আরও বলেছেন, ‘পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসের আবহ সৃষ্টি করে যারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন, তারা সফল হবেন না; বরং নিজেরাই সেই ঘোলা পানিতে ডুবে যাবেন।’

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে নাটোর শহরের আলাইপুরে জেলা পরিষদের মাল্টিপারপাস হলরুমে আয়োজিত আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’ উপলক্ষে নাটোর জেলা পরিষদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অবদানের কথা স্মরণ করে রিজভী আহমেদ বলেন, ‘নজরুল ছিলেন একজন অসাম্প্রদায়িক কবি। তিনি শুধু মুসলমানদের নন, হিন্দু-খ্রিস্টানসহ সব মানুষের কবি। যারা নজরুলকে নিয়ে সমালোচনা করেন, তারা তার সাহিত্য ও দর্শন সম্পর্কে না জেনেই মন্তব্য করেন।’ এ সময় তিনি সবাইকে নজরুলের মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

সরকারের উন্নয়ন ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে এবং খাল-বিল পুনঃখননের কাজও চলমান। বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা ও নতুন শিল্পসংযোগ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সমালোচনা করুন, সরকারের নীতির বিরোধিতা করুন—এটি গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও চরিত্রহননের রাজনীতি থেকে বিরত থাকতে হবে। শেখ হাসিনার সময়ের মতো এখন আর সেলফ-সেন্সরশিপের পরিবেশ নেই। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দায়িত্বশীল হতে হবে।’

এর আগে দুপুরে নাটোর সুগার মিল পরিদর্শন করেন রুহুল কবীর রিজভী। পরিদর্শনশেষে তিনি বলেন, ‘মৌসুমনির্ভর চিনিকলগুলোকে সারা বছর উপজাত (বাই-প্রোডাক্ট) উৎপাদনের মাধ্যমে উৎপাদনমুখী রাখার পরিকল্পনা করছে সরকার। ঢাকাকেন্দ্রিক শিল্পায়নের বাইরে গিয়ে বিসিক শিল্পনগরীসহ স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে তোলার ওপরও তিনি জোর দেন।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে এবং বিএনপিকে নিয়ে অশালীন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না।’ ৫ আগস্টের গণ-আন্দোলনের চেতনা যেন বিনষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

জেলা পরিষদের আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ, সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ, জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখার আলম, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন ও সাইফুল ইসলাম আফতাবসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলিশিংয়ের মতো চ্যালেঞ্জিং দায়িত্ব পালনে দেহ-মনের সুস্থতা জরুরি: আইজিপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:২৫ এম


পুলিশিংয়ের মতো চ্যালেঞ্জিং দায়িত্ব পালনে দেহ-মনের সুস্থতা জরুরি: আইজিপি

মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলাধুলায় পুলিশের সাফল্য রয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশ ক্রীড়া ক্ষেত্রেও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে চায়। আমরা সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে চাই।

আজ শুক্রবার বিকালে ঢাকার পূর্বাচলে নবনির্মিত বাংলাদেশ পুলিশ ফুটবল গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ পুলিশ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ (আইজিপি কাপ)-২০২৫ প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলায় পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

পুলিশিংয়ের মতো চ্যালেঞ্জিং দায়িত্ব পালনের জন্য দেহ-মনের সুস্থতা প্রয়োজন। এ বিষয়টি জানিয়ে আইজিপি বলেন, নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চা একজন পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব পালনে আরো বেশি কর্মক্ষম ও সক্ষম করে তোলে।

এ সময় আইজিপি প্রতিযোগিতায় উভয় দলের খেলোয়ারদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নিষ্ঠার সঙ্গে নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেদেরকে সেরা খেলোয়াড় হিসেবে তৈরি করতে হবে।

এ সময় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার ও বাংলাদেশ পুলিশ ফুটবল ক্লাবের সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার ও বাংলাদেশ পুলিশ ফুটবল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামীমা পারভীন। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আইজি, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ বলছে, ফাইনাল খেলা সিলেট রেঞ্জ ফুটবল দল এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জ ফুটবল দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। উভয় দল অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করে।

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় সিলেট রেঞ্জ চট্টগ্রাম রেঞ্জকে ১-০ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। প্রতিযোগিতায় সিলেট রেঞ্জের জীবন ম্যান অব দ্য ম্যাচ ও আমিরুল ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট হয়েছেন।

আইজিপি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে ট্রফি ও পুরস্কার বিতরণ করেন।

এর আগে আইজিপি পিওএইচএস-১ আবাসিক এলাকায় গ্রিন মার্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে মার্টটি নির্মিত হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%