০২:৫২ পি.এম
লালমনিরহাটের আলোচিত নন্দিনী হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আদালত বিধানের মা মমতা রানী ও বাবা রনজিত কুমারকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক হায়দার আলী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র ও তার বাবা রনজিত কুমার এবং মা মমতা রানী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের ফলে নিহত নন্দিনীর স্বজনরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
নিহত নন্দিনীর বাবা নলনী মোহন বর্মন আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট থেকে প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন। রায় ঘোষণার পর মামলাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। মামলার রায়ে নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
আরও পড়ুন: ঈশ্বরদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
গত ১৬ জুন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে সাত বছর বয়সী শিশু নন্দিনী বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল। পরিবার ও স্থানীয়রা সারারাত খোঁজাখুঁজির পরে পরদিন মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টা ক্ষেতে নরম মাটি দেখে সন্দেহ করেছিলেন। পরে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয় বস্তাবন্দি নন্দিনীর মরদেহ।
এঘটনায় এর আগে গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখে শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় বিধান রায়কে আটক করতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেলে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ বাধে। পরে ঘটনাস্থলে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান যান। কিন্তু বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের বহরে হামলা চালিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সংঘর্ষে অন্তত ১৮ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
রায় ঘোষণা শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হুমায়ুন রেজা স্বপন জানান, মাত্র ৬ কার্যদিবসের মধ্যে লালমনিরহাটের একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। রায়ে আদালত প্রধান আসামিকে ফাঁসির রশিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করতে বলেছেন। বিধান চন্দ্রের মা-বাবা আসামিকে লাশ গুম করতে সহযোগিতা করায় তাদেরকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
আরও পড়ুন: জামিনে মুক্ত হয়ে শ্বশুরবাড়িতে পুলিশকন্যা তাসনিয়া রানা তামান্না
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন