০৮:০৮ পি.এম
বিশ্বের অন্যতম বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্টিফিক আমেরিকান’-এর ‘বিজ্ঞানের উদীয়মান তারকা’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী ড. তনিমা তাসনিম অনন্যা। তিনি অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর এবং গ্যালাক্সির সক্রিয় কেন্দ্র নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার জন্য সাময়িকীটির উদ্বোধনী ‘ইয়াং আমেরিকান সায়েন্টিস্টস’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
বিশ্বের বিভিন্ন শাখার মাত্র ২৮ জন তরুণ গবেষকের তালিকায় তার স্থান পাওয়া আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য গৌরবময় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ড. তনিমা তাসনিম অনন্যা বাংলাদেশের বিএনপির ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক ড. এম এ কাইয়ুমের বড় মেয়ে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এই উপলক্ষে তার পরিবার, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্ট হয়েছে, সেইসাথে দেশের বিজ্ঞানমনস্ক মহলে উচ্ছ্বাসের ঝড় উঠেছে।
আরও পড়ুন: পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়াম পরিবহন, শ্রমিক আন্দোলনের শঙ্কা
‘সায়েন্টিফিক আমেরিকান’ যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরানো ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত বিজ্ঞান সাময়িকী। ১৮৪৫ সাল থেকে দুই শতাধিক নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর লেখা প্রকাশ করছে এই সাময়িকী। বৃহস্পতিবার, চলতি বছরে প্রথমবারের মতো তারা এমন একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে স্থান পেয়েছেন ভবিষ্যতের বিজ্ঞান নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম গবেষকরা।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েইন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ড. তনিমা তাসনিম অনন্যা মহাবিশ্বের অন্যতম রহস্যময় বস্তু কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন। তার গবেষণার মূল বিষয় হচ্ছে, অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর কিভাবে আশপাশের গ্যাস ও পদার্থ শোষণ করে এবং সেই প্রক্রিয়া একটি গ্যালাক্সির গঠন, বিকাশ ও বিবর্তনে কী ধরনের প্রভাব ফেলে।
‘সায়েন্টিফিক আমেরিকান’-তে প্রকাশিত তার পরিচিতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঢাকায় বেড়ে ওঠা ড. তনিমার মহাকাশের প্রতি আগ্রহের সূচনা তার শৈশবে হয়। বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের সময় আকাশভরা তারা দেখে তার মনে গভীর কৌতূহল জন্মায়, যা পরবর্তী সময়ে তাকে জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণার পথে নিয়ে আসে।
তার গবেষণায় বিভিন্ন ধরনের মহাকাশ পর্যবেক্ষণ তথ্য বিশ্লেষণ করে কৃষ্ণগহ্বরের চারপাশে থাকা গ্যাস ও ধূলিকণার গঠন এবং আচরণ সম্পর্কে নতুন তথ্য উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন: ত্রিশাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২০ বছরেও নিয়োগ হয়নি জনবল
বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, এই গবেষণা মহাবিশ্বের বিবর্তন, গ্যালাক্সির বিকাশ এবং কৃষ্ণগহ্বরের কার্যপ্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন ধারণা নিয়ে আসবে।
বিজ্ঞান-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ড. তনিমা তাসনিম অনন্যার এই অর্জন কেবলমাত্র ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশি মেধা ও গবেষণার সক্ষমতার একটি উজ্জ্বল স্বীকৃতি। তার এ সাফল্য দেশের নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞান গবেষণায় এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে বলেও মনে করছেন তারা।
মহাবিশ্বের অজানা রহস্য উন্মোচনে তার গবেষণা ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। ড. তনিমা তাসনিম অনন্যার এই অর্জন দেশের বিজ্ঞানচর্চা ও গবেষণার জন্য একটি ইতিবাচক ও গর্বের বার্তা হয়ে থাকবে।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গাইবান্ধার স্মৃতি খাতুনের সাফল্য
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন