শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:০৮ পি.এম
সিঙ্গাপুর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক শ্রমবাজারে পরিণত হয়েছে। চলতি বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে ৫৫ হাজার ৬১৪ জন বাংলাদেশি কর্মী পৌঁছেছেন। তবে বিদেশি কর্মী নিয়োগে সিঙ্গাপুরের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার পরিকল্পনার কারণে এ শ্রমবাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বিদেশে যাওয়া মোট ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৬৩৭ বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশের গন্তব্য ছিল সিঙ্গাপুর। এ সময় সৌদি আরব ২ লাখ ৯৫ হাজার ৬৯৫ কর্মী নিয়ে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।
আরো পড়ুন
১ অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু : মীর শাহে আলম
এক প্রতিবেদনে টিবিএস জানায়, গত কয়েক বছর ধরে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি কর্মীদের যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালে সেখানে ৬৪ হাজার ৩৮৩, ২০২৩ সালে ৫৩ হাজার ২৬৫, ২০২৪ সালে ৫৬ হাজার ৮৪৭ এবং ২০২৫ সালে ৭০ হাজার ৮৩২ জন বাংলাদেশি কর্মী সিঙ্গাপুরে গেছেন।
ওমান, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মতো বড় শ্রমবাজারে কর্মী নিয়োগ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বা সীমিত থাকায় সিঙ্গাপুরের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।
শ্রমবাজারের পাশাপাশি রেমিট্যান্সের উৎস হিসেবেও সিঙ্গাপুরের গুরুত্ব বাড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটি থেকে বাংলাদেশে ৯৮ কোটি ৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়াবে ১৪৯ কোটি ডলারে। এর ফলে সিঙ্গাপুর বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর দশম বৃহত্তম উৎসে পরিণত হয়েছে।
আরো পড়ুন
১ অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু : মীর শাহে আলম
গত ২৩ আগস্ট ন্যাশনাল ডে র্যালিতে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং বলেন, বিদেশি জনশক্তিকে স্বাগত জানানো হবে, তবে তা ‘সতর্ক ও নিয়ন্ত্রিত উপায়ে’ হবে। তিনি জানান, আগামী বছরগুলোতে দেশটির মোট জনসংখ্যা ও শ্রমশক্তির প্রবৃদ্ধি ধীর হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও উৎপাদনশীলতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
তবে মাইগ্রেশন বিশেষজ্ঞ ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন সিকদারের মতে, সিঙ্গাপুর বিদেশি কর্মী নিয়োগ পুরোপুরি বন্ধ করবে এমন আশঙ্কার কারণ নেই। তার মতে, দেশটির অর্থনীতির জন্য অভিবাসী শ্রমিকের প্রয়োজন রয়েছে। তবে স্বল্প ও অর্ধদক্ষ কর্মীর চাহিদা কমে দক্ষ ও উচ্চ দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়তে পারে।
সিঙ্গাপুরে বর্তমানে প্রায় ১৬ লাখ বিদেশি কর্মী কর্মরত আছেন। আনুমানিক দুই লাখ বাংলাদেশি নির্মাণ, জাহাজ নির্মাণ ও বাগান পরিচর্যার মতো কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
সিকদার বলেন, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতে সিঙ্গাপুর এগিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের দক্ষ কর্মী তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সিঙ্গাপুরে যেতে বাংলাদেশি কর্মীদের উচ্চ অভিবাসন ব্যয়ও একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। কর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরি নিশ্চিত করতে তাদের ১৪ থেকে ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানান, সিঙ্গাপুরের ছয়টি কোম্পানি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রকৃত ব্যয় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা হওয়ার কথা হলেও কর্মীদের কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোকে ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আরো পড়ুন
বাগানে হাসনাহেনা বা জুঁই গাছ থাকলে কি সত্যিই সাপ আসে?
সিঙ্গাপুরের নির্মাণ খাত এখনও বিদেশি কর্মীদের জন্য বড় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে খাতটির প্রবৃদ্ধি ১১.৮ শতাংশ হয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকেও প্রবৃদ্ধি ৬.২ শতাংশ হয়েছে।
তবে সিঙ্গাপুরে যাওয়া কর্মীদের সবাই নতুন অভিবাসী নন। কর্মী পাঠানো এজেন্সিগুলোর সংগঠনের সাবেক মহাসচিব আহমেদ চৌধুরীর মতে, অনেক কর্মী চুক্তি শেষে দেশে ফিরে নতুন ভিসা বা ক্লিয়ারেন্স নিয়ে আবার সিঙ্গাপুরে যান। ফলে বিএমইটির পরিসংখ্যানকে দেশটির শ্রমবাজারে নতুন বাংলাদেশি কর্মী প্রবেশের সংখ্যা হিসেবে সরাসরি বিবেচনা করা ঠিক নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুলিশের তৎপরতায় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের আয়োজন ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ৬ কর্মীকে আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট লিংক রোড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুবেল আফ্রাদ জানান, ফৌজদারহাট লিংক রোডে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৫-২০ জন নেতাকর্মী ঝটিকা মিছিল বের করার চেষ্টা করছিলেন। খবর পাওয়ার পর সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশ তাদের ধাওয়া করে ৬ জনকে আটক করে। বাকিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
তিনি আরও জানান, আটককৃতদের নাম ও পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা নির্মিত ভার্চুয়াল অভিনেত্রী টিলি নরউড ক্যামেরার সামনে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন। সাক্ষাৎকারের সময় সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলছিল। কিন্তু হঠাৎ একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি ইংরেজির পরিবর্তে চীনা (মান্দারিন) ভাষায় কথা বলা শুরু করেন। এই আকস্মিক ঘটনায় বিস্মিত হয়ে যান ব্রিটিশ সম্প্রচারক পিয়ার্স মরগান এবং স্কটিশ মঞ্চ অভিনেতা টম কন্টি।
ঘটনাটি ঘটে টিলির আসন্ন সিনেমা ‘মিসঅ্যালাইন্ড’ নিয়ে আলোচনা করার সময়। টম কন্টি টিলিকে প্রশ্ন করেন, সিনেমায় তার সঙ্গে অভিনয় করা অন্যান্য অভিনেতারা কি বাস্তব মানুষ, নাকি কম্পিউটার-নির্মিত চরিত্র।
প্রথমে টিলি প্রশ্নটি সঠিকভাবে বুঝতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘এটি একটি আকর্ষণীয় বিষয়, টম। আমার সিনেমা ‘মিসঅ্যালাইন্ড’ একটি হাইব্রিড প্রযোজনা। অর্থাৎ বাস্তব পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও সম্পাদকরা এখনও এতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। বিষয়টি কাউকে সরিয়ে দেওয়ার নয়, বরং গল্প বলার নতুন পদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা।’
কন্টি টিলির উত্তর শুনে আবার প্রশ্নটি স্পষ্ট করে জানতে চান—সিনেমায় তার সঙ্গে পর্দায় যেসব অভিনেতাকে দেখা যাবে, তারা কি বাস্তব অভিনেতা, নাকি কম্পিউটার-নির্মিত ছবি?
এবার প্রশ্নটি বুঝতে পেরে টিলি বলেন, ‘আচ্ছা, আপনি ‘মিসঅ্যালাইন্ড’-এর অন্য অভিনেতাদের কথা বলছেন। তারা সবাই আমার মতোই ডিজিটাল টুইন।’
এরপর সিনেমাটি কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ ইংরেজির বদলে মান্দারিন ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন টিলি। আকস্মিক এই ভাষা পরিবর্তনে পিয়ার্স মরগান ও টম কন্টি দুজনকেই বেশ বিভ্রান্ত দেখায়।
একপর্যায়ে কন্টি মরগানকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি কি এটা বুঝতে পেরেছেন, পিয়ার্স?’
মরগান টিলিকে বলেন, ‘আপনি তো কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ চীনা ভাষায় কথা বলছেন।’
কেন তিনি হঠাৎ মান্দারিন ভাষায় কথা বলা শুরু করলেন, সেটিও জানতে চান মরগান। টিলি জবাবে বলেন, ‘ওহ, দুঃখিত। মনে হচ্ছে একটু সমস্যা হয়েছিল। আমি অবশ্যই ইচ্ছা করে চীনা ভাষায় কথা বলা বা পিয়ার্সের নকল করা শুরু করিনি। কখনো কখনো আমার তারগুলো একটু গুলিয়ে যায়, বুঝতেই পারছেন।’
এরপর মরগান জানতে চান, এমন সমস্যা তার কত ঘন ঘন হয়। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘দুজন ইংরেজ মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় আপনি কত ঘন ঘন হঠাৎ চীনা ভাষায় কথা বলা শুরু করেন?’
জবাবে টিলি বলেন, ‘সত্যি বলতে, একেবারেই খুব কম। এবার বিষয়টি আমার কাছেও বেশ অপ্রত্যাশিত ছিল। সাধারণত সবকিছু বেশ মসৃণভাবেই চলে। তবে কখনো কখনো এমন ঘটনা ঘটতেই পারে।’
‘মিসঅ্যালাইন্ড’ একটি আসন্ন কমেডি-ড্রামা চলচ্চিত্র। এতে অভিনয় করছে বিতর্কিত এআই-নির্মিত ভার্চুয়াল অভিনেত্রী টিলি নরউড।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৬ বিশ্বকাপের পর প্রথম আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে আর্জেন্টিনার তিনটি প্রীতি ম্যাচকে ‘টপ লেভেল’ বা ‘ক্লাস এ’ মর্যাদা প্রদান করেছে ফিফা। এর ফলে, বিশ্বকাপ ফাইনালের পর শাস্তি পাওয়া আর্জেন্টিনার ফুটবলার ও কোচরা এসব ম্যাচে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কাটানোর সুযোগ পাবেন।
বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের পর মাঠে সংঘর্ষের ঘটনায় ফিফা আর্জেন্টিনার তিন ফুটবলার এবং একজন কোচকে নিষিদ্ধ করে। লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে ১০ ম্যাচ, নাহুয়েল মোলিনাকে ৭ ম্যাচ এবং থিয়াগো আলমাদাকে ১ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া, কোচ লিওনেল স্কালোনির সহকারী রবার্তো আয়ালাকে ৩ ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তাদের উপর জরিমানা আরোপও করা হয়েছে।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শুধুমাত্র অফিসিয়াল ম্যাচে নয়, বরং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা ‘টপ লেভেল’ প্রীতি ম্যাচেও কাটানো সম্ভব। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) আসন্ন তিনটি প্রীতি ম্যাচকে ‘ক্লাস এ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আবেদন করে। ফিফা সেই আবেদন অনুমোদন করেছে।
সূচি অনুযায়ী, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর কর্দোবায় ৭৭তম র্যাঙ্কিংধারী বলিভিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। এরপর ৩ অক্টোবর ঘরের মাঠে ৬২তম র্যাঙ্কিংধারী বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে খেলবে। ৬ অক্টোবর শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হবে বেনিন, যারা বর্তমানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৯৩তম স্থানে রয়েছে।
বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এই ম্যাচের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসির। ইতোমধ্যে, ঘোষিত স্কোয়াডে আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে রাখা হয়েছে।
কোনো প্রীতি ম্যাচকে ‘ক্লাস এ’ বা ‘টপ লেভেল’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ফিফার নির্দিষ্ট কিছু শর্ত রয়েছে। এর মধ্যে দুই দলের সিনিয়র জাতীয় দলকে অংশ নিতে হয় এবং ম্যাচ পরিচালনায় ফিফার স্বীকৃত নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট ফুটবল ফেডারেশনগুলোর অনুমোদনও থাকতে হবে।
ফিফার অনুমোদনের ফলে বলিভিয়া, বুরকিনা ফাসো ও বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচগুলোতে মাঠে নামার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কমানোর সুযোগ পাচ্ছেন পারেদেস, মোলিনা ও আলমাদা। একইভাবে, তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় থাকা সহকারী কোচ আয়ালাও এসব ম্যাচের মাধ্যমে শাস্তির মেয়াদ পূরণ করতে সক্ষম হবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মন্তব্য করেছেন যে, বিরোধী দল যেদিন শপথ গ্রহণের সময় উপস্থিত ছিল না, সেদিন থেকেই তারা সরকারি দলের প্রতি অসহযোগিতা করে আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, "প্রথম দিন থেকে এখন পর্যন্ত বিরোধী দল প্রতি মুহূর্তে সরকারি দলকে সব ধরনের অসহযোগিতা করে যাচ্ছে।" এ্যানি আরও বলেন, "এই অসহযোগিতার কারণে কেউ কেউ ডিসেম্বরে আসতে চায়। যদি বিরোধী দল এই সুযোগটা না দিত, লংমার্চ যদি না করত, তাহলে এই সুযোগটা পেত না।"
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার মান্দারী জিল্লুর রহিম কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিশেষায়িত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, চক্ষু শিবির ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এই আয়োজনের আয়োজন করে জেলা ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ও লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫ এ-৩।
এ্যানি বলেন, "বিরোধী দল সংসদে বসে ভালো কথা বলে। কিন্তু বাইরে গিয়ে ভালো কথা বলছে না।" তিনি উল্লেখ করেন, "গত ১৭ বছর যারা অত্যাচার-নির্যাতন করেছে তারা দুই-এক জায়গায় ঝটিকা মিছিল করে, আবার পালিয়ে যায়। এই সুযোগটা তো তারা পাচ্ছে।" তিনি আরও বলেন, "এখন যারা বিরোধী দল আছে, আজকে তারা রংপুর যাচ্ছে ঢাকা থেকে। তারা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গিয়েছে। তারা গ্যাসের জন্য আন্দোলন করছে, তেলের জন্য আন্দোলন করছে, যে বাংলাদেশে গ্যাস নাই, তেল নাই, তারেক জিয়াকে এখনই গ্যাস দিতে হবে, এখনই সমস্ত বিদ্যুৎ দিতে হবে। আমরা তো একটা ধ্বংসস্তূপের ওপর দায়িত্ব পেয়েছি। আমরা এসেই কি ৬ মাসের মধ্যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সব দিয়ে দিতে পারব?"
তিনি আরও মন্তব্য করেন, "বিরোধী দল যে লংমার্চ অথবা রোডমার্চ করছে, সেখানে কি তেল খরচ হচ্ছে না? রাস্তাঘাটে কি মানুষের ক্ষতি হচ্ছে না? মানুষের চলাফেরার মধ্যে জ্যাম সৃষ্টি হচ্ছে না? অসুস্থ রোগীদের কষ্ট পোহাতে হচ্ছে না? তাহলে বিরোধী দল কি এটা কোনো ভালো কাজ করল?" তিনি প্রশ্ন করেন, "কিন্তু উনারা বারবার সংসদে বলছেন তারা সরকারকে সহযোগিতা করবেন। সরকারকে সহযোগিতার নমুনা যদি এই ধরনের হয়, এটা কি সহযোগিতা হলো?"
এ্যানি বলেন, "একটা চাপে রেখে তারা (বিরোধী দল) ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসতে চায়। এভাবে কি ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসা যায় নাকি? এবার ক্ষমতায় আসতে চেয়েছে, বেহেশতের কথা বলে। ভোটের এক সপ্তাহ আগে হাতের ভেতর আইডি কার্ড নিয়ে টাকা দিয়ে কিছু ভোট নিয়েছে। আমাদের কিছু মানুষের দুর্বল জায়গায় আঘাত করে কিছু ভোট নিয়েছে। এজন্য ভবিষ্যতে আমাদেরকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।" তিনি সতর্ক করে বলেন, "কোনো ধরনের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ ও জনগণের ক্ষতি করবে, বিএনপি এবং তারেক রহমানের সরকার এটা মেনে নেবে না। কারণ আমরা জনগণের জন্য দীর্ঘদিন থেকে লড়াই-সংগ্রাম করতে করতে এখানে এসেছি।"
এ্যানি বলেন, "৫ই আগস্টের জন্য ১৭ বছর আমাদেরকে লড়াই-সংগ্রাম করতে হয়েছে। হঠাৎ করে ৫ই আগস্ট আসেনি। এই ৫ই আগস্ট আসার ক্ষেত্রে আপনারা-আমরা, আমাদের ছাত্র-যুবক, তরুণ-তরুণী তারা মাঠে থেকে আন্দোলন করেছে। আন্দোলন করে এই প্রেক্ষাপটটা তৈরি করেছে বলেই ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হয়েছে। সেই নির্বাচনে আমরা এই দেশের দায়িত্ব পেয়েছি, দায়িত্ব পরিচালনা করছি।"
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা ও চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি বেলাল হোসেন প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ