ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

বইঠার ছন্দে মুখর ঘোড়াউত্রা নদী, তীরে লাখো মানুষের সমাগম


বইঠার ছন্দে মুখর ঘোড়াউত্রা নদী, তীরে লাখো মানুষের সমাগম

আশ্বিনের তীব্র রোদ, নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা এবং নদীর তীরে কাশফুলের দোলায়িত দৃশ্য। এর সাথে বইঠার সুর, নৌকার গতিবিধি এবং দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাস—সবকিছু মিলিয়ে কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওর উৎসবের রূপ ধারণ করে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ঘোড়াউত্রা নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ দেখতে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে।

বিকেল ৫টায় নৌকাবাইচের কার্যক্রম শুরু হলেও সকাল থেকেই নদীর দুই পাড়ে দর্শনার্থীদের ভিড় জমতে থাকে। নিকলীসহ কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা থেকে বহু মানুষ এ আয়োজন উপভোগ করতে আসেন। পাশাপাশি নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলা থেকেও অনেকেই ছুটে আসেন। নদীর দুই পাড়ে এবং অসংখ্য নৌকায় বসে মানুষ নদীতে অবস্থান নেন। আয়োজকদের দাবি, দুপুরের পর দর্শনার্থীর সংখ্যা লাখেরও বেশি হয়ে যায়।

স্থানীয়দের মতে, কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে নৌকাবাইচের ইতিহাস কয়েক শতাব্দী পুরনো। একসময় নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে হাওরাঞ্চলে উৎসবের আবহ তৈরি হতো। তবে সময়ের সাথে সাথে গ্রামবাংলার বিভিন্ন লোকজ খেলা ও বিনোদনের মতো নৌকাবাইচও হারাতে বসেছে। নিকলীতে সর্বশেষ প্রায় এক যুগ আগে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবার এই আয়োজন করা হয়।

আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মহানগর বিএনপির প্রস্তুতি সভা

কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের উৎসাহে নিকলী সম্মিলিত নাগরিক সমাজ এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এতে মোট ১২টি নৌকা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার ছিল একটি মোটরসাইকেল, দ্বিতীয় পুরস্কার ছিল একটি ফ্রিজ এবং তৃতীয় পুরস্কার ছিল এলইডি টেলিভিশন।

১২টি নৌকার মধ্যে প্রতিযোগিতার শেষে নিকলী সদর ইউনিয়নের মহরকোনা গ্রামের নৌকা প্রথম স্থান অর্জন করে। বিজয়ী দল মোটরসাইকেল, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী দল ফ্রিজ এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল এলইডি টেলিভিশন পুরস্কার হিসেবে পায়। পরে প্রধান অতিথি শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বিজয়ী নৌকার মালিকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিকলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি হাজি মাসুক মিয়া, বিশিষ্ট শিল্পপতি মো. মোকারম সর্দারসহ আরও অনেকে।

শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, ‘নৌকাবাইচ নিকলীসহ ভাটিবাংলার উৎসব। বিশেষ করে এটি হাওর অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব। কালের বিবর্তনে এ উৎসব হারিয়ে যাচ্ছে। প্রায় এক যুগ পর ঘোড়াউত্রা নদীতে নৌকাবাইচ আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তরুণদের মাদক থেকে দূরে রেখে খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের সঙ্গে যুক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য।’

আরও পড়ুন: বিজলী ক্যাবলস লিমিটেডের পুরস্কার পেলেন, নারায়ণগঞ্জের রনি মল্লিক ও নবী হোসেন।

নিকলী সম্মিলিত নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার সভাপতি ও আয়োজক মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মানিক মিয়া বলেন, ‘নৌকাবাইচ শুধু বিনোদন নয়, এটি গ্রামবাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। আধুনিকতার চাপে হারিয়ে যেতে বসা জারি, সারি ও ভাটিয়ালি গান, লাঠিখেলা, কাবাডিসহ লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ খেলাধুলার সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দিতেই এমন আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুব সমাজকে মাদক ও নানা অপরাধ থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করাও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।’

নৌকাবাইচকে ঘিরে সকাল থেকেই ঘোড়াউত্রা নদীর দুই পাড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছিল। নদীতে সারি সারি নৌকা এবং তীরে মানুষের ভিড়ে পুরো এলাকা মিলনমেলায় পরিণত হয়। বইঠার সুর, দর্শনার্থীদের উল্লাস এবং প্রতিযোগী নৌকার গতিতে ফিরে আসে গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচের আবহ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকাকে বাঁচাতে সিটি করপোরেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৯ পি.এম


ঢাকাকে বাঁচাতে সিটি করপোরেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজন

ঢাকা আজ বিশ্বের অন্যতম মেগাসিটি হিসেবে পরিচিত। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এটি বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির বর্তমান গতিতে ২০৫০ সালের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তাকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল শহর হয়ে উঠবে। তবে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রায় ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণকারী এই শহরটি বর্তমানে সমন্বয়হীনতা, অপরিচ্ছন্নতা এবং পরিকল্পনাহীনতার কারণে সমস্যায় রয়েছে। গত এক দশকে শহরটির অবক্ষয় হয়েছে পদ্ধতিগতভাবে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ঢাকার বর্তমান অবস্থান, নাগরিক সমস্যা এবং উত্তরণের উপায় নিয়ে কালের কণ্ঠের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন গুলশান সোসাইটির সভাপতি ও নগর অধিকার কর্মী ব্যারিস্টার ওমর সাদাত।

সাক্ষাৎকারে তিনি ঢাকার ট্রাফিক অব্যবস্থাপনা, লেক ও জলাশয় দূষণ, বায়ুদূষণ এবং রাজউক ও সিটি করপোরেশনের গাফিলতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

বায়ুদূষণ ও পরিবেশ সুরক্ষা

ঢাকার বায়ুর মান বিশ্বের মধ্যে নিকৃষ্টতম হওয়ায় ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ওমর সাদাত ছাদবাগান এবং ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি প্রস্তাব করেন, যারা ছাদবাগান করবেন, তাদের জন্য হোল্ডিং ট্যাক্সে ১০ শতাংশ রেয়াত দেওয়ার ঘোষণাটি কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি, বায়ুমান উন্নয়নের জন্য পেট্রোলচালিত গাড়ির ওপর ট্যাক্স বাড়িয়ে ইভি গাড়ির ট্যাক্স কমানোর এবং পর্যাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট স্থাপনের দাবি জানান।

শব্দদূষণ রোধে গুলশান সোসাইটির সফলতা উল্লেখ করে তিনি জানান, গুলশানকে বর্তমানে ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণ ও জরিমানার মাধ্যমে হর্নের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে।

ওমর সাদাত বলেন, “ঢাকার সমস্যা নিয়ে আমরা অনেক কথা বলি, কিন্তু খুব কম সময়ই আমরা সমস্যাগুলোকে একটি সমন্বিত দৃষ্টিতে দেখি। ঢাকার সংকট আসলে বিচ্ছিন্ন কিছু সমস্যা নয়, এটি একটি ব্যবস্থাপনার সংকট।”

একদিকে যানজট, অন্যদিকে বর্জ্য অব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা, মশার উপদ্রব এবং নিরাপত্তা—এই সবকিছু একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। নগর পরিচালনায় যদি একটি জায়গায় ব্যর্থতা ঘটে, সেটি অন্য জায়গায় প্রভাব ফেলবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি লেকগুলো সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করা হয়, সেখানে পানি জমে থাকবে, সেখান থেকে মশার বিস্তার হবে, যা আবার জনস্বাস্থ্যের সংকটে পরিণত হবে। অর্থাৎ, ঢাকার সমস্যাগুলোকে আলাদা আলাদা করে দেখলে সমাধান হবে না—এটি একটি সিস্টেমিক সমস্যা, যার জন্য সিস্টেমিক সমাধান প্রয়োজন।

অযত্নে নষ্ট হচ্ছে তিলোত্তমা নগরী ঢাকা।

ওমর সাদাত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা ঢাকাকে শুধু ব্যবহার করি অর্থ উপার্জনের জন্য, কিন্তু এর যত্নের ব্যাপারে আমরা উদাসীন। ঢাকা আজ মশার শহর হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি সভ্য দেশে মশার কারণে প্রতি বছর শত শত মানুষ মারা যাবে, এটা মানা যায় না।”

তিনি আরো যোগ করেন, ঢাকার লেক এবং নদীগুলো আজ বিষাক্ত ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। গুলশান, বনানী ও বারিধারার মতো অভিজাত এলাকার প্রায় ৮০ শতাংশ পয়োবর্জ্য সরাসরি লেকে গিয়ে পড়ছে, কারণ আমাদের কোনো কার্যকর স্যুয়ারেজ লাইন নেই। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের চেয়েও দামি জমির এই এলাকায় এমন আদিম ব্যবস্থা সভ্যতার পরিপন্থী বলে তিনি মনে করেন।

সরকারের পরিকল্পনার ঘাটতি নিয়ে তিনি উদাহরণ দেন, হাজার কোটি টাকা খরচ করে দাশেরকান্দি পয়োশোধনাগার প্ল্যান্ট করা হয়েছে, অথচ গুলশান থেকে সেখানে বর্জ্য পৌঁছানোর কোনো স্যুয়ারেজ লাইনই করা হয়নি। ফলে বিশাল এই বিনিয়োগটি কার্যত অলস বসে আছে।

তিনি বলেন, অনেক স্থানের ফুটব্রিজে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই, যা রাতে ছিনতাইকারী ও মাদকাসক্তদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত করে। বিশেষ করে নারী পথচারীরা নিরাপত্তার অভাবে একা সেতু ব্যবহার করতে ভয় পান। অনেক সেতু এমন জায়গায় তৈরি করা হয়েছে, যেখানে মানুষের যাতায়াত কম, আবার যেখানে প্রয়োজন, সেখানে সেতু নেই। এছাড়া অনেক সেতুর সিঁড়ির ধাপ অনেক উঁচু হওয়ায় বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি এবং গর্ভবতী নারীদের জন্য এগুলো ব্যবহার করা অত্যন্ত কষ্টকর। তাই পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং সেগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন।

ট্রাফিক ও পার্কিং : একটি পরিকল্পিত সংকট।

ঢাকার যানজট নিয়ে ওমর সাদাত বলেন, একটি মেগাসিটিতে ট্রাফিক লাইট না থাকা অকল্পনীয়। আমরা বর্তমানে পুলিশ ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছি, যেন আগামী তিন মাসের মধ্যে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ৫০টি মোড়ে ট্রাফিক লাইট স্থাপন করা যায়। তিনি সতর্ক করে বলেন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ঢাকা অচিরেই পুরোপুরি অচল হয়ে পড়বে।

যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ফুটপাত ও সড়ক দখল করে অনিয়ন্ত্রিত পার্কিংকে দায়ী করেন। তিনি জানান, রাজউকের নকশায় পার্কিংয়ের জায়গা থাকলেও অনেক বহুতল ভবন সেই জায়গাগুলোতে দোকান বা অফিস ভাড়া দিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে গাড়িগুলো রাস্তায় রাখা হচ্ছে এবং যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। গুলশান সোসাইটি বর্তমানে রাজউকের সহায়তায় এই ধরনের অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।

গুলশান মডেল : নাগরিক উদ্যোগের এক অনন্য উদাহরণ।

সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে গুলশান সোসাইটি নিজস্ব উদ্যোগে বেশ কিছু মডেল তৈরি করেছে, যা পুরো ঢাকা শহরে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব বলে ওমর সাদাত বিশ্বাস করেন।

তিনি জানান, গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় প্রায় ১২০০ সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ গুলশান সোসাইটি ও পাবলিক পার্টনারশিপের মাধ্যমে পরিচালিত। এর ফলে এই অঞ্চলে স্ট্রিট ক্রাইম বা ছিনতাই এখন শূন্যের কোঠায়।

মিরপুরসহ ঢাকার অন্যান্য এলাকায় এই মডেল সম্প্রসারণের জন্য তারা ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করছেন। এছাড়া গুলশানের রাস্তা পরিষ্কার রাখার জন্য সোসাইটির নিজস্ব ১০০ জন ক্লিনার রয়েছে। এলাকাবাসীরা নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিয়ে তাদের রাস্তার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী অস্থিতিশীল সময়ে যখন পুলিশ ছিল না, তখন গুলশান সোসাইটির কমিউনিটি পুলিশ এবং এলাকাবাসীরা রাত জেগে পাহারা দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিষ্ঠানিক সংস্কার : রাজউক ও সিটি করপোরেশন।

ওমর সাদাত রাজউকের বর্তমান ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, রাজউক একটি রেগুলেটরি বডি হওয়ার বদলে জমি বিক্রির ব্যবসায় মেতে উঠেছে। তাদের কাজ ভবন নির্মাণ ও নকশা পর্যবেক্ষণ করা, ব্যবসা করা নয়।

তিনি আরো বলেন, সিটি করপোরেশনকে অনেক ক্ষেত্রে ‘এটিএম বুথ’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে মশা মারার জন্য ১৪০ কোটি টাকা বাজেট থাকলেও মশা মরে না। সিটি করপোরেশনকে ব্যবসার প্রতিষ্ঠান না হয়ে জনসেবার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে হবে।

নগর অধিকার কর্মী ব্যারিস্টার ওমর সাদাত ঢাকার জন্য একটি সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনার আহ্বান জানান। তার মতে, ১ বছর, ৩ বছর, ৫ বছর এবং ২৫ বছরের ধাপে ধাপে একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, সরকার একা সব করতে পারবে না। ঢাকাকে বাঁচাতে হলে জনগণের সম্পৃক্ততা অপরিহার্য। মানুষ যদি সচেতন না হয়, তবে আইনের বই দিয়ে শহর পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

যোগ্য মানুষকে যোগ্য স্থানে বসানোর মাধ্যমে এবং দুর্নীতির ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করলে ঢাকাকে আবারও বসবাসের যোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাজেকে শেখ হাসিনার স্লোগান দেওয়ায় ৬ পর্যটক আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৯ পি.এম


সাজেকে শেখ হাসিনার স্লোগান দেওয়ায় ৬ পর্যটক আটক

রাঙামাটির সাজেকে ‘শেখ হাসিনা সরকার বারবার দরকার’ এবং ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ ছয় পর্যটককে আটক করেছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে, সাজেকগামী একটি চাঁদের গাড়িতে থাকা ওই পর্যটকেরা বাঘাইহাট বাজার এলাকা অতিক্রম করার সময় স্লোগানগুলো দেন। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে, যখন পর্যটকবাহী গাড়িটি সাজেক থানার সামনে পৌঁছায়, তখন পুলিশ ছয়জনকে আটক করে।

আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বড়চাল গ্রামের জামাল হোসেনের ছেলে ফারদিন এহসান হৃদয়, মৃত দারু মিয়ার ছেলে ইয়াছিন (৩২), হবিগঞ্জের কমলানগর এলাকার জয়দেব পালের ছেলে সুশান্ত পাল, তাজুল ইসলামের ছেলে হারুন ইসলাম তুষার (২৩), সালাউদ্দিনের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া (২৩) এবং পটুয়াখালীর পশ্চিম সুবিদখালীর আনিছুর রহমানের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (২৭)।

সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফায়েল আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘দুপুরের দিকে সাজেক থানা পুলিশ ছয় পর্যটককে আটক করে। তারা নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের পক্ষে স্লোগান দেয়। আটক পর্যটকরা বর্তমানে সাজেক থানা হেফাজতে রয়েছেন।’

পুলিশ জানায়, আটক ছয়জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তাঁদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়াও চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আখাউড়ায় যুব মহিলা লীগের ৪ নেত্রী সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৫০ পি.এম


আখাউড়ায় যুব মহিলা লীগের ৪ নেত্রী সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় গোপন বৈঠক করার অভিযোগে চার নেত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌর এলাকার রাধানগর কলেজপাড়া থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রোকসানা আক্তার, সাবেক কাউন্সিলর রেখা বেগম, কলেজপাড়ার ফাতেমা বেগম এবং দেবগ্রামের নাজমা বেগম অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তারা প্রত্যেকেই যুব মহিলা লীগের হয়ে বিভিন্ন সময়ে কাজ করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আখাউড়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "অরাজকতা সৃষ্টির জন্য তারা গোপন বৈঠকে মিলিত হয়।" গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালাগা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১টি কলমে ‘শৈল্পিক’ নকল, প্রশংসা শিক্ষকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৫০ পি.এম


মালাগা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১টি কলমে ‘শৈল্পিক’ নকল, প্রশংসা শিক্ষকের

সাধারণভাবে দেখতে ১১টি বলপয়েন্ট কলম। কিন্তু স্বচ্ছ প্লাস্টিকের গায়ে নজর দিলে ভিন্ন একটি চিত্র ধরা পড়ে। কলমগুলোর গায়ে অত্যন্ত ক্ষুদ্র অক্ষরে খোদাই করা রয়েছে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের বিস্তৃত সিলেবাস। পরীক্ষায় নকলের উদ্দেশ্যে করা এই অভিনব কাণ্ড শেষ পর্যন্ত শিক্ষকের প্রশংসা অর্জন করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছিল স্পেনের মালাগা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে কয়েক বছর আগে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইয়োলান্ডা দে লুচ্চি এক পরীক্ষার সময় এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১১টি BIC বলপয়েন্ট কলম জব্দ করেন। পরবর্তীতে দেখা যায়, প্রতিটি কলমের স্বচ্ছ প্লাস্টিকের গায়ে অত্যন্ত সূক্ষ্ম অক্ষরে ফৌজদারি কার্যবিধির বিভিন্ন বিষয় খোদাই করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, এত ক্ষুদ্র অক্ষরে লেখার জন্য ওই শিক্ষার্থী মেকানিক্যাল পেন্সিলের সিসের পরিবর্তে একটি সুচ ব্যবহার করেছিলেন বলে জানা যায়। ফলে প্রতিটি কলমে লেখা ফুটিয়ে তুলতে তাকে অসাধারণ ধৈর্য ও নিখুঁত হাতের কাজ করতে হয়েছে।

তবে নকলের এই অভিনব আয়োজন পরীক্ষার ফলাফলে কোনো কাজে আসেনি। জানা যায়, শেষ পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ফেল করেন এবং পুরো শিক্ষাবর্ষ আবার পড়তে হয়েছিল।

বহু বছর কলমগুলো অধ্যাপক দে লুচ্চির অফিসে রেখে দেওয়া হয়েছিল। ২০২২ সালে অফিস পরিষ্কার করার সময় তিনি আবার সেগুলো খুঁজে পান। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কলমগুলোর ছবি প্রকাশ করে ঘটনাটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ‘স্মৃতিচিহ্ন’ হিসেবে তুলে ধরেন।

কলমগুলোর সূক্ষ্ম কারুকাজের প্রশংসা করে তিনি লেখেন, ‘ক্রিমিনাল প্রসিডিউরাল ল’ ইন BIC পেন—কী শিল্প!’

ছবিগুলো প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। অনেকেই এত ছোট জায়গায় এত বিশাল সিলেবাস নিখুঁতভাবে খোদাই করার দক্ষতায় মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। নকলের উদ্দেশ্য সফল না হলেও, শিক্ষার্থীর অসাধারণ ধৈর্য ও সূক্ষ্ম কারুকাজই শেষ পর্যন্ত কলমগুলোকে আলোচনায় নিয়ে আসে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%