বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:১৭ এম
১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও জার্মানির বিপক্ষে ইংল্যান্ড জয়ী হয়েছিল। তারপর থেকে দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে থ্রি লায়নরা প্রথমে পিছিয়ে পড়ে কোন ম্যাচে জয় পেয়েছে বলে জানা যায়নি। অবশেষে অধিনায়ক হ্যারি কেইন সেই অভিশাপ থেকে দেশকে মুক্তি দিলেন।
ডি আর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচের সপ্তম মিনিটে পিছিয়ে পড়ার পর, ইংল্যান্ড কোন ভাবেই ম্যাচে ফিরতে পারছিল না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যাচের শেষ দিকে হওয়ার সময়েই ৭৫ এবং ৮৬ মিনিটে কেইনের দুটি দুর্দান্ত গোলে জয় নিজেদের করে নেয় থমাস টুখেলের দল।
ম্যাচের নায়ক হিসেবে উঠার পাশাপাশি, কেইন ভেঙেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার পেলের রেকর্ডও। চলতি আসরে পাঁচ গোল করে, বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙেছেন এবং মোট ১৩ গোল করে পেলেকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন তিনি।
এবং এই অর্জনের মাধ্যমে কেইন দলকে শেষ ষোলোয় নিয়ে গেলেন। সেখানে কোয়ার্টারে ওঠার জন্য, ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ হবে বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ মেক্সিকো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামে বন্যার কারণে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। উজানের ঢল এবং টানা বৃষ্টির ফলে নদ-নদীর পানি বেড়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। যদিও পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে, জেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে ফসলি জমি ও সবজি ক্ষেতে পানি প্রবেশ করায় ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য সংশ্লিষ্টরা আগাম প্রস্তুতি ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র অনুযায়ী, যদি কয়েকদিন পানি জমে থাকে, তাহলে গাছের শিকড় অক্সিজেনের অভাবে সমস্যায় পড়তে পারে। এর ফলে গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, পাতা হলুদ হয়ে যায় এবং রোগবালাই বাড়ে। দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতায় সবজি ও আমনের বীজতলায় ক্ষতির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়মিত অনুসরণ করলে ক্ষতি কমানো সম্ভব। পানি নেমে গেলে দ্রুত পুনর্বাসনমূলক কৃষি কার্যক্রম শুরু করা উচিত। কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন যে, বন্যা পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিপক্ব সবজি সংগ্রহ করতে হবে। জমিতে পানি জমলে নালা কেটে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিতে হবে।
জমির আইল উঁচু রাখা উচিত এবং আমনের বীজতলায় অতিরিক্ত পানি যেন না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। পানি নেমে গেলে চারা গাছের কাদা পরিষ্কার করতে হবে। তিনি আরো বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে স্বল্পমেয়াদি ও পানি সহনশীল ফসল চাষের প্রস্তুতির ব্যবস্থা নিতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়মিত অনুসরণ করতে হবে।
জানা গেছে, টানা বৃষ্টি এবং উজানের ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে কুড়িগ্রামে ৪৯৯ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে আমনের বীজতলা ৭১ হেক্টর, আউশ ধান ১৫০ হেক্টর, পাট ১৬৬ হেক্টর, শাক-সবজি ৮৭ হেক্টর, চীনা ৩ হেক্টর, মরিচ ২ হেক্টর এবং চিনাবাদাম ২০ হেক্টর জায়গা রয়েছে। তবে প্রায় ৩২ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমির ফসল এখনো রক্ষা পেয়েছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের শোভারকুটি গ্রামের কৃষক মাসুদ রানা বলেছেন, বৃষ্টি এবং ধরলা নদীর পানিতে ১৫ শতক পটল ক্ষেত ডুবে গেছে। পানি দ্রুত না নামলে পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, এক একর জমির কচু ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। কয়েকদিন পানি থাকলে ফসল পচে নষ্ট হয়ে যাবে।
শুলকুর বাজার এলাকার কৃষক হাবিবুর রহমান বলেছেন, পানিতে পটল ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় গাছ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। চিলমারীর চর শাখাহাতির কৃষক আফজাল আলী জানিয়েছেন, পাট এখনও পরিপক্ব হয়নি, কিন্তু পানি ওঠায় আগেভাগেই কাটতে হচ্ছে। নাহলে গাছের গায়ে শিকড় গজিয়ে পাটের মান নষ্ট হবে।
রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চর গতিয়াশাম এলাকার কৃষক ছাবেদ আলী জানিয়েছেন, তিস্তার পানি গতি বুঝা মুশকিল। এখনে পানি বাড়ছে, এখনে। বৃষ্টি এবং উজানের ঢলে বাদাম ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় তড়িঘড়ি করে বাদাম তুলে নিয়েছি। নয়তো বন্যার পানিতে বাদাম নষ্ট হয়ে লোকসান হতে পারে।
সংক্রান্তদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষিকে জলবায়ু সহনশীলভাবে গড়ে তোলা এখন অত্যন্ত জরুরি। আগাম সতর্কতা, আবহাওয়ার পূর্বাভাসের সঠিক ব্যবহার এবং সময়োপযোগী কৃষি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঋতুচক্রের স্বাভাবিকতা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে যখন যেটা হওয়ার কথা তখন তা হচ্ছে না। বৃষ্টিপাতের সময় এবং পরিমাণে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। যা সরাসরি কৃষিতে প্রভাব ফেলছে।
তিনি আরো বলেন, চলতি বছরের মে মাসে কুড়িগ্রামে ৭৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা সাম্প্রতিক সময়ে সর্বোচ্চ। গত বছরও অনিয়মিত এবং অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণে নিম্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও ফসল ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। তাই আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে কৃষিকাজ পরিচালনা ও আগাম প্রস্তুতি নেওয়া এখন অতীব জরুরি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতের অস্বস্তিকর বাস্তবতা হলো, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানে হামলার মাধ্যমেই মূলত সম্ভাব্য তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কোটি টাকার মূল্যের নকল সিগারেট জব্দ করেছে। এই অভিযানের সময় তিনজনকে আটক করা হয়। বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার লোকমান খারকান্দি গ্রামের মোরশেদ মিয়ার ছেলে পিকআপ চালক নাদিম মিয়া (২৭), মাদারীপুর সদর উপজেলার ব্রাহ্মদী এলাকার মৃত আদেল উদ্দিনের ছেলে আতাহার মিয়া (৬২), এবং রাজশাহী পুঠিয়া উপজেলার কাঁঠালবাড়ি গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ সোহেল রানা (৫৪)।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, নিয়মিত চেকপোস্টের অংশ হিসেবে সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের মোবারকদী এলাকার সড়কে অভিযান পরিচালনা করে সদর মডেল থানা পুলিশ। এসময়ে সন্দেহভাজন একটি কাভার্ডভ্যানে সিগারেট ভর্তি তল্লাশি করা হয়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে ভ্যাট ও শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সিগারেটগুলোকে নকল বলে নিশ্চিত করেন।
এই অভিযানে কাভার্ডভ্যান থেকে জব্দ করা হয় ১১০ কার্টন সিগারেট। যার বাজারমূল্য প্রায় কোটি টাকা। এই ঘটনার জন্য দায়ী থাকা অপরাধের কারণে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। জানা যায়, এসব নকল সিগারেট বাজারজাত করার মাধ্যমে ৫৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হচ্ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙ্গামাটির জুরাছড়ি সেনা জোনের উদ্যোগে একটি অসহায় প্রসূতি নারীর উন্নত চিকিৎসার জন্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় বুধবার (১ জুলাই) জুরাছড়ি উপজেলার জ্যামুরাছড়ি গ্রামের বাসিন্দা সমাপ্তি চাকমা প্রসবজনিত জটিলতার কারণে শিলছড়ি বাজারস্থ গ্রিন হিল ক্লিনিকে ভর্তি হন। পরে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে, তখন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাকে জরুরি ভিত্তিতে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে রেফার করে। কিন্তু অসচ্ছল অবস্থার কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীকে রাঙ্গামাটিতে স্থানান্তর করার প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করা পরিবারের পক্ষ থেকে সম্ভব ছিলো না।
বিষয়টি জানার পর জুরাছড়ি সেনা জোন মানবিক বিষয়টি বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। সেইসাথে জোনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রোগীকে নিরাপদে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়।
এই মানবিক সহায়তার জন্য রোগীর স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং জুরাছড়ি জোনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং জননিরাপত্তা রক্ষার সাথে সাথে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মানবিক সহায়তা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ভবিষ্যতেও জুরাছড়ি জোন অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে জনকল্যাণমূলক এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ