ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ‘পারস্পরিক আস্থা’ অর্জনের পর: উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির


প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ‘পারস্পরিক আস্থা’ অর্জনের পর: উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই; বরং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনা এবং সম্মানজনক আমন্ত্রণ প্রস্তাবের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর অনুষ্ঠিত হতে পারে।

তিনি জানান, ‘আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে গুঞ্জন থাকলেও সুনির্দিষ্ট জাতীয় স্বার্থ বজায় রেখে বাংলাদেশ কতৃক এই মুহূর্তে কোনো তাড়াহুড়ো না করার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে দুই দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিয়ে ঢাকা ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করবে।’

১৭ আগস্ট রাজধানীর মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবনে দেওয়া একান্ত বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক বিষয়ক) হুমায়ুন কবির এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে

সাক্ষাৎকারে তিনি ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, নতুন আন্তর্জাতিক জোটের সমীকরণ, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক, মালয়েশিয়ায় বন্ধ থাকা শ্রমবাজার চালু, এবং পররাষ্ট্রনীতির মূল অগ্রাধিকারগুলোর অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রধানমন্ত্রীর সফর সংক্রান্ত খবরগুলোকে জল্পনা-কল্পনা আখ্যা দিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরগুলো ভিত্তিহীন ও অনুমাননির্ভর। দু’দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের শীর্ষ পর্যায়ের সফরের বিষয়টি ভারতের বর্তমান নেতৃত্বের মাইন্ডসেট (মানসিকতা) বা দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করছে। দেড় হাজারের বেশি মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সংঘটিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বাস্তবতাকে প্রতিবেশী দেশকে সঠিকভাবে অনুধাবন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত সরকারের সাথে ভারত কী ধরনের সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করতে চায়Ñ তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করে শীর্ষ সফর করার কোনো যুক্তি নেই। সুনির্দিষ্ট বিষয়ে উভয় দেশের ঐকমত্য এবং সম্মানজনক আমন্ত্রণ প্রস্তাবের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হওয়া ছাড়া আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা অনেকটা ক্ষীণ।’

বাংলাদেশের আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামিদের ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বা প্রচারমাধ্যমে স্পেস দেওয়ার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে দেড় হাজারের বেশি মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর অপরাধী হিসেবে ভারতে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেওয়া, ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনাকে সেখানে রাজনৈতিক কিংবা মিডিয়াতে কথা বলার সুযোগ দেওয়া ভারতের গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার পরিপন্থী।’

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, ‘ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেকোনো অস্থিতিশীল তৎপরতা চালানো কিংবা দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি, সন্ত্রাসী বা খুনিকে স্পেস দেওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করেছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী দিল্লি এটিকে কোনোভাবেই যৌক্তিক প্রমাণ করতে পারে না। সেইসাথে তা কোনো অবস্থাতেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অজুহাতে জাস্টিফাই করা যায় না। এ বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক আইনি দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরকার ইতোমধ্যে নয়াদিল্লির কাছে কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। এবং ভবিষ্যতে যেকোনো বাংলাদেশ বিরোধী অপতৎপরতা বন্ধে কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকবে।’

বর্তমান সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারসাম্যমূলক পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখছে বর্তমান সরকার। বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বা প্রতিরক্ষা ফ্রেমওয়ার্কে যুক্ত হওয়া নিয়ে বাংলাদেশ তার নিজস্ব স্বার্থ বিবেচনা করেই ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে গ্রীষ্মকাল অতিবাহিত হওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রিয়াদ সফর চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সাথে স্বাভাবিক কাজের অংশ হিসেবে ওয়ার্কিং বাইল্যাটারাল রিলেশনশিপ, বাণিজ্য ও দ্বিপক্ষীয় পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটি জোরদার করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি-বেসরকারি খাতের সাথে সয়াবিন আমদানি ও বোয়িং বিমান ক্রয়ের আলোচনা এগোনোর পাশাপাশি ট্রেড ভলিউম বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ইইউ’র সাথে ট্রেড অ্যান্ড পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্টের সুনির্দিষ্ট আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

চীনের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, বেইজিংয়ের সাথে সম্পর্ক এখন এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক চাপ এড়িয়ে চীনের সাথে ‘টু প্লাস টু’ মেকানিজম এবং কম্প্রিহেন্সিভ পার্টনারশিপের আওতায় বাংলাদেশকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। চীনের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের বিষয়টি জোরালো আলোচনা চলছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের সাথে ডায়াসপোরা কমিউনিটি ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে বিশেষ কূটনৈতিক জোর দেওয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতি গভীর আস্থার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রেসিডেন্সি নির্বাচনে আফ্রিকার ৫৪টি দেশের মধ্যে ৫২টি দেশই বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়েছে। আফ্রিকান ব্লকের সাথে এই ঘনিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে খুব শিগগিরই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আফ্রিকা সফর করবেন। সেখানে কন্ট্রাক্ট ফার্মিং এবং বাংলাদেশি পণ্যের নতুন রফতানি বাজার গড়ে তুলতে একাধিক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হবে।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর দেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও সফল দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ফলে বরফ গলতে শুরু করেছে। খুব শিগগিরই জটিলতা কাটিয়ে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী গমনের পথ উন্মোচিত হবে।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় মূলত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, লিডারশিপ কোয়ালিটি এবং সরকারের প্রগ্রেসিভ গণতান্ত্রিক ইমেজেরই বৈশ্বিক স্বীকৃতি। উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জাতিসংঘের এই প্রেসিডেন্সি প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বমঞ্চে নীতিভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতির আদর্শ তুলে ধরা হবে। একইসাথে মিয়ানমার ও চীনসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ওপর সুনির্দিষ্ট আর্থিক ও কূটনৈতিক চাপ তৈরি করে রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী ও মর্যাদাপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা জোরদার করা হবে।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, সরকারের গত ১৮০ দিনে একটি সুদৃঢ় ফরেন পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। জাতিসংঘে বাংলাদেশের জয় এবং সরকারের গৃহীত কূটনৈতিক নীতিগুলো প্রমাণ করে- একটি গণতান্ত্রিক সরকার কতটা দ্রুত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের হারানো ভাবমূর্তি ও সার্বভৌম মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারে।

এদিকে, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের আধুনিক ডিপ্লোমেসির মূল শক্তি তার সমৃদ্ধ আন্তর্জাতিক পটভূমি। সিলেটের ওসমানীনগরের সন্তান হুমায়ুন কবির যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠেন।

তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে স্নাতকের পর লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স (এলএসই), কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও লিডস ল’ স্কুল থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জিএমপি কোর্স সম্পন্ন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি বরিস জনসন, লিজ ট্রাস ও ঋষি সুনাকের মতো যুক্তরাজ্যের তিন তিনজন প্রধানমন্ত্রীর সাথে কাজ করেছেন। এছাড়াও সাবেক প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের প্রাইভেট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সূত্র: বাসস

আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৪৩ ঘণ্টা পর রাজবাড়ী-ফরিদপুর রুটে ফের বাস চলাচল শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫১ এম


৪৩ ঘণ্টা পর রাজবাড়ী-ফরিদপুর রুটে ফের বাস চলাচল শুরু

রাজবাড়ী-ফরিদপুর এবং দৌলতদিয়া-ফরিদপুর রুটে টানা প্রায় সাড়ে ৪৩ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর অবশেষে বাস চলাচল শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে এই রুটে বাস চলাচল শুরু হতে দেখা গেছে। তবে গোল্ডেন লাইন পরিবহন নিয়ে রাজবাড়ীর পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের বিরোধ এখনো পুরোপুরি মিটেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ১২টার পর থেকে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাস চলাচলকে কেন্দ্র করে রাজবাড়ী-ফরিদপুর ও দৌলতদিয়া-ফরিদপুর রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এই কারণে দুই জেলার যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। তাদের বাধ্য হয়ে মাহেন্দ্র, অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে দেখা যায়।

রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার ভৌমিক বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। কিন্তু গোল্ডেন লাইন নিয়ে বিরোধ এখনো সমাধান হয়নি। প্রশাসনের আশ্বাসে বাস চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজবাড়ীর ওপর দিয়ে গোল্ডেন লাইনের চারটি ট্রিপ চলতে কোনো আপত্তি নেই; কিন্তু এর বেশি ট্রিপ চালাতে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে।

সুকুমার ভৌমিক আরও বলেন, মঙ্গলবারের ঘটনার পর ফরিদপুরের রাজবাড়ীর একটি বাসের গ্লাস ভাঙচুর, চালক ও হেলপারকে মারধর এবং ১৭ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই পরিস্থিতির কারণে প্রশাসন বাস চলাচলের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ায় তারা পুনরায় বাস চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জানা গেছে, বিগত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজবাড়ীর ওপর দিয়ে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাস চলাচল নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। সে সময়, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে পরিবহন মালিক সংগঠনের নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় রাজবাড়ীর ওপর দিয়ে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের চারটি ট্রিপ চলবে, যা উভয় পক্ষই মেনে নেয়।

তবে ৫ আগস্ট সরকারের পরিবর্তনের পর গোল্ডেন লাইন পরিবহন ওই সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে ধীরে ধীরে ট্রিপ বাড়াতে থাকে বলে অভিযোগ করেন রাজবাড়ী পরিবহন মালিক গ্রুপ। তাদের দাবি, কোনো কোনো দিন রাজবাড়ীর ওপর দিয়ে ২৮টি পর্যন্ত ট্রিপ চালানো হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, মঙ্গলবার সকালে রাজবাড়ীতে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের চারটি বাস চলাচলের পর অতিরিক্ত বাস চলাচলে শ্রমিকরা বাধা দেন। এর ফলস্বরূপ ফরিদপুরে রাজবাড়ীর বাস আটকে দেওয়া হয়। এ সময় রেখা পরিবহনের একটি বাস ভাঙচুর ও শ্রমিকদের মারধর করার অভিযোগও ওঠে।

রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. মাহমুদুল হক জুয়েলও সকাল থেকে বাস চলাচল শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, বাস চলাচল স্বাভাবিক হলেও গোল্ডেন লাইন পরিবহনের চলাচল নিয়ে বিরোধ এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, দুপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। আপাতত বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। পরে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসে বিরোধের স্থায়ী সমাধান করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফরিদপুরে কালী মন্দিরের চুরি হওয়া ২ পিতলের মূর্তি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫৩ এম


ফরিদপুরে কালী মন্দিরের চুরি হওয়া ২ পিতলের মূর্তি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

ফরিদপুরের নগরকান্দায় কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরের তালা ভেঙে চুরি হওয়া দুটি পিতলের মূর্তি উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে উপজেলার জুঙ্গুরদী গ্রামের মুর্তজা শেখের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে চুরি হওয়া মূর্তি দুটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মূর্তি দুটির আনুমানিক ওজন প্রায় ২২ কেজি হতে পারে।

পুলিশ জানায়, একটি মূর্তি চুরির ঘটনার পর পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাতে শুরু করে। এই ঘটনার জের ধরে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যানুসারে জুঙ্গুরদী গ্রামের মুর্তজা শেখের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া মূর্তি দুটি উদ্ধার করা হয়।

এদিকে, এর আগে রোববার (১৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মন্দিরের তালা দিয়ে সেবায়েত রমা চক্রবর্তী বাসায় চলে যান। কিন্তু পরদিন সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে মন্দিরে এসে পূজা দিতে গিয়ে তিনি দেখেন, মন্দিরের ভেতরে থাকা দুটি পিতলের মূর্তি অদৃশ্য। মন্দিরের কেচিগেটের তালা ভাঙ্গা অবস্থায় ছিল। এ ঘটনার পর সেবায়েত রমা চক্রবর্তী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

ঘটনার পর নগরকান্দা থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে পুলিশি তদন্ত ও চার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। তাদের দেয়া তথ্যানুসারে মূর্তি দুটি উদ্ধার করা হয়।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ জানান, চুরি হওয়া মূর্তি দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যেই চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত অন্য কেউ থাকলে পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে তাদেরও আইনের আওতায় আনবে। উদ্ধার হওয়া মূর্তি দুটি মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুন্সীগঞ্জে ইয়াবাসহ ৪ জন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫৪ এম


মুন্সীগঞ্জে ইয়াবাসহ ৪ জন গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার আলোচিত গোয়ালীমান্দ্রা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫১০ পিস ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে গোয়ালীমান্দ্রা সাকিনে জনৈক সাইদুলের বাড়ির পূর্ব পাশে ইটের সোলিং রাস্তার ওপর এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএমের কঠোর নির্দেশনায় ডিবির এসআই (নিঃ) আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্স অভিযান চালায়। অভিযানে ৫১০ পিস ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন—লৌহজং উপজেলার কারপাশা এলাকার নুরু শেখের ছেলে লিটন শেখ (৫২), শ্রীনগর উপজেলার দেউলভোগ এলাকার মৃত রহমত উল্লাহর ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম শাহীন (৩৫), শ্রীনগরের ষোলঘর ভূইচিত্র এলাকার বজলু শেখের ছেলে মো. তুষার (২০) এবং লৌহজং উপজেলার মৌছামান্দ্রা এলাকার ইস্কান্দারের ছেলে মো. জীবন হোসেন (৩১)।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জেলায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এসব অভিযান আরও কঠোরভাবে পরিচালনা করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গভীর সংকটের মুখে যুক্তরাষ্ট্র, ঋণ ছাড়িয়েছে ৪০ লাখ কোটি ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫৭ এম


গভীর সংকটের মুখে যুক্তরাষ্ট্র, ঋণ ছাড়িয়েছে ৪০ লাখ কোটি ডলার

যুক্তরাষ্ট্র গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের জাতীয় ঋণের পরিমাণ এ নিয়ে প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন বা ৪০ লাখ কোটি ডলারকে অতিক্রম করেছে। মূলত মার্কিন সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়, ঋণের সুদ ও বাজেটের ঘাটতি মেটাতে ধার নেওয়ার কারণে ঋণের বোঝা দ্রুতগতিতে বাড়ছে। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ২০৩৬ সালের মধ্যে প্রায় ৬৪ ট্রিলিয়ন ডলার হয়ে যেতে পারে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এই তথ্য প্রকাশ করেছে। ট্রেজারি বিভাগের সর্বশেষ দৈনিক ঋণ ও নগদ হিসাব অনুযায়ী, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণ ৪০ দশমিক ০৪৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে জনগণের কাছে থাকা ট্রেজারি সিকিউরিটির পরিমাণ ৩২ দশমিক ২৬৬ ট্রিলিয়ন ডলার, আর সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে থাকা ঋণের পরিমাণ ৭ দশমিক ৭৮২ ট্রিলিয়ন ডলার।

প্রতিবেদন অনুসারে, গত দশকজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গেছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তখন দেশটির মোট ঋণ ছিল প্রায় ১৯ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার। তখন থেকেই ঋণের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ২০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই ঋণের বৃদ্ধি করোনা মহামারির সময় ঘটে, যখন ট্রাম্প ও তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বিপুল পরিমাণ সরকারি ব্যয় ও ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করেছেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ঋণের বৃদ্ধির পেছনে দুই প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অর্থনৈতিক নীতি এবং দীর্ঘদিনের কর ও সরকারি ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্যহীনতাকে দায়ী করা হচ্ছে, যা উল্লেখযোগ্য। কিছু সপ্তাহ ধরেই বাজেট পর্যবেক্ষক বিভিন্ন সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রমের আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছিল। বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি যদি দ্রুত পরিবর্তন না হয়, তাহলে দেশটি আরও বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পতিত হতে পারে এই সতর্কবার্তা তাদের।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঋণের বৃদ্ধি এবং সর্বশেষ রেকর্ড মাইলফলক ইতোমধ্যেই আমেরিকার জনগণের আর্থিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এর ফলে মর্টগেজ ও গাড়ির মতো বিভিন্ন জিনিসের জন্য ঋণের খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিনিয়োগের জন্য খরচ কমে আসছে ব্যবসায়ীর মজুরি, এবং পণ্য ও পরিষেবার মূল্য দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে।

দলনিরপেক্ষ সংস্থা কমিটি ফর আ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেটের (CRFB) প্রেসিডেন্ট মায়া ম্যাকগিনিয়াস বলছেন, ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ সরকারের হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে উচ্চমাত্রায় পড়ে এবং সাধারণ মানুষের ওপরও তার প্রভাব পড়ে। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, সরকার যত বেশি ঋণ নেবে, মূল্যস্ফীতির চাপ তত বেশি বাড়তে পারে।

এদিকে, বাজেটের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয়ের সুযোগ কমে যাবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ জরুরি পরিস্থিতি বা বিদেশে অস্থিতিশীলতার সময় যুক্তরাষ্ট্র আরও ঝুঁকির মধ্য পড়ে যাবে। ম্যাকগিনিয়াস আরো জানান, মাত্র পাঁচ মাসেরও কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ৩৯ ট্রিলিয়ন থেকে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। গত ২০ বছরেরও কম সময়ে ঋণ প্রায় চারগুণ বেড়ে গেছে। অথচ প্রথমবার যখন যুক্তরাষ্ট্র ১ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ নেয়, তখন তার জন্য ১৯৮১ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, এবং সরকারি বন্ডের সুদও বাড়ছে। সম্প্রতি ২৫ বিলিয়ন ডলারের ৩০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ড নিলামে গত ২০২১ সাল以来 সর্বোচ্চ সুদে বিক্রি হয়েছে। এর কয়েক দিন পর মঙ্গলবার দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদ প্রায় দুই দশকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে চলে যায়। বিপুল পরিমাণ সরকারি বন্ড বাজারে ছাড়ার কারণে বিনিয়োগকারীরা অধিক ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগের জন্য বাড়তি মুনাফা দাবি করছেন।

সাধারণত বন্ডের দাম ও সুদের হার পরস্পর বিপরীত। অর্থাৎ বন্ডের চাহিদা কমলে দাম কমে যাওয়ার সঙ্গে সুদের হার বেড়ে যায়। এই অবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের সুদ কমানোর জন্য বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট একটি বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, ১০ থেকে ৩০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ড পুনঃক্রয় বা বাইব্যাক কার্যক্রমের আকার দ্বিগুণ করা হবে। প্রতিটি কার্যক্রমে অন্তত ৪ বিলিয়ন ডলারের বন্ড পুনঃক্রয় করা হবে।

দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদ বেড়ে গেলে এর প্রভাব সাধারণ মানুষের ঋণের খরচে পড়তে বাধ্য। বিশেষ করে বাড়ি কেনার বন্ধকী ঋণ, গাড়ির ঋণ, এবং ব্যবসায়িক ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি পেতে পারে। অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, সরকারি ঋণ, সুদ পরিশোধের বাড়তি ব্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে, ভবিষ্যতে আরও গভীর আর্থিক সংকটে নিমজ্জিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%