০৯:২৬ এম
মুন্সীগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে এক কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে বিপুল পরিমাণ টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি তিন সদস্যের প্রতারক চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নগরপাড়া গ্রামের শাহীনের ছেলে ফেরদৌস আলম হামিম (১৯), মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরকেওয়ার গজারকান্দি এলাকার ফারুখ সরকার লিটনের ছেলে মো. হোসেন শাওন তাজ সরকার বাবু (২০) এবং মুন্সীগঞ্জ শহরের মালপাড়া এলাকার মৃত গবিন্দ মুখার্জীর ছেলে সুধাংশ মুখার্জী (৪৬)।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে অপহরণ ও ডাকাতির মামলায় পুলিশ কনস্টেবলসহ গ্রেপ্তার ৪, উদ্ধার ৩ মোটরসাইকেল
পুলিশ জানায়, প্রায় এক বছর আগে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাসিন্দা ফেরদৌস আলম হামিমের (১৯) ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে পরিচয় ঘটে। পরে একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে হামিম ও তার সহযোগীরা কিশোরীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং ব্ল্যাকমেইল করে বিভিন্ন সময়ে টাকা দাবি করতে থাকে।
টাকা জোগাড় করতে না পারায় কিশোরী পরিবার থেকে গচ্ছিত স্বর্ণালংকার বিক্রি করে দেয় এবং সেই অর্থ নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। পরবর্তীতে অতিরিক্ত টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হলে কিশোরী পুনরায় স্বর্ণ বিক্রির পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এ সময় তার পরিচিত মো. হোসেন শাওন তাজ সরকার বাবু (২০) স্বর্ণালংকারের নামমাত্র মূল্য পরিশোধ করেন। পরে ওই স্বর্ণ মুন্সীগঞ্জের স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুধাংশ মুখার্জীর (৪৬) কাছে বিক্রি করা হয় বলে তদন্তে জানা গেছে।
ঘটনার পর জেলা গোয়েন্দা শাখা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে গত ২২ জুন বিকেলে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার খালইস্ট এলাকা থেকে শাওন তাজ সরকার বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুধাংশ মুখার্জীকে তার দোকান থেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি প্রতারণার মাধ্যমে প্রাপ্ত স্বর্ণ গলিয়ে বিক্রি করার কথা স্বীকার করেন।
পরবর্তীতে একই দিন রাত ১১টার দিকে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানার এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত ফেরদৌস আলম হামিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এসব জব্দকৃত ডিভাইস থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: টেকনাফে বিজিবির পৃথক অভিযানে সাড়ে ৪ লাখ ইয়াবা উদ্ধার
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন