ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরানে হামলায় ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিতের প্রস্তাব পাস মার্কিন সিনেটে


ইরানে হামলায় ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিতের প্রস্তাব পাস মার্কিন সিনেটে

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিরোধী সামরিক পদক্ষেপে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস হয়েছে।

প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালানোর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন আবশ্যক এবং বা চলমান অপারেশন বন্ধ করতে হবে। এ তথ্য জানান আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) আপত্তি ভোটে ৫০-৪৮ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সিনেটে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়। এর আগে এটি প্রতিনিধিসভাতেও পাস হয়েছিল। ১৯৭৩ সালের যুদ্ধক্ষমতা আইন কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম কোনো প্রেসিডেন্টের সামরিক পদক্ষেপ সীমিত করার প্রস্তাব কংগ্রেসের উভয় কক্ষে অনুমোদিত হলো।

আরও পড়ুন: বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া গাড়ির চালককে উদ্ধার করলেন সাংবাদিক উইল মারে

তবে উল্লেখযোগ্য যে, এই প্রস্তাবটি আইন হিসেবে পরিণত হচ্ছে না এবং এটি ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্যও পাঠানো হবে না। সুতরাং, এর কোনো সরাসরি আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্টের জন্য রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়।

সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্ত্বেও, চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমর্থন করে ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে একজন সদস্য কেবল এই প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

মার্কিন জনগণের ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ এবং তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে এই প্রস্তাবকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, খুব কমসংখ্যক মার্কিন নাগরিক এ যুদ্ধের খরচকে সার্থক বলে মনে করেন।

ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার মন্তব্য করেন যে, ট্রাম্পের ইরাননীতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিভ্রান্তি এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে এবং এতে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। তার মতে, এই যুদ্ধ ভবিষ্যতে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির একটি বড় ভুল হিসেবে গণ্য হতে পারে।

আরও পড়ুন: মায়ের জন্মদিনের উপহার বন্দুক দিয়ে ৪ জনকে হত্যা কিশোরের

অন্যদিকে, রিপাবলিকান সিনেটর জেমস রিশ সতর্ক করেন যে, এমন প্রস্তাব ইরানকে আলোচনার টেবিল থেকে সরে যেতে উত্সাহিত করতে পারে। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্প এই প্রস্তাব কার্যকর হতে দেবেন না।

বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বজায় রয়েছে। দুই দেশ একটি সমঝোতার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে, মধ্যপ্রাচ্যের সমগ্র পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত থাকায় উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন বলেন, যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কোনো একক ব্যক্তির হাতে নয়, বরং জনগণের প্রতিনিধিদের হাতে থাকা উচিত। এজন্য প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করতে ভবিষ্যতেও তারা উদ্যোগ চালিয়ে যাবেন।

আরও পড়ুন: সিইসির পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের নতুন আন্দোলনের ঘোষণা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হজ শেষে সৌদি আরব থেকে ফিরেছেন ৬৪ হাজার ১৬৩ হাজি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩০ এম


হজ শেষে সৌদি আরব থেকে ফিরেছেন ৬৪ হাজার ১৬৩ হাজি

পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার পরে মঙ্গলবার পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে মোট ৬৪ হাজার ১৬৩ জন বাংলাদেশি হাজি দেশে ফিরে এসেছেন। চলতি বছরে হজ করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৪ জন বাংলাদেশি।

বুধবার প্রকাশিত হজ বুলেটিনের তথ্যমতে, তারা ১৭০টি ফিরতি ফ্লাইটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৮৯টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স ৫৯টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২২টি ফ্লাইট পরিচালনা করে।

হজ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ব্যবস্থাপনার আওতায় ৪ হাজার ৩১৯ জন হাজি দেশে ফিরেছেন এবং বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ফিরেছেন ৫৯ হাজার ৮৮৮ জন হাজি।

এদিকে, চলতি হজ মৌসুমে সৌদি আরবে ৩৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারীসহ মোট ৫৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় একজন মৃত্যুবরণ করেন। তবে মিনা বা মুজদালিফায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

হজ বুলেটিন অনুযায়ী, ৪১৫ জন বাংলাদেশি হাজি সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সৌদি মেডিকেল সেন্টারগুলো মোট ৬৬ হাজার ৮৮০ জন হাজিকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেছে এবং মক্কা ও মদিনার আইটি হেল্প ডেস্ক ২৮ হাজার ৩২৫ জন হাজিকে বিভিন্ন তথ্য ও সেবা দিয়ে সহায়তা করেছে।

গত ১৮ এপ্রিল প্রথম বহির্গামী ফ্লাইটের মাধ্যমে চলতি বছরের হজ পরিবহন কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং ২১ মে প্রাক হজ ফ্লাইট সম্পন্ন হয়। চলতি বছরের ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয় এবং তা আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত চলবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের প্রেসিডেন্টের পাকিস্তান সফরের কারণ কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩৪ এম


ইরানের প্রেসিডেন্টের পাকিস্তান সফরের কারণ কী?

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রীয় সফরের উদ্দেশ্যে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষাপটে এবং সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের উচ্চপর্যায়ের সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পর এটি তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন, পেজেশকিয়ানের এই সফর পাকিস্তানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্য পূরণ করে, পাশাপাশি এটি আঞ্চলিক রাজনীতিতে ইরানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি বড় বার্তা হিসেবে কাজ করবে।

১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক সই হয়, যেখানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সুইজারল্যান্ডে সেই আলোচনায় চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে ৬০ দিনের একটি রূপরেখার ভিত্তিতে ইরান ইতিমধ্যে বিশ্ববাজারে তেল রপ্তানির অনুমতি পেয়েছে। এই সফল মধ্যস্থতার জন্য এবং কূটনৈতিক সংকটে পাশে থাকার উদ্দেশ্যেই পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সামরিক বাহিনী ও সাধারণ মানুষকে কৃতজ্ঞতা জানাতে পেজেশকিয়ানের সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সফরের সময় তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারসহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। দুই দেশের শীর্ষ বৈঠকে সুইজারল্যান্ডের আলোচনার পরবর্তী ধাপ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, জ্বালানি এবং সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, পেজেশকিয়ানের সফরের সময়কাল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির মতো এই সমঝোতা নিয়েও ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিভিন্ন ধরণের বিভাজন দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের ভেতরে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে এবং আঞ্চলিক সমর্থন বাড়ানোর জন্য পেজেশকিয়ানের সফরটি অত্যন্ত জরুরি ছিল। অন্যদিকে, সফরের মাধ্যমে পাকিস্তান নিজেকে কেবল একটি সাধারণ বার্তাবাহক দেশ হিসেবে নয়, বরং এই অঞ্চলের একটি শক্তিশালী এবং স্বীকৃত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। ইরানের সাবেক কূটনীতিকরা মন্তব্য করছেন, পেজেশকিয়ানের এই সফর প্রমাণ করছে যে, ইরানের কূটনীতি কোনো আত্মসমর্পণ নয়, বরং আঞ্চলিক বন্ধুদের সাথে যুক্ত থেকে নিজেদের সার্বভৌম অবস্থান বজায় রেখেই বৈশ্বিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পানামাকে হারিয়ে বিশ্বকাপে টিকে থাকল ক্রোয়েশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩৭ এম


পানামাকে হারিয়ে বিশ্বকাপে টিকে থাকল ক্রোয়েশিয়া

বিশ্বকাপে টিকে থাকার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ জয় অর্জন করেছে ক্রোয়েশিয়া। গ্রুপ ‘এল’-এর খেলায় পানামাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে নকআউট পর্বে ওঠার আশা ধরে রেখেছে ২০১৮ সালের রানার্সআপরা।

অন্যদিকে, টানা দ্বিতীয় পরাজয়ের মাধ্যমে পানামার বিশ্বকাপ ছাড়া হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

মঙ্গলবার টরন্টো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলের মধ্যে রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলা হয় এবং এ কারণে গোলের নিশ্চয়তা মেলেনি। তবে বিরতির পর ক্রোয়েশিয়া আক্রমণের চাপ বাড়াতে থাকে এবং ফলশ্রুতিতে ৫৪তম মিনিটে একটি গোল পায়।

সেই সময় বক্সের ভেতরে তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে আন্তে বুদিমির জালের ঠিকানা খুঁজে নেন। তার একমাত্র গোলের মাধ্যমেই ক্রোয়েশিয়া এগিয়ে যায়। ম্যাচের বাকি সময়জুড়ে তারা বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে নিজেদের লিড অক্ষুণ্ন রাখতে সক্ষম হয়।

গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে পানামা। তারা কয়েকটি আক্রমণের মাধ্যমে সুযোগ তৈরি করেছিল, কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার সংগঠিত রক্ষণভাগ ও অভিজ্ঞতার কাছে তারা বারবার ব্যর্থ হয়।

ফলে, ম্যাচে আর কোনো গোল না হলে ক্রোয়েশিয়া ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ত্যাগ করে।

এই জয়ের ফলে গ্রুপে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে ক্রোয়াটরা। শেষ ম্যাচে জয়ী হলে তাদের নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে। অন্যদিকে, দুই ম্যাচেই হারার কারণে পানামা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেনা সদস্য হত্যা মামলায় পাকিস্তানি মানবাধিকারকর্মীর যাবজ্জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩৮ এম


সেনা সদস্য হত্যা মামলায় পাকিস্তানি মানবাধিকারকর্মীর যাবজ্জীবন

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে জোরপূর্বক গুমের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ মানবাধিকারকর্মী মাহরাং বেলুচকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। একটি বিক্ষোভে আধাসামরিক বাহিনীর এক সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় ২০২৪ সালে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার কোয়েটার একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। একই মামলায় বেলুচিস্তান ইউনিটি কমিটির (বিওয়াইসি) আরেক কর্মী সিবঘাতুল্লাহকেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, দুজনই একটি অবৈধ সমাবেশে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন এবং সেখানে ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারির সদস্য শাব্বির আহমেদকে হত্যার ঘটনায় তাদের অভিন্ন উদ্দেশ্য ছিল।

অভিযোগপক্ষের দাবি, ২০২৪ সালে বন্দরনগরী গোয়াদারে অনুষ্ঠিত একটি বিক্ষোভে মাহরাং বেলুচ ও সিবঘাতুল্লাহ জনতাকে উসকে দিয়েছিলেন। তাদের বক্তব্যের পর উত্তেজিত বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর একটি গাড়িতে লাঠি ও পাথর ছুড়ে হামলা চালায়। এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় শাব্বির আহমেদ অন্য সদস্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এরপর বিক্ষোভকারীরা তাকে মারধর করে হত্যা করে।

তবে মাহরাং বেলুচ ও সিবঘাতুল্লাহ শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাদের দাবি, তারা কোনো হত্যাকাণ্ড বা সহিংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। মামলার বিচার প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে তাদের আইনজীবীরাও বিচার বর্জন করেছিলেন। রায়ের পাশাপাশি আদালত দুই আসামিকে নিহত শাব্বির আহমেদের পরিবারের কাছে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২ লাখ পাকিস্তানি রুপি পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারের পরে গত প্রায় দুই বছর ধরে মাহরাং বেলুচ ও সিবঘাতুল্লাহ কারাগারে রয়েছেন। রায়ের পর পাকিস্তান মানবাধিকার কমিশন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি দ্রুত এই মামলার পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে কমিশন বলেছে, মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার নিয়ে কাজ করা কর্মীদের সঙ্গে রাষ্ট্র এমন আচরণ করছে, যেন তারা উগ্রবাদী বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য। এর ফলে প্রশাসনিক ও বিচারিক সিদ্ধান্তগুলো পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি। মাহরাং বেলুচের বোন ও আইনজীবী নাদিয়া বেলুচও এই রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, পুরো বিচার প্রক্রিয়ায় ন্যায্যতার অভাব ছিল। তিনি বলেন, মামলাটি একটি ‘অজ্ঞাত আদালতে’ পরিচালিত হয়েছে। এ ছাড়া ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে সাক্ষ্য দেওয়া প্রত্যক্ষদর্শীদের যথাযথভাবে জেরা করার সুযোগও দেওয়া হয়নি বিবাদী পক্ষের আইনজীবীদের।

এই বিচার নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থানবার্গ এক বিবৃতিতে বিচার প্রক্রিয়াকে ‘ন্যায়বিচারের প্রহস’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, পুরো বিচার কার্যক্রম অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে পরিচালিত হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভিন্নমত ও সমালোচনাকে অপরাধ হিসেবে দেখানোর অভিযোগও তোলেন তিনি।

অন্যদিকে বেলুচিস্তান সরকারের একজন মুখপাত্র এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি বলেন, মামলায় অভিযোগপক্ষের হাতে ‘অখণ্ডনীয় প্রমাণ’ রয়েছে। তার দাবি, এই রায়ের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই।

মাহরাং বেলুচ বেলুচিস্তানে জোরপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। ২০২৪ সালে তাকে বিবিসির ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তার ব্যক্তিগত জীবনও এই আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ২০০৯ সালে তার বাবাকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। দুই বছর পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, তার শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল। ২০২৩ সালের শেষ দিকে মাহরাং বেলুচের নেতৃত্বে শত শত নারী রাজধানী ইসলামাবাদে পদযাত্রা করেন। প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে তারা নিখোঁজ স্বজনদের বিচার এবং জোরপূর্বক গুমের ঘটনার তদন্তের দাবি জানান। মাহরাংয়ের সংগঠন বিওয়াইসি দীর্ঘদিন ধরে বেলুচিস্তানে জোরপূর্বক গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে প্রচার চালিয়ে আসছে।

তবে পাকিস্তান সরকার বারবার অভিযোগ করেছে, সংগঠনটির সঙ্গে বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর যোগাযোগ রয়েছে। যদিও বিওয়াইসি এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে আসছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%