প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিরোধী সামরিক পদক্ষেপে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস হয়েছে।
প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালানোর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন আবশ্যক এবং বা চলমান অপারেশন বন্ধ করতে হবে। এ তথ্য জানান আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) আপত্তি ভোটে ৫০-৪৮ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সিনেটে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়। এর আগে এটি প্রতিনিধিসভাতেও পাস হয়েছিল। ১৯৭৩ সালের যুদ্ধক্ষমতা আইন কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম কোনো প্রেসিডেন্টের সামরিক পদক্ষেপ সীমিত করার প্রস্তাব কংগ্রেসের উভয় কক্ষে অনুমোদিত হলো।
তবে উল্লেখযোগ্য যে, এই প্রস্তাবটি আইন হিসেবে পরিণত হচ্ছে না এবং এটি ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্যও পাঠানো হবে না। সুতরাং, এর কোনো সরাসরি আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্টের জন্য রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়।
সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্ত্বেও, চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমর্থন করে ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে একজন সদস্য কেবল এই প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।
মার্কিন জনগণের ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ এবং তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে এই প্রস্তাবকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, খুব কমসংখ্যক মার্কিন নাগরিক এ যুদ্ধের খরচকে সার্থক বলে মনে করেন।
ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার মন্তব্য করেন যে, ট্রাম্পের ইরাননীতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিভ্রান্তি এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে এবং এতে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। তার মতে, এই যুদ্ধ ভবিষ্যতে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির একটি বড় ভুল হিসেবে গণ্য হতে পারে।
অন্যদিকে, রিপাবলিকান সিনেটর জেমস রিশ সতর্ক করেন যে, এমন প্রস্তাব ইরানকে আলোচনার টেবিল থেকে সরে যেতে উত্সাহিত করতে পারে। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্প এই প্রস্তাব কার্যকর হতে দেবেন না।
বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বজায় রয়েছে। দুই দেশ একটি সমঝোতার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে, মধ্যপ্রাচ্যের সমগ্র পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত থাকায় উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন বলেন, যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কোনো একক ব্যক্তির হাতে নয়, বরং জনগণের প্রতিনিধিদের হাতে থাকা উচিত। এজন্য প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করতে ভবিষ্যতেও তারা উদ্যোগ চালিয়ে যাবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন