শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:৩৯ পি.এম
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কেন্দ্র করে ৪১০টি অপতথ্য ছড়ানোর তথ্য প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী।
তিনি উল্লেখ করেন, একই সময় বিএনপিকে ঘিরে ১১৮টি এবং বর্তমান সরকারকে ঘিরে ৪৫১টি অপতথ্য ছড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। একটি তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তিনি এই তথ্য উপস্থাপন করেন।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে সংগঠনের নতুন সদস্যদের বরণ অনুষ্ঠান-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সালেহ শিবলী বলেন, অপতথ্য ও গুজব সাংবাদিকতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এজন্য মানুষ এখনো গুরুত্বপূর্ণ খবরের সত্যতা যাচাই করতে দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তার ঘটেছে, তবে এর সঙ্গে দায়িত্বহীন আচরণও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর বিপরীতে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এখনও মানুষের আস্থা ধরে রেখেছে। মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো খবর দেখার পর সেটি সঠিক কি না, তা যাচাই করতে টেলিভিশন ও প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্রের খবরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, অপতথ্য ও গুজব মোকাবিলায় সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিটি টেলিভিশন চ্যানেল ও গণমাধ্যমে নিয়মিত তথ্য যাচাই বিষয়ক অনুষ্ঠান চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিটের একটি অনুষ্ঠানও মানুষকে সঠিক তথ্য শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, কখনো কখনো বড় সংবাদমাধ্যমও যাচাই না করে ভুয়া ছবি বা তথ্য প্রচারের ঝুঁকিতে পড়ে। তাই কোনো তথ্য প্রচারের আগে সেটির সত্যতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
সালেহ শিবলী বলেন, অপতথ্য ও গুজব মোকাবিলায় একটি কার্যকর আইন থাকা প্রয়োজন। তবে সাইবার নিরাপত্তাসংক্রান্ত আইন প্রণয়ন বা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সময়ের প্রয়োজনে আইনের সংশোধন, সংযোজন বা পরিবর্তনের সুযোগও থাকতে হবে।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে না জানা অনেক মানুষও অপতথ্যের শিকার হন। তাঁরা নিজেরা এর প্রতিবাদ জানাতে বা প্রতিকার চাইতে সক্ষম নাও হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সরকারকে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং সবার জন্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
ডিআরইউর নতুন সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, সংগঠনের ঐক্য ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। মতভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝোতার মধ্য দিয়ে অভিন্ন লক্ষ্যে পৌঁছানোই একটি সংগঠনের সৌন্দর্য।
সাংবাদিকদের রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল বা আদর্শকে সমর্থন করা সাংবাদিকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়। তবে ব্যক্তিগত বা দলীয় বিশ্বাস যেন সত্য প্রকাশে বাধা সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের দায়িত্ব হচ্ছে যা সত্য, তা তুলে ধরা। সরকারের ভালো উদ্যোগের ইতিবাচক দিক যেমন তুলে ধরতে হবে, তেমনি কোথাও অনিয়ম বা দুর্নীতি হলে সেটিও প্রকাশ করতে হবে। তবে কোনো বিচ্ছিন্ন অনিয়মকে কেন্দ্র করে সামগ্রিক উদ্যোগের ইতিবাচক দিক আড়াল করা উচিত নয়।
সালেহ শিবলী আরও বলেন, দেশে এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন, যেখানে ধর্ম, মতাদর্শ কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ বৈষম্যের শিকার হবেন না। সব নাগরিকের সমান অধিকার, মানবিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে ডিআরইউর নতুন সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি সংগঠনটির ঐতিহ্য ও ঐক্য অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানান।
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, ৪০০টি আবেদনের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে ৪০ জনকে নতুন সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে। যোগ্যতার ভিত্তিতেই তাঁরা সদস্য হয়েছেন, কারও দয়া বা অনুকম্পায় নয়।
তিনি বলেন, ‘ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) একটি শক্তিশালী ও পেশাদার সাংবাদিক সংগঠন। সংগঠনটি সব ধরনের বিতর্কের ঊর্ধ্বে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। সদস্যপদ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিতর্ক তৈরি হলে আমরা তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি। সংগঠনের নিয়মনীতি ও শৃঙ্খলা মেনে চলার মধ্য দিয়েই ডিআরইউ তার মর্যাদা ধরে রেখেছে।’
নতুন সদস্যদের উদ্দেশে ডিআরইউ সভাপতি বলেন, এই সংগঠন সাংবাদিকদের জন্য ভালোবাসা ও পারস্পরিক সহযোগিতার একটি প্ল্যাটফর্ম। নতুন সদস্যদের এই ভালোবাসার বন্ধন অটুট রাখার পাশাপাশি পেশাদারত্বের সঙ্গে সাংবাদিকতা চালিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখতে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এসব মূল্যবোধ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানের বক্তব্য রাখেন সহসভাপতি মেহেদী মাসুম, সেক্রেটারি মাইনুল হাসান সোহেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাফর ইকবাল।
উপস্থিত ছিলেন অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এমএম জসিম, অফিস সম্পাদক রাশিম মোল্লা, ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনোয়ার হোসেন, কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা, কার্যনির্বাহী সদস্য আকতার হোসেন, আমিনুল ইসলাম ভূইয়া, আলী আজম, মাহফুজ সাদি, আল আমিন আজাদ, সুমন চৌধুরী, আব্দুল আলিমসহ অনেকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় নিহত বাংলাদেশি আলেম মুফতি নাসরুল্লাহ বদরের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার বিকেলে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের খোঁজখবর নেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ও ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী। এ সময় ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম।
সাক্ষাৎকালে মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী এবং উপস্থিত নেতারা নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তাঁরা পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতির খোঁজ নেন। এ সময় এনসিপির জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতারা এবং ওলামা অ্যালায়েন্সের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মুফতি নাসরুল্লাহর মরদেহ সৌদি আরবেই দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দাফনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে তাঁর ভগ্নিপতি ইতিমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।
মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি আযহারী নিহতের তিন শিশুসন্তানের খোঁজ নেন। তিনি মুফতি নাসরুল্লাহর সঙ্গে নিজের পরিচয় ও স্মৃতিচারণ করে বলেন, লালবাগ মাদরাসায় পড়ার সময় নাসরুল্লাহ তাঁর চার ব্যাচের সিনিয়র ছিলেন। দেখা হলেই হাসিমুখে কথা বলতেন। লালবাগ শাহী মসজিদের বারান্দায় তাঁকে দীর্ঘ সময় কিতাব পড়তে দেখেছেন বলেও জানান তিনি।
মাওলানা আশরাফ উদ্দিন বলেন, নাসরুল্লাহ বাবরি চুল রেখেছিলেন ওমরায় গিয়ে কাটবেন বলে। আল্লাহ তাঁর ইহরামের কাপড়কে কাফনের কাপড় বানিয়ে দিয়েছেন। এত অল্প বয়সে তিনটি শিশুর পিতৃহারা হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। এই কঠিন সময়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো এবং শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সহযোগিতা করা সবার দায়িত্ব।
ভিডিও কলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান নাহিদ ইসলাম। নিহতের বড় ভাই মুফতি আহসানুল্লাহকে তিনি বলেন, ‘মুফতি নাসরুল্লাহ ভাইকে আল্লাহ তায়ালা কবুল করেছেন। আপনারা তাঁর পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছেন, নিশ্চয়ই আপনারা এর উত্তম প্রতিদান পাবেন।’
সাক্ষাৎ শেষে নেতারা মুফতি নাসরুল্লাহ বদরের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। তাঁরা শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধারণের তৌফিক দিতে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, 'ইউআই গ্রিনমেট্রিক ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০২৬'-এ উত্তরা ইউনিভার্সিটির সম্মানজনক ৮ম স্থান অর্জনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছেন। তিনি পরিবেশ সুরক্ষা, টেকসই উন্নয়ন এবং সবুজ ক্যাম্পাস নীতি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরলস প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে এই প্রশংসা করেন।
সম্প্রতি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে উত্তরা ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, উপাচার্য, উপদেষ্টা এবং শিক্ষক প্রতিনিধিদলের একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দক্ষ, নৈতিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে গুণগত উচ্চশিক্ষার গুরুত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিরাপদ ও সহায়কমূলক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ সময় তিনি তরুণদের বর্তমান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।
বৈঠকে উত্তরা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াসমীন আরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন রূপকল্প উপস্থাপন করেন, যেখানে অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষ, গবেষণা, আন্তর্জাতিকীকরণ ও দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরির পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। একই সাথে, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য জনাব আবিদ আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সংস্কৃতি জোরদার ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির নানা উদ্যোগ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
রাষ্ট্রপতি ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে উত্তরা ইউনিভার্সিটির ধারাবাহিক অগ্রযাত্রার কথা স্মরণ করেন এবং প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. এম. আজিজুর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিবর্তনের প্রশংসা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সামাজিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা, নৈতিকতা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা এবং নারী-পুরুষের সমতার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই প্রশিক্ষণের আওতায় ৬০০ শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দৌলতপুর উপজেলার মহিষকুন্ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নারী উন্নয়ন শক্তি এবং ইয়ং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেটের যৌথ উদ্যোগে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ছিল কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, মানবিকতা, নৈতিক আচরণ এবং সমান অধিকারের ধারণা গড়ে তোলা। পাশাপাশি, লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য, কুসংস্কার এবং ক্ষতিকর সামাজিক রীতিনীতি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং বিদ্যালয় ও সমাজে নিরাপদ, সম্মানজনক ও বৈষম্যহীন পরিবেশ তৈরিতে তাদের উৎসাহিত করা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম সরকার মুকুল, মহিষকুন্ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীম হোসেন, শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম, বিশ্বব্যাংকের সাবেক উপদেষ্টা ড. সুলতান মুহম্মদ রাজ্জাক এবং ইয়ং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেটের মাঠকর্মকর্তা সেলিনা খাতুন।
প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ড. আফরোজা পারভীন। তিনি সহনশীলতা, নৈতিকতা, সামাজিক মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা এবং নারী-পুরুষের সমান মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বক্তারা উল্লেখ করেন, কিশোর-কিশোরীরা দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিক। তাদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই মানবিকতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সমতার মানসিকতা গড়ে তোলা অপরিহার্য। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইতিবাচক মূল্যবোধের চর্চা বৃদ্ধি পেলে বাল্যবিবাহ, বৈষম্য এবং অসম্মানজনক আচরণ প্রতিরোধে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।
আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন যে, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের জ্ঞান ও সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে, ইতিবাচক আচরণের চর্চা জোরদার হবে এবং তারা সমান অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
নারী উন্নয়ন শক্তি ১৯৯২ সাল থেকে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন এবং অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে। কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে মানবিকতা, সমতা ও ইতিবাচক সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে উক্ত দুটি সংগঠন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফুটবল মাঠে তার অসাধারণ প্রতিভা ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। এবার ফুটবলের সীমা ছাড়িয়ে প্রকৃতির মাঝে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন লিওনেল মেসি। পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় একটি নতুন উদ্ভিদের নামকরণ করা হয়েছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের নামে। নতুন প্রজাতির নাম হলো ‘সালভিয়া মেসি’ (Salvia messii)।
এই উদ্ভিদটির সন্ধান করেন আর্জেন্টিনার কৃষিবিদ রোলান্দো উরিয়া। নাগরিক বিজ্ঞান বিষয়ক একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে উদ্ভিদটির অস্বাভাবিক কিছু ছবি দেখে তার মনে সন্দেহ জাগে। ছবিগুলো পরিচিত কোনো উদ্ভিদের সঙ্গে মিলে না। এরপর তিনি লিমার ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
পেরুর উদ্ভিদবিজ্ঞানী পাউল গনসালেস আরসে এবং জ্যাঁ কাপচা রামোসকে নিয়ে উরিয়া গবেষণা শুরু করেন। তারা কয়েক বছর ধরে পুরনো নমুনাগুলো পরীক্ষা করেন। পাশাপাশি আন্দিজের পাহাড়ি ঢালে অনুসন্ধান চালান। এক পর্যায়ে তারা উদ্ভিদটির সন্ধান পান। প্রায় দেড় মিটার উচ্চতার এই গুল্মজাতীয় উদ্ভিদটি আগে কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়নি।
উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক বিবরণ প্রকাশ করেছে Phytotaxa সাময়িকী। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, যখন কোনো ব্যক্তিত্বের সম্মানে একটি প্রজাতির নামকরণ করা হয়, তখন বিজ্ঞানীরা একটি লাতিন ব্যাকরণগত নিয়ম অনুসরণ করেন, যেখানে পদবির শেষে একটি ‘আই’ (i) যোগ করা হয়। এর মানে হলো—‘মেসির উদ্ভিদ’। এর সাদা ও হালকা নীল পাপড়ি আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার রঙের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
এই উদ্ভিদটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতার নির্দিষ্ট পাহাড়ি অঞ্চলে জন্মায়। বনাঞ্চলে আগুন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এর আবাসস্থল হুমকির মুখে রয়েছে। তাই বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিকভাবে একে বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করছেন।
এটি অবশ্য মেসির নামে প্রথম কোনো জীবের নামকরণ নয়। এর আগে তাঁর নামে নামকরণ করা হয়েছে ‘সেরকোপেমসেস মেসি’ (Cercopemyces messii) ছত্রাক, ‘আকান্থোগোনাটাস মেসি’ (Acanthogonatus messii) মাকড়সা, ‘লিওলায়েমুস মেসি’ (Liolaemus messii) গিরগিটি, প্রাগৈতিহাসিক ‘ভালচার মেসি’ (Vultur messii) শকুন এবং ‘ডিস্কনিস্কা মেসি’ (Discinisca messii) ঝিনুকের মতো দেখতে প্রাগৈতিহাসিক খোলসি প্রাণী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ