ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জেলার সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েও অনিশ্চয়তায় পূজার মেডিক্যালে পড়ার স্বপ্ন


জেলার সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েও অনিশ্চয়তায় পূজার মেডিক্যালে পড়ার স্বপ্ন

নড়াইলের মেধাবী শিক্ষার্থী পূজা বিশ্বাসের স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া। তবে তিনি জানেন না, তার বাবা-মা তাকে মেডিক্যাল পড়াতে পারবেন কি না। কষ্ট করে সফলতার এই কাহিনীকে তুলে ধরে পূজা বলেন, 'চিকিৎসক হয়ে গরিব মানুষের সেবা করার পাশাপাশি আমার মতো অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে চাই।'

তিনি আরও জানান, 'তাদের পক্ষে এত খরচ বহন করা কঠিন।' তবুও তিনি পরিশ্রম, শিক্ষকদের সহযোগিতা এবং নিজের চেষ্টায় ফল অর্জন করেছেন।

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ডের অধীনে নড়াইল সদর উপজেলার কৃষ্ণলতা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১০ পেয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে পূজা। এটি এ বছর নড়াইল জেলার সর্বোচ্চ ফল।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪

পূজা নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের নলদিচর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা নৃত্য গোপাল বিশ্বাস একজন কৃষক এবং মা দীপ্তি রানী বিশ্বাস গৃহিণী।

তাদের কৃষিকাজে সাত সদস্যের সংসার চালানো এবং বছরের অধিকাংশ সময় অভাব-অনটনের মধ্যে কাটাতে হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও পূজার পড়াশোনায় কোনো বাধা আসেনি।

পূজা তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড়। শিক্ষায় তার আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই ছিল। বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি বাড়িতে বই নিয়ে পড়তেন। বিদ্যুৎ চলে গেলে কখনো চার্জলাইট আবার কখনো কেরোসিনের বাতির আলোতে পড়াশোনা করেছেন।

এখন এসএসসিতে জেলা সেরা পেয়ে কলেজ, ভর্তি কোচিং এবং মেডিক্যাল পড়াশোনার খরচ নিয়ে চিন্তিত পরিবার।

আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে

পূজার বাবা বলেন, 'মেয়েটার মেডিক্যাল পড়ার খুব ইচ্ছে, আমিও তার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই। কিন্তু এত খরচ মেটানো আমার পক্ষে অসম্ভব।' মা দীপ্তি রানী বিশ্বাস জানান, 'অভাবের সংসার হলেও মেয়েকে পড়াশোনা ছাড়তে বলিনি।'

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার পর পাইতে শুরু থেকেই সেরা ফল করে আসছিল পূজা। শিক্ষকদের প্রত্যাশা ছিল শুরু থেকেই। কৃষ্ণলতা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমীর গোলদার বলেন, 'পূজা ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১০ পেয়েছে, যা সেরা।' বিদ্যালয়টি প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত এবং এর সভাপতির মাধ্যমে এখানকার অসচ্ছল মেয়েরা পড়ার সুযোগ পেয়েছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বলেন, 'পূজা বিশ্বাসের এই সাফল্য তার কঠোর পরিশ্রমের প্রমাণ।'

উল্লেখ্য, যশোর শিক্ষা বোর্ড অনুযায়ী, এ বছর নড়াইল জেলা থেকে মোট ৮ হাজার ২৬২ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে ৪০৪ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে।

আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্যাস সংকটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বন্ধ সব ফিলিং স্টেশন ও শিল্পকারখানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৪০ পি.এম


গ্যাস সংকটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বন্ধ সব ফিলিং স্টেশন ও শিল্পকারখানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় তিন দিনের অধিক সময় ধরে গ্যাসের তীব্র সংকট কাটেনি। এই সংকটের কারণে প্রায় ২৬ হাজার গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে আবাসিক এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান মিলে। যা গ্রাহকদের মাঝে হাহাকার সৃষ্টি করেছে। মূলত এলএনজি সংকট এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে বিঘ্ন ঘটার ফলস্বরূপ, দেশের অন্যান্য জেলার মত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে, গত বুধবার দুপুর থেকে জেলার সব ধরণের গ্রাহকের পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে৫টি ফিলিং স্টেশন ও ১৭টি গ্যাস নির্ভর শিল্প কারখানা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। এছাড়া, আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাস না পাওয়ার কারণে দুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ির রান্নায় মাটির চুলা এবং সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে। আকস্মিক এই বিপর্যয়ের কারণে আবাসিক গ্রাহকদের এখন কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। যদিও কিছু অঞ্চলে স্বল্প পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ চলছে, সেটাও কমদমে। এই কারণে হোটেল এবং রেস্তোরাঁগুলোতে চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাখারাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের উপ-মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়) প্রকৌশলী মোঃ শফিকুল হক জানিয়েছেন, জেলায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে মোট প্রায় ২৬ হাজার গ্রাহক রয়েছে। মহেশখালীর এফএসআরওতে গ্যাসিফিকেশনের জন্য আমদানি করা এলএনজি বঙ্গোপসাগরে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে লোডিং কার্যক্রম করা যাচ্ছে না। ফলে সরবরাহ ও চাপের কমতির কারণে এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সমস্যার সমাধান কবে হবে, তা এখনো নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

 

প্রসঙ্গত, বুধবার (১২ আগস্ট) বিজিডিসিএল কর্তৃক প্রকাশিত একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, প্রতিকূল আবহাওয়ার ফলে এলএনজি টার্মিনাল (FSRU) থেকে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এর ফলে জাতীয় পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে কমে গেছে। এর প্রভাবে বিজিডিসিএলের বিতরণ এলাকায় কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিদ্যমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণতান্ত্রিক উত্তরণে যুবসমাজের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান সাইফুল হকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৪১ পি.এম


গণতান্ত্রিক উত্তরণে যুবসমাজের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান সাইফুল হকের

গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করতে দেশের যুব সমাজের অধিকার ও মানবিক জীবন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি এ সময় বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন ধরে রাখতে যুবসমাজকে সতর্ক ও সক্রিয় থাকতে হবে।

দেশের কোটি কোটি যুবকের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে তাদের শক্তিকে কাজে লাগাতে সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনা ও উদ্যোগ প্রয়োজন।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচার সংহতি মিলনায়তনে বিপ্লবী যুব সংহতির ঢাকা উত্তরের সংগঠকদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সাইফুল হক আরো বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করার সিদ্ধান্তটি দূরদর্শী ও প্রজ্ঞার পরিচয়। বিএনপির চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দলের স্থায়ী কমিটি এ মনোনয়নের মাধ্যমে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদের গুরুত্ব, সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

প্রার্থী মনোনয়নের আগে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ করা হলে ভালো হতো বলে মন্তব্য করেন সাইফুল হক। তিনি আরও বলেন, যুগপৎ আন্দোলনের অধিকাংশ শরিক দলের জাতীয় সংসদে প্রতিনিধি না থাকলেও এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে পরামর্শ করা তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।

তিনি আরো বলেন, দেশের কোটি কোটি যুবকের আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।

গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করতে সরকারকে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

সভায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেত্রী বহ্নিশিখা জামালী বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের অর্জন রক্ষা করতে যুব সমাজকে জেগে থাকতে হবে। যেকোনো অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ অব্যাহত রাখতে হবে। এছাড়া, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নয়, যুদ্ধের মধ্যে তেলের দাম কমানোই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৪৩ পি.এম


ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নয়, যুদ্ধের মধ্যে তেলের দাম কমানোই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য

ঢাকা, ১৪ আগস্ট, ২০২৬ : ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার এখন আর দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নয়। বরং মার্কিন ভোক্তাদের জন্য পেট্রোলের দাম কমানোই এখন প্রধান লক্ষ্য। বৃহস্পতিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ কথা বলেছেন। একই সঙ্গে অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, তেহরানকে চাপে ফেলতে নতুন অর্থনৈতিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা শিগগিরই আসছে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের এসব মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে তেহরান কতটা শক্তিশালী দর-কষাকষির ক্ষমতা অর্জন করেছে। ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাকে যুদ্ধের প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে ভ্যান্স ফক্স নিউজকে বলেছেন, এখন সেই লক্ষ্য পেছনে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবার অবাধে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন অগ্রাধিকার।

ভ্যান্সের মন্তব্যে যুদ্ধের বর্তমান বাস্তবতা স্পষ্ট হয়েছে। এখন যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ট্রাম্প ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার আগে গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি সরবরাহের পথটি উন্মুক্ত ছিল।

প্রতিশোধ হিসেবে ইরান কার্যত প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির হাতিয়ার পেয়ে গেছে। অন্যদিকে ট্রাম্প যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে আবার বড় ধরনের হামলা চালানো থেকে পিছিয়ে থাকছেন।

ফক্স নিউজকে ভ্যান্স বলেন, ‘আমি জানি আজ তেলের দাম কমেছে এবং সংঘাতের শুরুর দিকের সর্বোচ্চ দামের তুলনায় এটি অনেকটাই কম। আমাদের এক নম্বর লক্ষ্য হলো-দেশজুড়ে আমেরিকানদের জন্য তেল ও গ্যাসের দাম সস্তা রাখা।’

তিনি আরও বলেন, ‘ অবশ্যই দ্বিতীয় লক্ষ্য হলো, ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে- সেটি নিশ্চিত করা।’

-‘নিম্ন মাত্রায় রাখছি’-

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা সামরিক অভিযানের ব্যাপারে প্রশাসনের সবচেয়ে সন্দিহান সদস্যদের একজন ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট।

তবে তাঁর এসব মন্তব্যে এখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের পছন্দের আরও সতর্ক অবস্থানেরই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এ অবস্থানের আওতায় ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশটির বন্দর অবরোধ এবং তেল বিক্রি ঠেকানো।

আরও অর্থনৈতিক শাস্তির ঘোষণা দিয়ে বেসেন্ট ইরানকে ‘বিশ্ব আগে কখনো দেখেনি এমন’ অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মাত্র কয়েক দিন আগেও ট্রাম্প বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য একটি চুক্তি হওয়া আসন্ন। কিন্তু এখন তার প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কূটনৈতিক তৎপরতা স্থগিত রয়েছে। কারণ ট্রাম্প আশা করছেন, অর্থনৈতিক দুর্ভোগ ইরানকে নতি স্বীকার করতে বাধ্য করবে।

ট্রাম্প রোববার বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিম্ন মাত্রায় রাখছি। আমরা তাদের সঙ্গে কেবল আংশিকভাবে আলোচনা করছি। আমরা শুধু দেখছি, ইরানে ব্যাপক মূল্যস্ফীতি হচ্ছে এবং তারা বেশ  অর্থ সংকটে আছে।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস পরিবেশিত খবরে বলা হচ্ছে, যুদ্ধ শুরুর পর কয়েক মাসে মার্কিন সামরিক বাহিনী বিপুল অর্থ ব্যয়ে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য অস্ত্রের মজুত ব্যবহার করেছে এবং এখন এসব অস্ত্রের মজুত কমে আসছে। ফলে ইরানের ওপর আবার হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের বিকল্পও সীমিত হয়ে পড়ছে।

ভ্যান্স আরও বলেন, ‘কখনো কখনো আমরা জ্বালানি নিয়ে বেশি মনোযোগ দিই। কারণ আমরা চাই আমেরিকানরা যেন তেল ও গ্যাসের দাম বহন করতে পারে। আবার কখনো আমরা অবশ্যই সামরিক বিষয়, পরমাণু কর্মসূচির দিকে মনোযোগ দিই।’

সম্প্রতি ট্রাম্প বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা হলে তবেই তিনি ইরানে আবার হামলা চালানো থেকে বিরত থাকবেন।

এখন প্রণালিটি খুলে দেওয়ার জন্য ইরান কয়েকটি শর্ত দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে এসব শর্ত মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা কম। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

এসব শর্ত জুনে স্বাক্ষরিত কথিত সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলোর সঙ্গে মিলে যায়। যুদ্ধ আবার শুরু হওয়ায় ওই সমঝোতা ভেস্তে যায়। এতে ইরানের জন্য ৩০ হাজার কোটি ডলারের পুনর্গঠন তহবিল গঠনের একটি বিধানও ছিল।

এসব শর্ত জুনে সম্পাদিত তথাকথিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) শর্তগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার পর ওই সমঝোতা ভেঙে যায়। এতে ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল গঠনের একটি প্রস্তাবও ছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামের জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে নিহত বেড়ে ৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৪৪ পি.এম


চট্টগ্রামের জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে নিহত বেড়ে ৯

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারির একটি জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসের বিষক্রিয়ায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারি ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল নামের একটি কারখানায় এ ঘটনাটি ঘটে।

এরপর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ইশতিয়াক রহমান জানিয়েছেন, যে ওই কারখানা থেকে দুই দফায় সাতজনকে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে ছয়জনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। তাদের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। অপরজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া ঘটনাস্থলে দুজনের মরদেহ রয়েছে, বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর।

এদিকে বিকেলে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরেক শ্রমিক।

কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মাহবুবুল হাসান জানিয়েছেন, ১০ জন শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু ঘটেছে। ঘটনাটি গ্যাস নিঃসরণ নাকি বিস্ফোরণ, তা তদন্ত করা হচ্ছে এবং পাশাপাশি শ্রমিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মারা যাওয়া আট শ্রমিকের মধ্যে চারজনের নাম ও পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন, সানি জলদাস (২২), পলাশ জলদাস (২৭) এবং দুই সহোদর মনসুর আলী (৪০) ও নাসির উদ্দিন (৩৮)। তারা সবাই ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে কারখানাটির ভেতর থেকে গ্যাস বের হতে দেখা গেছে। কারখানাটির ভেতর থেকে বের হওয়া গ্যাসের গন্ধের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে সাগরে ইলিশ ধরতে যাওয়া জেলেরা কারখানাটির পাশের খালে প্রবেশ করতে পারেননি। তাদের অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে ঘাটে নৌকা ভেড়াতে হয়েছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, হঠাৎ করে কারখানার ভেতর থেকে মানুষের চিৎকার শুরু হয়। তারা কারখানা এলাকায় গেলে দেখতে পান, অসুস্থ কিছু লোককে গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর জাহাজের ভেতরে কয়েকজন মৃত পড়ে রয়েছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে কারখানার ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর করেন। পুলিশ পরে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ বিষয়ে কারখানার মালিক মো. মহিউদ্দিন মুঠোফোনে জানিয়েছেন, তিনি কারখানার বাইরে রয়েছেন। কারখানা থেকে তিনি জেনেছেন জাহাজে থাকা ছয় থেকে আটজন কর্মী অসতর্কতায় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি কারখানায় গিয়ে বিস্তারিত জানাবেন।

এদিকে, সকালে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ড ও রিসাইক্লিং কারখানায় যে জাহাজ কাটা হচ্ছে, সেটি এলএনজি বহন করত। এ ধরনের জাহাজগুলোকে আগে গ্যাসমুক্ত করে তারপর কাটতে হয়। কিছু কিছু ট্যাংকে ফ্লোরিন, কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড থাকতে পারে। তিনি আরও বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ ট্যাংক গ্যাসমুক্ত না করে কাটার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেখানে শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল ছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%