০১:০৯ পি.এম
কলম্বিয়ার ক্যালির আবাসিক এলাকা টোরেস দেল লিমোনারে গত সোমবার ভয়াবহ ভূমিকম্পের ফলে ধসে পড়া স্থানে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। এখানে স্বেচ্ছাসেবকরা নিহতদের স্বজনদের জিনিসপত্র উদ্ধার করার চেষ্টা করছেন। পরে স্বেচ্ছাসেবকরা উদ্ধার করা এসব জিনিস শোকাহত পরিবারের কাছে ফেরত দিচ্ছেন।
এই ঘটনার বিষয়ে খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
৭০ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত আইনজীবী মার্লেন নিনো বলেন, তিনি তাঁর বোন ডরিসকে হারিয়েছেন। মার্লেন ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি ছবি উদ্ধার করেছে, যা তাঁর বোনের। এ জন্য তিনি স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ইরানের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামরিক প্রশিক্ষণের উদ্যোগে বিতর্কের সৃষ্টি
ছবিতে তাঁর বোনের সঙ্গে নিজের এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের একটি ছবি দেখিয়ে মার্লেন এএফপিকে জানিয়েছেন, ‘আমাদের কাছে এখন স্মৃতিগুলোই রয়ে গেছে। এগুলোর আবেগগত মূল্য অনেক বেশি।’
তিনি আরও জানান, তাঁর অনুভূতিতে একই সঙ্গে ‘আনন্দ, দুঃখ এবং নস্টালজিয়া’ কাজ করছে।
আশা যখন ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে জীবিত কাউকে উদ্ধারের, তখন ভবনটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ধ্বংসস্তূপ থেকে বাসিন্দাদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র উদ্ধারের কাজ পর্যবেক্ষণ করছে।
মার্লেনের বোন ডরিস নিনোর বয়স ছিল ৭২ বছর। ভূমিকম্পের সময় তিনি দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং তখনই তাঁর ভবনটি ধসে পড়ে।
আরও পড়ুন: দুই বাংলাদেশির বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য দেয়নি সৌদি সরকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী শামা ওবায়েদ
ডরিসের কয়েকজন ভাগনে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে উদ্ধার অভিযানে যোগদান করেন। তাঁরা খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরানোর পর রান্নাঘরের ধ্বংসাবশেষের পাশে ডরিসের মরদেহ খুঁজে পান।
মার্লেন জানান, ‘যখন আমরা তাঁকে খুঁজে পাই, তখন তিনি মারা গেছেন। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, তাঁর কোনো কষ্ট হয়নি।’
কলম্বিয়ার চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ডরিস নিনো একজন। এ ঘটনায় প্রায় ৩০০ মানুষ নিহত হয়েছে এবং এখনো ১০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তবে অনেক ভবনে উদ্ধার অভিযান ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্পের প্রায় এক সপ্তাহ পর স্বেচ্ছাসেবক এবং নিহত ও নিখোঁজদের পরিবারের ওপর ক্লান্তি, উৎকণ্ঠা ও মানসিক চাপের একটি বড় প্রভাব পড়েছে।
আরও পড়ুন: হবিগঞ্জের দুই যুবকের সউদী আরব ও লিবিয়ায় মৃত্যু
এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় কলম্বিয়া জাতীয় পর্যায়ে একটি মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ব্যবস্থা চালু করেছে। এখানে অনলাইন ও সরাসরি—দুইভাবেই কাউন্সেলিং প্রদান করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মানসিক সহায়তার জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে বিশেষজ্ঞরাও সেখানে গেছেন।
লিমোনারে স্বেচ্ছাসেবী মনোবিজ্ঞানী মানুয়েলা বারিওস বলেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিগত জিনিসপত্র মানুষকে তাদের প্রিয়জনের ‘স্মৃতি ধরে রাখতে’ সাহায্য করছে।
৩৮ বছর বয়সী এই মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী আরও জানান, ‘তারা যখন কোনো একটি জিনিস খুঁজে পান, তখন তাদের মুখের অভিব্যক্তি বদলে যায়। সেটিই আমার মনে থেকে যায়।’
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর ইরানের সরকার উৎখাতের অঙ্গীকার, সফলতা নিয়ে প্রশ্ন
অবশেষে, চোখের পানি মুছতে মুছতে মার্লেন নিনো জানিয়েছেন, বোনের আকস্মিক মৃত্যু তাঁকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে এবং তিনি নিজেকে অসহায় মনে করছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা অন্তত তাঁর মরদেহ খুঁজে পেয়েছি। কিন্তু অনেকেই তাদের স্বজনের মরদেহও খুঁজে পাননি। বিষয়টি আমার কাছে আরও বেশি কষ্টের।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন