০২:০২ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের তুলসা শহরের বিশপ কেলি হাই স্কুলে নবীন শিক্ষার্থীদের প্রথম দিনটি কাটে বর্তমানের একেবারেই ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতায়। যখন নবীন শিক্ষার্থীরা মা-বাবার সঙ্গে স্কুলে পৌঁছায়, তখন সেখানে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা এসে তাদের গাড়ি ঘিরে ফেলে। নিয়ম অনুযায়ী, নবীন শিক্ষার্থীদের গাড়ি থেকে নামার সম্মতি দেওয়া হয় না, যতক্ষণ না তারা মা, বাবা কিংবা অভিভাবকের গালে বিদায়ী চুমু দেয়।
প্রকাশ্যে মা-বাবাকে এইভাবে ধন্যবাদ জানানোর অদ্ভুত ও কিছুটা অস্বস্তিকর এই রীতি গত ২৬ বছর ধরে বিদ্যালয়ে ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে।
স্কুলের প্রেসিডেন্ট সিস্টার মেরি হানাহ জানান, ২০০১ সালের আগে নবীনদের স্বাগত জানানোর প্রক্রিয়াটি মূলত র্যাগিং বা মশকরানির্ভর ছিল। তবে সেই বছর জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত নেন, তারা নবীনদের সঙ্গে একটু সদয় আচরণ করবেন, কিন্তু একইসঙ্গে তাদের কিছুটা রসিকতাপূর্ণ অস্বস্তিতে ফেলবেন। সেই চিন্তা থেকেই শুরু হয় এই ‘বিদায়ী চুমু’র প্রথা।
আরও পড়ুন: জামায়াত আমিরের দাবি, মেজর আখতারুজ্জামানের ছেলের ওপর হামলায় জড়িত মাদক কারবারিরা
সিস্টার মেরি হানাহ স্বীকার করেন, নবীন হিসেবে এমন পরিস্থিতিতে তিনিও হয়তো কিছুটা অস্বস্তি বোধ করতেন। তবে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মা-বাবাকে সম্মান জানানোর যে নির্দেশনা আছে, এই প্রথাটি তারই এক সুন্দর ও জীবন্ত প্রতিফলন বলে মনে করেন তিনি।
রীতিটি নবীনদের জন্য কিছুটা লজ্জার, কিন্তু মা-বাবার জন্য এটি তৈরি করে আবেগঘন মুহূর্ত। সিস্টার মেরির মতে, এই আয়োজনে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পান মায়েরা। বিশেষ করে যদি এটি পরিবারের প্রথম কিংবা ছোট সন্তানের স্কুলে যাওয়ার প্রথম দিন হয়, তবে ওই আনন্দের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়।
এক অভিভাবক তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জানান, যখন সন্তান চুমু খেয়ে বিদায় জানিয়ে স্কুলের দিকে পা বাড়ায়, তখনই উপলব্ধি করা যায় যে সন্তান বড় হচ্ছে এবং তাকে নিজস্ব পথে ছেড়ে দেওয়ার সময় এসে গেছে। মা-বাবা ও সন্তানের এই মধুর বন্ধন উদযাপন করতে প্রতিবছর শত শত জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী উল্লাসের মধ্যে দিয়ে ব্যতিক্রমী এই আয়োজনে মেতে ওঠে।
আরও পড়ুন: বেরোবি এআইএস ক্লাবের নতুন কমিটি, সহসভাপতি রিয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক পাপ্পু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন