রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৪৪ পি.এম
কিশোরগঞ্জের হাওর এখন আর বর্ষার জলরাশির বিস্ময় নয়, বরং এটি ধীরে ধীরে মানুষের অবকাশ, প্রকৃতির সান্নিধ্য এবং ভ্রমণপিপাসার এক অনন্য ঠিকানা হয়ে উঠছে। বর্ষার বিস্তীর্ণ জলরাশি, দূরে ভেসে থাকা গ্রাম, খোলা আকাশ এবং পানির বুক চিরে ছুটে চলা নৌকা; সব মিলিয়ে হাওরের সৌন্দর্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকদের আকর্ষণ করছে।
হাওরে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ হাওরকেন্দ্রিক পর্যটনকে আরও নিরাপদ, সহজ এবং তথ্যসমৃদ্ধ করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জেলার প্রধান কয়েকটি প্রবেশপথে পর্যটক ছাউনি স্থাপন করা হয়েছে। এসব ছাউনিতে বিশ্রামের ব্যবস্থা, হাওরের মানচিত্র, নৌকার তথ্য, ট্রলার মাঝিদের ফোন নম্বর, নৌকা ভাড়ার তালিকা, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও রিসোর্টের তথ্য রাখা হয়েছে। জরুরি ফোন নম্বর, পুলিশের কন্ট্রোলরুমের যোগাযোগ এবং প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জামও সেখানে রয়েছে।
জেলা পুলিশের উদ্যোগে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের পরিকল্পনায় হাওরকেন্দ্রিক পর্যটনকে আরও নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব করে তুলতে এসব উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কিশোরগঞ্জের হাওরে কিছু ডাকাতির ঘটনার পর পর্যটকদের নিরাপত্তা বিশেষ গুরুত্ব পায়। ট্রলার মালিক ও মাঝিদের বিকেল ৫টার পর নৌকা না চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে কয়েকজন ডাকাত সরদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে রাত ৮টা পর্যন্ত হাওরে নৌকা চলাচল করছে।
বর্ষার পানি এখনো পুরোপুরি নামেনি। ফলে নিকলীর বেড়িবাঁধ, করিমগঞ্জের বালিখোলা এবং চামড়া নৌবন্দর হয়ে প্রতিদিনই পর্যটকেরা প্রবেশ করছেন হাওরের জলভূমিতে। পরিবার, বন্ধু কিংবা বিভিন্ন দল নিয়ে নৌকায় ভেসে তাঁরা ঘুরছেন ইটনা, মিঠামইন এবং অষ্টগ্রামের বিস্তীর্ণ জলাভূমি।
ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অল-ওয়েদার সড়ক, মিঠামইনের দিল্লির আখড়া, অষ্টগ্রামের কুতুব শাহী মসজিদসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানও পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। করিমগঞ্জের গুনধর ইউনিয়নের খয়রতের মোড়ও ইতোমধ্যে পর্যটকদের কাছে পরিচিত একটি ভ্রমণকেন্দ্র হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
কিশোরগঞ্জের হাওরে প্রবেশের কয়েকটি প্রধান পথ রয়েছে। এর মধ্যে নিকলীর বেড়িবাঁধ, করিমগঞ্জের বালিখোলা এবং চামড়া নৌবন্দর অন্যতম। এসব স্থান থেকেই নৌকা নিয়ে পর্যটকেরা হাওরের গভীরে প্রবেশ করেন।
নিকলীর বেড়িবাঁধের মাঝামাঝি স্থানে জেলা পুলিশের উদ্যোগে নির্মাণ করা হয়েছে একটি পর্যটক ছাউনি। সেখানে পর্যটকদের বিশ্রামের ব্যবস্থা রয়েছে। ছাউনির পাশেই রয়েছে পুলিশের কন্ট্রোলরুম।
বালিখোলা ফেরিঘাট এবং চামড়া নৌবন্দরেও একই ধরনের পর্যটক ছাউনি স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ছাউনির প্রবেশপথে ছোট তোরণে লেখা; ‘মাদক ছাড়ি, ভ্রমণ করি’।
ছাউনিগুলোতে রাখা হয়েছে হাওরের মানচিত্র। কোন স্থান থেকে কোন এলাকায় কীভাবে যাওয়া যায়, তার দিকনির্দেশও দেওয়া হয়েছে সেখানে। রয়েছে ট্রলার মাঝিদের ফোন নম্বর এবং নৌকা ভাড়ার তালিকা।
শুধু নৌযাত্রার তথ্য নয়, পর্যটকদের থাকার এবং খাবারের ব্যবস্থার তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে এসব ছাউনিতে। হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট এবং রেস্তোরাঁর ফোন নম্বর রাখা হয়েছে। কোথায় রাত কাটাতে আনুমানিক কত খরচ হতে পারে কিংবা রেস্তোরাঁয় খাবারের স্বাভাবিক মূল্য কত; এসব তথ্যও দেওয়া হচ্ছে। ফলে হাওরে যাওয়ার আগেই ভ্রমণ ব্যয় সম্পর্কে একটি ধারণা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন পর্যটকেরা।
নিকলী কিংবা বালিখোলা থেকে নৌকা নিয়ে হাওরে ঢুকে পর্যটকেরা ছুটছেন নানা গন্তব্যে। ইটনা, মিঠামইন এবং অষ্টগ্রাম এখন হাওরভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ।
বিশেষ করে বর্ষায় ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অল-ওয়েদার সড়ক যেন পানির বিশাল ক্যানভাসে আঁকা এক দীর্ঘ রেখা। সড়কের দুই পাশে থইথই পানি, দূরে জেগে থাকা গ্রাম, মাথার ওপর বিস্তীর্ণ আকাশ; প্রকৃতির এই অপরূপ বিন্যাস দেখতে নৌকায় যেমন ছুটছেন পর্যটকেরা, তেমনি সড়কপথেও ঘুরে দেখছেন অনেকে।
মিঠামইনের দিল্লির আখড়া এবং অষ্টগ্রামের কুতুব শাহী মসজিদেও তাঁদের পদচারণা বাড়ছে। কেউ দেখছেন হাওরের গ্রামীণ জীবন, কেউ মুগ্ধ হচ্ছেন জলমগ্ন প্রকৃতির সৌন্দর্যে। আবার কেউ নৌকার ছাদে বসে উপভোগ করছেন দিগন্তজোড়া জল এবং আকাশের মিতালি।
পর্যটক ছাউনিতে নৌকা, আবাসন এবং খাবারের তথ্য থাকায় ভ্রমণের আগে কোথায় যাবেন, কীভাবে যাবেন এবং সম্ভাব্য খরচ কত হতে পারে; এসব বিষয়ে আগেভাগেই ধারণা নিতে পারছেন পর্যটকেরা।
ভ্রমণের আনন্দের পাশাপাশি পর্যটকের নিরাপত্তাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পর্যটক ছাউনিতে রাখা হয়েছে প্রাথমিক চিকিৎসার কিট। কোনো পর্যটক অসুস্থ হয়ে পড়লে কিংবা দুর্ঘটনার শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া নৌ পুলিশ এবং পর্যটন পুলিশের ফোন নম্বরও রাখা হয়েছে। হাওরে চলাচলের সময় কোনো ধরনের সমস্যায় পড়লে পর্যটকেরা এসব নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন।
চলতি বছরের শুরুতে হাওরে কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভাতেও উঠে আসে। পরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। পুলিশের অভিযানে কয়েকজন ডাকাত সরদার গ্রেপ্তার হওয়ার পর হাওরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে হাওরবাসী জানিয়েছেন।
হাওরের পর্যটনকে কেবল বর্ষার কয়েকটি মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। পর্যটনকে সারা বছরের একটি কার্যক্রমে পরিণত করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। এর অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরসহ হাওরের বিভিন্ন উপজেলার হোটেল এবং রিসোর্টে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন একটি করে কক্ষ বরাদ্দ রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শিক্ষার্থীরা কিশোরগঞ্জে এসে হাওর ঘুরে দেখার সুযোগ পান; এমন একটি পরিবেশ তৈরিই এর উদ্দেশ্য। পাশাপাশি স্থানীয় তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পর্যটন গাইড হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে পর্যটকেরা শুধু চোখের দেখায় হাওরকে জানবেন না, স্থানীয় গাইডের কাছ থেকে হাওরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, প্রকৃতি, জীবনযাত্রা এবং দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত। ‘রহমান শেলী’ নামে তিনি লেখেন। কবিতা এবং সাহিত্যের পাশাপাশি প্রকৃতির প্রতি তাঁর রয়েছে বিশেষ আগ্রহ।
হাওরের পর্যটন নিয়ে তাঁর ভাবনাও তাই কেবল বর্ষার জলরাশিতে সীমাবদ্ধ নয়। বর্ষা শেষ হয়ে পানি নেমে গেলেও হাওরের সৌন্দর্যকে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরতে চায় জেলা পুলিশ।
শুকনো মৌসুমে দিগন্তজোড়া হাওরের বিভিন্ন স্থানে জেলা পুলিশের উদ্যোগে অস্থায়ী তাবু স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে বর্ষায় নৌকায় হাওর দেখার পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে হাওরের বিস্তীর্ণ প্রান্তর, মাঠ, গ্রাম এবং প্রকৃতির অন্য রূপও উপভোগ করার সুযোগ তৈরি হবে।
স্থানীয় তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পর্যটন গাইড তৈরির উদ্যোগও এই পরিকল্পনার অংশ। এর মাধ্যমে স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য আরও সংগঠিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন হাওর সংশ্লিষ্টরা।
জেলা পুলিশের দাবি, এসব উদ্যোগের ফলে চলতি বছর কিশোরগঞ্জের হাওরে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ পর্যটকের সমাগম হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের হাওরে নৌকায় ভ্রমণের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সময় বর্ষা। সাধারণত বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ থেকে হাওরে পানি বাড়তে শুরু করে। আশ্বিন-কার্তিক পর্যন্ত বিস্তীর্ণ হাওর থাকে পানিতে পূর্ণ। এরপর ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করে।
সেপ্টেম্বরের শেষ প্রান্তে এসে হাওরের পানিও নামতে শুরু করেছে। ফলে নৌকায় ভেসে হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি দেখার সুযোগ আর খুব বেশি দিন থাকবে না। পানি কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে নৌকাভিত্তিক পর্যটনের পরিসর।
তবে বর্ষার জল সরে গেলেও হাওরের সৌন্দর্য যেন পর্যটকের চোখের আড়াল না হয়; এমনই পরিকল্পনা কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের। পানির হাওরের পাশাপাশি শুকনো মৌসুমের হাওরের ভিন্ন রূপও পর্যটকদের সামনে তুলে ধরতে চায় তারা।
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা, মিঠামইন এবং অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন, বর্ষায় হাওরে পানি আসার শুরুতে কয়েকটি ডাকাতির ঘটনায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়েছিলেন। তিনি বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানান। পুলিশ সুপার গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ডাকাতদের গ্রেপ্তার করেন। বর্তমানে কিশোরগঞ্জের হাওর পর্যটকদের জন্য নিরাপদ বলে তিনি মনে করেন।
কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য এবং সরকারের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, হাওরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের সুবিধার জন্য পুলিশ সুপারের নেওয়া উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তিনি আরও কাজ করবেন বলে আশা করেন। কোনো পর্যটক কিশোরগঞ্জে এসে যেন খারাপ অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে না যান, সে জন্য পুলিশ সুপারের উদ্যোগকে আরও উৎসাহিত করা প্রয়োজন।
কিশোরগঞ্জ জেলার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, হাওরের পর্যটন প্রসারে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের পরিকল্পনার কথা জেনে তাঁরও হাওর পর্যটনের প্রতি আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে কিশোরগঞ্জের হাওর একসময় শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের অন্যতম পর্যটন এলাকায় পরিণত হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মিডটার্ম নির্বাচনের পর ভোটের ফল প্রকাশের সময় নিয়ে নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের উদ্বেগের মূল কারণ হলো, ভোট গণনার এই অন্তর্বর্তী সময়টিকে ব্যবহার করে ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার বা পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগীরা।
অনেক রাজ্যে ভোট গ্রহণের পর চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করতে কয়েক দিন বা সপ্তাহ সময় লেগে যায়। সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এই ফল প্রকাশের বিলম্বের সময়টিই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, এই সময়ের মধ্যে ট্রাম্পের অনুগতরা বিভিন্ন ভুয়া অভিযোগ তুলে মানুষের মনে সন্দেহের বীজ বুনে দিতে পারেন।
পূর্বে ট্রাম্প প্রশাসন মেইল-ইন ভোটের ওপর কড়াকড়ি আরোপের চেষ্টা করলেও সুপ্রিম কোর্ট তা আটকে দেয়। ফলে আইনি পথ সংকুচিত হয়ে আসায় এখন এই ‘গণনা উইন্ডো’ বা অপেক্ষার সময়টিকে ঘিরে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সাধারণত নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দারা নীরবতা বজায় রাখলেও, এবার তার ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ভোটার তালিকা যাচাইয়ের নামে বিভিন্ন বিতর্কিত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার ভিত্তিহীনভাবে বিদেশি হস্তক্ষেপ বা কারচুপির অভিযোগ করা হলেও, গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করেছেন যে অতীতে কখনো ভোট গণনার কারিগরি প্রক্রিয়ায় সরাসরি কোনো দেশ হস্তক্ষেপ করেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন মুখে সাইবার নিরাপত্তার কথা বললেও সিআইএসএ-তে নির্বাচন নিরাপত্তা সংক্রান্ত বাজেট ও কর্মী সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। তবুও, রাজ্য পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তারা যেকোনো কৃত্রিম বিতর্ক ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে ভোটারদের আগে থেকেই সচেতন করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতান জ্যোতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন অনেক ক্রিকেটার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটার জ্যোতির আচরণকে ‘স্বৈরাচারী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘সে তো অধিনায়ক না, স্বৈরাচার। তার কথার বাইরে গেলে বা বিপরীত মত দিলেই রোষানলে পড়তে হয়।’
অন্য একজন ক্রিকেটার অভিযোগ করেছেন যে, জ্যোতির অতিরিক্ত চিৎকার ও আচরণের কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘এক ম্যাচে বল আমার কাছে আসার আগেই চিল্লানো শুরু করেন অধিনায়ক। এরপর ঘাবড়ে গিয়ে মিস করি আমি। তখন উনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছিলেন। শুধু তাই নয়, মাঠের বাইরেও উনি যেভাবে মানসিক নিপীড়ন করেন, আমি মাঝেমাঝে আল্লাহর কাছে বিচার দিই। বলি, অভিশাপ লাগে যেন।’
এসব অভিযোগের পাশাপাশি, সর্বশেষ এশিয়া কাপে ভারতের কাছে সেমিফাইনালে হেরে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়। ওই ঘটনার পর জ্যোতি টি-টোয়েন্টিতে আর দলের নেতৃত্বে থাকতে চান না। তিনি বিষয়টি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) ই-মেইল করে জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবাল আগামীকাল সোমবার নারী দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করবেন পরবর্তী অধিনায়ক এবং কোচিং প্যানেল নিয়ে। এই বৈঠকে জ্যোতির নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ নারী দলের অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ৩ অক্টোবর ওয়ানডে সিরিজ খেলতে রওনা হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সফরের আগে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক নারী দলের পারফরম্যান্সে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটি নিয়ে অপেক্ষা করছে নারী বিভাগ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রকৃত দরিদ্র ও অসচ্ছল মানুষের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে ফ্যামিলি কার্ড ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জরিপ-২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের নিয়ে আয়োজিত নির্দেশনামূলক সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।
উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন এম আবদুল্লাহ আল মামুন।
সভায় ডেপুটি স্পিকার বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ করতে হবে সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের বাড়ি থেকে। যাদের ছনের ঘর রয়েছে, যাদের নিজস্ব ঘর নেই কিংবা অন্যের বাড়িতে বসবাস করেন—তাদের তথ্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংগ্রহ করতে হবে। কোনোভাবেই সচ্ছল ব্যক্তিদের আগে তালিকাভুক্ত করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, তথ্য সংগ্রহের কাজে সরকার সম্মানী দিচ্ছে। এর বাইরে কেউ অর্থের বিনিময়ে তথ্য সংগ্রহ, স্বজনপ্রীতি বা কোনো ধরনের অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজ দলের বা জোটের কোনো নেতাকর্মী দুর্নীতি কিংবা চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকলেও ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি। এমনকি প্রয়োজন হলে তাদের বিরুদ্ধে নিজে বাদী হয়ে মামলা করার কথাও বলেন তিনি।
সভায় দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন ডেপুটি স্পিকার। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়ে তিনি দিনের বেলায় অপ্রয়োজনে বাতি ও ফ্যান ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যে সমস্যা হচ্ছে, সে জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের জীবনযাত্রার বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি গারো ও হাজংসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের উন্নয়নে কাজ করার কথা জানান। তাদের শিক্ষাবৃত্তি ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করার বিষয়েও আশ্বাস দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ দিকে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে আগামী পাঁচ বছর দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ডেপুটি স্পিকার। এ দুই উপজেলাকে একটি সুন্দর বাগানের সঙ্গে তুলনা করে নিজেকে সেই বাগানের ‘মালী’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এ বাগানের পরিচর্যায় সবার সহযোগিতাও কামনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ