০৯:৪৮ পি.এম
১৬ জুন, ২০২৬,ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার পুলিশ এবং স্থানীয় জনগণ সোচ্চার হয়ে উঠেছে। এর ফলে ওই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সচেতন জনগণ বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবারি ও মাদক সেবীদের হাতে নাতে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করছে। একই সাথে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ নিয়মিতভাবে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার, মাদকের সহজলভ্যতা এবং সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে তরুণদের একটি অংশ বিপথগামী হচ্ছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে বর্তমানে শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ নয় বরং সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে দেখা যাচ্ছে।
কালীগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত ৪২টি মাদক মামলায় ৫৪ জন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। প্রায় ৫ কেজি গাঁজা, নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট ১৩৭২ পিস, ট্যাফেন্ডাল ট্যাবলেট ১১৪ পিস ফেনসিডিল (যৌথ অভিযানসহ) ৩৪৭ বোতল ও চোলাই মদ ১০০০ লিটার জব্দ করা হয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলা জুড়ে শতাধিক মাদক স্পট রয়েছে। স্থানীয় জনগণ মনে করেন, এসব স্পটে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে মাদক কারবারি ও মাদক সেবীদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে থানা পুলিশকে আরও অগ্রনী ভূমিকায় থাকতে হবে।
মাদক নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনতা ও থানা পুলিশের যৌথ উদ্যোগ সবচেয়ে কার্যকর। স্থানীয় জনগণ যদি নিজস্ব এলাকায় মাদক বিরোধী সচেতনতা ও নজরদারি গড়ে তুলে অপরাধীদের তথ্য দিয়ে পুলিশের সহায়তা করে, তাহলে মাদক অভিযান আরও কার্যকরী হবে। তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না; মাদক বিক্রেতা বা আসক্তদের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানা পুলিশের কাছে যেতে হবে। সমাজ যখন মাদক বিস্তারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখন পুলিশ আইনের যথাযথ প্রয়োগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। পুলিশ সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রেই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন বলেও জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, মাদকের ব্যাপারে থানা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে কাজ করে যাচ্ছে। তবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, মাদক অভিযানের প্রেক্ষিতে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি শুধু পুলিশের মনোবল নয়, সামগ্রিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে দুর্বল করার অপপ্রয়াস। তবে, মাদক অভিযানে যদি অনিয়ম বা আইনের ব্যত্যয় ঘটে, সেক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মূলত স্থানীয়ভাবে যারা আগে অনৈতিক সুবিধা পেতেন, বর্তমানে তা বন্ধ হওয়ায় প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করার কৌশল হিসেবে এ ধরনের প্রচার করা হচ্ছে। মাদকবিরোধী অভিযানের সফলতা জনসমর্থন ও তথ্যের সত্যতার উপর নির্ভর করে। বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই না করে প্রচার করলে অপরাধীরা সুবিধা পায়। এই অবস্থায় সত্য তথ্য যাচাই, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ এবং পুলিশের সঙ্গে জনগণের সহযোগিতা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মাদকমুক্ত কালীগঞ্জ গড়তে পুলিশের পাশাপাশি সচেতন নাগরিক সমাজের সক্রিয় ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন