ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাঙ্গাবালীতে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন


রাঙ্গাবালীতে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন

ঢাকা: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল স্থাপনের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ আয়োজিত মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, রাঙ্গাবালী উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি—এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল স্থাপন করা। চিকিৎসাসেবা নিতে উপজেলার মানুষকে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। জরুরি প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী এলাকায় যেতে হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুত রাঙ্গাবালী উপজেলায় একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল স্থাপনের দাবি জানান। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে  আম জনগণ পার্টির সদস্য সচিব ফাতেমা তাসনিম বলেন, “রাঙ্গাবালী উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল চাই। হাসপাতাল স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”
বক্তারা বলেন, উপকূলীয় এই উপজেলার সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
মানববন্ধন থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি রাঙ্গাবালীতে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল স্থাপনের দাবি জানানো হয়।

 

আরও পড়ুন: জিয়ানগরে ইউপি নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল জলিল শেখের সমর্থকদের নিয়ে জনসংযোগ ও পথসভা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বারোআড়িয়া হাটে মানুষ বিক্রি, কৃষকদের চাহিদা মেটাচ্ছে শ্রমবাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১৫ পি.এম


বারোআড়িয়া হাটে মানুষ বিক্রি, কৃষকদের চাহিদা মেটাচ্ছে শ্রমবাজার

হাটে পণ্য কেনাবেচা হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার বারোআড়িয়া হাটে মৌসুমি সময়ে ‘মানুষও বিক্রি’ হয়ে থাকে। তবে এই বিক্রির প্রক্রিয়া স্থায়ী নয়; কৃষিকাজের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শ্রম বিক্রি করেন মানুষ। আমন মৌসুমে এই দৃশ্য বারোআড়িয়া হাটের বিশেষ পরিচয় হয়ে উঠেছে।

ভাদ্র মাস চলছে, দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় বর্তমানে আমন ধান রোপণ ও ক্ষেত পরিচর্যার কাজ চলছে। আষাঢ় থেকে ভাদ্র, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমন রোপণ ও পরিচর্যার সময়কাল। এই সময় কৃষকদের জমিতে বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। সেই প্রয়োজন মেটাতে সাতক্ষীরা, শ্যামনগর, দাকোপ, আসাশুনি, তালাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলা থেকে শ্রমিকরা বারোআড়িয়া হাটে আসেন।

সকাল হলেই হাটের নির্দিষ্ট স্থানে শ্রমিকরা জড়ো হন। কেউ একা, আবার কেউ দল বেঁধে আসেন। গৃহস্থরা তাদের সঙ্গে কথা বলেন, কাজের অভিজ্ঞতা জানার চেষ্টা করেন। শারীরিক সক্ষমতা এবং কাজের দক্ষতাও বিবেচনা করা হয়। এরপর দরদাম শুরু হয়। কারও সঙ্গে এক সপ্তাহের, কারও ১৫ দিনের চুক্তি হয়। চুক্তি চূড়ান্ত হলে শ্রমিক গৃহস্থের সঙ্গে চলে যান।

বর্তমান আমন মৌসুমে বারোআড়িয়া হাটে সাপ্তাহিক চুক্তিতে একজন শ্রমিকের দাম প্রায় ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা উঠছে। শ্রমিকের অভিজ্ঞতা, কাজের ধরন, শারীরিক সক্ষমতা এবং চাহিদার ওপর ভিত্তি করে পারিশ্রমিকের পরিমাণ কমবেশি হয়।

রায়পুর এলাকার গৃহস্থ ওয়ালিদ গাজী মন্তব্য করেন, “আমাদের জমি রোপণের জন্য আটজন শ্রমিক নিয়েছি। জমি রোপণের সময় এবং ধান কাটার সময়ও বারোআড়িয়া বাজার থেকে শ্রমিক নিতে হয়। কৃষিকাজের ব্যস্ত সময়ে এখান থেকেই প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাওয়া যায়।”

শ্যামনগর উপজেলার ঘুমঘাট এলাকার শ্রমিক লক্ষ্মণ কুমার বৈরাগী বলেন, "আমরা প্রতিবছর দুইবার এই হাটে কাজের জন্য আসি। কখনো এক সপ্তাহের চুক্তিতে, আবার কখনো ১৫ দিনের চুক্তিতে কাজ করি। গত সপ্তাহে দেলুটি ইউনিয়নের গেউয়াবুনিয়া গ্রামে কাজ করেছি।"

সাতক্ষীরার তালা উপজেলা থেকে আসা শ্রমিক রুদ্র রায় জানান, "এ বছর মোটামুটি ভালো দাম পাচ্ছি। সাপ্তাহিক চুক্তিতে ৫ হাজার ৬০০ টাকায় কাজ নিয়েছি।"

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বছরের নির্দিষ্ট কয়েকটি সময়ে তারা এই হাটে আসেন। নিজেদের এলাকায় কাজের সুযোগ কমে গেলে অথবা আমন ও বোরো মৌসুমে শ্রমের চাহিদা বাড়লে তারা দলবেঁধে বিভিন্ন এলাকায় যান। কাজের বিনিময়ে পাওয়া পারিশ্রমিক তাদের পরিবারের আয়-রোজগারের অন্যতম অবলম্বন।

অন্যদিকে কৃষকদের জন্য এই হাট হয়ে উঠেছে প্রয়োজনের সময়ে শ্রমিক পাওয়ার নির্ভরযোগ্য স্থান। ধান রোপণ কিংবা কাটার মতো মৌসুমি কৃষিকাজে অল্প সময়ে বেশি শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। স্থানীয়ভাবে সেই চাহিদা পূরণে দীর্ঘদিন ধরে বারোআড়িয়া হাট ভূমিকা রেখে আসছে।

তবে ‘মানুষ বিক্রি’ শব্দবন্ধের আড়ালে দক্ষিণাঞ্চলের গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষের কঠিন বাস্তবতা রয়েছে। এখানে মানুষ নিজের শ্রম, সময় ও সামর্থ্য নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চুক্তিতে দেন। তাদের শ্রমের বিনিময়ে কৃষকের জমি সচল থাকে, ধান রোপণ হয় এবং ঘরে ফসল ওঠে।

সুরখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস কে জাকির হোসেন লিটু বলেন, বারোআড়িয়া হাট তাই শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়; এটি দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি মৌসুমি শ্রমবাজার।

বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থান্দার কামরুজ্জামান মন্তব্য করেন, কৃষিকাজের মৌসুমে শ্রমিক ও কৃষকের মধ্যে এ ধরনের চুক্তিভিত্তিক শ্রমবাজার স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে একদিকে কৃষকরা প্রয়োজনের সময়ে শ্রমিক পাচ্ছেন, অন্যদিকে শ্রমজীবী মানুষও নিজেদের শ্রমের বিনিময়ে আয় করার সুযোগ পাচ্ছেন। কৃষক ও শ্রমিক উভয়ের স্বার্থ যাতে সুরক্ষিত থাকে এবং কোনো পক্ষ যেন প্রতারণা বা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রশাসন সচেতন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আনোয়ারায় এনসিপি নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম, ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১৬ পি.এম


আনোয়ারায় এনসিপি নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম, ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের চাতরী চৌমুহনী এলাকার হাজী আবুল হোসেন মার্কেটের মো. শাকিলের দোকানের সামনে হামলার ঘটনা ঘটে।

এজাহার থেকে জানা যায়, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বেআইনি জনতাবদ্ধ হয়ে আসামিরা দেলোয়ার হোসেনের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় তাঁকে কুপিয়ে ও মারধর করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করা হয় এবং হাড়ভাঙার মতো আঘাত করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের মারধর করা হয়, ৪ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।

আদালতের আদেশ পাওয়ার পর ১১ সেপ্টেম্বর আনোয়ারা থানায় মামলা নম্বর ১৮ হিসেবে মামলাটি রুজু করা হয়।

মামলার আসামিদের মধ্যে মো. রুবেল, আজম খান, মো. জুয়েল, মো. আকিব, মো. মিজান, মো. আবির হেলাল, মো. ইকবাল, মো. দিদার, মো. সেকান্দর, মো. সাকিব, মো. মোরশেদ, মো. মুহিম ও দেলোয়ার হোসেন অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বাদী দেলোয়ার হোসেনের দাবি, আসামিদের মধ্যে আজম খান ও রুবেল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। মামলার পঞ্চম আসামি মো. মিজান আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের নেতা এবং তিনি আনোয়ারা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শওকত ওসমানের অনুসারী।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, হামলায় তিনি ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

তিনি আরও জানান, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ তাঁদের আটক করতে পারেনি। এমন বর্বর ও সন্ত্রাসী হামলার পর প্রশাসন কেন নীরব, তা তাঁদের বোধগম্য নয়। ঘটনার পরও তাঁদের হামলার উদ্দেশ্যে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, ফলে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চাতরী চৌমুহনী বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন। একই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চাতরী চৌমুহনী বাজারের হাজী এ. আলী শপিং কমপ্লেক্স দখলের চেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার অভিযোগও রয়েছে। ওই ঘটনায় কয়েকজন ব্যবসায়ী আহত হন এবং তাঁদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আনোয়ারা থানায় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাঙ্গাবালীতে নতুন জামে মসজিদের উদ্বোধন করলেন বিএনপি নেতা জাকারিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:মোঃআসাদ মিয়া,,

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১৬ পি.এম


রাঙ্গাবালীতে নতুন জামে মসজিদের উদ্বোধন করলেন বিএনপি নেতা জাকারিয়া

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কূলের চর গ্রামে নতুন একটি জামে মসজিদের উদ্বোধন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের আগে উত্তর কূলের চর আব্দুস সালাম বয়াতি বাড়ি জামে মসজিদ-এর উদ্বোধন করেন রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক এইচ এম জাকারিয়া হোসাইন।

এ সময় মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. কালাম বয়াতি ও সাধারণ সম্পাদক বশার চৌকিদারসহ স্থানীয় মুসল্লি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধন শেষে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করা হয়। নতুন মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ দেখা গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সন্দেহের ভিত্তিতে চট্টগ্রামে নারী শিশুসহ ৬৩ বিদেশি গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১৬ পি.এম


সন্দেহের ভিত্তিতে চট্টগ্রামে নারী শিশুসহ ৬৩ বিদেশি গ্রেফতার

পর্যটন শহর কক্সবাজারের একটি হোটেল থেকে ছয় চীনা নাগরিককে গ্রেফতার করার পর পুলিশের সহযোগিতায় ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ নিয়ে সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে, চট্টগ্রাম নগরীর একটি ভবন ঘেরাও করে নারী শিশুসহ ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিইউ) ও খুলশী থানার দুটি বিশেষ টিম ২২ ঘণ্টা ধরে নগরীর খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি আটতলা বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে অভিযানটি শেষ হয়, যা শুরু হয়েছিলো বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ জন নারী এবং বেশ কয়েকজন শিশু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে, কেন এবং কোন অপরাধের ভিত্তিতে এতো বিপুল সংখ্যক বিদেশিকে গ্রেফতার করা হলো, সে সম্পর্কে নগর পুলিশের কর্মকর্তারা সঠিকভাবে কোনো জবাব দিতে পারেননি। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো তথ্যও পুলিশের কাছে নেই।

এ পরিস্থিতিতে পুলিশের এই অতি উৎসাহী ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা অপরাধের প্রমাণ ছাড়া শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে বিদেশিদের গ্রেফতার করার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে সরকারের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদি তারা অপরাধে জড়িত হয়ে থাকেন, তবে বিদেশি নাগরিকদের বিচার সম্ভব। এই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোর সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে। তবে অভিযোগ প্রমাণ হওয়ার আগে তাদেরকে অপরাধীর মতো আচরণ করা দেশের ইমেজের জন্য ক্ষতিকর বলেও অনেকের মত।

যেখানে নগরীর আইন-শৃঙ্খলার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে পেশাদার সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের ধরতে পুলিশ চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে, সেখানে অভিযোগ ছাড়াই ব্যবসার জন্য আসা বিদেশিদের আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া এবং আদালতে চালান দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে অভিযান শেষে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো অপরাধের প্রমাণ দিতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের ধারণা, তারা অপরাধ করার উদ্দেশ্যে ওই ভবনে একত্রিত হয়েছিল। তবে ধারণার ভিত্তিতে বিদেশি নাগরিকদের আসামির মতো গ্রেফতার করা যায় কিনা, সেটিও প্রশ্নবিদ্ধ।

মাত্র দেড় মাস আগে এক প্রবাসী ওই বাড়িটি ভাড়া নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন বিদেশিরা। অভিজাত খুলশি এলাকায় অনেক ভবনে বিদেশি নাগরিকরা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। চট্টগ্রামে বিদেশি বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত কলকারখানায় কর্মরত বিদেশিরা ওইসব এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে একত্রে বসবাস করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ হঠাৎ করে আবাসিক এলাকার ওই ভবনটি ঘেরাও করে। তারা ভবনের প্রতিটি তলায় গিয়ে বাসিন্দাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেন। তবে ভাষাগত সমস্যার কারণে কেউ কারো কথা বুঝতে পারছিলেন না। ওই ভবনের আশপাশের বাসিন্দারা বলছেন, ফ্যাসিবাদি আমলে কথিত জঙ্গি নাটকের মহড়া দেয়ার স্টাইলে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। তবে অভিযান শেষে তাদের কাছ থেকে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন সেট, ল্যাপটপ এবং কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হলেও অবৈধ কিছু পাওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেলে দামপাড়া সিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে অভিযানের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল আহম্মেদ। তার কাছে প্রশ্ন ছিলো, কি অপরাধে এসব বিদেশিদের গ্রেফতার করা হলো। তিনি জানান, "আমাদের কাছে তথ্য ছিলো তারা ওই ভবনে অবস্থান করে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘবদ্ধভাবে আর্থিক প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাৎ করছে।" অভিযানে এমন কোনো অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে কিনা, উত্তরে অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, "না। তবে তারা প্রতারণা করেছেন কিনা সেটা তদন্ত করা হচ্ছে।" তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ডিভাইস ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে এবং এর জন্য কিছুটা সময় লাগবে।

প্রতারণার কৌশল ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে ফয়সাল আহম্মেদ জানান, তারা মূলত বিভিন্ন ওয়েবসাইট হ্যাক করে। এরপর বিভিন্ন জনকে অনলাইন জুয়া খেলার অফার দেয় এবং চাকরির ভুয়া ফাঁদ তৈরি করে। লাওস, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামে স্ক্যামারদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চলায় তারা সেখানে কাজগুলো করতে না পেরে বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছে। এখানে তারা প্রতারণার ফাঁদ পাতা মাত্র শুরু করেছিল। তিনি আরও বলেন, "আমরা তাদের যত কম্পিউটার ও ল্যাপটপ পেয়েছি, কোর্টের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সেগুলোর ফরেনসিক রিপোর্ট এলে কার কার সাথে তারা প্রতারণা করেছে, সেই বিষয়গুলো পুরোপুরি উঠে আসবে।" গ্রেফতারকৃতদের অনেকের পাসপোর্ট না থাকার বিষয়ে ফয়সাল আহম্মেদ জানান, "আমরা জানতে পেরেছি তাদের পাসপোর্টগুলো এক বাংলাদেশির কাছে জমা রাখা আছে।" স্থানীয় ওই ব্যক্তির সহযোগিতাতেই তারা এই বাসাটি ভাড়া নিয়েছে।

খুলশী থানার ওসি আব্দুর রহিম বলেন, "তারা একসাথে একটি ভবনে অবস্থান নিয়েছে, এতে বুঝা যায় তারা ‘সংঘবদ্ধ’।" তাছাড়া, তাদের কাছে থাকা ডিভাইস দেখে মনে হয়েছে তারা প্রতারণামূলক কার্যক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। অপরাধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এই ধারণা থেকে কাউকে গ্রেফতার করা যায় কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, "ওপর থেকে তথ্য ছিলো তারা অপরাধে জড়িত।" যেসব ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে, সেগুলো দিয়ে কোন প্রতারণা বা অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে কিনা সেটাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি জানিয়ে ওসি বলেন, "এসব তদন্ত সাপেক্ষ, তদন্তে সময় লাগবে।"

তিনি ধারণা করছেন, এদের সাথে দেশি চক্রও জড়িত রয়েছে। ভাষা বুঝতে না পারায় অনেক কিছু জানা যায়নি। তাদের অনেকের কাছে তখন পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি, তবে পরিবার এবং দূতাবাসের পক্ষ থেকে পাসপোর্ট পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ওসি জানান, আটক অনেকে বলেছেন তারা ব্যবসার কাজে এই দেশে এসেছেন কিছুদিন আগে। যার মাধ্যমে চট্টগ্রাম আসেন এবং এই ভবনটি যিনি ভাড়া নেন, তাদের অনেকের পাসপোর্ট তার কাছে জমা আছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগর পুলিশের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, একটি সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেখানে তাৎক্ষণিক অপরাধের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তারা ওই ভবনে বসবাস করছেন, কেউ কেউ পরিবার নিয়ে আছেন। সন্দেহজনকভাবে তাদের আটক করা হয়েছে।

ওসি আব্দুর রহিম জানান, গ্রেফতার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল প্রতারণা ও অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২১, ২২ ও ২৩ ধারায় মামলা হয়েছে। গ্রেফতার ৬৩ জনের মধ্যে লাওসের ৩৪ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের ৫ জন, নেপালের দুই জন এবং ভিয়েতনামের একজন রয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%