ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আনোয়ারায় এনসিপি নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম, ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা


আনোয়ারায় এনসিপি নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম, ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের চাতরী চৌমুহনী এলাকার হাজী আবুল হোসেন মার্কেটের মো. শাকিলের দোকানের সামনে হামলার ঘটনা ঘটে।

এজাহার থেকে জানা যায়, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বেআইনি জনতাবদ্ধ হয়ে আসামিরা দেলোয়ার হোসেনের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় তাঁকে কুপিয়ে ও মারধর করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করা হয় এবং হাড়ভাঙার মতো আঘাত করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের মারধর করা হয়, ৪ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।

আরও পড়ুন: নড়াইলে ‘ড. রাফি-বেগম মেমোরিয়াল জুনিয়র গলফ টুর্নামেন্টের পুরস্কার ও চারা বিতরণ

আদালতের আদেশ পাওয়ার পর ১১ সেপ্টেম্বর আনোয়ারা থানায় মামলা নম্বর ১৮ হিসেবে মামলাটি রুজু করা হয়।

মামলার আসামিদের মধ্যে মো. রুবেল, আজম খান, মো. জুয়েল, মো. আকিব, মো. মিজান, মো. আবির হেলাল, মো. ইকবাল, মো. দিদার, মো. সেকান্দর, মো. সাকিব, মো. মোরশেদ, মো. মুহিম ও দেলোয়ার হোসেন অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বাদী দেলোয়ার হোসেনের দাবি, আসামিদের মধ্যে আজম খান ও রুবেল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। মামলার পঞ্চম আসামি মো. মিজান আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের নেতা এবং তিনি আনোয়ারা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শওকত ওসমানের অনুসারী।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, হামলায় তিনি ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

আরও পড়ুন: নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে: শিমুল বিশ্বাস

তিনি আরও জানান, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ তাঁদের আটক করতে পারেনি। এমন বর্বর ও সন্ত্রাসী হামলার পর প্রশাসন কেন নীরব, তা তাঁদের বোধগম্য নয়। ঘটনার পরও তাঁদের হামলার উদ্দেশ্যে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, ফলে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চাতরী চৌমুহনী বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন। একই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চাতরী চৌমুহনী বাজারের হাজী এ. আলী শপিং কমপ্লেক্স দখলের চেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার অভিযোগও রয়েছে। ওই ঘটনায় কয়েকজন ব্যবসায়ী আহত হন এবং তাঁদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আনোয়ারা থানায় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

আরও পড়ুন: রৌমারীতে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে একই পরিবারের ৪ সদস্যসহ ৫ জন নিহত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাঙ্গাবালীতে নতুন জামে মসজিদের উদ্বোধন করলেন বিএনপি নেতা জাকারিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:মোঃআসাদ মিয়া,,

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১৬ পি.এম


রাঙ্গাবালীতে নতুন জামে মসজিদের উদ্বোধন করলেন বিএনপি নেতা জাকারিয়া

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কূলের চর গ্রামে নতুন একটি জামে মসজিদের উদ্বোধন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের আগে উত্তর কূলের চর আব্দুস সালাম বয়াতি বাড়ি জামে মসজিদ-এর উদ্বোধন করেন রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক এইচ এম জাকারিয়া হোসাইন।

এ সময় মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. কালাম বয়াতি ও সাধারণ সম্পাদক বশার চৌকিদারসহ স্থানীয় মুসল্লি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধন শেষে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করা হয়। নতুন মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ দেখা গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সন্দেহের ভিত্তিতে চট্টগ্রামে নারী শিশুসহ ৬৩ বিদেশি গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১৬ পি.এম


সন্দেহের ভিত্তিতে চট্টগ্রামে নারী শিশুসহ ৬৩ বিদেশি গ্রেফতার

পর্যটন শহর কক্সবাজারের একটি হোটেল থেকে ছয় চীনা নাগরিককে গ্রেফতার করার পর পুলিশের সহযোগিতায় ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ নিয়ে সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে, চট্টগ্রাম নগরীর একটি ভবন ঘেরাও করে নারী শিশুসহ ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিইউ) ও খুলশী থানার দুটি বিশেষ টিম ২২ ঘণ্টা ধরে নগরীর খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি আটতলা বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে অভিযানটি শেষ হয়, যা শুরু হয়েছিলো বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টায়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ জন নারী এবং বেশ কয়েকজন শিশু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে, কেন এবং কোন অপরাধের ভিত্তিতে এতো বিপুল সংখ্যক বিদেশিকে গ্রেফতার করা হলো, সে সম্পর্কে নগর পুলিশের কর্মকর্তারা সঠিকভাবে কোনো জবাব দিতে পারেননি। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো তথ্যও পুলিশের কাছে নেই।

এ পরিস্থিতিতে পুলিশের এই অতি উৎসাহী ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা অপরাধের প্রমাণ ছাড়া শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে বিদেশিদের গ্রেফতার করার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে সরকারের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদি তারা অপরাধে জড়িত হয়ে থাকেন, তবে বিদেশি নাগরিকদের বিচার সম্ভব। এই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোর সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে। তবে অভিযোগ প্রমাণ হওয়ার আগে তাদেরকে অপরাধীর মতো আচরণ করা দেশের ইমেজের জন্য ক্ষতিকর বলেও অনেকের মত।

যেখানে নগরীর আইন-শৃঙ্খলার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে পেশাদার সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের ধরতে পুলিশ চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে, সেখানে অভিযোগ ছাড়াই ব্যবসার জন্য আসা বিদেশিদের আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া এবং আদালতে চালান দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে অভিযান শেষে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো অপরাধের প্রমাণ দিতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের ধারণা, তারা অপরাধ করার উদ্দেশ্যে ওই ভবনে একত্রিত হয়েছিল। তবে ধারণার ভিত্তিতে বিদেশি নাগরিকদের আসামির মতো গ্রেফতার করা যায় কিনা, সেটিও প্রশ্নবিদ্ধ।

মাত্র দেড় মাস আগে এক প্রবাসী ওই বাড়িটি ভাড়া নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন বিদেশিরা। অভিজাত খুলশি এলাকায় অনেক ভবনে বিদেশি নাগরিকরা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। চট্টগ্রামে বিদেশি বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠিত কলকারখানায় কর্মরত বিদেশিরা ওইসব এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে একত্রে বসবাস করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ হঠাৎ করে আবাসিক এলাকার ওই ভবনটি ঘেরাও করে। তারা ভবনের প্রতিটি তলায় গিয়ে বাসিন্দাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেন। তবে ভাষাগত সমস্যার কারণে কেউ কারো কথা বুঝতে পারছিলেন না। ওই ভবনের আশপাশের বাসিন্দারা বলছেন, ফ্যাসিবাদি আমলে কথিত জঙ্গি নাটকের মহড়া দেয়ার স্টাইলে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। তবে অভিযান শেষে তাদের কাছ থেকে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন সেট, ল্যাপটপ এবং কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হলেও অবৈধ কিছু পাওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেলে দামপাড়া সিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে অভিযানের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল আহম্মেদ। তার কাছে প্রশ্ন ছিলো, কি অপরাধে এসব বিদেশিদের গ্রেফতার করা হলো। তিনি জানান, "আমাদের কাছে তথ্য ছিলো তারা ওই ভবনে অবস্থান করে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘবদ্ধভাবে আর্থিক প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাৎ করছে।" অভিযানে এমন কোনো অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে কিনা, উত্তরে অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, "না। তবে তারা প্রতারণা করেছেন কিনা সেটা তদন্ত করা হচ্ছে।" তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ডিভাইস ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে এবং এর জন্য কিছুটা সময় লাগবে।

প্রতারণার কৌশল ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে ফয়সাল আহম্মেদ জানান, তারা মূলত বিভিন্ন ওয়েবসাইট হ্যাক করে। এরপর বিভিন্ন জনকে অনলাইন জুয়া খেলার অফার দেয় এবং চাকরির ভুয়া ফাঁদ তৈরি করে। লাওস, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামে স্ক্যামারদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চলায় তারা সেখানে কাজগুলো করতে না পেরে বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছে। এখানে তারা প্রতারণার ফাঁদ পাতা মাত্র শুরু করেছিল। তিনি আরও বলেন, "আমরা তাদের যত কম্পিউটার ও ল্যাপটপ পেয়েছি, কোর্টের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সেগুলোর ফরেনসিক রিপোর্ট এলে কার কার সাথে তারা প্রতারণা করেছে, সেই বিষয়গুলো পুরোপুরি উঠে আসবে।" গ্রেফতারকৃতদের অনেকের পাসপোর্ট না থাকার বিষয়ে ফয়সাল আহম্মেদ জানান, "আমরা জানতে পেরেছি তাদের পাসপোর্টগুলো এক বাংলাদেশির কাছে জমা রাখা আছে।" স্থানীয় ওই ব্যক্তির সহযোগিতাতেই তারা এই বাসাটি ভাড়া নিয়েছে।

খুলশী থানার ওসি আব্দুর রহিম বলেন, "তারা একসাথে একটি ভবনে অবস্থান নিয়েছে, এতে বুঝা যায় তারা ‘সংঘবদ্ধ’।" তাছাড়া, তাদের কাছে থাকা ডিভাইস দেখে মনে হয়েছে তারা প্রতারণামূলক কার্যক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। অপরাধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এই ধারণা থেকে কাউকে গ্রেফতার করা যায় কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, "ওপর থেকে তথ্য ছিলো তারা অপরাধে জড়িত।" যেসব ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে, সেগুলো দিয়ে কোন প্রতারণা বা অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে কিনা সেটাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি জানিয়ে ওসি বলেন, "এসব তদন্ত সাপেক্ষ, তদন্তে সময় লাগবে।"

তিনি ধারণা করছেন, এদের সাথে দেশি চক্রও জড়িত রয়েছে। ভাষা বুঝতে না পারায় অনেক কিছু জানা যায়নি। তাদের অনেকের কাছে তখন পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি, তবে পরিবার এবং দূতাবাসের পক্ষ থেকে পাসপোর্ট পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ওসি জানান, আটক অনেকে বলেছেন তারা ব্যবসার কাজে এই দেশে এসেছেন কিছুদিন আগে। যার মাধ্যমে চট্টগ্রাম আসেন এবং এই ভবনটি যিনি ভাড়া নেন, তাদের অনেকের পাসপোর্ট তার কাছে জমা আছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগর পুলিশের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, একটি সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেখানে তাৎক্ষণিক অপরাধের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তারা ওই ভবনে বসবাস করছেন, কেউ কেউ পরিবার নিয়ে আছেন। সন্দেহজনকভাবে তাদের আটক করা হয়েছে।

ওসি আব্দুর রহিম জানান, গ্রেফতার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল প্রতারণা ও অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২১, ২২ ও ২৩ ধারায় মামলা হয়েছে। গ্রেফতার ৬৩ জনের মধ্যে লাওসের ৩৪ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের ৫ জন, নেপালের দুই জন এবং ভিয়েতনামের একজন রয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাকিমপুরে প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে তরুণীর অনশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১৭ পি.এম


হাকিমপুরে প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে তরুণীর অনশন

দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার খট্টা মাধবপাড়া ইউনিয়নের ঘাসুরিয়া গ্রামে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করেছেন আয়শা সিদ্দিকা নামে এক তরুণী।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে তিনি প্রেমিক ইমন (২১) এর বাড়িতে অবস্থান নিয়ে বিয়ের দাবি জানাচ্ছেন। এই ঘটনার ফলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, ঘাসুরিয়া গ্রামের ইসিম সরকারের ছেলে ইমনের সঙ্গে নওদাপাড়া গ্রামের আবু বক্করের মেয়ে আয়শা সিদ্দিকার প্রায় তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। আয়শার অভিযোগ, ইমন তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। সম্প্রতি বিয়ের জন্য চাপ দিলে ইমন নানা টালবাহানা শুরু করে এবং একপর্যায়ে বিয়েতে অস্বীকৃতি জানায়।

এরপর বৃহস্পতিবার আয়শা ইমনের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন। স্থানীয়রা জানান, তার অবস্থানের খবর পেয়ে ইমন বাড়ি থেকে চলে যান।

অনশনরত আয়শা সিদ্দিকা বলেন, "ইমনের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। সে আমাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়েছিল। এখন আমাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। ইমন আমাকে বিয়ে না করা পর্যন্ত আমি এই বাড়ি থেকে যাব না।"

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, বিষয়টি নিয়ে উভয় পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাব্যতা ফিরলেও ফেরি বন্ধ, অচল চিলমারী–রৌমারী নৌপথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১৭ পি.এম


নাব্যতা ফিরলেও ফেরি বন্ধ, অচল চিলমারী–রৌমারী নৌপথ

নাব্যতা সংকট দূর করতে ড্রেজিং কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে, এবং ফেরি চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় পানির গভীরতা পুনরুদ্ধার হয়েছে। নৌপথ সচল রাখতে বর্তমানে সংরক্ষণমূলক ড্রেজিংও চলছে। তবে, নৌপথ প্রস্তুত থাকলেও ফেরির অভাব রয়েছে। এর ফলে, কুড়িগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ চিলমারী–রৌমারী নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই অবস্থায় যাত্রী, পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও ব্যবসায়ীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

১৪ আগস্ট, ২০২৩ তারিখে নাব্যতা সংকটের কারণে এই রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ ফেরি ‘কদম’ কে ২ সেপ্টেম্বর মেরামতের জন্য নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পুরো নৌরুটটি ফেরিশূন্য হয়ে পড়েছে। যানবাহন পারাপারের জন্য আসলেও ফেরির অভাবে তাদের ফিরে যেতে হচ্ছে।

নৌপথে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ২৫ জুলাই থেকে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করেছে। সিইজিআইএসের কারিগরি পরামর্শে চিলমারী ঘাট, রৌমারী ঘাট ও খেরুয়ার চরসংলগ্ন সংকটাপন্ন এলাকায় চারটি কাটার সাকশন ড্রেজার ব্যবহার করে খননকাজ করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, এসব এলাকায় ফেরি চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় পানির গভীরতা বর্তমানে রয়েছে। পলি জমে যাতে আবারও নাব্যতা সংকট তৈরি না হয়, সে জন্য সংরক্ষণমূলক ড্রেজিংও চলমান রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের চিলমারী নদীবন্দরের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার কামরুজ্জামান বলেন, “ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নৌপথের সংকটাপন্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় গভীরতা নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে ফেরি চলাচলে কোনো বাধা নেই।”

এদিকে, নৌপথে নাব্যতা ফিরলেও ফেরি চলাচল শুরু না হওয়ায় দ্রুত সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএর পুরকৌশল শাখা (ড্রেজিং বিভাগ)। ফেরি সার্ভিস চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ১০ সেপ্টেম্বর বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) সমীর চন্দ্র পাল স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বিআইডব্লিউটিসির চিলমারী নদীবন্দরের সহব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) ও এরিয়া ইনচার্জের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ড্রেজিংয়ের পরপরই চ্যানেলটি সচল রাখা এবং নিয়মিত ফেরি চলাচল নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার পলি জমে নাব্যতা সংকট তৈরি হতে পারে।

নৌপরিবহন সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ‘কুঞ্জলতা’ ফেরির মাধ্যমে চিলমারী নদীবন্দরে ফেরি সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এরপর একই বছরের ৪ অক্টোবর ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ এবং নভেম্বরে ‘কদম’ ফেরি যুক্ত হয়। তবে সময়ের ব্যবধানে একে একে ফেরিগুলো প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনটি ফেরি সরিয়ে নেওয়ার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ আবারও ফেরিশূন্য হয়ে পড়েছে।

ফেরি বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিকল্প দীর্ঘ পথে চলাচল করতে গিয়ে বাড়ছে জ্বালানি ও সময়ের ব্যয়। পাশাপাশি পচনশীল পণ্য পরিবহনে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ব্যয়ও বাড়ছে।

রেল, নৌযোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির সাবেক সভাপতি নাহিদ হাসান বলেন, “সরকারের বড় ধরনের অবকাঠামোগত বিনিয়োগের পর এভাবে ফেরি বন্ধ থাকা হতাশাজনক। দ্রুত বিকল্প ফেরি বরাদ্দের পাশাপাশি এ রুটে নাব্যতা ধরে রাখতে নিয়মিত ড্রেজিং করতে হবে। নদীর তলদেশে দ্রুত পলি জমলে আবারও নাব্যতা সংকট তৈরি হতে পারে। তাই ফেরি রুট সচল রাখতে নাব্যতা পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।”

বিআইডব্লিউটিসির চিলমারী নদীবন্দরের ম্যানেজার (বাণিজ্য) আতিক সোহেল আকাশ জানান, খনন বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী মেরিন অফিসার ও পাইলট বিভাগ পানির গভীরতা পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। সেই সাথে ফেরি আসার জন্যও চিঠি দেয়া হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসি’র পরিচালক (বাণিজ্য) এসএম আশিকুজ্জামান বলেন, নাব্যতার বিষয়টি আমরা জেনেছি। ফেরি পাঠানোর বিষয়ে এখনই কিছু বলতে পারছি না। চিলমারীর ফেরি দুটি ডকিং শেষ হলে ফেরি যাবে কিনা সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারবো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%