১০:০৩ পি.এম
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রত্যাশিত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সাথে সম্পৃক্ত ধোঁয়াশা এবং অনিশ্চয়তার মধ্যেই কর্মচারীদের জন্য একটি বড় সুখবরের ইঙ্গিত উঠে এসেছে।
আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার জন্য একটি প্রাথমিক রূপরেখা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
জানা গেছে, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়: ববি হাজ্জাজ
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি, ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং ঋণের সুদ পরিশোধের বেড়ে চলা চাপ সরকারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চাপের মধ্যেও সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়িয়ে নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ আংশিক বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে আগামী বাজেটের আকারও বড় হচ্ছে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতনের একটি বড় অংশ বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা সম্ভাব্যভাবে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। দ্বিতীয় ধাপে, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি মূল বেতন সমন্বয় করা হবে। তারপর তৃতীয় ও শেষ ধাপে, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ অন্যান্য সকল ধরনের ভাতা নতুন কাঠামোর আওতায় এনে পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্পন্ন করা হবে।
নতুন পে-স্কেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, বর্তমানের ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই বেতন বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা। প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান বর্তমানে ১:৯.৪ থাকলেও তা কমিয়ে ১:৮-এ নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছে।
এ পরিকল্পনায় ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন বর্তমানের ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে ১ম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া গ্রেড ভেদে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলেও জানা গেছে।
আরও পড়ুন: বিএনপির শোভাযাত্রা উপলক্ষে নয়াপল্টনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
বিশেষভাবে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য নতুন করে যাতায়াত ভাতা চালুর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীরা অতিরিক্ত সুবিধা পাবেন বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
নতুন পে-স্কেলের সুবিধা শুধু কর্মরত চাকরিজীবীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, দেশের প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীকেও এর আওতায় আনা হবে। এর ফলে বিশেষ করে স্বল্প পেনশনপ্রাপ্ত প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হতে পারে বলে ধরে নেয়া হচ্ছে।
এদিকে, বর্তমানে চালু থাকা ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করা হবে, তা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ের একটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি কাজ করছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে মহার্ঘ ভাতাকে নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানা গেছে।
আরও পড়ুন: ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সিপাহী-জনতার প্রতিরোধই আসল বিপ্লব: রাশেদ খান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন