বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৫৬ পি.এম
মুম্বাইয়ে পার্কিং সংক্রান্ত একটি কথা-কাটাকাটির কারণে শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন ‘পান্ডিয়া স্টোর’ খ্যাত অভিনেত্রী সিমরান বুধারূপ। এক ব্যক্তি তার উপর আক্রমণ চালিয়ে মোবাইল ফোন ছুড়ে মারলেও, পুলিশ অভিযোগ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় ফোনটি ভাঙেনি এমন অজুহাতে। সম্প্রতি, এই নির্মম অভিজ্ঞতার ভিডিও তিনি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সিমরান জানান, পানি পুরির পার্সেল নিতে তিনি একটি ভবনের গেটের সামনে গাড়ি রেখে অপেক্ষা করছিলেন। তিনি নিরাপত্তাকর্মীকে জানান যে, যদি গাড়ি সরানোর প্রয়োজন হয়, তাহলে তিনি তা সরিয়ে নেবেন। কিন্তু ওই দারোয়ান তার সঙ্গে অশালীন আচরণ শুরু করেন। প্রতিবাদ জানালে, সেখানে উপস্থিত আরেক ব্যক্তি এসে তার গায়ে হাত তোলেন এবং তার হাত থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেন।
ভিডিও বার্তায় সিমরান জানান, হেনস্থার পর তিনি দ্রুত পুলিশকে অবহিত করেন, কিন্তু তারা কোনো মামলা বা অভিযোগ গ্রহণ করেনি। তাদের যুক্তি ছিল, যেহেতু মোবাইল ভেঙে যায়নি বা বড় কোনো ক্ষতি হয়নি, তাই অভিযোগের প্রয়োজন নেই। পুলিশের এমন মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে সিমরান বলেন, মূল বিষয় ক্ষতি নয়, বরং কোনো পুরুষের একজন নারীর গায়ে হাত তোলার অধিকার নেই।
এই ঘটনার পর অক্ষয় খারোদিয়া ও নিয়তি ফাতনানির মতো তারকারা সোশ্যাল মিডিয়ায় মুম্বাই পুলিশ ও মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্রকে ট্যাগ করে দোষীর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
একটি ভিডিওতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সিমরান সকল নারীদের এমন পরিস্থিতিতে ভয় না পেয়ে শক্ত হয়ে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘কারও আপনাকে ভয় দেখানোর বা অসহায় বোধ করানোর অধিকার নেই। নিজেকে ও নিজের সম্মান রক্ষা করার সম্পূর্ণ অধিকার আপনার রয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতীয় সিনেমার গুণী অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা নানা পাটেকার মারা গেছেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি গোয়ার নিজ বাসভবনে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স ছিল ৭৫ বছর মৃত্যুর সময়।
তার মৃত্যুর চার দিন আগে গোয়ায় অনুষ্ঠিত একটি আয়োজনে দেওয়া বক্তব্য নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সেদিন তিনি বলেছিলেন, ‘আগামীকাল আমি থাকব কি না জানি না।’
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে ওই বক্তব্য ভক্তদের মনে নতুন করে নাড়া দিচ্ছে।
গত রবিবার (৪ অক্টোবর) পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত প্রবীণ অভিনেতা বিশ্বনাথ ‘নানা’ পাটেকার গোয়ার ডোনা পাওলাভিত্তিক ‘তাজ সিদাদে দে গোয়া’ হোটেলে ‘সাম্রাট ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এটি ছিল তার জীবনের শেষ প্রকাশ্য অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য রাজশ্রী এ. খান্ডেপারকরের হাতে স্টেট প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়। নতুন পরিচালনা কমিটির অন্যান্য পর্ষদ সদস্যবৃন্দও আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে সাদা কুর্তা ও সাদা গামছা পরিহিত নানা পাটেকার তার বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি গোয়ার প্রয়াত সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মনোহর পারিকরকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে তার কাজের কৌশল ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার প্রশংসা করেন।
মারাঠিতে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমাদের সবাইকেই একদিন চলে যেতে হবে। আমি জানি না আগামীকাল আমি এখানে থাকব কি না। প্রত্যেক মানুষের জীবন একদিন না একদিন সেই জায়গায় পৌঁছাবে। তবে তার আগে নিজেকে একটি প্রশ্ন করা দরকার—আমি কি সত্যিই যা করতে চাই, তা করতে পারছি?’
বৃহস্পতিবার ভোরে নিজের গোয়ার বাসভবনে গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত হন নানা পাটেকার। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা প্রাণপণে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন।
মণিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. শেখর সালকার জানান, প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে টানা সিপিআর দেওয়ার পরও নানা পাটেকারকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
সূত্র : এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনালের পাশে একটি এসি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে, আগুনের সূত্রপাত কিভাবে হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
আগুন লাগার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিটের প্রচেষ্টায় দ্রুত সময়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম এ বিষয়ে তথ্য প্রদান করেছেন।
তিনি জানান, মহাখালী বাস টার্মিনালের পাশে প্রাইম পরিবহনের একটি এসি বাসে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নির্বাপণ করে।
এখন পর্যন্ত হতাহত বা অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা কেনার সীমা বাংলাদেশ ব্যাংক বৃদ্ধি করেছে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারদের মাধ্যমে এখন থেকে ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটার বিপরীতে একবারে সর্বোচ্চ ৩ হাজার মার্কিন ডলার সমপরিমাণ মার্কিন মুদ্রার নোট ও কয়েন কেনা সম্ভব। পূর্বে এই সীমা ছিল ২ হাজার মার্কিন ডলার।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-২ (এফইপিডি-২) থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়।
সার্কুলারে দেশের সকল লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জার ও বৈদেশিক মুদ্রায় অনুমোদিত ডিলারদের জন্য এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর জারি করা এফই সার্কুলার নম্বর-৩১ অনুযায়ী, লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারগুলো বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের বার্ষিক ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটার বিপরীতে সর্বোচ্চ ২ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার নোট ও কয়েন বিক্রি করতে পারত।
কিন্তু বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জার এখন একবারে সর্বোচ্চ ৩ হাজার মার্কিন ডলারের নোট ও কয়েন বিক্রি করতে পারবে।
তবে যদি কারও প্রযোজ্য বার্ষিক ভ্রমণ কোটার পরিমাণ ৩ হাজার ডলারের বেশি হয়, তাহলে পুরো অর্থই মার্কিন ডলারে নেওয়া যাবে—এমনটি নয়। ৩ হাজার ডলারের পর অবশিষ্ট ভ্রমণ কোটার অর্থ অন্যান্য অবাধে রূপান্তরযোগ্য বা ব্যবহারযোগ্য মুদ্রার নোট ও কয়েন আকারে বিক্রি করা যাবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের অবশিষ্ট ভ্রমণ কোটার প্রাপ্যতা থাকতে হবে।
অর্থাৎ, নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একবারে মার্কিন ডলার কেনার সীমা ২ হাজার থেকে ৩ হাজার ডলার করা হয়েছে। এর বাইরেও ব্যক্তিগত ভ্রমণ কোটার অন্যান্য প্রযোজ্য বিধান বহাল থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলারে স্পষ্ট করে বলেছে, লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারদের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে প্রযোজ্য অন্যান্য বিধান অপরিবর্তিত থাকবে। ফলে একবারে মার্কিন ডলার বিক্রির সীমা বৃদ্ধি পেলেও ভ্রমণ কোটাসংক্রান্ত অন্যান্য নিয়ম ও শর্ত আগের মতোই কার্যকর থাকবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের সকল লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জারকে সার্কুলারের বিষয়বস্তু তাদের সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, আগামী ১২ ডিসেম্বরের আগে ভারতের সঙ্গে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই চুক্তির মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হবে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) সেমিনারের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক চুক্তিটি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা নদীর পানি বণ্টনের জন্য। এই চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর, যা আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হবে।
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানান, নতুন চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফিরিয়ে আনা বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে গ্যারান্টি ক্লজসহ নতুন চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশ জোর দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায় প্রথম পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি হয়েছিল, যেখানে গ্যারান্টি ক্লজ ছিল। কিন্তু ১৯৯৬ সালে সেই গ্যারান্টি ক্লজ বাদ রেখেই চুক্তিটি নবায়ন বা নতুন চুক্তি করা হয়।’
মন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে ১২ ডিসেম্বরের আগেই আমাদের নতুন চুক্তি করতে হবে। সেই অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ভারত—উভয় পক্ষই যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বৈঠকের ভিত্তিতে আমরা আশাবাদী, ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বরের আগেই চুক্তি সম্পন্ন হবে। সেখানে আমাদের মূল অগ্রাধিকার থাকবে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো গ্যারান্টি ক্লজ ফিরিয়ে আনা।’
গঙ্গার চুক্তি নবায়ন হচ্ছে, নাকি আগের গ্যারান্টি ক্লজ ফিরিয়ে এনে নতুনভাবে চুক্তি করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সেমিনারে এই আলোচনার ওপরই জোর দিয়েছি। সবাই একমত যে নতুনভাবে চুক্তি করে যেন আরো দীর্ঘ মেয়াদে গ্যারান্টি ক্লজসহ আমরা এগোতে পারি। আমাদের সরকারের নীতি হলো দেশের মানুষের ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই চুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া।’
তিস্তা মহাপরিকল্পনার প্রসঙ্গে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিস্তা একটি খরস্রোতা নদী। ভারত থেকে উজানের পানি যেভাবে ভাটি এলাকায় আসে, দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলের মানুষ এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে জীবনধারণ করছে।
তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে প্রচুর সেমিনার হয়েছে এবং হচ্ছে। বুয়েটের বিশেষজ্ঞ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা ও বৈঠক করা হয়েছে এবং তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশি-বিদেশি অনেক বিশেষজ্ঞের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তাদের কারিগরি সহায়তা বা টেকনিক্যাল সাপোর্ট নেওয়া বাংলাদেশের জন্য খুবই প্রয়োজন।
মন্ত্রী বলেন, ‘শিগগিরই এর ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ হাতে নিতে হবে। স্টাডির ভিত্তিতেই আমরা প্রকল্পের কাজ শুরু করব। আমরা আশা করছি, এটি সম্পূর্ণ করতে কিছুটা সময় লাগবে। ২০২৭ সালের মধ্যে সব শেষ করে যেন ২০২৭ সালেই মূল কাজ শুরু করা যায়, সেদিকে আমাদের বিশেষ নজর রয়েছে।’
তিস্তার ফিজিবিলিটি স্টাডি নতুন করে করা হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা ব্যারেজের স্টাডি সম্পন্ন করতেই ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লেগেছিল। পরবর্তীতে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে তা চূড়ান্ত করে কাজ হাতে নিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘তিস্তার মতো মেগা প্রজেক্টের স্টাডি রাতারাতি বা এক-দুই মাসে সম্ভব নয়। অতীতে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা পর্যাপ্ত টেকনিক্যাল সাপোর্ট নিয়ে কাজ শেষ করেননি। তাই আমাদের সরকার নিজ উদ্যোগেই এই কাজ সম্পন্ন করে প্রকল্পটিকে দৃশ্যমান রূপ দেবে।’
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রজেক্ট। এগুলোকে বাংলাদেশের জন্য ‘মাস্টারমাইন্ড প্রজেক্ট’ বলা যায়। এসব প্রকল্পের সুফল বাংলাদেশের মোট অঞ্চলের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ, অর্থাৎ প্রায় সাত কোটি মানুষ পাবে।
তিনি বলেন, বর্ষার সময় কী পরিস্থিতি হয় এবং শুষ্ক মৌসুমে কী পরিবেশ তৈরি হয়, তা সবাই জানেন। এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে হলে মেগা প্রজেক্ট ও কঠিন পদক্ষেপ নিয়ে এগোতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জই সরকার হাতে নিয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ‘পদ্মা ব্যারেজের কাজ দৃশ্যমান করার জন্য ইতিমধ্যে একনেকে পাস হয়েছে। আমরা আশা করছি আগামী জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের যেকোনো এক সময়ে কাজ দৃশ্যমানভাবে শুরু হবে। ইতিমধ্যে আমরা সাইট ভিজিটও করেছি।’
দেশের মানুষের স্বার্থই সবচেয়ে বড় চাপ
পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা প্রকল্পে বহির্বিশ্বের কোনো চাপ বা প্রতিবন্ধকতা অনুভব করছেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা ও তিস্তার পাড়ে যারা বাস করেন, তাঁরা আমাদের দেশেরই মানুষ। আমার দেশের মানুষের স্বার্থ ও চাপই আমার কাছে সবচেয়ে বড় চাপ। সেই চাপকে ধারণ করে দেশের মানুষের কল্যাণ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
১২ ডিসেম্বরের আগে মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক হবে কি না—জানতে চাইলে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘জেআরসির কারিগরি টিম ইতিমধ্যে কাজ করছে। তাদের কাজ শেষ হলেই মন্ত্রী পর্যায়ে বাকি কাজ সম্পন্ন হবে।’
এর আগে নিজের সরকারের দায়িত্ব নেওয়া ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তো মাঠের লোক। রাজপথে আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি। ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের পর জনগণের একটি ম্যান্ডেট নিয়েই আজ দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ। একটি ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়েই আমাদের এই যাত্রা শুরু হয়েছে। চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে আপনারা সবাই অবহিত আছেন। খুব সহজভাবে আমাদের এখানে আসা হয়নি। অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে—শ্রম, অত্যাচার, নির্যাতন, গুম, খুন সবকিছুই এর সঙ্গে জড়িত।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আজ দায়িত্ব নিয়েছি আমরা প্রায় ছয়-সাত মাস হচ্ছে। এর মধ্যে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান অনেকগুলো কাজের হাত দিয়েছেন, যা দৃশ্যমান এবং আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ