ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশ ১২ ডিসেম্বরের আগে গঙ্গা চুক্তি সম্পন্ন করতে চায়


বাংলাদেশ ১২ ডিসেম্বরের আগে গঙ্গা চুক্তি সম্পন্ন করতে চায়

পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, আগামী ১২ ডিসেম্বরের আগে ভারতের সঙ্গে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই চুক্তির মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হবে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) সেমিনারের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক চুক্তিটি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা নদীর পানি বণ্টনের জন্য। এই চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর, যা আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হবে।

আরও পড়ুন: ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি, তীব্র বিক্ষোভ ও সহিংসতার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানান, নতুন চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফিরিয়ে আনা বাংলাদেশের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে গ্যারান্টি ক্লজসহ নতুন চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশ জোর দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায় প্রথম পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি হয়েছিল, যেখানে গ্যারান্টি ক্লজ ছিল। কিন্তু ১৯৯৬ সালে সেই গ্যারান্টি ক্লজ বাদ রেখেই চুক্তিটি নবায়ন বা নতুন চুক্তি করা হয়।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে ১২ ডিসেম্বরের আগেই আমাদের নতুন চুক্তি করতে হবে। সেই অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ভারত—উভয় পক্ষই যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বৈঠকের ভিত্তিতে আমরা আশাবাদী, ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বরের আগেই চুক্তি সম্পন্ন হবে। সেখানে আমাদের মূল অগ্রাধিকার থাকবে ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো গ্যারান্টি ক্লজ ফিরিয়ে আনা।’

গঙ্গার চুক্তি নবায়ন হচ্ছে, নাকি আগের গ্যারান্টি ক্লজ ফিরিয়ে এনে নতুনভাবে চুক্তি করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সেমিনারে এই আলোচনার ওপরই জোর দিয়েছি। সবাই একমত যে নতুনভাবে চুক্তি করে যেন আরো দীর্ঘ মেয়াদে গ্যারান্টি ক্লজসহ আমরা এগোতে পারি। আমাদের সরকারের নীতি হলো দেশের মানুষের ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই চুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া।’

তিস্তা মহাপরিকল্পনার প্রসঙ্গে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিস্তা একটি খরস্রোতা নদী। ভারত থেকে উজানের পানি যেভাবে ভাটি এলাকায় আসে, দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলের মানুষ এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে জীবনধারণ করছে।

আরও পড়ুন: ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগারওয়ালা বনানী থেকে গ্রেফতার

তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে প্রচুর সেমিনার হয়েছে এবং হচ্ছে। বুয়েটের বিশেষজ্ঞ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা ও বৈঠক করা হয়েছে এবং তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশি-বিদেশি অনেক বিশেষজ্ঞের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তাদের কারিগরি সহায়তা বা টেকনিক্যাল সাপোর্ট নেওয়া বাংলাদেশের জন্য খুবই প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, ‘শিগগিরই এর ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ হাতে নিতে হবে। স্টাডির ভিত্তিতেই আমরা প্রকল্পের কাজ শুরু করব। আমরা আশা করছি, এটি সম্পূর্ণ করতে কিছুটা সময় লাগবে। ২০২৭ সালের মধ্যে সব শেষ করে যেন ২০২৭ সালেই মূল কাজ শুরু করা যায়, সেদিকে আমাদের বিশেষ নজর রয়েছে।’

তিস্তার ফিজিবিলিটি স্টাডি নতুন করে করা হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা ব্যারেজের স্টাডি সম্পন্ন করতেই ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লেগেছিল। পরবর্তীতে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে তা চূড়ান্ত করে কাজ হাতে নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘তিস্তার মতো মেগা প্রজেক্টের স্টাডি রাতারাতি বা এক-দুই মাসে সম্ভব নয়। অতীতে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা পর্যাপ্ত টেকনিক্যাল সাপোর্ট নিয়ে কাজ শেষ করেননি। তাই আমাদের সরকার নিজ উদ্যোগেই এই কাজ সম্পন্ন করে প্রকল্পটিকে দৃশ্যমান রূপ দেবে।’

আরও পড়ুন: অপরাধীরা যত ক্ষমতাবানই হোক, ছাড় পাবে না: আইজিপি

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রজেক্ট। এগুলোকে বাংলাদেশের জন্য ‘মাস্টারমাইন্ড প্রজেক্ট’ বলা যায়। এসব প্রকল্পের সুফল বাংলাদেশের মোট অঞ্চলের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ, অর্থাৎ প্রায় সাত কোটি মানুষ পাবে।

তিনি বলেন, বর্ষার সময় কী পরিস্থিতি হয় এবং শুষ্ক মৌসুমে কী পরিবেশ তৈরি হয়, তা সবাই জানেন। এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে হলে মেগা প্রজেক্ট ও কঠিন পদক্ষেপ নিয়ে এগোতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জই সরকার হাতে নিয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ‘পদ্মা ব্যারেজের কাজ দৃশ্যমান করার জন্য ইতিমধ্যে একনেকে পাস হয়েছে। আমরা আশা করছি আগামী জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চের যেকোনো এক সময়ে কাজ দৃশ্যমানভাবে শুরু হবে। ইতিমধ্যে আমরা সাইট ভিজিটও করেছি।’

দেশের মানুষের স্বার্থই সবচেয়ে বড় চাপ

আরও পড়ুন: শামা ওবায়েদ: বিএনপি সরকারের আমলে সব ধর্মের মানুষ সমঅধিকার পায়

পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা প্রকল্পে বহির্বিশ্বের কোনো চাপ বা প্রতিবন্ধকতা অনুভব করছেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা ও তিস্তার পাড়ে যারা বাস করেন, তাঁরা আমাদের দেশেরই মানুষ। আমার দেশের মানুষের স্বার্থ ও চাপই আমার কাছে সবচেয়ে বড় চাপ। সেই চাপকে ধারণ করে দেশের মানুষের কল্যাণ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

১২ ডিসেম্বরের আগে মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক হবে কি না—জানতে চাইলে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘জেআরসির কারিগরি টিম ইতিমধ্যে কাজ করছে। তাদের কাজ শেষ হলেই মন্ত্রী পর্যায়ে বাকি কাজ সম্পন্ন হবে।’

এর আগে নিজের সরকারের দায়িত্ব নেওয়া ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তো মাঠের লোক। রাজপথে আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি। ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের পর জনগণের একটি ম্যান্ডেট নিয়েই আজ দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ। একটি ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়েই আমাদের এই যাত্রা শুরু হয়েছে। চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে আপনারা সবাই অবহিত আছেন। খুব সহজভাবে আমাদের এখানে আসা হয়নি। অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে—শ্রম, অত্যাচার, নির্যাতন, গুম, খুন সবকিছুই এর সঙ্গে জড়িত।’

আরও পড়ুন: রিজভী: দীর্ঘ আন্দোলনে অবদান রাখা নারীরাই ঢাকা-২৩ আসনে মনোনয়ন পাবেন

মন্ত্রী বলেন, ‘আজ দায়িত্ব নিয়েছি আমরা প্রায় ছয়-সাত মাস হচ্ছে। এর মধ্যে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান অনেকগুলো কাজের হাত দিয়েছেন, যা দৃশ্যমান এবং আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝালকাঠিতে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবি জানালো খতমে নবুওয়ত কমিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৯ পি.এম


ঝালকাঠিতে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবি জানালো খতমে নবুওয়ত কমিটি

বাংলাদেশ খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ কমিটি, ঝালকাঠি জেলা শাখা, কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করার দাবি তুলেছে এবং এ বিষয়ে সংসদে আইন করার আহ্বান জানিয়েছে।

ঝালকাঠি প্রেসক্লাবে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় সংগঠনটির নেতারা সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন ‘নবীর পরে নবী নাই, সংসদে আইন চাই’ স্লোগানকে সামনে রেখে করা হয়।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইসলামের মৌলিক আকিদা অনুযায়ী, হজরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বশেষ নবী এবং তাঁর পরে আর কোনো নবী আসবেন না। কিন্তু কাদিয়ানী মতবাদ নবুওয়তের বিষয়ে ভিন্ন বিশ্বাস পোষণ করে। এই কারণে কাদিয়ানীদের ইসলামের মূল আকিদাবিরোধী একটি পৃথক ধর্মীয় সম্প্রদায় হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, কাদিয়ানীদের মুসলমান হিসেবে পরিচয় দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে তাদের ধর্মীয় পরিচয় সরকারি নথিতে পৃথকভাবে উল্লেখ করতে হবে, যেমন জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, বিবাহ ও তালাক। তাদের উপাসনালয়কে মসজিদ হিসেবে ব্যবহার করতে না দেওয়া, মুসলমানদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তাদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা এবং মুসলিম কবরস্থানে তাদের দাফন না দেওয়ার কথাও জানানো হয়। মুসলমানদের সঙ্গে তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক বৈধ হবে না বলেও উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া কাদিয়ানীদের পবিত্র মক্কায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অন্যান্য মুসলিম দেশেও কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকারকেও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ কমিটি ঝালকাঠি জেলা শাখার সভাপতি মুফতি আবদুল গাফফার খান, গালুয়া পীর মাওলানা আবদুর রহিম, কারীমপুর পীর মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ ফয়েজী, জেলা সেক্রেটারি মুফতি আইয়ুব খান, মাওলানা রাকিবুল ইসলাম আশেকী, হাফেজ মাহবুবুর রহমান এবং মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পোল্যান্ডের স্কুলে হামলায় নিহত ১, প্রধান শিক্ষকসহ আহত ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৯ পি.এম


পোল্যান্ডের স্কুলে হামলায় নিহত ১, প্রধান শিক্ষকসহ আহত ২

পোল্যান্ডের একটি স্কুলে ১৫ বছর বয়সী সাবেক এক শিক্ষার্থীর হামলার ফলে একজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন। দেশটির পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে, যেখানে প্রধান শিক্ষকসহ তিনজন আহত হন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার একদিন আগে, বুধবার, পোল্যান্ডের আরেকটি স্কুলে ছুরিকাঘাতে ১০ জন আহত হন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে ওয়ারশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভিশকুভ কাউন্টির লেশচিদোল-নোভিনি এলাকার স্কুলে ওই কিশোর ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে। সেখানে তিনজন কর্মী আহত হন, যাদের মধ্যে স্কুলটির প্রধান শিক্ষকও রয়েছেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ১৫ বছর বয়সী কিশোরটিকে আটক করে। পরে জানা যায়, আহত ৩৭ বছর বয়সী এক স্কুলকর্মীকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এদিকে, পোল্যান্ডের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারচিন কিয়েরভিনস্কি জানিয়েছেন, মধ্যাঞ্চলের সিরেপক শহরে একটি পৃথক ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করা হয়েছে। তার ব্যাগ থেকে দুটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।

এর আগে, বুধবার, উত্তর-পূর্ব পোল্যান্ডের অস্ট্রোলেঙ্কার একটি স্কুলে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় ১০ জন আহত হন। পুলিশ ওই ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী এক সন্দেহভাজনকে আটক করে, যিনি আহতদের মধ্যে একজন ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝিনাইদহ কেসি কলেজে ছাত্রদল-শিবিরের উত্তেজনা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০০ পি.এম


ঝিনাইদহ কেসি কলেজে ছাত্রদল-শিবিরের উত্তেজনা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মন্তব্যের কারণে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় ঝিনাইদহ সরকারি কেশব চন্দ্র (কেসি) কলেজে সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সভা-সমাবেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বৃহস্পতিবার সকালে শ্রেণি কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়।

কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরের পূর্বনির্ধারিত ‘নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ কর্মসূচি বাতিল হওয়ায় ছাত্রশিবির বাধ্য হয়ে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে ট্রাকের ওপর ভ্রাম্যমাণ মঞ্চ তৈরি করে বিকল্প উপায়ে প্রতীকী নবীনবরণ ও প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেসবুকে পারস্পরিক মন্তব্যের জেরে গত কয়েকদিন ধরে কেসি কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে পরিণত হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় কলেজ কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে।

সকালে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে আসা শিক্ষার্থীরা কলেজে প্রবেশ করতে না পেরে ফিরে যাওয়ার উপক্রম হলে শিবিরের নেতাকর্মীরা তালাবদ্ধ প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন। পুলিশের উপস্থিতিতে সড়কে একটি ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে সেখানেই প্রতিবাদ সমাবেশ ও নবীনবরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

উন্মুক্ত রাস্তার ওই প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর। সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আউয়াল এবং সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান।

সমাবেশে সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কলেজ প্রশাসন ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে আচরণ করছে। লিখিতভাবে নবীনবরণের অনুমোদন দেওয়ার পরও অনুষ্ঠানের দিন সকালে পুরো ক্যাম্পাস বন্ধ করে মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অন্যায় সিদ্ধান্ত ও ফ্যাসিবাদী আচরণের জবাব ঝিনাইদহের সাধারণ মানুষই দেবে। প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপালকে এই সিদ্ধান্ত ও বিশৃঙ্খলার দায় নিয়ে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।"

সড়কের ওপর প্রতিবাদ সমাবেশ শেষ করার পর ঝিনাইদহ শহরের একটি স্থানীয় কমিউনিটি সেন্টারে শিক্ষার্থীদের মূল অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে কেসি কলেজ শাখা ছাত্রশিবির। সেখানে নবীন শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুর রহমান।

এদিকে লিখিত অনুমতি দিয়েও হঠাৎ সকালে কেসি কলেজের প্রধান ফটকে তালা ঝোলানো, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অবরুদ্ধ করা এবং প্রশাসনিক এই কঠোর অবস্থানের বিষয়ে জানতে কলেজের অধ্যক্ষ (প্রিন্সিপাল) ড. মাসরুর উল আলমের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘কাল আসব, ওই লাইনটা ডাবিং করব’—নানা পাটেকারের শেষ কথা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০০ পি.এম


‘কাল আসব, ওই লাইনটা ডাবিং করব’—নানা পাটেকারের শেষ কথা

মৃত্যুর দুদিন আগে অভিনেতা নানা পাটেকার ছবির কাজের প্রতি অত্যন্ত ব্যস্ত ছিলেন। আসন্ন ছবি ‘দ্য কনফেশন অব মেরি’-র ডাবিংয়ের জন্য একটি লাইন তখনও বাকি ছিল। সেই কাজ সম্পন্ন করার জন্য তিনি পরদিন মুম্বাই আসবেন বলে প্রযোজককে জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেটিই ছিল তাঁর শেষ কথাগুলোর একটি।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ছবিটির সহ-প্রযোজক সুভাষ কালের সঙ্গে নানা পাটেকারের মৃত্যুর দুদিন আগে কথা হয়েছিল। সেই সময় অভিনেতা জানান, তিনি মুম্বাই আসছেন এবং পরদিন ডাবিংয়ের বাকি থাকা একটি লাইন রেকর্ড করবেন।

সুভাষ কালে বলেন, নানা তাঁকে বলেছিলেন, ‘আমি বম্বে আসছি। কাল আসব, ওই একটা লাইন করে দেব।’ এছাড়াও, মুম্বাইয়ে তাঁর আরও একটি শুটিংয়ের কাজ ছিল।

ছবির কাজের সূত্রে নানা পাটেকার ও সুভাষ কালের মধ্যে দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল। কাজের পরিবেশ ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ। স্টুডিওতে কাজের ফাঁকে নানা মজা করতেন এবং গান গাইতেন বলেও জানিয়েছেন কালে। তাই মৃত্যুর মাত্র দুদিন আগে কাজ শেষ করার পরিকল্পনার সেই কথোপকথন এখন আরো আবেগঘন হয়ে উঠেছে।

‘দ্য কনফেশন অব মেরি’ ছবির ডাবিং প্রায় শেষ হয়ে গেলেও একটি মাত্র লাইন বাকি ছিল। সেই লাইনটি নিজের কণ্ঠে রেকর্ড করার পরিকল্পনা করেছিলেন নানা। কিন্তু পরদিন আর স্টুডিওতে ফিরে আসা সম্ভব হয়নি তাঁর।

উল্লেখ্য, ৮ অক্টোবর গোয়ায় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে নানা পাটেকার মারা যান। তাঁর বয়স ছিল ৭৫ বছর। গোয়ার ডোনা পাউলা এলাকায় তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। পরে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

নানা পাটেকার ছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত অভিনেতা। তিনি অভিনয়ের জন্য তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে বলিউডসহ বিভিন্ন অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মৃত্যুর আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকা নানা পাটেকারের সেই কথাই এখন ফিরে আসছে—‘কাল আসব, ওই লাইনটা ডাবিং করব।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%