বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:০০ পি.এম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মন্তব্যের কারণে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় ঝিনাইদহ সরকারি কেশব চন্দ্র (কেসি) কলেজে সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সভা-সমাবেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বৃহস্পতিবার সকালে শ্রেণি কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়।
কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরের পূর্বনির্ধারিত ‘নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন’ কর্মসূচি বাতিল হওয়ায় ছাত্রশিবির বাধ্য হয়ে কলেজের প্রধান ফটকের সামনে ট্রাকের ওপর ভ্রাম্যমাণ মঞ্চ তৈরি করে বিকল্প উপায়ে প্রতীকী নবীনবরণ ও প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেসবুকে পারস্পরিক মন্তব্যের জেরে গত কয়েকদিন ধরে কেসি কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে পরিণত হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় কলেজ কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে।
সকালে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে আসা শিক্ষার্থীরা কলেজে প্রবেশ করতে না পেরে ফিরে যাওয়ার উপক্রম হলে শিবিরের নেতাকর্মীরা তালাবদ্ধ প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন। পুলিশের উপস্থিতিতে সড়কে একটি ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে সেখানেই প্রতিবাদ সমাবেশ ও নবীনবরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
উন্মুক্ত রাস্তার ওই প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর। সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আউয়াল এবং সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান।
সমাবেশে সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কলেজ প্রশাসন ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে আচরণ করছে। লিখিতভাবে নবীনবরণের অনুমোদন দেওয়ার পরও অনুষ্ঠানের দিন সকালে পুরো ক্যাম্পাস বন্ধ করে মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অন্যায় সিদ্ধান্ত ও ফ্যাসিবাদী আচরণের জবাব ঝিনাইদহের সাধারণ মানুষই দেবে। প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপালকে এই সিদ্ধান্ত ও বিশৃঙ্খলার দায় নিয়ে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।"
সড়কের ওপর প্রতিবাদ সমাবেশ শেষ করার পর ঝিনাইদহ শহরের একটি স্থানীয় কমিউনিটি সেন্টারে শিক্ষার্থীদের মূল অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে কেসি কলেজ শাখা ছাত্রশিবির। সেখানে নবীন শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুর রহমান।
এদিকে লিখিত অনুমতি দিয়েও হঠাৎ সকালে কেসি কলেজের প্রধান ফটকে তালা ঝোলানো, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অবরুদ্ধ করা এবং প্রশাসনিক এই কঠোর অবস্থানের বিষয়ে জানতে কলেজের অধ্যক্ষ (প্রিন্সিপাল) ড. মাসরুর উল আলমের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৃত্যুর দুদিন আগে অভিনেতা নানা পাটেকার ছবির কাজের প্রতি অত্যন্ত ব্যস্ত ছিলেন। আসন্ন ছবি ‘দ্য কনফেশন অব মেরি’-র ডাবিংয়ের জন্য একটি লাইন তখনও বাকি ছিল। সেই কাজ সম্পন্ন করার জন্য তিনি পরদিন মুম্বাই আসবেন বলে প্রযোজককে জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেটিই ছিল তাঁর শেষ কথাগুলোর একটি।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ছবিটির সহ-প্রযোজক সুভাষ কালের সঙ্গে নানা পাটেকারের মৃত্যুর দুদিন আগে কথা হয়েছিল। সেই সময় অভিনেতা জানান, তিনি মুম্বাই আসছেন এবং পরদিন ডাবিংয়ের বাকি থাকা একটি লাইন রেকর্ড করবেন।
সুভাষ কালে বলেন, নানা তাঁকে বলেছিলেন, ‘আমি বম্বে আসছি। কাল আসব, ওই একটা লাইন করে দেব।’ এছাড়াও, মুম্বাইয়ে তাঁর আরও একটি শুটিংয়ের কাজ ছিল।
ছবির কাজের সূত্রে নানা পাটেকার ও সুভাষ কালের মধ্যে দীর্ঘদিনের পরিচয় ছিল। কাজের পরিবেশ ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ। স্টুডিওতে কাজের ফাঁকে নানা মজা করতেন এবং গান গাইতেন বলেও জানিয়েছেন কালে। তাই মৃত্যুর মাত্র দুদিন আগে কাজ শেষ করার পরিকল্পনার সেই কথোপকথন এখন আরো আবেগঘন হয়ে উঠেছে।
‘দ্য কনফেশন অব মেরি’ ছবির ডাবিং প্রায় শেষ হয়ে গেলেও একটি মাত্র লাইন বাকি ছিল। সেই লাইনটি নিজের কণ্ঠে রেকর্ড করার পরিকল্পনা করেছিলেন নানা। কিন্তু পরদিন আর স্টুডিওতে ফিরে আসা সম্ভব হয়নি তাঁর।
উল্লেখ্য, ৮ অক্টোবর গোয়ায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে নানা পাটেকার মারা যান। তাঁর বয়স ছিল ৭৫ বছর। গোয়ার ডোনা পাউলা এলাকায় তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। পরে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
নানা পাটেকার ছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত অভিনেতা। তিনি অভিনয়ের জন্য তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে বলিউডসহ বিভিন্ন অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃত্যুর আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকা নানা পাটেকারের সেই কথাই এখন ফিরে আসছে—‘কাল আসব, ওই লাইনটা ডাবিং করব।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স বিথী আক্তার (২৫) মারা গেছেন। তিনি দীর্ঘ ৪ মাস শারীরিক বিভিন্ন জটিলতার সঙ্গে লড়াই করার পর বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার স্বামী মোঃ রাকিবুল ইসলাম। বিথী আক্তার রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজ উদ্দিন মৃধার পাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী।
পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথী আক্তারের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দের মাধ্যমে ওই অস্ত্রোপচারের সময় তার পেটের ভেতরে গজ রেখে সেলাই করা হয়। এরপর থেকেই বিথী শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন। তীব্র ব্যথা ও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রায় দুই মাস পর তাকে আবারও বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করাতে হয়।
পরে পেটের নারিতে গুরুতর জটিলতা দেখা দিলে তাকে আইসিইউতে চিকিৎসা নিতে হয়। এ সময় পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, বাইপাস সার্জারিসহ একাধিক জটিল চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বিথীর শারীরিক অবস্থার ব্যাপক অবনতি ঘটে। তার ওজন এক সময় ৬১ কেজি ছিল, যা অসুস্থতার কারণে কমে দাঁড়ায় মাত্র ৩৮ কেজিতে। এদিকে, সন্তান জন্মের পর বিথী দীর্ঘ ৪ মাস নিজের নবজাতক সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা দুধ খাওয়ানোর মতো অবস্থায় ছিলেন না। ফলে তার ছোট্ট সন্তান মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিথী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল হুদা বলেন, ‘বিথীর মৃত্যুর খবরটি শুনেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন ও আমি বিথীর বাড়িতে গিয়ে তার সন্তানকে দুইবার দেখে এসেছি। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।’
পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই বিথীর পেটে গজ রয়ে যায়। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘মেশিন ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজিস ((এমআইইটি) ২০২৬’ শীর্ষক ৩য় আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ) নোবিপ্রবি বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে দুই দিনব্যাপী আয়োজিত আন্তর্জাতিক এ কনফারেন্সে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কারণে আমাদের সামনে যেমন বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, তেমনি নতুন নতুন চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি হচ্ছে। তাই শুধু প্রচলিত শিল্পের ওপর নির্ভর না করে আমাদের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যেতে হবে। সেমিকন্ডাক্টরসহ উচ্চপ্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশে কাজ করার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। জাতীয় ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ এক হাজারের বেশি উদ্ভাবন এসেছে। এসব উদ্ভাবনকে গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে বাস্তবমুখী পণ্যে রূপান্তর এবং বাজারজাত করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের স্থানীয় সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে প্রযুক্তির মাধ্যমে সেগুলোর সমাধান বের করতে হবে। এক্ষেত্রে ফান্ডিং অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো উদ্যোগের অভাব। আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারলে বেসরকারি খাত ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়া সম্ভব। এ সময় ইনোভেশন ফেয়ারে উপস্থাপিত গবেষণাপত্র ও উদ্ভাবনগুলোর সারসংক্ষেপ করে কীভাবে সেগুলো বাজারে নিয়ে আসা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জনান তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, আমরা এমন এক সময়ে বসবাস করছি, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, সাইবার নিরাপত্তা ও রোবোটিকসসহ উদীয়মান প্রযুক্তি মানুষের জীবন ও সমাজব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনছে। তাই গবেষণাকে শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধান এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও সবার জন্য সহজলভ্য। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ভবিষ্যৎ গবেষক, উদ্ভাবক ও প্রযুক্তিবিদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। উপাচার্য আরও বলেন, এবারের সম্মেলনে প্রায় ৫০টি প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা অংশগ্রহণ করছেন এবং গৃহীত গবেষণাপত্রের ২৪ শতাংশে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, যা সম্মেলনের আন্তর্জাতিক পরিসর ও গবেষণা সহযোগিতার সম্ভাবনাকে আরও সুদৃঢ় করেছে। বক্তব্যে গবেষকদের জন্য এ সম্মেলনটিকে একটি চমৎকার প্ল্যাটফর্ম উল্লেখ করে দেশকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পথে এগিয়ে নিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ^বিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগের চেয়ারম্যান ও কনফারেন্সের অর্গানাইজিং চেয়ার মো. ইফতেখারুল আলম ইফাতসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, আমন্ত্রিত অতিথি ও সাংবাদিকবৃন্দ।
কনফারেন্সে কী-নোট স্পিকার ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের বিগ ডেটা অ্যানালাইসিস এন্ড ম্যানেজমেন্ট ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক ড. লতিফুর খান, যুক্তরাষ্ট্রের পারডু ইউনিভার্সিটির এলমোর স্কুল অব ইলেকট্রিক্যাল এন্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং এর অধ্যাপক মুহাম্মদ এম. হুসেইন, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটির নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক শেখ মো. শরিফুল ইসলাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মূরস প্রফেসর ঝু হান। এতে ইনভাইটেড স্পিকার হিসেবে ছিলেন আহসান উল্ল্যাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামিম আখত্রা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরগন ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির ম্যাথমেটিক্স এন্ড কম্পিউটার সায়েন্স ডিভিশনের পোস্ট ডক্টরাল অ্যাপয়েন্টি ড. আহমেদুর রহমান শোভন।
উল্লেখ্য, এবার কনফারেন্সে মোট ৩৩৫ টি পেপারের মধ্যে ৫৪ টি পেপার চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছে। মেশিন লার্নিং, ডেটা সায়েন্স, ইন্টারনেট অফ থিংস, ক্লাউড কম্পিউটিং, সেন্সিং এবং নিরাপত্তার মতো প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে গবেষক, শিক্ষাবিদ, শিল্পখাতের পেশাজীবী এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতবিনিময় ও তাদের অত্যাধুনিক গবেষণালব্ধ ফলাফল তুলে ধরার সুযোগ করে দেওয়াই এই সম্মেলনের লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের গবেষকদের তাদের মৌলিক, অভিনব এবং অপ্রকাশিত গবেষণাপত্র এই সম্মেলনে জমা দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কনফারেন্সে বাংলাদেশ ছাড়াও ইতালী, আমেরিকা, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ, বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক গবেষক তাদের গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। কনফারেন্সের সহযোগী হিসেবে রয়েছে সেন্টার ফর ন্যাচারাল সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ (CNSER), ক্রিয়েটিভ ইনস্টিটিউটস অব ক্যারিয়ার্স, টেকনোলজি এন্ড রিসার্চ (CICTR) এবং স্প্রিংগার।
বার্তা প্রেরক
গিয়াস রনি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় সিরাপ উদ্ধারসহ এক দালাল ও তিন নারীকে আটক করা হয়েছে। গত দুই দিনে এসব অভিযান পরিচালনা করেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৫৮ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, আজ ৮ অক্টোবর ভোরে আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) অধীনস্থ মাটিলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার-৫২/১২-আর থেকে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ‘শ্মশানঘাট’ নামক স্থানে একটি অভিযান পরিচালিত হয়। সুবেদার মো. মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই মাদকবিরোধী অভিযানে আসামিবিহীন অবস্থায় ৯৯ বোতল ভারতীয় সিরাপ (Win Cerex এবং TEXMIN-P Syrup) উদ্ধার করা হয়।
এর আগে, গত ৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে কুসুমপুর বিওপির এলাকাভুক্ত সীমান্ত পিলার-৬১/১৪-আর থেকে প্রায় ৭০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ‘চাপাতলা গ্রামের মোড়’ থেকে তিনজন নারীসহ এক দালালকে আটক করে বিজিবি। হাবিলদার মো. সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে নিয়মিত টহল দল দেখতে পায়, ওই ব্যক্তিরা অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
আটককৃত দালালের নাম মো. ফয়েজ উদ্দিন (২৫)। তিনি মহেশপুর উপজেলার পিপুলবাড়ীয়া গ্রামের সহিদুল ইসলামের ছেলে। আটক হওয়া অন্য তিন নারী বাংলাদেশি নাগরিক।
মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করে জানান, আটককৃত অবৈধ সীমান্ত পারাপারকারী (ধুর) ও দালালকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ