বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:০১ পি.এম
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ‘মেশিন ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজিস ((এমআইইটি) ২০২৬’ শীর্ষক ৩য় আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ) নোবিপ্রবি বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে দুই দিনব্যাপী আয়োজিত আন্তর্জাতিক এ কনফারেন্সে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কারণে আমাদের সামনে যেমন বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, তেমনি নতুন নতুন চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি হচ্ছে। তাই শুধু প্রচলিত শিল্পের ওপর নির্ভর না করে আমাদের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যেতে হবে। সেমিকন্ডাক্টরসহ উচ্চপ্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশে কাজ করার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। জাতীয় ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ এক হাজারের বেশি উদ্ভাবন এসেছে। এসব উদ্ভাবনকে গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে বাস্তবমুখী পণ্যে রূপান্তর এবং বাজারজাত করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের স্থানীয় সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে প্রযুক্তির মাধ্যমে সেগুলোর সমাধান বের করতে হবে। এক্ষেত্রে ফান্ডিং অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো উদ্যোগের অভাব। আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারলে বেসরকারি খাত ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়া সম্ভব। এ সময় ইনোভেশন ফেয়ারে উপস্থাপিত গবেষণাপত্র ও উদ্ভাবনগুলোর সারসংক্ষেপ করে কীভাবে সেগুলো বাজারে নিয়ে আসা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জনান তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, আমরা এমন এক সময়ে বসবাস করছি, যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, সাইবার নিরাপত্তা ও রোবোটিকসসহ উদীয়মান প্রযুক্তি মানুষের জীবন ও সমাজব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনছে। তাই গবেষণাকে শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধান এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও সবার জন্য সহজলভ্য। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ভবিষ্যৎ গবেষক, উদ্ভাবক ও প্রযুক্তিবিদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। উপাচার্য আরও বলেন, এবারের সম্মেলনে প্রায় ৫০টি প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা অংশগ্রহণ করছেন এবং গৃহীত গবেষণাপত্রের ২৪ শতাংশে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, যা সম্মেলনের আন্তর্জাতিক পরিসর ও গবেষণা সহযোগিতার সম্ভাবনাকে আরও সুদৃঢ় করেছে। বক্তব্যে গবেষকদের জন্য এ সম্মেলনটিকে একটি চমৎকার প্ল্যাটফর্ম উল্লেখ করে দেশকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পথে এগিয়ে নিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ^বিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল আলম। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগের চেয়ারম্যান ও কনফারেন্সের অর্গানাইজিং চেয়ার মো. ইফতেখারুল আলম ইফাতসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, আমন্ত্রিত অতিথি ও সাংবাদিকবৃন্দ।
কনফারেন্সে কী-নোট স্পিকার ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের বিগ ডেটা অ্যানালাইসিস এন্ড ম্যানেজমেন্ট ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক ড. লতিফুর খান, যুক্তরাষ্ট্রের পারডু ইউনিভার্সিটির এলমোর স্কুল অব ইলেকট্রিক্যাল এন্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং এর অধ্যাপক মুহাম্মদ এম. হুসেইন, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস টেক ইউনিভার্সিটির নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক শেখ মো. শরিফুল ইসলাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মূরস প্রফেসর ঝু হান। এতে ইনভাইটেড স্পিকার হিসেবে ছিলেন আহসান উল্ল্যাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শামিম আখত্রা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরগন ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির ম্যাথমেটিক্স এন্ড কম্পিউটার সায়েন্স ডিভিশনের পোস্ট ডক্টরাল অ্যাপয়েন্টি ড. আহমেদুর রহমান শোভন।
উল্লেখ্য, এবার কনফারেন্সে মোট ৩৩৫ টি পেপারের মধ্যে ৫৪ টি পেপার চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছে। মেশিন লার্নিং, ডেটা সায়েন্স, ইন্টারনেট অফ থিংস, ক্লাউড কম্পিউটিং, সেন্সিং এবং নিরাপত্তার মতো প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে গবেষক, শিক্ষাবিদ, শিল্পখাতের পেশাজীবী এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতবিনিময় ও তাদের অত্যাধুনিক গবেষণালব্ধ ফলাফল তুলে ধরার সুযোগ করে দেওয়াই এই সম্মেলনের লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের গবেষকদের তাদের মৌলিক, অভিনব এবং অপ্রকাশিত গবেষণাপত্র এই সম্মেলনে জমা দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কনফারেন্সে বাংলাদেশ ছাড়াও ইতালী, আমেরিকা, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ, বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক গবেষক তাদের গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। কনফারেন্সের সহযোগী হিসেবে রয়েছে সেন্টার ফর ন্যাচারাল সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ (CNSER), ক্রিয়েটিভ ইনস্টিটিউটস অব ক্যারিয়ার্স, টেকনোলজি এন্ড রিসার্চ (CICTR) এবং স্প্রিংগার।
বার্তা প্রেরক
গিয়াস রনি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় সিরাপ উদ্ধারসহ এক দালাল ও তিন নারীকে আটক করা হয়েছে। গত দুই দিনে এসব অভিযান পরিচালনা করেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৫৮ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, আজ ৮ অক্টোবর ভোরে আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) অধীনস্থ মাটিলা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার-৫২/১২-আর থেকে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ‘শ্মশানঘাট’ নামক স্থানে একটি অভিযান পরিচালিত হয়। সুবেদার মো. মোস্তাক আহমেদের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই মাদকবিরোধী অভিযানে আসামিবিহীন অবস্থায় ৯৯ বোতল ভারতীয় সিরাপ (Win Cerex এবং TEXMIN-P Syrup) উদ্ধার করা হয়।
এর আগে, গত ৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে কুসুমপুর বিওপির এলাকাভুক্ত সীমান্ত পিলার-৬১/১৪-আর থেকে প্রায় ৭০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ‘চাপাতলা গ্রামের মোড়’ থেকে তিনজন নারীসহ এক দালালকে আটক করে বিজিবি। হাবিলদার মো. সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে নিয়মিত টহল দল দেখতে পায়, ওই ব্যক্তিরা অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
আটককৃত দালালের নাম মো. ফয়েজ উদ্দিন (২৫)। তিনি মহেশপুর উপজেলার পিপুলবাড়ীয়া গ্রামের সহিদুল ইসলামের ছেলে। আটক হওয়া অন্য তিন নারী বাংলাদেশি নাগরিক।
মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করে জানান, আটককৃত অবৈধ সীমান্ত পারাপারকারী (ধুর) ও দালালকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আগাম জাতের মুরি বা (কন্দল) পেঁয়াজ চাষে কৃষকরা ঝুঁকছেন। নতুন পাতা পেঁয়াজ মাঠ থেকে উঠতে শুরু করবে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে। মৌসুমের শুরুতেই নতুন পেঁয়াজ বিক্রি করে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভের প্রত্যাশা করছেন চাষিরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও আশানুরূপ হবে বলে তাদের আশা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, পৌরসভা, রায়পুর ও পীরগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আগাম জাতের মুরি পেঁয়াজের ব্যাপক চাষ হয়েছে। মাঠগুলো সবুজে ছেয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পেঁয়াজের কন্দ বড় হতে শুরু করেছে। কৃষকরা নিয়মিত পরিচর্যা এবং আগাছা পরিষ্কারের কাজ করছেন। চাষিরা জানিয়েছেন, আর কয়েক দিনের মধ্যেই ক্ষেত থেকে নতুন পেঁয়াজ তোলা শুরু হবে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পীরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে মুরি বা (কন্দল) পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। চাষিদের প্রশিক্ষণ ও আগাম পেঁয়াজ চাষাবাদ নিয়ে কৃষি বিভাগের লোকজন মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে বলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ জানিয়েছেন।
নখারপাড়া গ্রামের কৃষক সুমন মিয়া জানিয়েছেন, ছোট ছোট পেঁয়াজ জমিতে আগাম ভাবে রোপণ করা হয়। এই পেঁয়াজ থেকেই বড় এবং নতুন পেঁয়াজ হয়। সাধারণত এই পেঁয়াজ পাতাসহ বাজারে বিক্রি করা হয়। নতুন পেঁয়াজের সঙ্গে সবুজ পাতা থাকায় এর চাহিদা প্রচুর। মৌসুমের শুরুতে বাজারে নতুন পেঁয়াজ উঠলে ক্রেতাদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়। উপজেলা থেকে তোলা তাজা ও টাটকা পাতা পেঁয়াজ স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হবে। কেউ কেউ সাথী ফসল হিসাবে কলা, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করে থাকে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কৃষকদের কাছ থেকে আগাম পেঁয়াজ সংগ্রহ করে ট্রাকযোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। এতে কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের ভালো বাজার পেয়ে থাকেন এবং ব্যবসায়ীরাও দেশের বিভিন্ন বাজারে নতুন পেঁয়াজ সরবরাহ করতে সক্ষম হন।
পৌরসভা এলাকার কৃষক মতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, আগাম পেঁয়াজ চাষের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মৌসুমের শুরুতেই বাজারে পাতা পেঁয়াজ তুলে ভালো দাম পাওয়া। সাধারণ সময়ে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়লে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে মৌসুমের শুরুতে পাতা পেঁয়াজের সরবরাহ কম থাকায় তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ থাকে। এই কারণে অনেক কৃষক আগাম জাতের পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
তিনি আরও জানিয়েছেন, পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা এখন গ্রামগঞ্জের কৃষি মাঠে ঘুরে আগাম পেঁয়াজ ওঠার সময়ের খোঁজখবর নিচ্ছেন। অনেক ব্যবসায়ী কৃষকদের আগাম টাকা দিয়ে পেঁয়াজ কেনার চুক্তিও করে রেখেছেন। বাজারদর যাই হোক, নির্দিষ্ট সময়ে জমি থেকে পেঁয়াজ কিনে নেওয়ার কথা দিয়েছেন তারা।
বৃষ্টিবাদল নিয়ে চারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ ভারি বৃষ্টি হওয়ায় কিছু জমিতে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে আগাম পেঁয়াজ পচে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তারা স্বস্তিতে রয়েছেন। জমিতে পেঁয়াজের গাছ ভালো হয়েছে এবং ফলনও আশানুরূপ হবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।
চাষিদের প্রত্যাশা, মৌসুমের শুরুতেই নতুন পেঁয়াজ বাজারজাত করতে পারলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ পাওয়া যাবে। নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসার পর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে আগাম পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের আগ্রহ আরও বাড়বে।
চাষিরা মনে করেন, বাজার ব্যবস্থাপনা ভালো থাকলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং তারা সরাসরি ব্যবসায়ীদের কাছে পেঁয়াজ বিক্রির সুযোগ পাবেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই পীরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার মাঠ থেকে আগাম মসলা জাতীয় পেঁয়াজ উঠতে শুরু করবে। এরপর ট্রাকযোগে এসব পাতা পেঁয়াজ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে পৌঁছে যাবে।
নতুন পেঁয়াজের ঘ্রাণ ও ঝাঁঝে জানান দেবে মাঠে এসেছে নতুন পেঁয়াজ। মৌসুমের শুরুতেই নতুন পেঁয়াজে ভরে উঠবে ক্রেতাদের ঘরে ঘরে এমন প্রত্যাশাই এখন পীরগঞ্জের আগাম পেঁয়াজ চাষিদের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
"Love Yours Eyes- আপনার চোখকে ভালোবাসুন" এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উপলক্ষে নোয়াখালীতে একটি র্যালি এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে সিভিল সার্জন অফিস নোয়াখালীর উদ্যোগে এবং ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচি ও ভিশনস্প্রিং এর সহযোগিতায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র্যালি শুরু হয়। র্যালিটি সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। এরপর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ডা. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তারানা জাফরিন, সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. জান্নাতুন নাঈম কেয়া, সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুদ্দিন মাহামুদ চৌধুরী এবং ব্র্যাকের জেলা ম্যানেজার মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, ক্রমবর্ধমান জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় নিজেদের সম্পদ ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তবে, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সহজপ্রাপ্য জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রী বলেন, "ইউএনডিপির সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারিকে আমরা আরো বাস্তবমুখী ও ফলপ্রসূ করতে চাই।"
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিকসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হওয়ায় অভিযোজন কার্যক্রমকে আরো কার্যকর, স্থানীয় বাস্তবতানির্ভর এবং ফলাফলমুখী করতে হবে। তিনি জানান, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের সঙ্গে মানুষের জীবিকা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ইউএনডিপির মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে বিদ্যমান সহযোগিতা পর্যালোচনা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এ সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশ সংরক্ষণে বাংলাদেশের প্রণীত অর্থায়ন পরিকল্পনা (BIOFIN), নিম্ন-কার্বন উন্নয়নে ন্যাশনাল কুলিং প্ল্যান (NCP), জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা ও অভিযোজন, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
এ সময় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে স্থানীয় সরকার ও জনগণের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল, চরাঞ্চল, পার্বত্য এলাকা, হাওর এবং খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান এবং জলবায়ু-সহনশীল জীবিকার কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
আলোচনায় বাংলাদেশের জাতীয় জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল ও উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অধিক অর্থায়ন সংগ্রহে ইউএনডিপির কারিগরি সহযোগিতা আরো জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিকস বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীল ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নে ইউএনডিপির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, জলবায়ু অভিযোজন, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, দূষণ ও প্লাস্টিক বর্জ্য মোকাবেলা, জলবায়ু অর্থায়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে সহনশীলতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইউএনডিপি কাজ করতে আগ্রহী।
তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনগণ, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাত ও অন্যান্য অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে সফল উদ্যোগগুলো বৃহত্তর পরিসরে সম্প্রসারণে ইউএনডিপি প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা ও অংশীদারি অব্যাহত রাখবে।
উভয় পক্ষ চলমান যৌথ প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন আরো গতিশীল করার পাশাপাশি জলবায়ু অভিযোজন, প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অর্থায়ন, উষ্ণতা হ্রাস, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও কার্বন ক্রেডিটকে কেন্দ্র করে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার বিষয়ে একমত হন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ