প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আগাম জাতের মুরি বা (কন্দল) পেঁয়াজ চাষে কৃষকরা ঝুঁকছেন। নতুন পাতা পেঁয়াজ মাঠ থেকে উঠতে শুরু করবে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে। মৌসুমের শুরুতেই নতুন পেঁয়াজ বিক্রি করে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভের প্রত্যাশা করছেন চাষিরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও আশানুরূপ হবে বলে তাদের আশা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, পৌরসভা, রায়পুর ও পীরগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আগাম জাতের মুরি পেঁয়াজের ব্যাপক চাষ হয়েছে। মাঠগুলো সবুজে ছেয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পেঁয়াজের কন্দ বড় হতে শুরু করেছে। কৃষকরা নিয়মিত পরিচর্যা এবং আগাছা পরিষ্কারের কাজ করছেন। চাষিরা জানিয়েছেন, আর কয়েক দিনের মধ্যেই ক্ষেত থেকে নতুন পেঁয়াজ তোলা শুরু হবে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পীরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে মুরি বা (কন্দল) পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। চাষিদের প্রশিক্ষণ ও আগাম পেঁয়াজ চাষাবাদ নিয়ে কৃষি বিভাগের লোকজন মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে বলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ জানিয়েছেন।
নখারপাড়া গ্রামের কৃষক সুমন মিয়া জানিয়েছেন, ছোট ছোট পেঁয়াজ জমিতে আগাম ভাবে রোপণ করা হয়। এই পেঁয়াজ থেকেই বড় এবং নতুন পেঁয়াজ হয়। সাধারণত এই পেঁয়াজ পাতাসহ বাজারে বিক্রি করা হয়। নতুন পেঁয়াজের সঙ্গে সবুজ পাতা থাকায় এর চাহিদা প্রচুর। মৌসুমের শুরুতে বাজারে নতুন পেঁয়াজ উঠলে ক্রেতাদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়। উপজেলা থেকে তোলা তাজা ও টাটকা পাতা পেঁয়াজ স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হবে। কেউ কেউ সাথী ফসল হিসাবে কলা, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করে থাকে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কৃষকদের কাছ থেকে আগাম পেঁয়াজ সংগ্রহ করে ট্রাকযোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। এতে কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের ভালো বাজার পেয়ে থাকেন এবং ব্যবসায়ীরাও দেশের বিভিন্ন বাজারে নতুন পেঁয়াজ সরবরাহ করতে সক্ষম হন।
পৌরসভা এলাকার কৃষক মতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, আগাম পেঁয়াজ চাষের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মৌসুমের শুরুতেই বাজারে পাতা পেঁয়াজ তুলে ভালো দাম পাওয়া। সাধারণ সময়ে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়লে দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে মৌসুমের শুরুতে পাতা পেঁয়াজের সরবরাহ কম থাকায় তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ থাকে। এই কারণে অনেক কৃষক আগাম জাতের পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
তিনি আরও জানিয়েছেন, পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা এখন গ্রামগঞ্জের কৃষি মাঠে ঘুরে আগাম পেঁয়াজ ওঠার সময়ের খোঁজখবর নিচ্ছেন। অনেক ব্যবসায়ী কৃষকদের আগাম টাকা দিয়ে পেঁয়াজ কেনার চুক্তিও করে রেখেছেন। বাজারদর যাই হোক, নির্দিষ্ট সময়ে জমি থেকে পেঁয়াজ কিনে নেওয়ার কথা দিয়েছেন তারা।
বৃষ্টিবাদল নিয়ে চারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ ভারি বৃষ্টি হওয়ায় কিছু জমিতে ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে আগাম পেঁয়াজ পচে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তারা স্বস্তিতে রয়েছেন। জমিতে পেঁয়াজের গাছ ভালো হয়েছে এবং ফলনও আশানুরূপ হবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।
চাষিদের প্রত্যাশা, মৌসুমের শুরুতেই নতুন পেঁয়াজ বাজারজাত করতে পারলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ পাওয়া যাবে। নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসার পর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে আগাম পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের আগ্রহ আরও বাড়বে।
চাষিরা মনে করেন, বাজার ব্যবস্থাপনা ভালো থাকলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং তারা সরাসরি ব্যবসায়ীদের কাছে পেঁয়াজ বিক্রির সুযোগ পাবেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই পীরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার মাঠ থেকে আগাম মসলা জাতীয় পেঁয়াজ উঠতে শুরু করবে। এরপর ট্রাকযোগে এসব পাতা পেঁয়াজ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে পৌঁছে যাবে।
নতুন পেঁয়াজের ঘ্রাণ ও ঝাঁঝে জানান দেবে মাঠে এসেছে নতুন পেঁয়াজ। মৌসুমের শুরুতেই নতুন পেঁয়াজে ভরে উঠবে ক্রেতাদের ঘরে ঘরে এমন প্রত্যাশাই এখন পীরগঞ্জের আগাম পেঁয়াজ চাষিদের।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন