প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স বিথী আক্তার (২৫) মারা গেছেন। তিনি দীর্ঘ ৪ মাস শারীরিক বিভিন্ন জটিলতার সঙ্গে লড়াই করার পর বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার স্বামী মোঃ রাকিবুল ইসলাম। বিথী আক্তার রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজ উদ্দিন মৃধার পাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী।
পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথী আক্তারের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দের মাধ্যমে ওই অস্ত্রোপচারের সময় তার পেটের ভেতরে গজ রেখে সেলাই করা হয়। এরপর থেকেই বিথী শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন। তীব্র ব্যথা ও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রায় দুই মাস পর তাকে আবারও বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করাতে হয়।
পরে পেটের নারিতে গুরুতর জটিলতা দেখা দিলে তাকে আইসিইউতে চিকিৎসা নিতে হয়। এ সময় পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, বাইপাস সার্জারিসহ একাধিক জটিল চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বিথীর শারীরিক অবস্থার ব্যাপক অবনতি ঘটে। তার ওজন এক সময় ৬১ কেজি ছিল, যা অসুস্থতার কারণে কমে দাঁড়ায় মাত্র ৩৮ কেজিতে। এদিকে, সন্তান জন্মের পর বিথী দীর্ঘ ৪ মাস নিজের নবজাতক সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা দুধ খাওয়ানোর মতো অবস্থায় ছিলেন না। ফলে তার ছোট্ট সন্তান মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিথী শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল হুদা বলেন, ‘বিথীর মৃত্যুর খবরটি শুনেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন ও আমি বিথীর বাড়িতে গিয়ে তার সন্তানকে দুইবার দেখে এসেছি। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।’
পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই বিথীর পেটে গজ রয়ে যায়। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন