ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মোহাম্মদপুরে বর্তমানে কোনো কিশোর গ্যাং সক্রিয় নেই: র‌্যাব


মোহাম্মদপুরে বর্তমানে কোনো কিশোর গ্যাং সক্রিয় নেই: র‌্যাব

রাজধানী মোহাম্মদপুরকে গডফাদার ও সন্ত্রাসী তৎপরতামুক্ত করার জন্য বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। র‌্যাবের দাবি, অভিযানের মাধ্যমে কিশোর গ্যাংগুলোকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা হয়েছে। বর্তমানে মোহাম্মদপুরে কোনো কিশোর গ্যাং সক্রিয় নেই বলে তারা জানায়।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য উপস্থাপন করেন র‌্যাব-২ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান। তিনি উল্লেখ করেন, মোহাম্মদপুরের কিশোর গ্যাং লিডার এলেক্স ইমন হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি জহিরুল ইসলাম, যিনি রিপোল ও বিপুল নামেও পরিচিত, সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ অভিযানে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দুটি বিদেশি পিস্তল, একটি একনলা বন্দুক এবং সাতটি ধারালো দেশীয় অস্ত্র।

র‌্যাব-২ অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা গডফাদারদের গ্রেফতার করছি। আমরা খুব বেশি নিচের সারির সদস্য বা ছোটখাটো গ্রুপগুলোর দিকে হাত দিচ্ছি না।’ তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, গডফাদারদের গ্রেফতারের ফলে মোহাম্মদপুর পূর্বের চেয়ে অনেকটা স্থিতিশীল হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে মোহাম্মদপুর আরও নিরাপদ ও বসবাসের উপযোগী হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: আজ যেসব দামে স্বর্ণ ও রুপা বিক্রি হচ্ছে

নয়মুল হাসান আরও বলেন, ‘মোহাম্মদপুরকে ‘সিটি অব গডস’ হিসেবে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, সেটি মূলত একটি ভুল ধারণা। আমরা মোহাম্মদপুরকে সেই ধারণা থেকে বের করে আনার চেষ্টা করছি। এরই মধ্যে আমরা অনেকটাই সফল হয়েছি। নিকট ভবিষ্যতে মোহাম্মদপুর থেকে গ্যাং ও সন্ত্রাসী তৎপরতা সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে পারব বলে আশা করি।’

তিনি আরও জানান, মোহাম্মদপুরকে বখাটে ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে যে অভিযান চলছে, একইভাবে পুরো রাজধানীকেই নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এলেক্স ইমন হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত সে সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব-২ অধিনায়ক বলেন, এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করতে পারবেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। র‌্যাব মূলত তদন্তে সহায়তার অংশ হিসেবে গ্রেফতারকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। তিনি বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের পর যদি তদন্তকারী কর্মকর্তা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করেন, তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর পেছনে কারা জড়িত সে বিষয়ে বিশদে তথ্য পাওয়া যেতে পারে। যেহেতু র‌্যাব সরাসরি তদন্ত করছে না, তাই এই বিষয়ে থানা পুলিশই বিস্তারিত তথ্য দিতে সক্ষম।

আরও পড়ুন: ইশরাকের পদত্যাগ কোনো অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়: মাহদী আমিন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুইজারল্যান্ডের জিডিপি দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১.৫ শতাংশ বেড়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৩১ পি.এম


সুইজারল্যান্ডের জিডিপি দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১.৫ শতাংশ বেড়েছে

ঢাকা, ১৪ আগস্ট, ২০২৬ : প্রাথমিক এক হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সুইজারল্যান্ডের অর্থনীতি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। দেশটির রাসায়নিক ও ওষুধশিল্পের শক্তিশালী কার্যক্রমের কারণে উচ্চ জ্বালানি ব্যয়ের চাপও সামলে উঠতে পেরেছে সুইস অর্থনীতি। 

শুক্রবার প্রকাশিত প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এ তথ্য জানা গেছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। বছরের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি বেড়েছিল শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকের এই প্রবৃদ্ধি বিশ্লেষকদের প্রায় শুন্য দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক বেশি।

অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘শিল্প খাত প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে রাসায়নিক ও ওষুধশিল্পের শক্তিশালী কার্যক্রম এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।’

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, সামগ্রিকভাবে সেবা খাতেও প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে অর্থনীতির বিস্তারিত তথ্য আগামী ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হবে।

সুইজারল্যান্ডের নিয়োগকর্তাদের সংগঠন সুইসমেম সম্প্রতি জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ডেটা সেন্টারের সরঞ্জামের বাড়তি চাহিদার কারণে দেশটির শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো লাভবান হচ্ছে।

এদিকে, মে মাসে প্রকাশিত বহুল পর্যবেক্ষিত ক্রয় ব্যবস্থাপকদের সূচক গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক সুইজারল্যান্ডের রপ্তানিতে প্রভাব ফেলছে।

সুইজারল্যান্ডের শুল্ক দপ্তর এর আগে জানিয়েছিল, দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির রপ্তানি ১ দদশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। বছরের প্রথম প্রান্তিকে রপ্তানি বেড়েছিল মাত্র শুন্য দশমিক ৩ শতাংশ।

জিডিপির তথ্য প্রকাশের পর ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের এক বিশ্লেষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলেন, প্রাথমিক লক্ষণগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই প্রবৃদ্ধির গতি তৃতীয় প্রান্তিকেও অব্যাহত থাকতে পারে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি তৃতীয় প্রান্তিকে সুইজারল্যান্ডের জিডিপি প্রান্তিক ভিত্তিক ১ দশমিক শুন্য শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সূচকগুলো বলছে, প্রকৃত প্রবৃদ্ধি এর চেয়েও বেশি হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও গণমুখী পরিকল্পনা জরুরি: সিপিবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৩৩ পি.এম


বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও গণমুখী পরিকল্পনা জরুরি: সিপিবি

রাজনৈতিক সদিচ্ছা, গণমুখী এবং দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনা, কার্যকর সিটি গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে সবার জন্য একটি বাসযোগ্য, মানবিক এবং নিরাপদ ঢাকা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত ‘সবার জন্য বাসযোগ্য, মানবিক ও নিরাপদ ঢাকা চাই’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সিপিবি নেতারা উদ্বিগ্ন হয়ে বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, বিভিন্ন সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা, দখল, দূষণ, যানজট এবং বৈষম্যের কারণে ঢাকা ক্রমে বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে। নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় মানুষের জীবনযাত্রা, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, গণপরিবহন, আবাসন এবং নাগরিক অধিকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সেমিনারে সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক লূনা নূর। বক্তৃতা দেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্বাফী রতন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সোহরাব হাসান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফৌজিয়া ফারজানা, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সহসভাপতি শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত নেভি কমোডর বিপন কুমার সাহা, ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ এবং সিপিবির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সাজেদুল হক রুবেল।

বক্তারা বলেন, ঢাকা শুধু প্রশাসনিক এবং অর্থনৈতিক কেন্দ্রই নয়, এটি কোটি মানুষের আবাসস্থল। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়ন, যানজট, বায়ু এবং শব্দদূষণ, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট এবং খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান কমে যাওয়ায় নগরবাসীর জীবন ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে উঠছে। ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য সমন্বিত এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই।

তারা আরও বলেন, নাগরিক সুবিধা কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। নগর ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের শাসনতান্ত্রিক ব্যর্থতা, রাজনৈতিক দুর্নীতি, প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে ঢাকা তার বাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেলছে। রাজউক, ওয়াসা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পরিবহন, পুলিশ এবং দুই সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সংস্থা নগরের সেবা এবং অবকাঠামো নিয়ে কাজ করলেও তাদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নেই। এই কারণে একই সড়ক বারবার খোঁড়াখুঁড়ি, অর্থের অপচয় ও নাগরিক ভোগান্তি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শক্তিশালী এবং সমন্বিত সিটি গভর্ন্যান্স ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে নগর পরিচালনার দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঢাকার বৈষম্যপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে বক্তারা জানান, একদিকে গুলশান-বনানী-বারিধারার মতো অভিজাত এলাকায় আধুনিক নাগরিক সুবিধা রয়েছে, অন্যদিকে বস্তি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ আবাসনের মৌলিক সুবিধা থেকেও বঞ্চিত। একই শহরের মানুষের জীবনযাত্রায় এমন বৈষম্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নগর উন্নয়ন সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সমান ও ন্যায়ভিত্তিক হতে হবে।

নদী, খাল এবং জলাশয় রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বক্তারা বলেন, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ এবং বালুসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলো বর্তমানে দূষণের শিকার। দখল এবং ভরাটের ফলে খাল-জলাশয় সংকুচিত হয়ে পড়েছে, যার কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সংঘটিত হচ্ছে। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে নদী, খাল, জলাশয়, মাঠ এবং উন্মুক্ত স্থান উদ্ধার এবং সংরক্ষণের দাবি জানান তারা।

গণপরিবহন বিষয়ে বক্তারা বলেন, সিন্ডিকেট, অনিয়ম এবং নৈরাজ্যের কারণে ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিটনেসবিহীন বাস, অতিরিক্ত ভাড়া, যাত্রী হয়রানি এবং বেপরোয়া প্রতিযোগিতার কারণে যানজট এবং দুর্ঘটনা বাড়ছে। গণপরিবহনকে সিন্ডিকেটমুক্ত, নিরাপদ এবং সুশৃঙ্খল হিসেবে গড়ে তুলতে বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।

বায়ু এবং শব্দদূষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা। তাদের মতে, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা, অতিরিক্ত হর্ণ এবং উন্মুক্ত বর্জ্যের কারণে নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। তারা পরিবেশদূষণ বন্ধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নগর বনায়ন, জলাশয় সংরক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার কথা বলেন।

এ ছাড়া, সাশ্রয়ী আবাসন, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ, কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা এবং পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ মৌলিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে সেমিনারের বক্তাদের পক্ষ থেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকদের পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৩৬ পি.এম


‘বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকদের পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে’

শ্রম আইন অনুযায়ী অবিলম্বে নিম্নতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন সহ পোশাক শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় মজুরি পুনর্নির্ধারণের ৬ দফা দাবি জানান বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদ (বিজিডব্লিউইউসি)। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে এই সংগঠনের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে।

সংগঠনটির নেতারা মন্তব্য করেছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে পোশাক শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। নিত্যপণ্যের দাম, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা এবং শিক্ষার খরচের বৃদ্ধিের ফলে বর্তমানে শ্রমিকদের পরিবার পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে সংগঠনের নেতারা শ্রম আইন অনুযায়ী নতুন করে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি কাঠামো নতুন করে বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। শ্রম আইন অনুসারে নির্দিষ্ট সময় পর পর মজুরি পুনর্নির্ধারণের বিধান রয়েছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ৬ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— পোশাক শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠন, শ্রমিক পরিবারকে খাদ্য সহায়তা ও রেশনিং ব্যবস্থা চালু, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ, শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের জন্য কলোনি অথবা ডরমিটরি নির্মাণ, শ্রমিকদের চিকিৎসা ও শিক্ষা সুবিধা সম্প্রসারণ, শ্রম আইন-বহির্ভূতভাবে শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের জন্য কল্যাণ তহবিল গঠন।

নেতারা বলেছেন, তৈরি পোশাক খাত দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি প্রধান উৎস হলেও শ্রমিকরা এখনও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয়পূর্ণ মজুরি পাচ্ছেন না। শ্রমিকবান্ধব নীতি গ্রহণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশে পোশাক খাতের মজুরি কাঠামো নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শ্রমিক সংগঠনগুলো নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়ে আসছে।

মানববন্ধনের মাধ্যমে সরকারের প্রতি, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত দাবিগুলি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার নিশ্চিত করতে মালিক, শ্রমিক এবং সরকারের মধ্যে সংলাপ জোরদার করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান মো. তৌহিদুর রহমান। বক্তৃতা করেন মহাসচিব মাহতাব উদ্দিন শহীদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য এম. দেলোয়ার হোসেন, আব্বাসউদ্দিন, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তাহমিনা রহমান, শামসুল হক, ইব্রাহিম খলিল, আসাদুজ্জামান ও কামরুল ইসলাম মৃধাসহ আরো অনেকেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে অঞ্চলভিত্তিক চলাচলের পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৩৬ পি.এম


রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে অঞ্চলভিত্তিক চলাচলের পরিকল্পনা

রাজধানী ঢাকা শহরের যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ানো ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ গণপরিবহন ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে অঞ্চলভিত্তিক রিকশা চলাচল ব্যবস্থা চালুর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম সম্প্রতি নগর ভবনে এ তথ্য জানান।

এই প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, ‘ঢাকা শহরকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে নির্দিষ্ট এলাকার রিকশা ওই অঞ্চলের মধ্যেই চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। এক এলাকার রিকশা অন্য এলাকায় গিয়ে যাতে যানজট সৃষ্টি না করতে পারে, সেজন্য প্রয়োজন অনুযায়ী দিন ও সড়কভিত্তিক চলাচলের বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘রিকশার সমস্যাটা কোত্থেকে আসলো, কীভাবে আসলো- সেটা বের করে সমাধান করতে হবে। এই সমস্যাটাও আমাদেরই, আমাদেরই সমাধান করতে হবে। সিটি কর্পোরেশনকেই সমাধান করতে হবে।’

আবদুস সালাম বলেন, ঢাকার রাস্তায় বর্তমানে এদিক-সেদিক, উল্টো দিকসহ বিভিন্নভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে। এসব রিকশা চালকদের অনেকেই ট্রাফিক আইন ও চলাচলের শৃঙ্খলা মানছে না। ফলে নগরীর বিভিন্ন সড়কে অযাচিত যানজট আরও বাড়ছে।

রিকশা ব্যবস্থাপনাকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনতে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, বন্যা, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ জীবিকার সন্ধানে ঢাকায় এসে ফুটপাত ও অন্যান্য উন্মুক্ত স্থানে অবস্থান নিচ্ছে।

কেউ রিকশা চালাচ্ছে, আবার কেউ ভ্যান নিয়ে সবজি বা অন্যান্য পণ্য বিক্রি করছে। এভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে মানুষের ঢাকামুখী প্রবেশ নগরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশের মানুষকে কি আমরা ঢাকা শহরে জায়গা দিতে পারব? এটাও তো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’ এ কারণে রিকশা ও সংশ্লিষ্ট পরিবহন ব্যবস্থাকে নিবন্ধনের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন আব্দুস সালাম।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, গত ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা ঢাকায় প্রবেশের প্রবণতা বেড়েছে। এসব রিকশাকে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মধ্যে আনা হবে। এজন্য ঢাকা শহরকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে অঞ্চলভিত্তিক রিকশা চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘ডেমরার একটা রিকশা কোনোভাবেই নিউ মার্কেটে যেতে পারবে না। অঞ্চলভিত্তিক আমরা ভাগ করে দেব। ভাগ করে দিয়ে তাদেরকে হয়তো দিনও ভাগ করে দেব।

কিছু কিছু রাস্তা ভাগ করে দেব, কিছু কিছু রাস্তায় যাতে তারা একেবারেই চলাচল করতে না পারে-সেই জায়গাটা ঠিক করে দেব।’

তিনি আরও বলেন, লাইসেন্স ছাড়া কেউ ঢাকা শহরে রিকশা চালাতে পারবে না। কেরানীগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে চলাচল করা কিংবা ডেমরা থেকে নদী পার হয়ে রিকশা নিয়ে অন্য এলাকায় চলে আসার কোন সুযোগ থাকবে না। একইভাবে উত্তর সিটির রিকশাও নির্বিচারে এই এলাকায় চলাচল করতে পারবে না।

আবদুস সালাম বলেন, ‘আমরা অঞ্চলভিত্তিক ভাগ করে দেব। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে আমরা এই বিষয়টিকে একটি পদ্ধতির মধ্যে আনতে চাই। সেটার জন্য তো কিছুটা সময় লাগবে এবং এ বিষয়ে গণমাধ্যমসহ সকলের সহযোগিতা চাই।’

তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিবিধান প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলছে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে আইন প্রণয়ন করে সিটি কর্পোরেশনের কাছে পাঠানোর পর তা বাস্তবায়ন করা হবে।

রিকশার পাশাপাশি বাস চলাচলেও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের কথা বাসস’তে জানান ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, ঈদের আগে যত্রতত্র বাস থামানো এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাস থামানো ও যাত্রী ওঠানোর জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘যত্রতত্র যাতে বাস থামাতে না পারে, যিত্রতত্র যেখান সেখান থেকে যাতে যাত্রী উঠাতে না পারে-এটাও একটা সিস্টেমে আনতে হবে।’

আবদুস সালাম পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কিছু সময় দেওয়া হয়েছে এবং এখন পরিবহন ব্যবস্থাকেও একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনার কাজ চলছে। আশা করি, কয়েক মাসের মধ্যে অনেকটা পদ্ধতির মধ্যে চলে আসবে, ইনশাআল্লাহ।

নগরীর যানজট ও অব্যবস্থাপনার জন্য শুধু প্রশাসন বা সিটি কর্পোরেশনকে দায়ী না করে নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান ডিএসসিসি প্রশাসক।

তিনি বলেন, ঢাকাকে বাসযোগ্য, সুন্দর ও শৃঙ্খলাপূর্ণ নগর হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি নগরবাসীর সহযোগিতাও প্রয়োজন।

এদিকে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা ব্যবস্থাপনায় নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ এবং স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর আলোকে ই-রিকশা ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।’

মীর শাহে আলম বলেন, ‘এ নীতিমালা সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হলে নগরীর যানজট নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচলে শৃঙ্খলা এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক লাইসেন্সিং ও নিবন্ধন কার্যক্রমের ফলে সরকারের কোষাগারে রাজস্ব জমা হবে।’

তিনি আরও বলেন, এ লক্ষ্যে বিদ্যমান বিধিমালা সময়োপযোগী করে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য একটি সমন্বিত লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ নির্ধারণের লক্ষ্যে প্রচলিত বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%