১০:০৯ পি.এম
পশ্চিম এশিয়ায় টানা ২০০ দিনের বেশি রণক্ষেত্রে কাটানোর পরে মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ অবশেষে নিজ দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হতে যাচ্ছে।
বর্তমানে ২৬৬ দিন ধরে মোতায়েন থাকা এই রণতরীটির দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে, টানা সামরিক অভিযানের ফল হিসেবে জাহাজে থাকা হাজার হাজার নাবিক ও সামরিক কর্মী মানসিক চাপ, নিম্ন মনোবল এবং সার্বিক কল্যাণের সমস্যার মুখে পড়েছেন। এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য ও ক্রুদের পরিবারবর্গ।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প-রুবিওর নীরবতা ইসরাইলকে বেপরোয়া করছে: মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন
এদিকে, মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাঙ কাও নিশ্চিত করেছেন যে, নিয়মিত সেনাবদল প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জাহাজটি শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসবে।
গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়াগো বন্দর থেকে চলন্ত শুরু করেছিল ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন। এরপর এটি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্রে পুনঃমোতায়েন করা হয়। বর্তমানে ইরান সংঘাত ষষ্ঠ মাসে প্রবেশ করেছে।
এই রণতরীটি দীর্ঘ আড়াইশ দিনেরও বেশি সময় সমুদ্রসীমায় অবস্থান করছে এবং বিগত ২০০ দিনে কোনো বন্দরে ভিড়তে বা বিরতি নেওয়ার সুযোগ পায়নি। এই দীর্ঘ সময়ের যুদ্ধকালীন অবস্থান ক্রুদের শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক ক্লান্তির মধ্যে ফেলেছে।
অভিযানের সময় মার্কিন সেনা সদস্যরা চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক সময় ক্রুদের স্বজনদের সাথে যোগাযোগের সুযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: রাজা চার্লস উইন্ডসর ক্যাসেলে মহানবী (সা.)-এর বাণী উদ্ধৃত করলেন
এছাড়া সমুদ্রে দীর্ঘ সময় অবস্থানের কারণে রসদের স্বাভাবিক সরবরাহ বিঘ্নিত হলে নাবিকদের খাবারের তালিকাতেও পরিবর্তন আনা হয়। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে এই রণতরী থেকে এক নাবিক সমুদ্রে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে, যদিও তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে, তথাপি ঘটনার বিস্তারিত এবং নাবিকের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাঙ কাও স্বীকার করেছেন যে, রণক্ষেত্রে দীর্ঘ অবস্থান ক্রুদের মানসিক ও শারীরিকভাবে চরম সীমানায় পৌঁছে দিয়েছিল। যদিও অভিযানের সময় কয়েকজন সেনাকে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল, তবে কোন প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি জানান। কিন্তু প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মার্কিন সেনাদের অটল মনোবলের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ক্রুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গেলেও তাদের মনোবল ভেঙে পড়েনি।
সূত্র: খালিজ টাইমস
আরও পড়ুন: কিং ফাহদ বিমানবন্দরে হামলা, নিহত ১, আহত ৮
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন