০৮:১৩ পি.এম
পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজমান। এই বিক্ষোভ দমনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী বল প্রয়োগ করছে।
এতে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটছে। এবার সামনে আসলো এক চাঞ্চলকর প্রাণহানির ঘটনা। চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভের মধ্যে এক ব্রিটিশ নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে কয়েক সপ্তাহের সংঘর্ষের পর সোমবার (১০ আগস্ট) অঞ্চলে নির্বাচনের শেষ ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটেছে। আরেকজন দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে আটক রয়েছেন বলেও বিট্রিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাঁশপাতার চায়ের উদ্ভাবনী ধারণায় দেশসেরা বেরোবির মাহিদ-আজিজ, পাচ্ছেন লাখ টাকার ফান্ড
নিহত ব্রিটিশ নাগরিকের নাম মোহাম্মদ আখতার। ৫০ বছর বয়সী আখতার যুক্তরাজ্যের পিটারবরো এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। ৯ জুন কোটলিতে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর সময় তিনি নিহত হন।
আখতারের পরিবার দাবী করে যে, তিনি ওই বিক্ষোভে অংশ নেননি। বিক্ষোভস্থলের কাছাকাছি অবস্থান করার সময় একটি ছোড়া গুলি তার শরীরে লাগে। তার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ সাদ জানিয়েছেন, আখতারের বুকের পাশে গুলির ক্ষত ছিল।
অপরদিকে আরেক ব্রিটিশ নাগরিক ওয়াকাস আরিফ, ৩৮ বছর বয়সী, গত ৫ জুন মিরপুর থেকে আটক হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার পরিবার দাবি করেছে যে, তিনিও কোনো বিক্ষোভে অংশ নেননি।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাকে এখনো আদালতে হাজির করা হয়নি এবং তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও জানানো হয়নি। ওয়াকাসের স্ত্রী ভারিশা কামপুলভি জানিয়েছেন যে, ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তার স্বামীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেনি। তবে ২৬ জুন তাদের জানানো হয়েছে যে, ব্রিটিশ কনস্যুলার কর্মকর্তারা তার যে কারাগারে রয়েছেন সেখানকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছেন। পরে ওয়াকাসের শারীরিক অবস্থা ভালো রয়েছে বলেও পরিবারকে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ বৃদ্ধি
পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে চলমান বিক্ষোভের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও অর্থনৈতিক সংস্কার। আন্দোলনকারীরা আইনসভায় ভারত-শাসিত কাশ্মীর থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে পাকিস্তানে বসবাসকারী মানুষের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগ হলো, এই আসনগুলো ওই অঞ্চলের বাইরে বসবাসকারী জনগণের অতিরিক্ত রাজনৈতিক প্রভাব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে যে, নির্বাচনকে সামনে রেখে অঞ্চলটিতে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সংস্থাটি স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাজ্য সরকার পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করেছেন। যুক্তরাজ্যের ভ্রমণ পরামর্শেও আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরে প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করার নির্দেশনা রয়েছে।
কাশ্মীর অঞ্চলটি ভারত এবং পাকিস্তান উভয়ের দাবি সম্বলিত একটি বিতর্কিত ভূখণ্ড। এই অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছে এবং স্বাধীনতার পর থেকে এ ইস্যুতে দুই দেশ একাধিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেকে আনা হলো আনিসুল, পলক ও মামুন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন