০৩:৪৬ এম
বিগত সরকারের সময়ে কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি জানান, এই অর্থ পাচার ও অর্থসংকটের কারণে দেশের বেশ কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। তবে বন্ধ হয়ে যাওয়া এসব শিল্প-কারখানা পুনরায় চালুর লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে বর্তমান সরকার। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি এসব কথা বলেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী বলেন, বন্ধ থাকা কারখানাগুলো দ্রুত সচল করা গেলে একদিকে যেমন জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালু করতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে সভায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান। তিনি জানান, চট্টগ্রাম অঞ্চলে আরএমজি, নন-আরএমজি, শিল্প-বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও দোকানসহ মোট ১০ হাজার ৫৬৭টি প্রতিষ্ঠানে ৪ লাখ ১৭ হাজার ৬০৮ জন শ্রমিক কর্মরত আছেন। তিনি উল্লেখ করেন, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় কোনো শ্রমিকের মৃত্যু হলে মালিকপক্ষের ২ লাখ টাকা এবং স্থায়ীভাবে সম্পূর্ণ অক্ষম হয়ে পড়লে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিল থেকেও সহায়তার সুযোগ রয়েছে; যেখানে মৃত্যুতে ২ লাখ টাকা, আহতদের চিকিৎসায় ২৫ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং শ্রমিক সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় ২৫ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিগত ৩ বছরে ৪৯৮ জন সুবিধাভোগীকে ১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা এবং বিগত ৬ মাসে ৫৮৪ জনকে ১ কোটি ১৯ লাখ টাকার সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে।
একই সাথে গত ১ বছরে শ্রম অভিযোগ নিষ্পত্তির মাধ্যমে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা আদায় করা সম্ভব হয়েছে। উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে শ্রমিক প্রতিনিধিরা গর্ভবতী নারী শ্রমিকদের বেআইনি ছাঁটাই বন্ধের জোরালো দাবি জানান এবং কালুরঘাটের মহিলা হোস্টেলসংলগ্ন ৫ শয্যার হাসপাতালটিকে অ্যাম্বুলেন্স সুবিধাসহ ১০ শয্যায় উন্নীত করার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা শ্রম আইন অনুসরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আইন মেনে চলা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি রিকগনিশন বা স্বীকৃতির প্রস্তাব দেন। উক্ত মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: বিচার ব্যবস্থায় যারা থাকে তাদেরকেও আওয়ামী লীগ কিনে ফেলে: স্পিকার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন