মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৭ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন যে পতিত স্বৈরাচার ও তাদের সহযোগীরা দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করতে এবং জনজীবনকে অস্থিতিশীল করতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গোয়েন্দা তথ্য থেকে জানা গেছে যে সীমান্তের ওপার থেকে একটি দল অর্থ পাঠাচ্ছে, এবং দেশের অভ্যন্তরে বসে থাকা অপর একটি চক্র কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষসহ বিভিন্ন অপতৎপরতা চালাচ্ছে, যা দেশের অস্থিতিশীলতার পাঁয়তারা করছে।
মঙ্গলবার রাজশাহীতে আখচাষিদের মাঝে সরকারি প্রণোদনার অর্থ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে স্পষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে—যে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, তারা সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ পাঠাচ্ছে এবং তাদের দোসররা সেই টাকায় দেশের ভেতরে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন কলকারখানায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শ্রমিক অসন্তোষ উসকে দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনের আগে যারা মিথ্যা কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল এবং টিকিট বিক্রি করার রাজনীতি করেছিল, তাদের কর্মকাণ্ড জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন সেই পক্ষগুলোই আবার এক হয়ে দেশের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে সক্রিয় হয়েছে।’
দেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বিদেশ থেকে এসে কেউ আমাদের দেশ গড়ে দিয়ে যাবে না। দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করে নিজেদেরই ভাগ্য বদলাতে হবে।’
জনসভায় তিনি উত্তরাঞ্চলের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে তিস্তা ও পদ্মা নদীতে শিগগিরই ব্যারেজ নির্মাণের কাজ শুরু এবং শেষ করার জোরালো প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রতিটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান, কৃষকদের সুরক্ষায় ‘কৃষি কার্ড’ বিতরণ, খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু এবং প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে ১৫০ বেডে উন্নীত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে দেশ গড়ার কাজে বিএনপি সরকারের পাশে থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি ‘করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার জন্য বাংলাদেশ’ স্লোগান তুলে বক্তব্য শেষ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর খিলক্ষেত ও মিরপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১ হাজার ৯৫০ পিস ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একটি দম্পতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গতকাল সোমবার ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) কার্যালয়ের খিলগাঁও সার্কেলের একটি টিম এই অভিযানগুলো সম্পন্ন করে। আজ মঙ্গলবার, ডিএনসি ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ)-এর উপপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানান।
ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, পরিদর্শক মো. সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে প্রথম অভিযানটি খিলক্ষেত থানার কুড়াতলী পূর্বপাড়া এলাকায় পরিচালিত হয়। সেখানে স্থানীয় একটি জামে মসজিদসংলগ্ন হেলেন মিয়ার ভাড়াটিয়া মো. জুয়েল রানা (৫১) এবং তাঁর স্ত্রী হাসনা আক্তার (৩০) গ্রেপ্তার হন। তাঁদের বসতঘর তল্লাশি করে ১ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, গ্রেপ্তার হওয়া জুয়েল ও হাসনা স্বামী-স্ত্রী। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের সহযোগিতায় ইয়াবার ব্যবসা করে আসছিলেন। এই ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একই দলের দ্বিতীয় অভিযানটি শাহ আলী থানার মিরপুর-১ এলাকায় পরিচালিত হয়। শাহ আলী মাজার বেষ্টনী প্রকল্প মার্কেটের ‘বিসমিল্লাহ বাণিজ্য ভাণ্ডার’ নামের দোকানের সামনে থেকে মৌসুমী বেগম (৩৭) এবং মো. আমির হামজা নূর (২৫) গ্রেপ্তার হন। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ৩৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
ডিএনসি জানায়, এ দুজনের বিরুদ্ধেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় শাহ আলী থানায় মামলা করা হয়েছে।
উপপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, রাজধানীতে মাদকবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান দুটি পরিচালিত হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির আওতায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে একজন প্রতিমন্ত্রীকে অস্ত্র হাতে বের হতে হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়িতে কক্সবাজারে একদিনে ৫০টি ট্রাকে ডাকাতি হয়েছে। দিস ইজ বাংলাদেশ। দিস ইজ বাংলাদেশ।’
মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের জিইসি মোড়ে শিবিরের সাথী ও সদস্য সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র হাতে বের হওয়া দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রমাণ। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে সরকারের কোনো নজর নেই। তারা বিরোধী দলকে নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত। সরকারের উচিত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে মনোযোগী হওয়া।
ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, ‘বিভিন্ন স্থানে সরকারি দলের এমপিরা বলছেন, আমরা আমাদের দলের কাছে গ্রেটফুল (কৃতজ্ঞ) না। আমরা আওয়ামী লীগের কাছে গ্রেটফুল। তারা আমাদের নির্বাচনে জয়ী করে দিয়েছেন। এক মুখে এত কথা বললে মানুষ এগুলো বোঝে। মানুষ এত বোকা নয়। আমাদের কোনো কাঁচা কথার জবাব দেওয়ার সময় নেই। জাতি জানে কে জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করেছে আর কে করেনি।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির নেতারা বলছেন, দলীয় প্রার্থীকে না জেতালে কোনো বরাদ্দ আসবে না। এটাকে সাংবাদিক সমাজ কীভাবে দেখে? সব সময় আমাকে প্রশ্ন করা হয়। আজ এই প্রশ্ন আমি সাংবাদিকদের করলাম।’ তিনি জানান, জাতি আর কোনো প্রহসন দেখতে চায় না। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তবে আলামত ভালো দেখছি না।
এর আগে, মঙ্গলবার সকালে ৯টায় হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান বিরোধীদলীয় নেতা। সেখান থেকে নগরের চকবাজারে সাফা অর্কিডে উত্তর জেলা জামায়াতের আয়োজিত ইউনিয়ন দায়িত্বশীল সমাবেশে যোগ দেন। পরে দুপুরে নগরের জিইসি কনভেনশন হলে মহানগর জামায়াতের আয়োজিত শিবিরের সাবেক সাথী ও সদস্য সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, ‘দেশে ৫৪ বছর ধরে পরিবর্তনের যে আন্দোলন, তার একটা হালকা ঝলক ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এসেছিল। কারণ জুলাই বিপ্লবকে এখনো সমাজ কোনো স্বীকৃতি দেয়নি। আবারও মানুষের ওপর পুরোনো অপশাসন চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা আমাদের সঙ্গে মজলুম ছিলেন।’
জামায়াতের ওপর ১৭ বছর ধরে চলা আওয়ামী নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ১২ জন নেতাকে বিচারবহির্ভূতভাবে ফাঁসির কাষ্ঠে নেওয়া হয়েছে। ১১ জনকে বিনাদোষে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। একজনকে আল্লাহ রেখে দিয়েছেন সত্যের সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য। তিনি হলেন এটিএম আজহার। তার সব মামলা মিথ্যা বলে তাকে খালাস দিয়েছেন আদালত। অন্য ১১ জন ন্যায়বিচার পেলে সেদিনই সেই রায় আসত।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হয়নি। কারণ বিএনপি জুলাই বিপ্লবের সময়ই বলেছিল, এই আন্দোলনের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। জুলাইয়ের পরে তারা একবার বলেছিল তাদের দলীয় শহীদের সংখ্যা ৪২২ জন, আরেকবার বলেছিল ৮১৭ জন। পরে দেখা গেল তাদের তৈরি করা তালিকায় শিবিরের সাথী ও সদস্যের নামও রয়েছে। আর আমরা একবারও জুলাইয়ের ক্রেডিট নিইনি। আন্দোলনের সময় সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলাম, এই আন্দোলন জনগণের আন্দোলন। সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ো।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘জামায়াতকে আক্রমণ করা হচ্ছে। সর্বোচ্চ জায়গা থেকেও কাঁচা কথাবার্তা আসছে। জামায়াত নাকি বেহেশতের টিকিট বিক্রি করে! কই, আমাদের কারও হাতে তো টিকিট নেই! আমরা বলব, বেহেশতের টিকিট নয়, আমরা নিজেরা বেহেশতের রাস্তা চেনার চেষ্টা করি এবং সেই রাস্তা জনগণকে দেখাচ্ছি। কিন্তু চারদিক থেকে মৌচাকে ঢিল মারা হচ্ছে। বন্ধুরা, সব সময় মৌচাকের মধু খাওয়া যায় না। মৌচাকের মধু খাওয়া সব সময় সহজ নয়। কখনো কখনো এই মৌচাকের মৌমাছি ভিমরুলের দলের চেয়েও ভয়ংকর হয়ে ওঠে।’
তিনি আরও বলেন, ছাত্র-জনতা লুটেরা ও চাঁদাবাজদের জন্য জুলাইয়ে রক্ত দেয়নি। জনগণ কোনোভাবেই লুটতরাজ, চাঁদাবাজি ও অন্যায়-অবিচার মেনে নেবে না। আগামীতে প্রত্যেকটি অপরাধের হিসাব দিতে হবে। মানুষের ওপর জুলুম করা, মানুষের অধিকার হরণ করা এবং অন্যের হক মেরে দেওয়ার জবাবদিহি করতে হবে।
মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।
মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুল আমিন ও সহকারী সেক্রেটারি এবং শিবির নেতাদের যৌথ সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এস. এম. ফরহাদ হোসেন, চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রণি, ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তরের সভাপতি মুমিনুল হক ও দক্ষিণের সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন।
এমই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ : পাকিস্তানের প্রভাবশালী সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির মঙ্গলবার তেহরান সফরে যাচ্ছেন বলে ইরানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে শান্তিচুক্তির মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই জানান, মুনিরের সঙ্গে আলোচনা হবে ‘চলমান দর-কষাকষি-সংশ্লিষ্ট বিষয়’ নিয়ে। তবে আলোচনার মূল ফোকাস থাকবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদার করার উপর।
বার্তা সংস্থা এএফপি তেহরান থেকে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধের কারণে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মুনিরের সফর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি মন্তব্য করেন, হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তাহীনতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী। প্রণালীটি সাধারণত তেল ও গ্যাস পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
তবে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শুরু করা যুদ্ধের পর ইরান সেখানে অবরোধ আরোপের চেষ্টা চালিয়েছে। যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। জুনে দেশটি একটি সমঝোতা স্মারক তৈরিতে সহায়তা করেছিল, কিন্তু ওই সমঝোতা বেশি দিন কার্যকর হয়নি।
তেহরান এখনো বিশ্বাস করে যে, যেকোনো শান্তিচুক্তির ভিত্তি হওয়া উচিত ওই সমঝোতা স্মারক। জুনের ওই সমঝোতার পর মুনিরের এটি হবে পঞ্চম সফর।
সেপ্টেম্বরের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আর কোনো হামলা চালায়নি। তবে দেশটিতে আবারও যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বাকাই বলেন, ‘আমরা দিনরাত এই আশঙ্কার মধ্যেই রয়েছি। এখন কথা বলার সময়ও আবার যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’
সোমবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সফরের পর মুনিরের এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষীর মধ্যে ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা বিতরণ করেছেন।
আজ মঙ্গলবার বিকালে রাজশাহীর হাজী মুহাম্মদ মহসীন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আখচাষীদের প্রণোদনা প্রদান ও জনসভায় প্রধানমন্ত্রী কম্পিউটারে বোতাম টিপে এই অর্থ সংশ্লিষ্ট চাষীদের মোবাইল একাউন্টে প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেন, ‘এখন আমি কম্পিউটার একটা বোতাম চাপ দেব। চাপটা দেওয়ার সাথে সাথে কয়েক মিনিটের মধ্যে আখচাষী ভাইদের একাউন্টে সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া সহযোগিতা কয়েক মিনিটের মধ্যে ইনশাল্লাহ পৌঁছে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার আখচাষীদের সহযোগিতার জন্য মোট ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। বরাদ্দের অর্থ ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। আমি আশা করছি কৃষকদের এ সহযোগিতা তাদের আখ চাষে সহায়তা করবে।’
প্রধানমন্ত্রী ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে কম্পিউটারের বোতাম চাপেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় জনসভাস্থলে উপস্থিত হাজারো মানুষও সমস্বরে ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চারণ করে এবং উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে ১৫ জন আখচাষীকে চেক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।
এরা হলেন, আবু সাঈদ চান, আবদুল আউয়াল মালেক, আবদুল মান্নান মন্ডল, এমাজ উদ্দিন, মো. কাহার, গোলাম রাব্বানী, সবিতা রানী, জালাল উদ্দিন মৃধা, জিয়াউল হক, মহিদুল ইসলাম, আবদুল মাজেদ, নিরান্দ কুমার ঘোষ, শামীমুর রহমান, রীমা খাতুন ও রফিকুল ইসলাম।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এই সমাবেশে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেন। জনসভায় সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী ও পুরুষরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে জনসভাস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা তাঁকে স্বাগত জানান।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
জনসভা শেষে রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
রাজশাহীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ