শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৫৫ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় উপজেলা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক সদস্যকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টার দিকে উপজেলার ফুকুরহাটি ইউনিয়নের নিজ বাড়ি থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. শাহীন সাজিদ (৩৮), যিনি মানিকগঞ্জ জেলা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। তিনি ফুকুরহাটি ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত শহীদুল্লাহর পুত্র।
থানা সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পুলিশের দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, মামলায় তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিংবদন্তি ভারতীয় সংগীতশিল্পী জুবিন গার্গের মৃত্যুর এক বছর পূর্ণ হলো শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর)। ২০২৫ সালের এই দিনে সিঙ্গাপুরে আকস্মিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আসাম শোকে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল। এক বছর পরও তার গান, স্মৃতি ও সৃষ্টির মধ্যে প্রিয় শিল্পীকে খুঁজে ফিরছেন অসংখ্য ভক্ত। তবে মৃত্যুর এক বছর পরও তাকে ঘিরে চলমান হত্যা মামলার বিচার এখনও শেষ হয়নি।
জুবিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে আসাম শোকের সাগরে ভেসে যায়। রাজ্যজুড়ে অভূতপূর্ব শোকের আবহ তৈরি হয়। প্রিয় শিল্পীর শেষযাত্রায় অংশ নিতে রাস্তায় নেমে আসেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটির কাছে সোনাপুরের কামারকুচিতে অনুষ্ঠিত শেষকৃত্যে আনুমানিক ১৫ লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশাল এই জনসমাগম শুধু ভারতেই নয়, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
তবে জুবিনের মৃত্যুর কারণ নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন তৈরি হয়। সিঙ্গাপুরের তদন্তে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনাজনিত পানিতে ডুবে মৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হলেও আসামে তদন্তের গতিপথ ভিন্ন দিকে এগোয়।
জানা যায়, একটি ব্যক্তিগত ইয়টে করে লাজারাস আইল্যান্ডের কাছে গিয়েছিলেন জুবিন। পরদিন তার নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভালে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসামে ৬০টির বেশি এফআইআর দায়ের হয়। এরপর ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি গঠন করে রাজ্য সরকার।
তদন্তের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ঘটনাটি হত্যা মামলার দিকে মোড় নেয়। ২০২৫ সালের ১ থেকে ১০ অক্টোবরের মধ্যে এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করে আসাম পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন সিঙ্গাপুরের অনুষ্ঠানটির আয়োজক শ্যামকানু মহন্ত, জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা, সংগীতশিল্পী অমৃতপ্রভা মহন্ত ও শেখর জ্যোতি গোস্বামী, জুবিনের চাচাতো ভাই সন্দীপন গার্গ এবং তাঁর দুই ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যা, অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। পরে এসআইটি প্রায় আড়াই হাজার পৃষ্ঠার চার্জশিট দাখিল করে। মামলার নথিপত্রের মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ১২ হাজারেরও বেশি পৃষ্ঠা।
২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের লাজারাস আইল্যান্ডের কাছে সাঁতার কাটতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পানিতে অচেতন হয়ে পড়েন জুবিন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সিপিআর দেওয়া হয়। পরে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৫২ বছর।
সংগীতজীবনে জুবিন গার্গ অসংখ্য স্মরণীয় গান রেখে গেছেন। ‘গ্যাংস্টার’ সিনেমার ‘ইয়া আলি’ তাকে ভারতজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। তার কণ্ঠে ‘কৃষ ৩’ সিনেমার ‘দিল তু বাতা’সহ আরো বহু গান শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অনেক গানই পরিণত হয়েছিল চার্টবাস্টারে, ছড়িয়ে পড়েছিল ভারতের নানা প্রান্তে।
শুধু হিন্দি গানেই সীমাবদ্ধ ছিল না জুবিনের সংগীতযাত্রা। বাংলা সিনেমাতেও তার কণ্ঠে বেশ কিছু গান শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্রে। বাংলাদেশের সিনেমাতেও ছিল তার উপস্থিতি। ঢালিউডের ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’ সিনেমার ‘ঢাকার পোলা’ গানটিতেও কণ্ঠ দিয়েছিলেন এই শিল্পী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় আগুনের ঘটনা ঘটেছে এবং সেখানে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী দেখা গেছে। শনিবার এ বিষয়ে তথ্য দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স, যা প্রত্যক্ষদর্শীদের উপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের কাছাকাছি আগুনের শিখা এবং আকাশে কালো ধোঁয়ার বড় কুণ্ডলী স্পষ্টভাবে দেখা যায়। তবে, আগুনের উৎপত্তির কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি আরবের সরকারি গণমাধ্যম দপ্তরের কাছে এই ঘটনায় মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও, তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, সৌদি আরব এবং ইয়েমেনের হুতি আন্দোলনের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আগুনের ঘটনা এবং চলমান উত্তেজনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডেঙ্গু প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান ‘ক্লিনিং ডে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এই অভিযান পরিচালিত হয়।
এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাগণ। কর্মসূচির আওতায় আগামী তিন মাস ধরে প্রতি শনিবার সিটি করপোরেশনের সব ওয়ার্ডে ধারাবাহিকভাবে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান চলবে।
কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংস করা, মশক নিধন কার্যক্রমকে জোরদার করা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
শনিবারের অভিযানে ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলের ৭৫টি ওয়ার্ডের আবাসিক এলাকা, সড়ক, অলিগলি, ড্রেন, নালা, নির্মাণাধীন ভবন, পার্কিং এলাকা, ছাদ ও পরিত্যক্ত স্থাপনায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। যেখানে জমে থাকা পানি পাওয়া গেলে তা অপসারণ করা হয় এবং এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত হলে তা ধ্বংস করা হয়।
এছাড়া, পানি জমতে পারে এমন ডাব বা নারকেলের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, ফুলের টবসহ বিভিন্ন সামগ্রী পরিষ্কার করা হয়। নির্ধারিত এলাকাগুলোতে লার্ভিসাইডিং ও অ্যাডাল্টিসাইডিং কার্যক্রমের পাশাপাশি সড়ক, ফুটপাত ও আশপাশের এলাকা থেকে ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সম্পৃক্ত করতে ৭৫টি ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এই র্যালিতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মশক নিধনকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও স্থানীয় নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন। র্যালির মাধ্যমে বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার গুরুত্ব তুলে ধরা হয় এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
ডেএসসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র ওষুধ ছিটানো ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট নয়। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি নগরবাসীকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। এ কারণে নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতি শনিবার মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করা হবে।
ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছে ডিএসসিসি। একই সঙ্গে বাসাবাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ