আরমান খান ছামির, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট
০৯:৫৮ পি.এম
বাংলাদেশ পলিটেকনিক শিক্ষক সমিতি, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখার ২০২৬-২৭ টার্মের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে গণনা কার্যক্রম শেষ করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ফলাফল ঘোষণা করে। নির্বাচনে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায় এবং দিনব্যাপী ক্যাম্পাসে ছিল প্রাণবন্ত পরিবেশ।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী সভাপতি পদে মাহবুব হাসান রাব্বু ৫৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জিল্লুর রহমান খান পেয়েছেন ৪৪ ভোট এবং মোহাম্মদ মুর্শিদ আলম সিদ্দিকী পেয়েছেন ৪১ ভোট।
সহ-সভাপতি পদে মোহাম্মদ সাইফুজ্জামান ৯৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। অপর প্রার্থী মোক্তার আহমেদ পেয়েছেন ৪৯ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক পদে চার প্রার্থীর মধ্যে মোঃ আব্দুল গফুর সর্বোচ্চ ৬৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এ পদে তসলিম উদ্দিন পেয়েছেন ৬০ ভোট, তানভীর মোহাম্মদ ফয়সাল ১২ ভোট এবং আনোয়ার হোসেন ৭ ভোট পেয়েছেন।
যুগ্ম সম্পাদক পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে মোঃ আলম রানা ৭৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মনিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৭১ ভোট।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মোহাম্মদ সোলাইমান ৫২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এ পদে মোঃ বাচ্চু মিয়া পেয়েছেন ৫১ ভোট এবং মোঃ খলিল মিয়া পেয়েছেন ৪০ ভোট।
অর্থ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ সজীব ৮৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। অপর প্রার্থী মোঃ মোবারক হোসেন পেয়েছেন ৫৭ ভোট।
প্রচার ও জনসংযোগ সম্পাদক পদে আলমগীর হোসেন ৮৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মোঃ আজহারুল ইসলাম পেয়েছেন ৫৯ ভোট।
সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ শিক্ষক সমাজের আস্থার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষকদের পেশাগত অধিকার সংরক্ষণ, কল্যাণ নিশ্চিতকরণ, কর্মপরিবেশ উন্নয়ন এবং কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।
সব মিলিয়ে, শিক্ষক সমাজের গণতান্ত্রিক চর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে ডিপিআই শিক্ষক সমিতির ২০২৬-২৭ টার্মের নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিন ভৈরব উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর পরিদর্শন করেছেন এবং উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেছেন। পরিদর্শন শেষে তিনি অসহায় ও দুঃস্থ নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন।
সোমবার (৮ জুন) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিনি ভৈরবের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর পরিদর্শন করেন। পরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে. এম. মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কিশোর কুমার ধর, ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ, র্যাব-১৪ সিপিসি-২ ভৈরব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার তপন সরকার, রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ আহমেদ, ভৈরব বাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. আল আমিন, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ সারোয়ার বাতেন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক চন্দন গোপাল সুরসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম, সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি দপ্তর প্রধানদের করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এ সময় তিনি ভৈরবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, সেবাগ্রহীতাদের দ্রুত ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিতকরণ এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে সকল সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, সকালে ভৈরব থানায় পৌঁছে জেলা প্রশাসককে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে তিনি ভৈরব সরকারি কে.বি. পাইলট মডেল হাই স্কুল, ভৈরব পৌরসভা, পৌর ভূমি অফিস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়ন পরিষদ এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে তিনি ভৈরব উপজেলার ১০ জন অসহায় ও দুঃস্থ নারীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ কার্যক্রম এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ ফিলিপাইনের মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে ৭.৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৩২ জন নিহত হয়েছে। সোমবার স্থানীয় সময় সাড়ে সাতটায় এই ভূমিকম্পটি আঘাত হেনেছে।
এটির ফলস্বরূপ, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তবে কয়েক ঘণ্টা পর এই সতর্কতার মধ্যে কিছু বাতিল করা হয়।
ভিডিওতে দেখা গেছে, জলিবি ফাস্ট ফুড রেস্তোরাঁ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে গেছে। কিছু এলাকায় বড় ধরনের ভূমিধসের ঘটনাও রেকর্ড করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিভিন্ন প্রদেশে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। প্রায় দুই ডজন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং ১০ হাজার বাসিন্দাকে আগেভাগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদান’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দিচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বশান্তি রক্ষায় যে ত্যাগ স্বীকার করেন, তা অনেকেই যথেষ্ট উপলব্ধি করেন না। তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশকে ভালোবেসে ও দেশের সম্মান রক্ষায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।’
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদান’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। আলোচনাসভাটি আয়োজন করে ডিফেন্স জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিজাব)।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী সদস্যরা যে ভূমিকা রাখেন, আমি আফ্রিকার দেশগুলোতে গিয়ে বিভিন্ন কনফারেন্সে দেখেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে, আমরা বাংলাদেশিরা সেটা যথেষ্ট উপলব্ধি করি না। তারা যে অর্জন করে আনেন, সেটা জীবনের চেয়েও বড় নয়। তারা জীবন বাজি রেখে কাজ করে যাচ্ছেন।’
বিশ্ব শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া সদস্যদের পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি তাদের পরিবারের প্রতিও আজ স্মরণ করতে চাই। প্রত্যেকটি পরিবার তাদের বাবা, স্বামী, ভাইকে পাঠিয়ে দিচ্ছেন, তারা ফেরত আসবেন কি না, সেটা তারা জানেন না। কিন্তু সেই দেশপ্রেম, বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে তারা এই কাজটি করছে।
তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের স্যালুট জানাই। বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকেও তাদের স্যালুট জানাই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব সময় বিষয়টি নিয়ে সচেষ্ট রয়েছে। ভবিষ্যতেও শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে কাজ করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, আপনারা যেকোনো প্রয়োজনে আমাদের কাছে এলে আমরা সেটি গুরুত্বের সঙ্গে নেব এবং আপনাদের সহযোগিতা করব।
ডিজাব সভাপতি আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং সামিট পাওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) ড. মনিরুল ইসলাম আখন্দ, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমোডর (অব.) এম এম জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ার কমোডর মোহাম্মদ মুশতাকুর রহমান (এলপিআর)।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন ডিজাবের সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম মাসুম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মেজর জেনারেল (অব.) ড. মনিরুল ইসলাম আখন্দ, কমোডর (অব.) এম এম জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া এবং এয়ার কমোডর মোহাম্মদ মুশতাকুর রহমান (এলপিআর)। তারা বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সাফল্য কেবল সামরিক দক্ষতার ফল নয়; বরং মানবিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও পেশাদারির সমন্বিত প্রতিফলন।
বক্তারা আরো বলেন, সিয়েরা লিওনের পুনর্গঠনে বাংলাদেশের অবদান, হাইতিতে প্রথম পূর্ণাঙ্গ মুসলিম নারী পুলিশ ইউনিট মোতায়েন, আফ্রিকায় স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম এবং সম্প্রতি জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ ‘দ্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ অর্জন বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ডিফেন্স জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিজাব) সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, অনেকের ধারণা রয়েছে শান্তিরক্ষা মিশনে গেলে শান্তিরক্ষী সদস্যরা বিপুল পরিমাণ অর্থ পান। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই অর্থের বড় একটি অংশই বাংলাদেশ সরকার পেয়ে থাকে।
শান্তিরক্ষা মিশন এলাকা ঘুরে আসার অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দায়িত্ব পালন করা শান্তিরক্ষীরা অনেক সময় নিজেদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত থেকেও বঞ্চিত হন। দেশে জন্ম নেওয়া সন্তানকে ছোঁয়া দেখার সুযোগ হয় না অনেকের। ভিডিও কলে সন্তানকে দেখে তারা নিজেদের সান্ত্বনা দেন। মা-বাবা কিংবা নিকট আত্মীয় মারা গেলেও অনেক সময় দেশে ফিরে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান না শান্তিরক্ষা মিশনে থাকা সদস্যরা।’
তিনি আরো বলেন, ‘শান্তিরক্ষীরা প্রতিদিন নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিনিয়ত মৃত্যঝুঁকি নিয়ে তারা দেশের সম্মান ও বিশ্ব শান্তি রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন।’
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক, সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক। তিনি বলেন, ‘১৯৮৮ সালে মাত্র ১৫ জন সামরিক পর্যবেক্ষক দিয়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে দেশটি শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪৩টি দেশে ৬৩টিরও বেশি মিশনে দুই লাখ ছয় হাজারের বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করেছেন।’
তিনি জানান, বর্তমানে জাতিসংঘের বিভিন্ন মিশনে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ৪ হাজার ২১২ জন সদস্য কর্মরত রয়েছেন। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার পথে আত্মত্যাগের অনন্য নজির স্থাপন করে এ পর্যন্ত ১৭৫ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী জীবন উৎসর্গ করেছেন।
অনুষ্ঠানে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদ, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান, ঢাবির শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. সাবের আহমেদ চৌধুরী, ডিজাবের সাবেক সভাপতি আবুল খায়ের ও মামুনূর রশীদ, সংগঠনের সিনিয়র সদস্য মাসুদ করিম, ডিক্যাবের সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েসসহ একাধিক গবেষক বক্তব্য রাখেন।
তারা শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান তুলে ধরে ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকারের নীতি-সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, ‘জাতিসংঘের চলতি বছরের প্রতিপাদ্য ‘ইনভেস্ট ইন পিস’ বা ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বৈশ্বিক অস্থিরতার এই সময়ে শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ, দক্ষতা ও মানবিক উদ্যোগ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নতুন আশার সঞ্চার করছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আত্মোৎসর্গকারী বাংলাদেশি শহীদ শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় শান্তিরক্ষীদের অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়।
এ ছাড়া সেমিনারে ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের পাবলিক অ্যাফেয়ার্স সেকশনের প্রেস স্পেশালিস্ট মাহাদি আল হাসনাতসহ ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা স্পারসোর বিভিন্ন বিভাগসমূহ ঘুরে দেখেন। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহ তাদের উদ্ভাবিত ও গবেষণাকৃত কর্মসূচি সম্পর্কে ব্রিফ করেন। এসময় সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, পরিদর্শনকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষার সাথে স্পেস এবং রিমোট সেন্সিং-এর সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। মহাকাশ গবেষণা এবং রিমোট সেন্সিং (দূর অনুধাবন) প্রযুক্তিকে দেশের প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তায় আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করার বিষয়ে জোর দেওয়ার জন্য তিনি নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি মহাকাশে বাংলাদেশের তৈরি নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেন।
এছাড়া, সীমান্ত পর্যবেক্ষণ, কৌশলগত মানচিত্র তৈরি এবং ভূ-স্থানিক বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে স্পারসোর ভূমিকা বৃদ্ধি করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা স্পারসোতে সংগৃহীত স্যাটেলাইট ডেটা এবং গবেষণালব্ধ তথ্যগুলো যাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর বিভিন্ন অপারেশনাল ও গবেষণামূলক কাজে আরও দ্রুত ও সহজে কাজে লাগানো যায়, সে সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন। স্যাটেলাইট ইমেজ প্রসেসিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং রিমোট সেন্সিংয়ের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগুলো স্পারসোতে যুক্ত করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কারিগরি সক্ষমতা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এছাড়া, বাংলাদেশ যেহেতু প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ একটি দেশ, তাই ঘূর্ণিঝড়, বন্যা বা খরার মতো দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা পেতে এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে দূর অনুধাবন প্রযুক্তিকে আরও নিখুঁতভাবে ব্যবহার করার নির্দেশনা প্রদান করেন। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ফসলের অবস্থা, মাটির আর্দ্রতা, বনাঞ্চল এবং পানিসম্পদ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সরকারকে সঠিক তথ্য সরবরাহ করার বিষয়ে তাগিদ দেন।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা স্পারসোতে এসে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন এবং স্পারসো এর চেয়ারম্যান অতিরিক্ত সচিব মো. রাশিদুল ইসলাম। এ সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্পারসোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ