১২:৪২ এম
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে লবণের কারখানায় আগুন লাগার একটি ঘটনা ঘটেছে। এতে দগ্ধ হয়েছে মোট ১০ জন এবং হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজন মারা গেছেন। তারা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকায় কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেডের কারখানায় আগুন লেগেছিল।
অন্যদিকে, আইসিইউতে থাকা বাকি তিনজনের অবস্থাও ‘আশঙ্কাজনক’ বলে জানিয়েছে হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন।
আরও পড়ুন: চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সাংবাদিক লাঞ্ছিত, বিএনপির সকল সংবাদ বর্জনের ঘোষণা
নিহতদের মধ্যে ৩২ বছরের দিদারুল আলম বোয়ালখালী উপজেলার পৌর সদরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রুহুল আমিনের ছেলে। তার শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। আরেকজন ৪৫ বছর বয়সি মোহাম্মদ নুরুল আলমের বাড়ি পটিয়া উপজেলার হুলাইন গ্রামে। তার শরীরে ৬৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
১০ জন দগ্ধের মধ্যে পাঁচজন কারখানাটির শ্রমিক এবং অপর পাঁচজন ঠিকদারের নিয়োগ করা শ্রমিক হিসেবে সেখানে মেরামত কাজ করছিলেন। ওই ঘটনার পর বিকালে পাঁচজনকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়, যার মধ্যে দুজন মারা যান।
দগ্ধ বাকি পাঁচজনের মধ্যে তিনজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন, অন্য দুজন প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন।
কারখানাটিতে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে পুলিশ বলছে, ওই কারখানার বড় জেনারেটরসহ বেশ কিছু যন্ত্র নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেগুলো ঠিক করতে পাঁচটি ওয়েল্ডিং মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছিল। তখন শর্ট সার্কিটের কারণে আগুন লেগে দুটি এসি বিস্ফোরণ ঘটে।
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে সাঁওতাল শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষাদান দেখে মুগ্ধ নরওয়ের প্রতিনিধি দল
ফায়ার সার্ভিস বলছে, আগুন লাগার বিষয়টি তাদের কাছে ‘গোপন করা হয়েছে’। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা কিছুই পায়নি। আগেই আগুন নিভিয়ে ফেলা হয় এবং দগ্ধদের সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালখালী থানার ওসি মোজাফফর হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, সরেজমিন পরিদর্শন করে এবং কারখানার কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে তিনি বুঝতে পেরেছেন, তাদের বড় জেনারেটরটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেটির পাশাপাশি কয়েকটি মেশিনও নষ্ট ছিল।
সেগুলো মেরামত জন্য পাঁচটি ওয়েল্ডিং মেশিন আনা হয়েছিল। ওয়েল্ডিং মেশিন প্রচুর বিদ্যুৎ টানে, যার ফলে ভোল্টেজ আপ-ডাউনের একটি পর্যায়ে সেখানে আগুন লেগে যায়। এতে থাকা দুটি এসি বিস্ফোরণ ঘটায়, কারণ এসি মানে গ্যাস বোমা। ফলে সেখানে উপস্থিত যারা ছিলেন তারা মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়ে যান।
ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “আগুন লাগার বিষয়টা আমাদের কেউ কিছু জানায়নি। এটি হাইড করা হয়েছে। আমাদের টিম সেখানে গিয়েও কিছু পায়নি। পরে আমরা শুনলাম, দগ্ধ হয়ে ১০ জন মেডিকেলে ভর্তি হয়েছেন।”
আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে মাটি ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমকে গুলি করে হত্যা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন