ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এসডিজি অর্জনে নারী নেতৃত্ব অপরিহার্য : শামা ওবায়েদ


এসডিজি অর্জনে নারী নেতৃত্ব অপরিহার্য : শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য নারীর ক্ষমতায়ন ও তাদের নেতৃত্ব শক্তিশালী করা অপরিহার্য।’ তিনি উপরোক্ত মন্তব্যটি আজ বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে জাতিসংঘের প্রকল্প সেবা বিষয়ক দপ্তর (ইউএনওপিএস) বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বিল্ডিং এ মডেল ফর এসডিজি লোকালাইজেশন : এসডিজি-৫ অ্যান্ড এসডিজি-১৬’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, আজ যেসব উদ্যোগ তরুণ নারীদের ক্ষমতায়িত করছে, তা আগামী দিনের একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইউএনওপিএস, ইউএন উইমেন-এর সমন্বয়ে এবং নারীপক্ষের অংশীদারিত্বে যৌথ এসডিজি ফান্ডের সহায়তায় বাস্তবায়িত ‘এনহ্যান্সিং উইমেনস পলিটিক্যাল লিডারশিপ থ্রু এসডিজি-৫ অ্যান্ড এসডিজি-১৬ লোকালাইজেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক যৌথ কর্মসূচির অধীনে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে বাস্তবায়িত এসডিজি স্থানীয়করণ মডেলের অভিজ্ঞতা, অর্জন, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরা হয়। তরুণ নারী নেত্রী, শিক্ষার্থী, পরামর্শক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নারীর নেতৃত্ব বিকাশ এবং স্থানীয় পর্যায়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইউএনওপিএস বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধরন। অন্যদিকে, ইউএন উইমেন বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ নবনীতা সিনহা লিঙ্গ সমতা বিষয়ক এসডিজি ৫ এবং শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান বিষয়ক এসডিজি ১৬-এর অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে অংশীদারিত্বের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। বাংলাদেশের পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) নাসরীন জাহান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জাতীয় সঙ্কল্পগুলোকে স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নাসরীন বলেন, এসডিজির স্থানীয়করণ জাতীয় অগ্রাধিকারকে কমিউনিটি পর্যায়েও কার্যক্রমে প্রতিফলিত করতে সহায়তা করে। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার এবং নারীর নেতৃত্বে বিনিয়োগ জরুরি। কর্মশালায় এসডিজি স্থানীয়করণ মডেলটি উপস্থাপন করেন নারীপক্ষের নির্বাহী সদস্য মাহীন সুলতান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আবদেল ওয়াহাব সাইদানি, সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং হলিক্রস গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সিস্টার কল্পনা কস্তা অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। ‘কেউ যেন পিছিয়ে না থাকে’ তা নিশ্চিত করতে কর্মশালায় যৌথ অংশীদারিত্ব এবং স্থানীয় নেতৃত্বের সমাধানের মাধ্যমে এসডিজি স্থানীয়করণকে এগিয়ে নিতে ইউএনওপিএস, ইউএন উইমেন, নারীপক্ষ, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগীদের যৌথ প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আর্জেন্টিনা ভক্তদের ‘নির্লজ্জ’ বললেন ওমর সানী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০২ পি.এম


আর্জেন্টিনা ভক্তদের ‘নির্লজ্জ’ বললেন ওমর সানী

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়কে ঘিরে যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস চলছে, তখন ভিন্ন সুরে কথা বললেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেতা ওমর সানী। ভিডিও বার্তায় তিনি ফিফার সমালোচনার পাশাপাশি আর্জেন্টিনার কিছু সমর্থকের আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ভিডিওতে ওমর সানী বলেন, তিনি নিজেও ফুটবলের একজন অনুসারী এবং অভিনয়ে আসার আগে নিয়মিত ফুটবল খেলতেন। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বকাপ দেখে আসছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, ফিফা ইরান ও মিশরের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করছে। তার ভাষায়, এমন কর্মকাণ্ড দুঃখজনক এবং প্রশ্নবিদ্ধ।

ব্যক্তিগতভাবে ব্রাজিলের সমর্থক ওমর সানী বলেন, ব্রাজিলের পরাজয় তিনি মেনে নিয়েছেন, কারণ তার মতে দলটি সেদিন ভালো খেলতে পারেনি। তবে আর্জেন্টিনার কিছু সমর্থকের বিজয় উদযাপনের ধরন তার ভালো লাগেনি।

তার ভাষায়, ‘ব্রাজিল হেরেছে, আমি এটাকে অন্যায় বলি না। ব্রাজিল খারাপ খেলেছে, তাই হেরেছে। কিন্তু আর্জেন্টিনার কিছু নির্লজ্জ ভক্ত বিজয় উদযাপন করছে। এভাবে উল্লাস করার কোনো কারণ আমি দেখি না।’

ভিডিওর আরেক অংশে ফিফাকে নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেন এই অভিনেতা। তিনি দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ফিফাকে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে।

তবে বক্তব্যের শেষদিকে নিজের মন্তব্যে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমাও চান ওমর সানী। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, লিওনেল মেসিকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করেন, তবে সেটি কোনো দলের সমর্থকদের সব আচরণের সঙ্গে একমত হওয়ার অর্থ নয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীকে মারধর; ছাত্রদল নেতাদের নামে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৬ পি.এম


চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীকে মারধর; ছাত্রদল নেতাদের নামে মামলা
রাজশাহীতে জোর পূর্বক চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদ করায় মো. শাহীন আলী নামক এক কলেজ ছাত্রকে বেধড়ক মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শাহীন রাজশাহী কলেজের ছাত্র এবং রাজশাহী রুকইয়াহ অ্যান্ড হিজামা সেন্টারের পরিচালক। এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

মামলায় এজহার মতে, শুক্রবার (৩ জুলাই) জুম্মার নামাজের পূর্বে শাহ মাখদুম থানা মোড়ে একটি দোকানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা লেনদেন করতে যান শাহীন। সেখানে এক বৃদ্ধকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মী কর্তৃক চাঁদাবাজি করতে খেয়াল করেন তিনি৷ পরে বৃদ্ধ কর্তৃক দোকানদারকে বিকাশে প্রেরিত ৩০ হাজার ওই ছাত্রদল নেতাকর্মীদের দিতে বলেন। এ ঘটনায় শাহীন প্রতিবাদ ও ভিডিও করতে গেলে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে আনুমানিক ৭ জন তাকে কাঠ দিয়ে বেধড়ক পেটান এবং এতে তার ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার দামি মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলা হয়।

এজাহারে তিনি আরো উল্লেখ করেন, তাকে বেধড়ক পেটানোর ফলে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ চরমভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং তৎক্ষনাৎ এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷

সুস্থ হয়ে গত মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) তিনি শাহ মাখদুম থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ গড়িমসি করলেও পরে মামলা নিয়েছে বলে জানান শাহীন। তার দায়েরকৃত মামলা নাম্বার হলো–০৫।

মামলার এজাহারে, রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের সভাপতি শাকিল মন্ডল (আহাদ),  যুবদল কর্মী মো. পলাশ, ছাত্রদল কর্মী মো. আজিজুল ইসলামসহ অজ্ঞাত নামা ৪-৫ নেতাকর্মী আসামী করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী শাহীন আলী বলেন, আমি কোন অন্যায় করিনি, অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি। আমার চোখের সামনে এক বৃদ্ধের থেকে জোর করে চাঁদাবাজি করা হচ্ছিল দেশ সেরা রাজশাহী কলেজের ছাত্র হিসেবে, দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে আমার চোখের সামনে ঘটা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা আমার কাছে নৈতিক দায়িত্ব মনে হয়েছে। এর জন্য আমাকে অমানবিকভাবে মারধর করা হলো। আমি অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে এসব সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের এবং বিচার দাবি করছি।

অভিযুক্ত ছাত্রনেতা শাকিল মন্ডল আহাদের মন্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

তবে এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন চাঁদাবাজির শিকার হওয়া দুলাল মন্ডল। তিনি বলেন, আমাকে ফাঁদে ফেলে চরম মারধর করা হয়েছে। এরপর ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। আমার কাছে যা টাকা ছিল সাথে সাথে নিয়ে নিয়েছে। বাড়ি থেকে আমার মেয়ের মাধ্যমে বিকাশে টাকা নিয়ে তাদেরকে দিয়ে আমি যলদি ওখান থেকে চলে আসি৷ ওরা আমার জাতীয় পরিচয় পত্রের ছবি রেখে দিয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে শাহ মাখদুম থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আব্দুল আলীম বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে মারধর ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় মামলা রজু করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতার করতে অভিযান চলমান রয়েছে। তবে চাঁদাবাজির ঘটনা কেন হয়েছে, কি বিষয় আমরা এখনো জানতে পারেনি।
 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৭ পি.এম


মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে কোনো একক কার্যকর পদ্ধতি নেই।

তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমেই এ ধরনের রোগ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এ লক্ষ্যে গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত সহযোগিতা অপরিহার্য।

সংবাদ সম্মেলনে, সচিব আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মশক নিধনে গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন বিষয়ক শোকেসিং পর্যালোচনা উপলক্ষ্যে আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে এই কথা বলেন।

সচিব আরো বলেন, গবেষণায় সফলতা অর্জনের জন্য গবেষকদের দৃঢ় অঙ্গীকার, নিষ্ঠা এবং লক্ষ্যভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা অপরিহার্য। তাঁর বিশ্বাস, একটি সুস্পষ্ট বৈজ্ঞানিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে গবেষণা পরিচালনা করা হলে তার বাস্তবসম্মত ও কার্যকর ফলাফল পাওয়া সম্ভব।

তিনি মশার জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে কার্যকর হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করতে আধুনিক ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গবেষণালব্ধ সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিগুলো যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে পরীক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় অংশগ্রহণকারী গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর তাঁদের মতামত প্রদান করেন।

সভায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহম্মদ আশরাফ আলী ফারুক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, আইসিডিডিআরবি, আইইডিসিআর-এর অধ্যাপক ও গবেষকবৃন্দ, অস্ট্রেলিয়া থেকে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণকারী প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষক ড. মুর্শিদা খান, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১০ পি.এম


রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, সরকার রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

এ কথা তিনি বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের তারকা চিহ্নিত সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক প্রশ্নের জবাবে বলেন।

মো. সেলিম রেজার প্রশ্নটি ছিল, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা? থাকলে সেটা কী এবং কবে নাগাদ এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে?

এমন প্রশ্নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মো. সেলিম রেজাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে গঠিত সরকার রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ রয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পূর্বে ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯২ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার ঐ সময়ের রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান প্রতিষ্ঠায় সফল কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।

তাদের সুযোগ্য দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা দ্রুততম সময়ে আত্মীয় স্বজনদের কাছে ফিরে যেতে সক্ষম হয়েছিল।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়েও পূর্বের সেই নীতির আলোকে আমরা টেকসই, শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানের পথ অনুসন্ধান করছি। বিএনপি সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সকল মঞ্চে শক্তিশালী কূটনৈতিক চেষ্টায় নিয়োজিত রয়েছে।

সরকার রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক মানবিক আলোচনার কেন্দ্রে স্থাপন করার লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশের ও দাতা সংস্থার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ইউএন এইচসিআর (UNHCR), ইউ এন ওমেন (UN Women) এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রগ্রাম (WFP) এর প্রতিনিধিদল কcoxবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশে সরকারি সফরে এসে কcoxবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এই সফরের ফলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য তুরস্কের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আমরা আশা করছি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, গত সেপ্টেম্বর মাসে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে জাতিসংঘে একটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন আয়োজিত হয়েছিল। ভবিষ্যতে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বজনমতকে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণগুলো বিবেচনায় ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার মামলার প্রতি বাংলাদেশ নৈতিক সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। রোহিঙ্গা সংকটের কার্যকর ও টেকসই সমাধান মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিহিত। সেই জন্য রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, টেকসই ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়ানোর জন্য আমাদের কূটনৈতিক তৎপরতা ব্যাপকভাবে চলমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে দ্বিপাক্ষিক ফ্রন্টে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের পাশাপাশি অন্যান্য পক্ষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন ও আলোচনা চলছে। মূলধারার কূটনীতির পাশাপাশি confidence building এর অন্যান্য প্রক্রিয়া প্রয়োগের বিষয়ও বিবেচনাধীন রয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যাবাসনের বুনিয়াদ হিসেবে রোহিঙ্গাদের তথ্য যাচাইকরণ বা ভ্যারিফিকেশন প্রক্রিয়া নিয়মিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের তৃতীয় দেশ থেকে পুনর্বাসন বা প্রত্যাবাসনের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একটি জটিল, সংবেদনশীল এবং বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক বিষয়। এর সমাধানের গতিপ্রকৃতি রাখা যায় অনেকাংশেই রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক চাপ এবং সর্বোপরি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের উপর।

তিনি উল্লেখ করেন, রাখাইন রাজ্যে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির মধ্যে কার্যকর সংলাপ গঠনের প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমরা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে সংলাপ জোরদার করেছি। রোহিঙ্গাদের স্থায়ী, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।

বর্তমান মন্ত্রীসভা রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ বিষয় বজায় রাখার স্বার্থে এবং মানবিক সংকট মোকাবেলায় সুচিন্তিত ও বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ক্যাম্পগুলোর অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, স্বাগতিক কমিউনিটির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত রাখা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের ‘বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মায়ানমার নাগরিকগণের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটি’ অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে।

উল্লেখ্য, ক্যাম্পগুলোতে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স’ মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম তদারকি করছে।

বর্তমান সরকার বাস্তবসম্মত ও স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে আলোচনা এবং পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এই বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত জনগণকে সসম্মানে স্বদেশে ফিরিয়ে আনতে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এর আগে দুপুর ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%