০৬:৫৪ পি.এম
ঢাকা, ২২ আগস্ট ২০২৬ : ম্যাকাইর গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিনে অস্ট্রেলিয়া দাপট দেখিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্কের ছয় উইকেট এবং ক্যামেরন গ্রিনের লড়াকু অর্ধশতকের সুবাদে দিনটি অস্ট্রেলিয়ার পক্ষেই গেছে। প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশ ১০১ রানে পিছিয়ে রয়েছে।
প্রথমে ব্যাট করার জন্য নামার পর স্টার্কের দুর্দান্ত বোলিংয়ে বাংলাদেশ মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয়ে যায়। স্টার্ক ১২ রানে ৬ উইকেট নেন। এরপর শরিফুলের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়া ১৬৫ রান তুলতেই ৮ উইকেট হারিয়েছে। শরিফুল ৩৫ রানে ৬ উইকেট শিকার করেন। টেস্টের প্রথম দিনেই ১৮ উইকেট পতন হয়েছে।
ম্যাকাইতে টস জিতে অস্ট্রেলিয়া প্রথমে বাংলাদেশকে ব্যাট করতে পাঠায়। ইনিংসের প্রথম বলে বাংলাদেশ ওপেনার সাদমান ইসলামকে গ্রিনের ক্যাচে পরিণত করেন স্টার্ক।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ১৬ হাজার কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
নিজের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম দুই বলে স্টার্ক জোড়া উইকেট শিকার করেন। রানের খাতা খোলার আগে স্লিপে বো ওয়েবস্টারকে ক্যাচ দেয় তানজিদ হাসান। প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলার পর তিনি স্বল্প রানে আউট হন।
তানজিদের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু প্রথম বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন শান্ত। আসলে তিনি রিভিউ নিলেও আম্পায়ারস কলে আউট হন।
স্টার্ক পরপর দুই বলে দুই উইকেট নেয়ার পর হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন। কিন্তু বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম সেটি হতে দেননি।
স্টার্ক নিজের তৃতীয় ওভারে চতুর্থ উইকেটের দেখা পান। গালিতে গ্রিনকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন মোমিনুল। তিনি ৯ রান করেন।
আরও পড়ুন: সবজি কিনতে গেলে মনে হয় মাংস কিনছি, গরু-ইলিশের কথা মানুষ ভুলে যাবে: আসিফ মাহমুদ
এরপর চতুর্থ ওভারে ইনিংসে পঞ্চম উইকেট পড়ে যায়। ছয় নম্বরে নামা লিটন দাসকে লেগ বিফোর ফাঁদে ফেলেন স্টার্ক। এর ফলে ১২ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। স্টার্ক তার নিজের রেকর্ড ভাঙতে পারেননি। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৫ বলে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন।
স্টার্কের বিদ্যুতের মতো বোলিংয়ের সঙ্গে একেবারে বিপজ্জনক মুখোমুখি হয়ে উইকেট পতন ঠেকাতে মুশফিক ও মেহেদি হাসান মিরাজ কৌশলে খেলতে থাকেন। ৫০’র বেশি বল খেলে তারা ক্রিজে সেট হয়ে যান। কিন্তু ৫৪তম বলে এসে বিচ্ছিন্ন হন মুশফিক ও মিরাজ। ৪২ বলে ৫ রান করা মুশফিককে বোল্ড করে দেন প্যাট কামিন্স।
২১ রানে ষষ্ঠ উইকেট পতনে বাংলাদেশ সর্বনি¤œ ২৬ রানের লজ্জার এক রেকর্ড গড়ার মুখে পড়ে। সপ্তম উইকেটে ৫৫ বলে ১৫ রানের জুটিতে মিরাজ ও হাসান মাহমুদ বাংলাদেশকে লজ্জার হাত থেকে রক্ষা করেন।
মিরাজকে ৫১ বলে ১১ রানে বোল্ড করে কামিন্স তাদের জুটি ভাঙ্গেন। এরপর হাসানকে ১০ রানে জশ হ্যাজেলউড এবং তাসকিন আহমেদকে ১ রানে আউট করেন কামিন্স। ৩৯ রানে নবম উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪৩ রানে অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়ে।
আরও পড়ুন: এনসিপির নতুন কমিটিতে ৩ নেতার পদাবনতি, কারণ অজানা
দশম ও শেষ উইকেটে ৩৫ বলে ২৫ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে লজ্জার হাত থেকে রক্ষা করেন তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম। ৩টি চারে ১৯ বলে ইনিংসে সর্বোচ্চ ১৪ রান করা শরিফুলকে শিকার করে স্টার্ক বাংলাদেশকে ৬৪ রানে গুটিয়ে দেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে এটিই বাংলাদেশের সর্বনি¤্ন রান। ২ চারে ১১ রানে অপরাজিত থাকেন তাইজুল।
স্টার্ক ১০ ওভার বল করে ১২ রানে ৬ উইকেট নেন। ১০৭ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার ১৯তমবার ৫ বা ততোধিক উইকেট শিকার। এছাড়া কামিন্স ২৫ রানে ৩ উইকেট নেন।
জবাবে অস্ট্রেলিয়া উদ্বোধনী জুটিতে ২২ রানে প্রথম উইকেট হারায়। ৮ রান করা ম্যাট রেনশকে শিকার করেন তাসকিন।
অস্ট্রেলিয়ার আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেড ৪টি চারে রানের চাকা সচল রাখেন।
আরও পড়ুন: ‘বেহেশতের গ্যারান্টি দিতে পারব না, তবে উন্নয়নের গ্যারান্টি দিতে চাই’
দীর্ঘ ৮ম ওভারে প্রথমবারের মতো আক্রমণে এসে জোড়া উইকেট শিকার করেন শরিফুল। ২২ রান করা হেডকে বোল্ড করে শরিফুল। একই ওভারে মার্নাস লাবুশেনকে ৪ রানে বোল্ড করেন শরিফুল।
অস্ট্রেলিয়া ৪১ রানে ৩ উইকেট হারায়। চতুর্থ উইকেটে স্টিভেন স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিনের ১১২ বলে ৭৭ রানের জুটিতে অস্ট্রেলিয়ার লিড দলের স্কোর ১শ পার করে। বাংলাদেশ দলনায়ক শান্ত উইকেটের দেখা পেতে পাঁচ বোলার ব্যবহার করলেও মনে হচ্ছিল না উইকেট পাবেন। অবশেষে টাইগার দলের নেতা শরিফুলকে হাসির উজ্জ্বল মুখ দেখান। ৬টি চারে ৪২ রান করা স্মিথকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন শরিফুল। দলের রান ১১৮তে রাখতেই সাজঘরে ফিরে যান স্মিথ।
এরপর ১৪৫ থেকে ১৪৮ রানের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ৪ উইকেট হারায়। ক্যারিকে ৫ রানে বিদায় দেওয়ার পর শরিফুল বিধ্বংসী রূপ দেখান। নিজের নবম ওভারে ২টি এবং দশম ওভারে ১ উইকেট শিকার করেন।
শরিফুলের বলে ওয়েবস্টার গোল্ডেন ডাক ও কামিন্স খালি হাতে আউট হন। ১ রান করে শরিফুলের বলে বোল্ড হন স্টার্ক।
আরও পড়ুন: আইজিপি: দৃঢ় মনোবল নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পুলিশ
১৪৮ রানে অষ্টম উইকেট পতনের পর দিনের বাকী ৪২ বল বিপদ ছাড়া পার করেন গ্রিন ও নাথান লায়ন। নবম উইকেটে ১৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দিন শেষ করেন তারা। গ্রিন ৮ চারে ৫১ এবং লায়ান ১০ রানে অপরাজিত থাকেন।
শরিফুল ৩৫ রানে ৬ উইকেট শিকার করেন। ১৪ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার সেরা বোলিং। এছাড়া তাসকিন ও মিরাজ ১টি করে উইকেট নিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন