ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাসূল (সা.) চরিত্র ছিল কুরআনের বাস্তব প্রতিচ্ছবি জুমার খুতবা পূর্ব বয়ান


রাসূল (সা.) চরিত্র ছিল কুরআনের বাস্তব প্রতিচ্ছবি জুমার খুতবা পূর্ব বয়ান

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক আজ জুমার খুতবা পূর্ব বয়ানে উল্লেখ করেন, নবী (সা.) এর সিরাত ঈমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। আল্লাহর পর নবী (সা.) কে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা উচিত। নবীর নাম উচ্চারণ করলেই ঈমানের একটি অংশ প্রকাশ পায়। তিনি বলেন, নবী (সা.) খাতামুন নাবিয়্যিন, অর্থাৎ তিনিই শেষ নবী। খতিব আরো বলেন, যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তারা মোহাম্মদ (সা.) এর প্রতি অবতীর্ণ সকল বিষয়কে হক মনে করে ঈমান এনেছে, তাদের আল্লাহ ক্ষমা করবেন। আল্লাহ রাসূল (সা.) এর মাধ্যমে শরীয়তের নেয়ামত প্রদান করেছেন। তাঁর প্রসিদ্ধ নাম হলো মোহাম্মদ (সা.)। আল্লাহ রাসূল (সা.) এর প্রশংসা করেছেন। ফেরেশতাগণ, সমস্ত মাখলুকাত এবং যুগে যুগে নবীগণ নবী (সা.) এর প্রশংসা করেছেন। নবী (সা.) আল্লাহর সবচেয়ে বেশি প্রশংসা করেছেন, এ কারণেই তাঁর আরেক নাম আহমাদ।

আল্লাহ রাসূল (সা.) কে দুনিয়া ও আখেরাতে সম্মানিত করেছেন। আল্লাহ রাসূল (সা.) এর মাধ্যমে কুফর ও শিরক দূর করে দুনিয়ায় দ্বীনের আলো প্রতিষ্ঠা করেছেন। খতিব বলেন, নবী (সা.) এর শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণ করা সমাজে দুর্নীতি, অন্যায় ও অবিচারকে নির্মূল করবে। তিনি বলেন, কিয়ামতের আগে ঈসা (আ.) জমিনে আসবেন। তবে তিনি ইঞ্জিল কিতাবের বার্তা নিয়ে আসবেন না। তিনি আখেরি নবী (সা.) এর আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করবেন। খ্রিস্টানরা মুসলমানদের খ্রিস্টান বানানোর অপচেষ্টা করছে। খতমে নবুওয়্যাতের আকিদা ঈমানের আকিদা। খতিব বলেন, নবী (সা.) তওবার ডাক দিয়ে গেছেন। তিনি প্রতিদিন তওবা করতেন। নবী (সা.) বলেছেন, "তোমাদের জন্য তওবার দরজা ও রহমতের দরজা খোলা রয়েছে।" আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করতে হবে। সকল প্রকার পাপাচার ও গুনাহ থেকে ফিরে আসতে হবে। তাকওয়া অবলম্বন করতে পারলে আল্লাহ ইস্তেগফারের জীবন ও তওবার জীবন দান করবেন।

ঢাকার মোহাম্মদপুরস্থ শ্যামলী শাহী মসজিদের খতিব ড. মুফতি মো. মোরশেদ আলম সালেহী বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহ তাআলার সর্বশেষ রাসূল এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রেরিত শ্রেষ্ঠতম পথপ্রদর্শক। তাঁর মর্যাদা ও মাহাত্ম্য পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদিসে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। তিনি শুধুমাত্র একটি জাতি বা ভূখণ্ডের জন্য নন; তাঁর আগমন সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য আল্লাহর বিশেষ রহমত। আল্লাহ তাআলা বলেন, "আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।" সূরা আল-আম্বিয়া: ১০৭। নবীজির মর্যাদার আরেকটি দিক হলো, আল্লাহ তাআলা নিজেই তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে একটি আমল করেন এবং ফেরেশতাকুলসহ সকল মুমিন-মুমিনাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে মসজিদুল হারামে নামাজ ও কাবা শরিফের তাওয়াফ অব্যাহত

"নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ কর।" সূরা আল-আহযাব: ৫৬। এছাড়া আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, "আমি আপনার আলোচনাকে সমুচ্চ করেছি।" আল-ইনশিরাহ: ০৪। সহিহ হাদিসে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "কিয়ামতের দিন আমি আদমসন্তানের নেতা হব। সর্বপ্রথম আমার কবর উন্মুক্ত হবে, আমিই সর্বপ্রথম সুপারিশ করব এবং সর্বপ্রথম আমার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে।" সহিহ মুসলিম, হাদিস ২২৭৮। নবীজির আজমত উপলব্ধি করা মানে শুধু তাঁর প্রশংসা করা নয়; বরং তাঁর প্রতি গভীর ভালোবাসা, যথাযথ তাজিম ও সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁর আদর্শকে জীবনে ধারণ করা। রাসূল (সা.) এর চরিত্র ছিল কুরআনের বাস্তব প্রতিচ্ছবি। তিনি মানুষকে সত্য, ন্যায়, দয়া, ক্ষমা, আমানতদারি ও উত্তম চরিত্রের শিক্ষা দিয়েছেন। তাই নবীপ্রেমের প্রকৃত দাবি হলো—তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ, তাঁর প্রতি বেশি বেশি দরুদ ও সালাম পাঠানো এবং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে তাঁর মহান আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা।

নবীজির (সা.) আজমত আমাদের ঈমানকে শক্তিশালী করুক এবং তাঁর ভালোবাসায় আমাদের জীবন আলোকিত হোক।

মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী বায়তুল মামুর জামে মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমী আজ জুমার খুতবা পূর্ব বয়ানে বলেন, মজুদদারি, অবৈধ মুনাফা ও অপচয় রোধ করতে পারলেই দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট দূর করা সম্ভব। দুর্নীতি, দুঃশাসন ও চাঁদাবাজির সকল পথ রুদ্ধ করা শর্ত। রাজা-প্রজা, শাসক-শাসিত, ক্রেতা-বিক্রেতা ও সর্বসাধারণ সকলকেই তাকওয়া, আমানতদারি এবং ব্যবহারে সংযমী পন্থা অনুসরণ করতে হবে। প্রয়োজনীয় পণ্য অযথা মজুত, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মিথ্যা বলে দাম বাড়ানো, ওজনে কম দেওয়া, অস্বাভাবিক মুনাফার লোভে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ানো সম্পূর্ণ হারাম। তদ্রূপ বিনা প্রয়োজনে বেশি পণ্য কিনে জমিয়ে রাখা, গুজব শুনে আতঙ্কিত হয়ে বাজার খালি করা, প্রয়োজনের অতিরিক্ত জিনিস কিনে অন্যের সংকট সৃষ্টি করা ইসলাম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। সামর্থ্য অনুযায়ী স্থানীয় ও প্রয়োজনীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া নৈতিক দায়িত্ব। অনুরূপ বিদ্যুৎ সংকট দূরীকরণে মসজিদ-মাদরাসা, দোকানপাট, অফিস-আদালতসহ সব ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ব্যবহারে কোনোরকম অপচয় করা যাবে না। সার্বিক ক্ষেত্রে মনিটরিংসহ সংকট দূরীকরণে বৈধ পন্থায় নতুন নতুন উপায়ান্তর বের করার জন্য দক্ষ অভিজ্ঞ কৌশলীদের গবেষণার কাজ চালিয়ে যাওয়াও ইসলামের নির্দেশনা। সাথে সাথে মহান রবের কাছে পেছনের ভুলত্রুটি, অন্যায়-অবিচার ও গুনাহ থেকে পানাহ চেয়ে ক্ষমাপ্রার্থনা করা এবং তাঁর কাছেই আত্মসমর্পণ ও দোয়া অব্যাহত রাখা অপরিহার্য। কারণ এটা মহান আল্লাহর বান্দার প্রতি এক মহান পরীক্ষা। এই মহান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারলেই বান্দা সফলকাম। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, "আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে। আর আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।"— সূরা আল-বাকারা: ১৫৫। অন্যত্র তিনি বলেন, "ধ্বংস তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়; যারা মানুষের কাছ থেকে মেপে নিলে পূর্ণ নেয়, কিন্তু তাদেরকে মেপে বা ওজন করে দিলে কম দেয়।" সূরা মুতাফফিফীন: ১-৩। আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেন, "তোমরা অপচয় করো না। নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।" সূরা আল-ইসরা: ২৬-২৭। তিনি আরও বলেন, "তোমরা খাও, পান করো; কিন্তু অপচয় করো না।" সূরা আল-আ‘রাফ: ৩১। হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "যে ব্যক্তি মজুদদারি করে, সে অপরাধী।" সহিহ মুসলিম। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, "আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো; নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধি করবেন।"— সূরা নূহ: ১০-১২। হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতদেরকে এ জন্য দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন, যার বাংলা রূপ, হে আল্লাহ! আমাদের বাজার, রিজিক ও সম্পদে বরকত দিন। আমাদেরকে মূল্যবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য থেকে রক্ষা করুন। টাটকা, প্রশস্ত, পবিত্র ও হালাল রিজিক দান করুন। আমাদের অন্তরসমূহে ঐক্য সৃষ্টি করুন এবং আমাদের থেকে বিপদ, মূল্যবৃদ্ধি ও মহামারি দূর করুন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে উপরোক্ত বিধান পালন করা ও নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা দোয়া পাঠ করার তৌফিক দান করুন। আমিন। ঢাকাস্থ দক্ষিণ মুগদা ব্যাংক কলোনি রসুলবাগ জামে মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল্লাহ আল মাসউদ আজ জুমার পূর্ব বয়ানে বলেন, ঈমান শুধু মুখে কালিমা উচ্চারণের নাম নয়, বরং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) এর হুকুমের সামনে আন্তরিকভাবে আত্মসমর্পণ করার নাম। একজন মুমিনের জীবনে আল্লাহর বিধানই সর্বোচ্চ। নিজের পছন্দ, প্রবৃত্তি, স্বার্থ কিংবা সীমিত বুদ্ধির চেয়ে আল্লাহর হুকুমকে অগ্রাধিকার দেওয়াই মুমিনের বৈশিষ্ট্য। তাই একজন মুমিন সর্বদা আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের মানসিকতা লালন করে। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের পরিচয় দিতে ইরশাদ করেন—"তাদের কথা হলো, আমরা শুনলাম এবং আনুগত্য করলাম।" সূরা আন-নূর: ৫১।

খতিব বলেন, একজন মুমিন আল্লাহর বিধানকে নিজের পছন্দের ওপর স্থান দেয় এবং এর হেকমত জানা না থাকলেও তার হুকুম মেনে নেয়। যেমন একজন রোগী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিজের ইচ্ছার চেয়ে অগ্রাধিকার দেয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—"আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিলে কোনো মুমিন পুরুষ ও নারীর সে বিষয়ে নিজেদের কোনো পছন্দের অধিকার থাকে না।" সূরা আল-আহযাব: ৩৬।

আরও পড়ুন: আমিরাতে শুরু হলো আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব

খতিব বলেন, মানুষের মতামত ভুল হতে পারে, তাই কোনো বিষয়ে মতবিরোধ হলে মুমিন কুরআন-সুন্নাহর দিকে ফিরে যায় এবং এই বিষয়ে সমাধান পাওয়ার পর মুমিন নিঃসংকোচে তা মেনে নেয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—"কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতবিরোধ হলে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও।" সূরা নিসা: ৫৯। অন্যত্র ইরশাদ করেন—"তারা আপনার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিজেদের অন্তরে কোনো সংকীর্ণতা পাবে না এবং পূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করবে।" সূরা নিসা: ৬৫। অর্থাৎ শুধু বাহ্যিকভাবে কোনো হুকুম পালন করাই যথেষ্ট নয়, অন্তর থেকেও আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা ও আনুগত্য থাকতে হয়। খতিব আরও বলেন, সব মানুষ সব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হয় না। যেমন অসুস্থ হলে মানুষ চিকিৎসকের কাছে যায়, তেমনি জটিল শরয়ি বিষয়ে সাধারণ মুমিনের কর্তব্য হলো যোগ্য আলেমের কাছে ফিরে যাওয়া। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—"তোমরা যদি না জানো, তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস করো।" সূরা নাহল: ৪৩। পরিশেষে খতিব বলেন, মুমিনের জীবন একটি বাক্যে প্রকাশ করা যায়—"আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম।" এ আত্মসমর্পণই ঈমানের সৌন্দর্য এবং একজন মুমিন বান্দার প্রকৃত পরিচয়। ঢাকার মুগদা উত্তর মান্ডা বাইতুন নূর জামে মসজিদের খতিব সাইখুল হাদিস মুফতি ফয়জুল্লাহ জীবনপুরী খুতবার পূর্ব বয়ানে বলেন, ইসলাম ধর্মে নসিহত বা উপদেশ গ্রহণের গুরুত্ব অপরিসীম। একজন মুমিনের ব্যক্তিগত চরিত্র গঠন, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথকে সুগম করতে রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের বিভিন্ন সময় অত্যন্ত মূল্যবান ও জীবনঘনিষ্ঠ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। এমনই একটি অনুপম ও সর্বজনগ্রাহ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে প্রখ্যাত সাহাবি হযরত আবু জর গিফারি (রা.) থেকে, যেখানে তিনি আল্লাহর রাসূলের নিকট এমন কিছু চিরন্তন উপদেশের আবেদন করেছিলেন যা দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার চাবিকাঠি। হজরত আবু জর (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নিবেদন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে উপদেশ দিন।

রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করলেন: এক:- "আমি তোমাকে আল্লাহর তাকওয়া (ভয় ও সচেতনতা) অবলম্বনের উপদেশ দিচ্ছি, কারণ এটি তোমার সমস্ত কাজের সৌন্দর্য ও অলংকারস্বরূপ।" পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, "হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমনভাবে ভয় করা উচিত, ঠিক তেমনিভাবে ভয় করো এবং মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।" (সূরা আলে ইমরান: ১০২)। কোরআনের অন্য জায়গায় আল্লাহ বলেন, "আর যে কেউ আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য মুক্তির কোনো না কোনো পথ বের করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন যা সে কল্পনাই করতে পারে না।" (সূরা আত-তালাক: ২-৩)। হাদিসে হযরত আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে ইরশাদ করেছেন: "তুমি যেখানেই থাকো আল্লাহকে ভয় করো; আর কোনো মন্দ কাজ হয়ে গেলে তৎক্ষণাৎ ভালো কাজ করো, যা পূর্বের মন্দকে মিটিয়ে দেবে; এবং মানুষের সাথে সুন্দর ও সদ্ব্যবহার করো।" (সুনান আত-তিরমিজি: ১৯৮৭)

আমি নিবেদন করলাম: আমাকে আরও কিছু বলুন। তিনি বললেন: দুই: "তোমার জন্য আবশ্যক হলো কুরআন তিলাওয়াত করা এবং আল্লাহর জিকির (স্মরণ) করা, কারণ এটি আকাশে তোমার স্মরণের মাধ্যম এবং পৃথিবীতে তোমার জন্য আলোর স্বরূপ।" হাদিসের অন্য জায়গায় নবীজি (সা.) বলেন, যার অন্তরে কুরআন নেই তা বিরান ঘরের ন্যায়। আমি নিবেদন করলাম: আমাকে আরও কিছু বলুন। তিনি বললেন: তোমার জন্য আবশ্যক হলো অধিক সময় চুপ থাকা (অনর্থক কথা পরিহার করা), কারণ এটি শয়তানকে বিতাড়িত করে এবং দ্বীনের কাজে তোমাকে সহায়তা করে।" হাদিসের অন্য জায়গায় নবীজি (সা.) বলেন, যে চুপ থাকে সে নাজাত পায়। তিনি বললেন: তুমি অধিক হাসি থেকে দূরে থাকো, কারণ তা অন্তরকে মৃত করে দেয় এবং চেহারার নূর (উজ্জ্বলতা) কেড়ে নেয়।

আরও পড়ুন: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ২৭ অক্টোবর ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি প্রকাশ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্যাসিস্ট ও গুপ্তদের প্রতিরোধে রাজপথ দখলে রাখতে হবে: যুবদল সভাপতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৩ পি.এম


ফ্যাসিস্ট ও গুপ্তদের প্রতিরোধে রাজপথ দখলে রাখতে হবে: যুবদল সভাপতি

যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্ট ও গুপ্তদের রুখতে যুবদলের নেতাকর্মীদের রাজপথ দখলে রাখতে হবে। যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দিতে প্রস্তুত রয়েছে।’

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট নগরের চৌহাট্টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জেলা ও মহানগর যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুন্না উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট বাহিনীর দোসর ও গুপ্তরা পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করতে এবং বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য নানা অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। তিনি সিলেটের রাজপথে অতীতের মতো সোচ্চার ভূমিকা রাখতে জাতীয়তাবাদী দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান এসব ‘অপশক্তির’ বিরুদ্ধে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ও ১৭ বছর ধরে ‘গণহত্যার’ দায় এবং সিলেটের কৃতী সন্তান এম. ইলিয়াস আলীসহ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের গুম-খুনের ঘটনায় শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

মুন্না আরও বলেন, একাত্তর ও চব্বিশের ‘পরাজিত শত্রুরা’ বাংলাদেশের ভালো চায় না। তাদের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক জনতাকে সঙ্গে নিয়ে তারেক রহমানের সরকারের হাত শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল। এ সময় আরো বক্তব্য দেন সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাহবুবুল হক চৌধুরী, যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক, সিলেট জেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ মকসুদ আহমদ, মহানগর যুবদলের সভাপতি মির্জা মো. সম্রাট হোসেন, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সুদীপ জ্যোতি এষ ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জুবের আহমদসহ প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পরমাণু পরীক্ষার ভয়াবহ ক্ষতির জন্য জাতিসংঘের ক্ষমা প্রার্থনার দাবি মার্শাল আইল্যান্ডসের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৩ পি.এম


পরমাণু পরীক্ষার ভয়াবহ ক্ষতির জন্য জাতিসংঘের ক্ষমা প্রার্থনার দাবি মার্শাল আইল্যান্ডসের

মার্শাল আইল্যান্ডস দাবি করেছে যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পরিচালিত বিধ্বংসী পারমাণবিক বোমা পরীক্ষার জন্য জাতিসংঘকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়া উচিত। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া এক ভাষণে, প্রেসিডেন্ট হিলডা হেইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, জাতিসংঘের এই ক্ষমা চাওয়া দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট হিলডা হেইনে বলেন, ১৯৪৬ থেকে ১৯৫৮ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্ষমতার লড়াইয়ের অংশ হিসেবে মার্শাল আইল্যান্ডসে অন্তত ৬৭টি পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা পরিচালিত হয়। এই ভয়াবহ পরীক্ষার ফলে দেশটির পরিবেশ, মানবস্বাস্থ্য এবং মৌলিক মানবাধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রেসিডেন্ট হেইনে আরও বলেন, “প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের পরিবারগুলোকে নিজ ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হতে হয়েছে, তারা মারাত্মক ব্যাধি ও তেজস্ক্রিয় দূষণের শিকার হয়েছে এবং অপূরণীয় ক্ষতি ভোগ করেছে। এসবই আমাদের মৌলিক মানবাধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত হানার শামিল।”

পারমাণবিক পরীক্ষার এই কালো অধ্যায় থেকে বের হয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে মার্শাল আইল্যান্ডসের প্রশাসনিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের একটি আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা অতীতে ঘটা অন্যায়ের প্রতিফলন ঘটাবে। একইসাথে এটি মার্শাল আইল্যান্ডের নিপীড়িত জনগণের মানসিক ক্ষত নিরাময় এবং বিচারের পথকে সুগম করবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জাতিসংঘ যাতে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারে এবং বৈশ্বিক মানবাধিকার সুরক্ষায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে—সেটি নিশ্চিত করা ছাড়া আমাদের অন্য কোনো স্বার্থ নেই।”

বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘ সময় ধরে এই দ্বীপরাষ্ট্রটিতে পরিচালিত পরমাণু পরীক্ষার বিষাক্ত প্রভাব আজ অবধি সেখানকার জনজীবন ও স্বাস্থ্যে নেতিবাচক ছাপ রেখে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের মানবাধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচারের ভূমিকা নিয়ে আবারও আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মেম্বার প্রার্থী হচ্ছেন যুবসেনা সভাপতির বড় ভাই মোঃ শাকিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

​মোঃ শরীফ উদ্দিন: ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:০৮ পি.এম


ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মেম্বার প্রার্থী হচ্ছেন যুবসেনা সভাপতির বড় ভাই মোঃ শাকিল

আসন্ন ০৯ নং চাপরতলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন মোহাম্মদ শাকিল আল-হোসাইন (মোঃ শাকিল মিয়া)। তিনি চাপরতলা ইউনিয়ন যুবসেনার সভাপতি মোঃ রাকিব মিয়ার বড় ভাই।
নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক জনসংযোগ ও শুভেচ্ছা বিনিময় শুরু করেছেন। সম্প্রতি বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে তিনি ৭ নং ওয়ার্ডবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার অঙ্গীকার প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেম্বার পদপ্রার্থী মোঃ শাকিল আল-হোসাইন তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে ওয়ার্ডের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে চান। তিনি এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং তরুণদের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
আসন্ন নির্বাচনে ৭ নং ওয়ার্ডের ভোটাররা একজন সৎ ও কর্মঠ প্রতিনিধি হিসেবে তাকে নির্বাচিত করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক শক্তিশালী সিন্ডিকেটের লুটপাটের ময়দানে পরিণত হয়েছে বিআরটিসি কোটি কোটি টাকা লোপাট চলছে দুদকে অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার

শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:১৬ পি.এম


এক শক্তিশালী সিন্ডিকেটের লুটপাটের ময়দানে পরিণত হয়েছে বিআরটিসি কোটি কোটি টাকা লোপাট চলছে দুদকে অভিযোগ

 

রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) সাধারণ মানুষের সাশ্রয়ী ও নিরাপদ যাতায়াতের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। কিন্তু গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি যেন এক শক্তিশালী সিন্ডিকেটের লুটপাটের ময়দানে পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দায়ের হওয়া এক অভিযোগ এবং বিআরটিসির অভ্যন্তরীণ তথ্য সেই বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। জুলাই ২০২২ থেকে জুন ২০২৫—মাত্র তিন বছরে শুধু এই ডিপোতেই ১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকারও বেশি অপচয়, ক্ষতি ও চুরির অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া বিল, জ্বালানি ও ফেরি খরচ ফাঁকি, অগ্রিম ভাতা, টিএ/ডিএ আত্মসাৎ এবং হিসাব জালিয়াতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদ যেভাবে গিলে খাওয়া হয়েছে, তা প্রতিষ্ঠানটির গভীরে প্রোথিত সিন্ডিকেটের চিত্রই তুলে ধরে।

দুদকে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোর রাজস্ব আদায়, জ্বালানি, বায়ু, জমা-রাজস্ব খাতে এবং নির্ধারিত ব্যয় নির্বাহের নামে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগকারী বিআরটিসির কেন্দ্রীয় স্টোর অফিসার মো. মোস্তাকিজুর রহমানের দাবি, জ্বালানি, গ্যারেজ, টুলস ও ফেরিসহ বিভিন্ন খাতে এবং প্রথম মাইলেজ ভাতা, দৈনিক ভাতা ও বিবিধ ব্যয়ের নামে ক্যাশিয়ারের মাধ্যমে নগদ উত্তোলন করে প্রায় ১০-১২ কোটি টাকার অপচয়, ক্ষতি ও চুরি ঘটেছে। তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে এই সময়কালের ৪৩০ পাতারও বেশি তথ্য সংযুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগে চিহ্নিত প্রধান ব্যক্তিদের মধ্যে অভিযুক্ত মো. কামরুজ্জামান, যিনি সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত সিনিয়র ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে একই ডিপোতে ছিলেন এবং এখনও সেখানে কর্মরত। অভিযোগে আরও নাম উঠেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যাশিয়ার মো. আ. করিম এবং হিসাব কর্মকর্তা মো. রমজান হোসেনের। এদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও দুদকের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

বিআরটিসির অভ্যন্তরে এই কর্মকর্তাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ছত্রছায়ার অভিযোগ উঠে আসছিল।

একইভাবে মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে, তার শ্বশুরবাড়ি কুমিল্লায় হওয়ায় তিনি সাবেক এমপি শেখ সেলিমের শ্বশুরবাড়ির আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং সেই ছত্রছায়ায় বড় বড় ডিপোতে পোস্টিং পেয়েছিলেন। সম্প্রতি তাকে খুলনা বাস ডিপোর দায়িত্ব দেওয়াকে কেন্দ্র করেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কর্মকর্তাদের একাংশ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ ডিপো ও ইউনিটে পদায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে।

এসব অভিযোগের পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন এখনও প্রকাশিত না হলেও, বিআরটিসির অভ্যন্তরীণ তথ্য ও দুদকে জমা দেওয়া নথিপত্রে চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোর আর্থিক অনিয়মের চিত্র স্পষ্ট। জ্বালানি তেল ও ফেরি বিল, গ্যারেজ শ্রমিকের মজুরি, মাইলেজ বিল, দৈনিক ভাতা এবং টিএ/ডিএর নামে ক্যাশিয়ারের মাধ্যমে নগদ উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে ডিপোর রাজস্ব আদায়েও ঘাটতি দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা তিনিই এই সিন্ডিকেটের বতর্মান প্রধান বলে একটি সুত্র নিশ্চিত করেছন। “বিআরটিসিতে ফ্যাসিস্ট চেয়ারম্যান থাকলেই এরকম একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট টিকে থাকা সম্ভাব। বিগত দিনের দুর্নীতির একটি ভাগ বতর্মান চেয়ারম্যান কে দিতে হয়েছে। সকল অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে।তাই তার কর্মকর্তারাও দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে । বতর্মান সরকারের উচিৎ শিগগির তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

চেয়ারম্যান নিজেই এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে লুটপাটের স্বীকৃতি দিয়েছেন অর্থনৈতিক সুবিধা নেয়ার জন্য ।

আওয়ামী লীগ চলে গেলেও এই প্রতিষ্ঠানটিতে চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের এক নেতার জামাতা। তাই এই সিন্ডিকেট যে ক্ষমতার পালাবদলের পরও টিকে আছে, এমন চেয়ারম্যান পাওয়াতেই তা স্পষ্ট। অনেক ডিপোতে এখনও সেই সময়ের অবৈধ লিজ ও অবৈধ কাউন্টার এবং তাহার ব্যবস্থাপনা বহাল রয়েছে।

এদিকে একটি সুত্র জানায়, ৩ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা মাসিক মাসোয়ারা হিসেবে
ম‍্যানেজারদের কাছ থেকে
নেন! আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা দুর্নীতির বরপুত্র বর্তমান বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা। ম‍্যানেজারা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলেই ডিপোর ম‍্যানেজারের চেয়ার কেড়ে নেয়ার ভয় দেখানো শুরু করেন। ভয়ে মাসিক মাসোয়ারার টাকা দিতে বাধ্য হয় ম‍্যানেজাররা।বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লার দাবি এই টাকা তিনি একানেন না বিএনপির এমপি, মন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয় তার এই চেয়ার টিকানোর জন্য। একথা গুলো ম‍্যানেজারদের সাথে সরাসরি বলে থাকেন চেয়ারম্যান। নাম না প্রকাশ করার সত্ত্বে এক ম‍্যানেজার বলেন চেয়ারম্যান কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পরিবারের লোক তাই সকল সুবিধা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের লোক জনকেই দিয়ে থাকেন। মুখে বিএনপি অন্তরে আওয়ামী লীগ।তিনি তো কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতার জামাতা।বিএনপির এমপি,মন্ত্রীর কথা বলে টাকা নেন কিন্তু সেই টাকা নিজেই ভোগ করেন। তাদের নাম শুধু বলে তারা কেহ কোন কিছু নেন না।

সুত্রের আরও দাবি,মাসিক মাসোয়ারার পরেও ভিন্ন ভিন্ন খাদে অর্থ বরাদ্দ করে সেই অর্থই হাতিয়ে নিচ্ছে আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মা দুর্নীতির বরপুত্র বর্তমান বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা।

গত বছর আন্তর্জাতিক বানিজ‍্য মেলায় অপারেটিং ব‍্যায় খরচ নির্বাহের জন্য ধরা হয় ১৫ লক্ষ টাকা। বর্তমান চেয়ারম্যান সেখানে (আন্তর্জাতিক বানিজ‍্য মেলায় অপারেটিং ব‍্যায় খরচ নির্বাহের জন্য ৫৭ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছেন।)অথচ ৬ লক্ষ টাকাও খরচ হবে না।

চেয়ারম্যানের রুমের ডেকারেশনের বরাদ্দ ৫৬ লক্ষ টাকা। ভাউচার দিয়ে চেয়ারম্যানের পকেটে ৪০ লক্ষ টাকা।

সাবেক চেয়ারম্যান যে রুমে অফিস করেছেন সেই রুমের ডেকোরেশন এর জন্য ৫৬ লক্ষ টাকা বাজেট করেছেন অথচ সেই রুমেই বসেই বিআরটিসির সাবেক চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করেছেন। মাসিক মাসোয়ারা বাদে ও বর্তমানে ভিন্ন ভিন্ন খাদে অর্থ বরাদ্দ করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বর্তমান চেয়ারম্যান!

বিআরটিসির চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোর এই অভিযোগ কেবল কয়েকজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অনিয়মের চিত্র নয়। এটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক ছত্রছায়া, হিসাব জালিয়াতি এবং সিন্ডিকেটভিত্তিক লুটপাটের একটি বড় চিত্র।

দুদকে দায়ের করা অভিযোগ এবং টিআইবিসহ বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা মিলে একই সত্যকেই তুলে ধরছে বিআরটিসিকে গিলে খাওয়া সিন্ডিকেট এখনও সক্রিয়। দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া এই প্রতিষ্ঠানকে জনগণের সেবায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে পরিবহন খাতের দুর্নীতি নিয়ে সতর্ক করে আসছেন। তিনি বলেছেন, “রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতা ও মেধাকে উপেক্ষা করে স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পদে লোক বসানো গুরুতর প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির শামিল। এ ধরনের সিন্ডিকেটভিত্তিক নিয়োগ কেবল প্রশাসনিক শৃঙ্খলাই ভেঙে দেয় না, জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতার ওপর জনগণের আস্থাকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

টিআইবির গবেষণায় দেখা গেছে,পরিবহন খাতে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও সিন্ডিকেটই অনিয়ম-দুর্নীতির মূল কারণ।প্রাইভেট বাস খাতে বছরে অন্তত এক হাজার কোটি টাকারও বেশি চাঁদা ও ঘুষ আদায় হয়, যার বড় অংশ রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পকেটে যায়। বিআরটিএ ইতোমধ্যে দুর্নীতির তালিকায় শীর্ষে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম। বিআরটিসির মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় একই ধরনের রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও হিসাব জালিয়াতি চললে জনগণের আস্থা আরও ক্ষুণ্ন হবে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

অর্থনীতিবিদ ও সুশাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিআরটিসির মতো প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ করা সম্ভব নয়। একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, “যখন কোনো কর্মকর্তা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে লাভজনক পদে বহাল থাকেন এবং হিসাবের জালিয়াতি চলে, তখন তা ব্যক্তিগত দুর্নীতির পর্যায় পেরিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সংকট তৈরি করে। দুদক ও বিভাগীয় তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।” আরেকজন বিশ্লেষকের মতে, ক্ষমতার পালাবদলের পরও পুরনো সিন্ডিকেট যদি বহাল থাকে, তাহলে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি অর্থহীন হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. কামরুজ্জামানের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া সম্ভব হয়নি।

বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন রিসিভ করেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%