স্টাফ রিপোর্টার বাকেরগঞ্জ (বরিশাল)
১২:৫৮ এম
বরিশালের বাকেরগঞ্জে একটি পরিত্যক্ত ঘরে রহস্যজনক বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজন অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনা নতুন করে বিস্ফোরক নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিস্ফোরণের পর শরীরে আগুন ধরে গেলে জীবন বাঁচাতে তারা পাশের পায়রা নদীতে ঝাঁপ দেন। স্থানীয়দের তৎপরতায় উদ্ধার হওয়ার পর তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে মৃত শাহা আলম হাওলাদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—মৃত শাহা আলম হাওলাদারের স্ত্রী হনুফা বেগম (৬০), ছোট মেয়ে ইতি আক্তার (১৯) এবং মেজো মেয়ের ছেলে ফাহিম (১৪)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো সকালে বাড়ির উঠানে হাঁটাহাঁটি করছিলেন হনুফা বেগম, তার মেয়ে ও নাতি। হঠাৎ বাড়ির লাকড়ি রাখার পরিত্যক্ত একটি ঘর থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা তাদের শরীর ও কাপড়ে ছড়িয়ে পড়ে। অসহনীয় যন্ত্রণার মধ্যে আগুন নেভানোর আর কোনো উপায় না পেয়ে তারা দৌড়ে পাশের পায়রা নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয়রা নদী থেকে উদ্ধার করে প্রথমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. তারিকুল ইসলাম জানান, তিনজনের শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করে। বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, পরিত্যক্ত ঘরে কী ধরনের বিস্ফোরক ছিল, সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কারা, কী উদ্দেশ্যে এটি সেখানে রেখেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বরিশাল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আলাউল হাসান। তিনি জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। বিস্ফোরকের প্রকৃতি নির্ধারণে ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে ডাকা হয়েছে। তাদের পরীক্ষার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি কী ধরনের বিস্ফোরক ছিল এবং কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটেছে।
তদন্তের কেন্দ্রে যে প্রশ্নগুলো
ঘটনাটি কেবল একটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিতভাবে রাখা কোনো বিস্ফোরকের বিস্ফোরণ—এ প্রশ্নই এখন তদন্তের মূল বিষয়। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত একটি ঘরে কীভাবে বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু এলো, সেটি স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিস্ফোরণটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটেছে, নাকি অন্য কোনো কারণে সক্রিয় হয়েছে—তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিস্ফোরকের প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। ফরেনসিক পরীক্ষা, আলামত সংগ্রহ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য বিশ্লেষণের মাধ্যমেই ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ সম্ভব হবে।
এদিকে আকস্মিক এ বিস্ফোরণে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তদন্তে এখন নির্ভর করছে—এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কোনো রহস্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী গ্রামের বাসিন্দা আরমান হোসেন অভির (২১) বিরুদ্ধে এলাকায় নতুন করে বিভিন্ন অপরাধমূলক ও উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, কারামুক্তির পর আমির হোসেনের ছেলে অভি ফের নেশাসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড, সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও নানা অপরাধমূলক তৎপরতায় জড়িয়ে পড়েছেন। এর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হায়দার আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী নূর হোসেন এবং লতব্দী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব ওসমান হারুন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অভির বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিকবার বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, মারধর, চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি ও অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছিল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২০২২ সালে মোহাম্মদ আবিরের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটান তিনি। একই সময়ে আরমান শেখের বাড়িতেও হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া খিদিরপুর এলাকার মুক্তারের বাড়িতে থাই গ্লাস ভাঙচুর এবং সাগর খানকে অস্ত্র দেখিয়ে মারধরের অভিযোগও রয়েছে। মো. সিজান খানের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে নগদ অর্থসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে মোহাম্মদ নাসিম খান, মো. আশরাফুল শেখ, আপন খান, মো. আলম খান, জবিউল খান ও মো. মজিদ শেখ পৃথকভাবে অভিযোগ করেন—বিভিন্ন সময়ে অভির হাতে তারা মারধর, প্রাণনাশের হুমকি, গালিগালাজ ও নিজেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের শিকার হয়েছেন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, এসব ঘটনার জেরে এলাকাবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক। তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আরমান হোসেন অভির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৪২৭/৩৮০/৫০৬/৩৪ ধারায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির উদীয়মান আইনজীবী, এডভোকেট মিজানুর রহমান অন্তর এবং তাঁর পরিবারের ওপর সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার তীব্র প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির প্রাঙ্গণ। হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতার করার দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সামনে সাধারণ আইনজীবীদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশাল মানববন্ধন।
মানববন্ধনে অংশ নেন কুমিল্লা বারের নবীন ও প্রবীণ মিলিয়ে শতাধিক আইনজীবী। প্রতিবাদী স্লোগান এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে উচ্চারিত কণ্ঠে মুখর হয়ে ওঠে আদালতপাড়া। বক্তাদের মধ্যে স্বরহীন হয়ে বেরিয়ে আসে একটি বিষয়, একজন আইনজীবী ও তাঁর পরিবারের ওপর এমন নৃশংস হামলা শুধু একটি পরিবারের নিরাপত্তার ওপর আঘাত নয়, বরং এটি বিচারের ন্যায়ব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং আইনজীবী সমাজের স্বাধীন পেশাগত দায়িত্ব পালনের ওপরও সরাসরি হুমকি।
কুমিল্লা জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট মো. কাইমুল হক রিংকু, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট মো. সহিদ উল্লাহ, সাবেক সভাপতি মো. শরীফুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাবুবুল হক খন্দকারসহ বারের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা বক্তব্য রাখেন মানববন্ধনে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এডভোকেট মোহাম্মদ মোজাদ্দেদ হাসান আদনান। বক্তরা তাদের বক্তব্যে বলেন, আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। যদি একজন আইনজীবী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা রাখবেন—এ প্রশ্নও তোলেন তারা।
তারা আরও বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।
মানববন্ধন থেকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সকল সদস্যের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানানো হয়। তারা অনুরোধ করেন, এডভোকেট মিজানুর রহমান অন্তর ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের পক্ষে যেন কোনো আইনজীবী মামলা পরিচালনা না করেন। এই আহ্বানের মাধ্যমে আইনজীবী সমাজের ঐক্য, পেশাগত মর্যাদা এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সম্মিলিত অবস্থানের প্রতিফলন ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন উপস্থিতরা।
আইনজীবীরা বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সন্ত্রাস, সহিংসতা ও হত্যাচেষ্টার মাধ্যমে আইনজীবীদের ভয় দেখিয়ে ন্যায়বিচারের পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা করে, তাহলে পুরো আইনজীবী সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। স্পষ্ট ভাষায় তারা জানান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
শেষে বক্তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে এডভোকেট মিজানুর রহমান অন্তর এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আহ্বান করা হয়।
মানববন্ধন শেষে উপস্থিত আইনজীবীরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের প্রত্যয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে সারাদেশে ২০ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঈদগাঁওতে কক্সবাজারে বিতরণ করা হয়েছে বিভিন্ন গাছের চারা। স্থানীয় আলমাছিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩ জুলাই সোমবার এসব গাছের চারা বিতরণ করেন জাতীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল।
ঈদগাঁও উপজেলা বিএনপি পরিবারের পক্ষে এতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক সেলিম উল্লাহ মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুচ শুক্কুর, জেলা শ্রমিক দলের সাবেক সহ-সভাপতি মোক্তার আহমদ, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব বেলাল উদ্দিন, যুবদল নেতা আবু হেনা, তৈয়ব তাহের তানভীর এবং জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ। এছাড়া, মাদ্রাসার পক্ষ থেকে উপাধ্যক্ষ মাওলানা নুরুল আবছার কাদেরী, প্রফেসর নাজেম উদ্দিন সহ বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। বিতরণকৃত চারার মধ্যে ছিল ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা।
আয়োজকরা জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই এ মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে পরিবেশ বিপন্ন। বাংলাদেশও এই সংকটের বাইরে নয়। বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। মাননীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের এই উদ্যোগ কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি তরুণ প্রজন্মকে প্রকৃতিপ্রেমী ও পরিবেশ সচেতন করে তোলার এক অনন্য প্রয়াস।
যারা বিতরণকারীদের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বলা হয়েছে, নিজের বাড়ির আঙিনায়, মাদ্রাসার আশেপাশে এবং খালি জায়গায় এসব চারা রোপণ করতে হবে এবং নিয়মিত পরিচর্যা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। গাছের চারা হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীরাও নিজেদের আনন্দ প্রকাশ করেছে এবং তারা চারাগুলো যত্নের সাথে বড় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বাংলাদেশি অধ্যুষিত লেকাম্বা এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত দুই পথচারীর একজন অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন। ৮ দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে সোমবার (৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে লিভারপুল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪৩ বছর বয়সী নুরহায়াতি পামুংকাস মারা যান।
একই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ৬৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি মাহবুবুল হক এখনও সেন্ট জর্জ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মাহবুবুল হকের অবস্থা এখনো অত্যন্ত সংকটজনক।
এদিকে, নুরহায়াতির মৃত্যুর ফলে এই সড়ক দুর্ঘটনা প্রাণহানির ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ফলে বিষয়টির তদন্তের গুরুত্বও বহুগুণ বেড়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ ইতোমধ্যে দুর্ঘটনার সব আলামত, নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য বিশ্লেষণের কাজ আরও জোরদার করেছে।
জানা গেছে, দুর্ঘটনার দিন নুরহায়াতি দুই সন্তানকে স্কুল থেকে আনতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। নির্ধারিত পথপারাপারের স্থানে পৌঁছানোর পর দ্রুতগতির একটি গাড়ির ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থল থেকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে লিভারপুল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসার সময় যদিও তাঁকে কৃত্রিম কোমায় রাখা হয়েছিল, তবুও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, একই দুর্ঘটনায় মাহবুবুল হকও গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি মৃত্যুর সঙ্গে সংগ্রাম করছেন। হাসপাতাল সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, তিনি আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। চিকিৎসকেরা তাঁকে নিবিষ্ট মন দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন কারণ তাঁর শারীরিক অবস্থাও অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
ঘটনার সময়ের একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের উদ্ধারে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে আসেন। পরে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও অন্যান্য জরুরি সেবাটিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়িটি চালাচ্ছিলেন ৮২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। তাঁকে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। তদন্তের সময় চালকের শারীরিক সক্ষমতা, গাড়ির যান্ত্রিক অবস্থান, নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে ক্র্যাশ ইনভেস্টিগেশন ইউনিটের মাধ্যমে। নুরহায়াতির মৃত্যুর পর তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাটি করোনারের কাছেও পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, এক দুর্ঘটনায় দুই শিশু তাদের মাকে হারিয়েছে, এবং মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন মাহবুবুল হক। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় সিডনির বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশাপাশি বৃহত্তর বহুসাংস্কৃতিক সমাজেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ জুলাই স্থানীয় সময় দুপুর ১টার কিছু আগে, সিডনির লেকাম্বার দ্য বুলেভার্ড সড়কের পথচারী পারাপারের নির্ধারিত স্থানে একটি সাদা রঙের টয়োটা টারাগো দুই পথচারীকে ধাক্কা দেওয়ার পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার বিপরীত পাশে থাকা আরো দুটি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় নুরহায়াতি পামুংকাস ও বাংলাদেশি মাহবুবুল হক গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুরহায়াতি পামুংকাসের মৃত্যু ঘটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ