প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশালের বাকেরগঞ্জে একটি পরিত্যক্ত ঘরে রহস্যজনক বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজন অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনা নতুন করে বিস্ফোরক নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিস্ফোরণের পর শরীরে আগুন ধরে গেলে জীবন বাঁচাতে তারা পাশের পায়রা নদীতে ঝাঁপ দেন। স্থানীয়দের তৎপরতায় উদ্ধার হওয়ার পর তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে মৃত শাহা আলম হাওলাদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—মৃত শাহা আলম হাওলাদারের স্ত্রী হনুফা বেগম (৬০), ছোট মেয়ে ইতি আক্তার (১৯) এবং মেজো মেয়ের ছেলে ফাহিম (১৪)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো সকালে বাড়ির উঠানে হাঁটাহাঁটি করছিলেন হনুফা বেগম, তার মেয়ে ও নাতি। হঠাৎ বাড়ির লাকড়ি রাখার পরিত্যক্ত একটি ঘর থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা তাদের শরীর ও কাপড়ে ছড়িয়ে পড়ে। অসহনীয় যন্ত্রণার মধ্যে আগুন নেভানোর আর কোনো উপায় না পেয়ে তারা দৌড়ে পাশের পায়রা নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয়রা নদী থেকে উদ্ধার করে প্রথমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. তারিকুল ইসলাম জানান, তিনজনের শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করে। বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, পরিত্যক্ত ঘরে কী ধরনের বিস্ফোরক ছিল, সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কারা, কী উদ্দেশ্যে এটি সেখানে রেখেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বরিশাল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আলাউল হাসান। তিনি জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। বিস্ফোরকের প্রকৃতি নির্ধারণে ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে ডাকা হয়েছে। তাদের পরীক্ষার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি কী ধরনের বিস্ফোরক ছিল এবং কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটেছে।
তদন্তের কেন্দ্রে যে প্রশ্নগুলো
ঘটনাটি কেবল একটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিতভাবে রাখা কোনো বিস্ফোরকের বিস্ফোরণ—এ প্রশ্নই এখন তদন্তের মূল বিষয়। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত একটি ঘরে কীভাবে বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু এলো, সেটি স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিস্ফোরণটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটেছে, নাকি অন্য কোনো কারণে সক্রিয় হয়েছে—তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিস্ফোরকের প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। ফরেনসিক পরীক্ষা, আলামত সংগ্রহ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য বিশ্লেষণের মাধ্যমেই ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ সম্ভব হবে।
এদিকে আকস্মিক এ বিস্ফোরণে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তদন্তে এখন নির্ভর করছে—এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কোনো রহস্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন