মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৩৬ পি.এম
তুরস্কের ফুটবল রেফারি সংস্থার প্রধান ফেরহাত গুনদোগদু এবং তার সহযোগীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানিয়েছেন, রেফারি নিয়োগ ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে।
গুরলেক সামাজিক মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন, “রেফারিদের শ্রেণিবিন্যাস, নিয়োগ, স্কোরিং ও পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছে।”
সন্দেহভাজনদের বাড়ি, কর্মস্থল ও অফিসে তল্লাশি পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “ফুটবলকে কলঙ্কমুক্ত রাখার লড়াই অব্যাহত থাকবে, যাতে আস্থাকে ক্ষুণ্ন করা অভিযোগগুলো স্পষ্ট হয়, দোষীরা আইনের মুখোমুখি হয় এবং ফুটবল মাঠে প্রচেষ্টা, সংগ্রাম ও খেলাধুলার মানসিকতার জন্য স্মরণীয় হয়।”
এক বছর আগে, তুরস্ক ফুটবল ফেডারেশন (টিএফএফ) অবৈধ জুয়া কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৪৯ জন রেফারিকে স্থগিত করেছিল।
তদন্তে দেখা যায়, দেশটির ৫৭১ জন পেশাদার রেফারির মধ্যে ৩৭১ জনের জুয়ার অ্যাকাউন্ট ছিল এবং তাদের মধ্যে ১৫২ জন সক্রিয়ভাবে বাজি ধরতেন।
ওই কেলেঙ্কারিতে ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১৪ জন ফুটবলার ছিলেন। ফেনারবাচের আন্তর্জাতিক মিডফিল্ডার মের্ত হাকান ইয়ানদাসও ছিলেন তাদের মধ্যে।
কর্তৃপক্ষ ১,০০০-এর বেশি খেলোয়াড়কে স্থগিত করেছিল, যার মধ্যে প্রথম বিভাগের ২৫ জনও ছিলেন।
তবে গুরলেক স্পষ্ট করেছেন, গত বছরের জুয়া কেলেঙ্কারির সঙ্গে চলমান তদন্তের কোনো সম্পর্ক নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নড়াইল, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : আজ জেলার ২৯টি নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির মধ্যে মোট আটলাখ ২০ হাজার দুইশ’ টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে নড়াইল জেলা প্রশাসন এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আহসান মাহমুদ রাসেল, যিনি উপকারভোগীদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।
এছাড়া, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মৌসুমী রানী মজুমদার, জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুব মোর্শেদ জাপল, নড়াইল প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ এবং সাধারণ সম্পাদক এমএম মাহবুবুর রশিদ লাবলু, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মৃত্তিকা মহিলা উন্নয়ন সংস্থার সেক্রেটারি বৈশাখী আক্তার প্রমুখও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
জেলায় তিনটি উপজেলার ২৯টি স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির মধ্যে এই আটলাখ ২০ হাজার দুইশ’ টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সৌদি-সমর্থিত সরকার অভিযোগ করেছে যে, হাউথি বিদ্রোহীরা ইরানের তৈরি প্রতিরক্ষা সরঞ্জামকে রূপান্তরিত করে নতুন প্রযুক্তির 'লোইটারিং' ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। একইসঙ্গে, সতর্ক করা হয়েছে যে, ইরানি রিভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সহায়তায় তৈরি এসব ক্ষেপণাস্ত্র বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য একটি গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি, হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের ওপর হামলা বৃদ্ধি করেছে। সৌদি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, তারা ইয়েমেনের কৌশলগত এলাকা এবং লোহিত সাগরের বন্দরের দিকে ছোঁড়া একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন লক্ষ্যভ্রষ্ট বা ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
ইয়েমেনী সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজেদ আল-নাজিলি এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, "এসব পরিবর্তিত ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে প্রায় ২৫ মিনিট পর্যন্ত ঘুরতে পারে এবং হিট-ট্র্যাকিং (তাপ পর্যবেক্ষণ) সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সামরিক ও বেসামরিক যানের মধ্যে ফারাক করার ক্ষমতা না থাকায় এগুলো যেকোনো তাপীয় উৎসকে আঘাত করতে পারে।"
তিনি আরও বলেন, এই প্রযুক্তির ফলে লোহিত সাগর ও ইয়েমেনের আকাশসীমায় অবস্থানরত জাতিসংঘের ত্রাণবাহী বিমান এবং আন্তর্জাতিক বেসামরিক যাত্রীবাহী বিমানগুলো মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। এটি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের তৈরি এই প্রযুক্তি ইয়েমেন যুদ্ধ এবং লোহিত সাগরের কৌশলগত ভূ-রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে নতুন করে শঙ্কায় ফেলেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত বাস্কেটবল টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের প্যান্ট-জার্সি পরে মাঠে নামানোর মাধ্যমে ‘অসুন্দর পরিবেশ’ সৃষ্টি করছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, এমন মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে আইএবির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের ওয়ার্ড প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম মন্তব্য করেন, "সাদিক কায়েম মেয়েদের প্যান্ট-জার্সি পরিয়ে মাঠে নামিয়ে অসুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করছে। সেখানে আবার সে গর্ব করে বলে, দেশের ইতিহাসে প্রথম পারছে। কত কায়দা! এই কায়দা কতদিন চলবে? এটা পরিবর্তনের জন্য আপনাদের ভেতরে ব্যথা আসে না? জজবা আসে না?"
তিনি আরও বলেন, "দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পার হয়ে গেছে। স্বাধীনতার জন্য মানুষ জীবন দিয়েছে, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। কিন্তু এখনো মানুষ প্রকৃত মুক্তি পায়নি। একই নীতিতে দেশ পরিচালিত হতে থাকলে স্বাধীনতার হীরকজয়ন্তী ও শতবর্ষও উদযাপন করা হতে পারে, কিন্তু তাতে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না।"
ইসলামী আন্দোলনের আমির অভিযোগ করেন, "চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, লুটতরাজ, গুম, খুনসহ নানা ধরনের সামাজিক অনাচার দিন দিন বাড়ছে। এসব সামাজিক অনাচার দূর করতে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। জনগণ বিভিন্ন দলকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেখেছে। কিন্তু প্রচলিত নীতির মাধ্যমে কোনো দলই রাষ্ট্র ও সমাজে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারেনি।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "এ ছাড়াও নির্বাচনের আগে দেওয়া ইশতেহারের কথা পরে ভুলে গিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বয়স ১২৩ বছর অতিক্রম করেছে। শরীরের প্রতিটি অংশে বার্ধক্যের চিহ্ন স্পষ্ট। চলাফেরার শক্তি হারানো, কানে শুনতে সমস্যা, হাত দুটিও কাঁপছে; কিন্তু এই বয়সে চশমা ছাড়াই স্পষ্টভাবে কুরআন তিলাওয়াত করছেন প্রবীণ আব্বাস আলী প্রামাণিক।
ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী, তার বয়স ১২৩ বছর। তবে পরিবারের দাবি, তার প্রকৃত বয়স আরও বেশি। দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতায় তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান আমল, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধসহ ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তার নাতি-নাতনির বয়সও ৬০ বছর ছাড়িয়েছে।
অবিশ্বাস্য মনে হলেও নাটোরের গুরুদাসপুরে এমন একটি জীবন্ত বিস্ময় দেখা গেছে। উপজেলার যোগেন্দ্রনগর গ্রামের বাসিন্দা আব্বাস আলী প্রামাণিক সারাজীবন ধর্মচর্চায় কাটিয়েছেন। অসুস্থতা বা বয়সের কারণে কখনো নামাজ ছাড়েননি এই সদাচারী ব্যক্তি।
পেশায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন আব্বাস আলী। পাশাপাশি বিনামূল্যে কুরআন শিক্ষা দিয়ে বহু মানুষকে আলোকিত করেছেন। জীবনের একটি বড় অংশ তিনি মানুষের সেবায় ব্যয় করেছেন।
বর্তমান সময়ে যেখানে অনেকের দৃষ্টিশক্তি অল্প বয়সেই কমে যায়, সেখানে আব্বাস আলীর দৃষ্টিশক্তি এই বয়সেও অটুট থাকায় সবাই বিস্মিত। হাঁটাচলা তো দূরের কথা, যেখানে কিছুক্ষণ বসে থাকতেই কষ্ট হয়, সেখানে তিনি এখনো পরম মমতায় হাতে তুলে নেন পবিত্র কুরআন। একের পর এক পাতা উল্টে কোনো চশমা ছাড়াই তিলাওয়াত করে চলেন।
শতবর্ষী এই প্রবীণের জীবন অতিবাহিত হয়েছে অত্যন্ত সাদামাটাভাবে। তিনি কখনো যানবাহনে চড়েননি, পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছেছেন। একসময় সংসারে সচ্ছলতা থাকলেও সময়ের পরিক্রমায় এখন তার দিন কাটছে একটি ভাঙা ঘরে। তবে ছেলে, মেয়ে, নাতি ও নাতবউদের সেবা পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে তার।
আব্বাস আলী ছয় ছেলে ও দুই মেয়েকে মানুষ করে বিয়ে দিয়েছেন। মেয়েরাও সময় পেলেই বাবাকে দেখতে আসেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আব্বাস প্রামাণিকের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন তার জন্য একটি ভালো ঘর ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে।
জীবনের শেষপ্রান্তে এসেও কুরআনের আলোয় আলোকিত আব্বাস আলী প্রামাণিক ধর্মীয় অনুশাসন পালনে অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন। এলাকাবাসী প্রার্থনা করেন, তিনি আরও দীর্ঘ সময় সুস্থভাবে বেঁচে থাকবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ