শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:০২ পি.এম
ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : মার্কিন একটি ফেডারেল আপিল আদালত, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির অধীনে নিজ দেশের পরিবর্তে অন্য দেশে অনিবন্ধিত অভিবাসীদের নির্বাসিত বা বহিষ্কার করার উপর আরোপিত বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে।
এ বিষয়ে খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
শুক্রবার, মার্কিন ফার্স্ট সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের তিন বিচারকের একটি প্যানেল নিম্ন আদালতের রায়কে মূলত বহাল রেখেছে। ওই রায়ে অনিবন্ধিত অভিবাসীদের নিজ দেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারের ওপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
আদালত উল্লেখ করেছে, কাউকে ‘তৃতীয় দেশে’ পাঠানোর আগে তাকে যথেষ্ট সময় দিয়ে জানাতে হবে যে কোন দেশে তাকে পাঠানো হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যদি ওই দেশে নির্যাতন বা নিপীড়নের আশঙ্কা অনুভব করেন, তাহলে তিনি তা জানানোর এবং সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি তোলার সুযোগ পাবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নীতিমালা অনুযায়ী, এমন কোনো দেশে কাউকে বহিষ্কার করা যাবে না, যেখানে তার জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে অথবা তিনি নির্যাতনের শিকার হতে পারেন।
বিচারক সেথ আফ্রেম, তিন বিচারকের সর্বসম্মত প্যানেলের পক্ষে রায় লিখতে গিয়ে বলেছেন, যে দেশে কাউকে বহিষ্কার করা হবে, সেখানে নির্যাতনের আশঙ্কা থাকলে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর অধিকার তখনই অর্থবহ হবে, যখন তাকে আগেই জানানো হবে কোন দেশে পাঠানো হচ্ছে এবং সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যথাযথভাবে আপত্তি জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)-এর নীতি অনুসরণ করলে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক এই সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, যাদের গন্তব্য তৃতীয় দেশ হলেও আগে থেকে সেই গন্তব্য সম্পর্কে জানানো হয় না।
এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন এই মামলাটি রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার পরিকল্পনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে যুক্তরাষ্ট্র থেকে লক্ষাধিক অনিবন্ধিত অভিবাসীকে বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকে তার প্রশাসন বহিষ্কার প্রক্রিয়া দ্রুত করার লক্ষ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন তৃতীয় দেশে অভিবাসীদের পাঠানোর নীতির পক্ষে যুক্তি প্রদান করে বলেছে, বহিষ্কারের তালিকায় থাকা কিছু ব্যক্তির নিজ দেশ তাদের ফেরত নিতে কখনো কখনো অস্বীকৃতি জানায়। এ কারণে তাদের অন্য দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবার দেশের ঘরোয়া কোচদের বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। ক্রিকেটারদের বেতন বৃদ্ধির পর, নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর ঘরোয়া ক্রিকেটের উন্নয়ন ও ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় কোচদের বেতন কাঠামো নিয়েও ভাবনা চলছে।
বিসিবির নতুন কমিটি তামিম ইকবালের নেতৃত্বে চলতি বছরের জুনে দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপর ঘরোয়া ক্রিকেটের মানোন্নয়ন এবং ক্রিকেটারদের বেতন কাঠামো বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরে ক্রিকেটারদের বেতন মোট দুই দফায় বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তবে, এতদিন ঘরোয়া ক্রিকেটের কোচদের বেতন বৃদ্ধি হয়নি। এবার বিসিবি তাদের দিকেও নজর দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। বিসিবির এক পরিচালক দেশের একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কোচদের বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে, কবে থেকে এটি কার্যকর হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
বিসিবির ওই পরিচালক বলেন, "কোচদেরও বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। দেখা যাক কবে হবে, সেটা এখনও ঠিক হয়নি।"
দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটের কোচরা বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছেন। বিসিবির অধীনে থাকা ‘এ’ দলের প্রধান কোচ মিজানুর রহমান বাবুলও আশাবাদী, বোর্ড এবার তাদের দাবিটি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে।
তিনি বলেন, "আলহামদুলিল্লাহ, বেতন বাড়াবে বিসিবি এমনটাই শুনেছি। এখন দেখা যাক কখন কী হয়। কোচদেরও প্রাপ্য সম্মান জরুরি। যদি একটা হেলদি স্যালারি হয়, তাহলে ভালো হয়। কারণ আমাদের তো সেভিংস থাকে না। সারা জীবন কোচিংও করাতে পারব না। আশা করি বিসিবি বিষয়টি দেখবে।"
ক্রিকেটারদের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটের কোচদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে দেশের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে ব্যর্থতার পর সেমিফাইনালেই থেমে গেছে বাংলাদেশের যাত্রা। টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে ধারাবাহিক ব্যর্থতা এবং দলের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠার মধ্যে টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। ফলে নতুন অধিনায়কের বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত সংস্করণে বাংলাদেশের পরবর্তী অধিনায়ক হিসেবে সিনিয়র ক্রিকেটার নাহিদা আক্তার ও সোবহানা মোস্তারির নাম উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একটি সূত্র ক্রিকবাজকে জানিয়েছে, নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক নির্বাচন নিয়ে বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা আলোচনা শুরু করলে নাহিদা ও সোবহানার নাম গুরুত্ব পেতে পারে।
বোর্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, "নিগারের জায়গা নেওয়ার মতো খুব বেশি ক্রিকেটার আছে বলে মনে হয় না। কিন্তু তিনি যখন সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তখন আমাদের কাউকে খুঁজে বের করতেই হবে।" সংক্ষিপ্ত সংস্করণে অবস্থান বিবেচনায় নাহিদা ও সোবহানা শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
তবে বিসিবির ভাবনা শুধুমাত্র অভিজ্ঞদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে তরুণ ক্রিকেটারদেরও নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করার পরিকল্পনা থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে ‘এ’ দলের নেতৃত্ব দেওয়া রাবেয়া খাতুন, অলরাউন্ডার শারমিন আক্তার ও স্বর্ণা আক্তারের নাম বিকল্প হিসেবে বিবেচনায় আসতে পারে। যদিও এই মুহূর্তে তাদের কাউকে জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব দেওয়া কিছুটা আগেভাগে হয়ে যাবে বলে মনে করছেন বোর্ডের সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে বাংলাদেশকে নতুন অধিনায়ক দ্রুতই ঠিক করতে হবে। জাপানে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে নিগার সুলতানা জ্যোতির শেষ ম্যাচ হতে পারে। তবে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ জয় পেলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে এবং জ্যোতিকে নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এর মধ্যেই বাংলাদেশ নারী দলের কোচিং স্টাফেও পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। প্রধান কোচ সারোয়ার ইমরানকে সরিয়ে তার জায়গায় ডেভিড হেম্পকে দায়িত্ব দেওয়ার আলোচনা চলছে।
২০২২ সাল থেকে টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। তার অধিনায়কত্বে বাংলাদেশের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসে ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে দীর্ঘ এক দশক পর বিশ্বকাপে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। ওই আসরে ব্যাট হাতে চার ইনিংসে ১০৪ রান করার পাশাপাশি উইকেটের পেছনে সাতটি ডিসমিসালও করেন জ্যোতি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে তার ফর্ম এবং দলের একের পর এক পরাজয় নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দেয়। সেই প্রেক্ষাপটেই টি-টোয়েন্টি নেতৃত্বে পরিবর্তনের আলোচনা সামনে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাসকে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ভিসা না দেওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে ‘গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ’ করেছেন।
জাতিসংঘের এক মুখপাত্র শুক্রবার জানিয়েছেন, ভিসা না দেওয়ার কারণে আব্বাসের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনে সরাসরি অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বৃহস্পতিবার জানায়, আগামী সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে আব্বাসসহ অন্যান্য ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ভিসা দেওয়া হবে না। ফলে, মঙ্গলবার শুরু হতে যাওয়া এই অধিবেশনে শুধুমাত্র জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের মিশনের সদস্যরা অংশ নিতে পারবেন।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক বিবৃতিতে বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে জাতিসংঘের কার্যক্রমে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণের সক্ষমতার ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে গুতেরেস উদ্বিগ্ন।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের সঠিকভাবে কাজ করার জন্য সংগঠনের কার্যক্রমে সব প্রতিনিধিদলের পূর্ণ অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডুজারিক জানান, জাতিসংঘ মহাসচিব আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে তার দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সব প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবেন।
গত বছরও ট্রাম্প প্রশাসন ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ভিসা দেয়নি। এর ফলে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নিয়মিত অংশগ্রহণকারী আব্বাসকে ভিডিওবার্তার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত এই ফোরামে বক্তব্য দিতে হয়েছিল।
এ বছরও আব্বাসকে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে বৃহস্পতিবার সাধারণ পরিষদে ভোট পড়ে ১৫২-৩। অর্থাৎ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরাষ্ট্র তাঁর ভার্চুয়াল উপস্থিতির পক্ষে ভোট দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ)-র এমন একটি ব্যবস্থা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে, যার আওতায় কারাগারে থাকা বা নিহত ফিলিস্তিনিদের পরিবারের সদস্যদের অর্থ দেওয়া হতো। এসব ব্যক্তির মধ্যে ইসরাইলিদের বিরুদ্ধে হামলা চালানো ব্যক্তিরাও ছিলেন।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি এই ব্যবস্থা সংস্কার করেছে। নতুন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক পরিচয় বা কেউ কারাগারে ছিলেন কি না—তার পরিবর্তে পরিবারের আর্থিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মাধ্যমে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেওয়ার ফিলিস্তিনি উদ্যোগের বিরোধিতা করে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এ ধরনের উদ্যোগ আলোচনার পরিবর্তে একতরফাভাবে স্বীকৃতি আদায়ের মাধ্যমে আলোচনা পাশ কাটানোর চেষ্টা।
ওয়াশিংটন আরও অভিযোগ করেছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ‘সন্ত্রাসীদের ভাতা দেওয়া’ এবং প্রকাশ্য বক্তব্য ও স্কুলের পাঠ্যবইয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও সন্ত্রাসীদের প্রশংসা করা অব্যাহত রেখেছে।
গত বছর জাতিসংঘে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া ১৪২টি সদস্যরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মতবিরোধ রয়েছে।
‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’
এদিকে আব্বাসকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের হাতে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেড়েছে।
১৯৬৭ সাল থেকে ইসরাইল পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলে হামলার পর থেকে ওই অঞ্চলে সহিংসতা আরও বেড়েছে। ওই হামলার পরই গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরু হয়।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে এএফপির করা হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ওই হামলার পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনা ও বসতিস্থাপনকারীদের হাতে কমপক্ষে ১,১০৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে যোদ্ধা ও বেসামরিক—উভয়েই রয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় ইসরাইলে ১,২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়ছিল।
এর জবাবে ইসরাইল গাজায় ব্যাপক হামলা চালিয়ে আসছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৩,৮২১ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গাজার এই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হামাসের নিয়ন্ত্রণাধীন হলেও, তাদের প্রকাশিত হতাহতের পরিসংখ্যানকে জাতিসংঘ নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচনা করে।
এই সহিংসতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলনামূলকভাবে নীরব। ওয়াশিংটন শুধু জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের যেকোনো ধরনের সংযুক্তিকরণের (অ্যানেক্সেশন) বিরোধিতা করে মার্কিন সরকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি (ডিভিএম) অনুষদের ৬০তম ব্যাচের ইন্টার্নশিপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। এই সময় কৃতী শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রদান করা হয়।
চলতি বছরে ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের ২০২০-২১ সেশনের ডিভিএম-৬০তম ব্যাচের ১৭৯ জন শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণ করছেন। এর মধ্যে বিশ্বের ৪টি দেশে ৩৫ শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণ করছেন। দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়াতে ১৬ জন, থাইল্যান্ডে ১২ জন, জাপানে ৪ জন এবং নেপালে ৩ জন শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণ করছেন।
অনুষ্ঠানে সেরা সিজিপিএ প্রাপ্ত ২০১৯-২০ সেশনের ডিভিএম-৫৯তম ব্যাচের ৮ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে অ্যাকাডেমিক অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ প্রদান করা হয়। অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন- নুরুন লায়লা শাওন, মোছা. সাবরিনা ইয়াসমিন নুপুর, মোছা. ফাহমিদা সুলতানা জোনাকি, আফসানা মিমি, মোছা. আখি আক্তার শিলা, নওরিন জান্নাত, মো. মোরসালিন এবং মোছা. সালমা খাতুন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান।
বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার অনুষ্ঠানে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদে ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম চালু হওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। ইউজিসি থেকে অর্থায়ন পাওয়া সহজ নয়, তবে আমরা সৌভাগ্যবান যে এ কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করতে পারছি। ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) একটি অত্যন্ত সম্মানজনক ও চ্যালেঞ্জিং ডিগ্রি এবং ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গৌরবময় অনুষদ।
তিনি আরও বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা বিদেশে ইন্টার্নশিপে গিয়ে সাফল্য অর্জন করছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্বের। শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান, তারা যেখানে ইন্টার্নশিপ করবে সেখানে নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ শিখে আসবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবে। কোনো ধরনের অনিয়মে জড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব বলেন, আমরা জানি, উন্নত দেশগুলোতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভেটেরিনারি সায়েন্সে পড়াশোনা করে। আমি ইন্টার্নশিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য গর্ববোধ করি। তবে ঢাকার বাইরে অবস্থানের কারণে আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয় অনেক সময় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে শিক্ষা, শিল্প ও অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার আগামী পাঁচ বছরে প্রতিবছর এক লাখ করে মোট পাঁচ লাখ শিক্ষার্থীকে ইন্টার্নশিপের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে। এতে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে হবে। আমরা একটি জেন্ডার-ব্যালান্সড ক্যাম্পাস চাই। জীবনে সফলতার জন্য পরিশ্রম ও সঠিক পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রত্যেককে নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ