০২:৪৯ পি.এম
জনগণের অধিকার ও গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত জুলাই শেষ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি পরিষ্কারভাবে বলেছেন, জনগণের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার মধ্য দিয়েই জুলাইয়ের সার্থক পরিসমাপ্তি হবে।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে বিরোধী দলীয় নেতার বাসভবনে ‘জুলাই এখনও শেষ হয়নি’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জামায়াতের আমির।
ডা. শফিকুর রহমান স্বৈরাচার সরকারের পতনের আগে সাড়ে ১৫ বছর ধরে বিভিন্নভাবে মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছিল উল্লেখ করে বলেন, এ সময় আন্দোলন করতে গিয়ে অনেকে জীবন দিয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন এবং মামলার ভার বহন করেছেন। তবে আন্দোলন থেমে যায়নি। জুলাইয়ে পুনরায় মানুষ জেগে উঠেছে এবং ছাত্ররা রাজপথে নেমেছে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত ছাত্রীদের ওপর হামলার পর আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। এরপর ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে হত্যাকাণ্ড শুরু হয়। একই সময় ঢাকায় দুজন এবং চট্টগ্রামে তিনজন নিহত হন। ১৮ জুলাই থেকে ধারাবাহিকভাবে হত্যাকাণ্ড চলতে থাকে।
জামায়াত আমির আরও বলেন, ৩ আগস্ট জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের একটা সুযোগ তৈরি হয়েছিল। সেনাবাহিনীর সাধারণ কর্মকর্তা ও জওয়ানরা জনগণের ওপর অস্ত্র ব্যবহার না করার অবস্থান নেন। সে সময়ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থানে ছিলেন। ৩ ও ৪ আগস্ট হত্যাকাণ্ড চলেছিল এবং ইন্টারনেট বন্ধ করে লাশ গায়েব করার অভিযোগও করেছেন তিনি।
৫ আগস্ট তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন আশুলিয়ায় মানুষকে ট্রাকে ফেলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
অন্তর্বর্তী সরকার প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাময়িক শূন্যতা পূরণে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলেও সরকারের অনেক উপদেষ্টা দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষতার পরিচয় দিতে পারেননি।
আরও পড়ুন: গণতন্ত্রের শর্ত ও রাজনৈতিক সংকটের গুরুত্ব: তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্ক
জাতীয় সংস্কার প্রসঙ্গে এক মূল্যায়নে তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনে দীর্ঘ আলোচনা শেষে একটি চার্টার তৈরি করা হয়েছে। ছোট ছোট বিষয়ে ৩১টি দল একমত হলেও নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতভেদ দেখা গেছে। এসব মতভেদের বড় অংশ বর্তমান সরকারি দলের পক্ষ থেকে এসেছে বলেও দাবি করেন জামায়াত আমির।
সরকার নির্বাচন মানলেও গণভোট স্বীকার করে না জানিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা অভিযোগ করেন, সংসদের ভিতরে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি মানা হয়নি। জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে নেয়ার হুঁশিয়ারী দেন তিনি। এছাড়া পুরোনো বন্দোবস্তের বাহিরে নতুন সরকারের মাঝে ইতিবাচক কিছু করে দেখাতে পারছে না উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি আগের থেকেও বেড়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়েতের অংশ নেয়ার বিষয়ে আজ সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন দলটির আমির। তিনি যোগ করেছেন, ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর আগামী দু-এক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
আরও পড়ুন: ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান শাকিলের জানাজায় এমপির বিরুদ্ধে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন