বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:২৩ পি.এম
বয়সের কাঁটা এগিয়ে চললেও, চেহারায় তার ছাপ যেন একেবারেই নেই। বরং সময়ের সঙ্গে আরও তরুণী হয়ে উঠছেন অভিনেত্রী জয়া আহসান। রুপালি পর্দার চাকচিক্য পেরিয়ে, এবার নীলের মায়ায় ধরা দিলেন এই অভিনেত্রী। তার নতুন ছবিগুলো প্রকাশের পরই ভক্ত-অনুরাগীদের প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
জয়া আহসানের রয়েছে নিজের মতো এক স্বতন্ত্র জগৎ, যা রুপালি পর্দার আভিজাত্যের বাইরে। সেখানে তিনি সাধারণ, প্রকৃতিপ্রেমী এবং নিজের মতো করে সময় কাটাতে পছন্দ করেন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব একটা খোলামেলা না হলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিতভাবে নিজের নানা মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একগুচ্ছ ছবি প্রকাশ করেছেন জয়া আহসান। নীলের আবেশে তোলা এসব ছবিতে অভিনেত্রীর চোখের চাহনি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে নেটিজেনদের। ছবি প্রকাশের পর থেকেই তার সৌন্দর্য ও বয়স নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অনেকের মন্তব্য, সময় যতই গড়াচ্ছে, জয়ার বয়স যেন ততই কমছে! ছবিগুলো শেয়ার করে ক্যাপশনে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘নীল রং আমাতেই সাজে, আর আমার মুড পুরোপুরি আমার নিজের।’
ছবিগুলো প্রকাশের পরপরই কমেন্ট বক্সে জয়া আহসানের রূপের প্রশংসায় মেতেছেন ভক্তরা। একজন লিখেছেন, ‘আমি ছোটবেলা যেমন দেখছি, এখনো ঐরকম দেখি।’ আরেকজনের মন্তব্য, ‘আপনি দিন দিন আরও সুন্দর হয়ে যাচ্ছেন।’
অন্য এক ভক্ত লিখেছেন, ‘নীল রং দেখলে মনটা জানি কেমন হয়ে যায়। সুন্দর, অনেক সুন্দর।’
সব মিলিয়ে জয়া আহসানের নতুন ছবিগুলো আবারও প্রমাণ করল—বয়স শুধু একটি সংখ্যা, সৌন্দর্যের আবেদন সময়ের সঙ্গে বরং আরও গভীর হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন সামরিক হামলা চালানোর নির্দেশনা দিতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সংক্রান্ত সামরিক পরিকল্পনার বিকল্প তৈরি করতে পেন্টাগনকে হোয়াইট হাউস থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এই তথ্যটি আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘দি আটলান্টিক’-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পূর্বে এই হামলা চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনও গৃহীত হয়নি। হামলার পরিধি, লক্ষ্যবস্তু এবং এই মুহূর্তে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া যৌক্তিক হবে কি না—তা নিয়ে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সম্প্রতি পেন্টাগন ট্রাম্পের সামনে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান পুনরায় জোরদারের বেশ কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেছে, যার মধ্যে ইরানের জ্বালানি ও তেল অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট মূলত দেশের বাজারে গ্যাসের দাম কমানো এবং নির্বাচনের আগে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের অগ্রগতি তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন আদায় করতে চান।
অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেনটকম) সতর্ক করে জানিয়েছে, সীমিত আকারের সামরিক হামলা চালিয়ে ইরানকে আলোচনায় বাধ্য করা কিংবা হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। এমনকি ভোটের আগে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর ক্ষেত্রে এই কৌশল কার্যকর নাও হতে পারে।
ট্রাম্পের রাজনৈতিক সমর্থকদের একটি অংশ মনে করছেন, ইরানে সরাসরি হামলা চালালে ট্রাম্পের দৃঢ় নেতৃত্বের ভাবমূর্তি ফুটে উঠবে, যা নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির অবস্থানকে শক্তিশালী করবে। তাদের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর বড় ধরনের সামরিক অভিযানের এটি সূচনা হতে পারে। তবে ট্রাম্পের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে সামরিক অভিযানে না গিয়ে ভোটের পরপরই হামলা চালানো বেশি কৌশলগত হবে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ সতর্ক করেছেন যে, নির্বাচনের ঠিক আগে ইরানে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনরত প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা এবং পারস্য উপসাগরের মিত্রদেশগুলো চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। পাশাপাশি এতে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অস্ত্রাগারও খালি হতে পারে। অনেক সাধারণ আমেরিকান মার্কিনদের যুদ্ধ থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের দাবি জানাচ্ছেন। মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন সামরিক হামলা শুরু করলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কাই বেশি। সূত্র: দ্য আটলান্টিক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ : বুধবারের নোবেল রসায়ন পুরস্কার একটি ধারাবাহিক বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা উনিশ শতকে শুরু হয়েছিল এবং আধুনিক ওষুধ উৎপাদনে যুগান্তকারী সাফল্যের পথ তৈরি করেছে।
বিজ্ঞানীরা এই গবেষণার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু অণুর কাঙ্ক্ষিত রূপ কীভাবে তৈরি করা যায়, তা আবিষ্কার করেছেন।
স্টকহোম থেকে এএফপি জানায়, রয়্যাল সোসাইটি অব কেমিস্ট্রির সাময়িকী ‘কেমিস্ট্রি ওয়ার্ল্ড’-এর সম্পাদক ফিলিপ ব্রডউইথ মন্তব্য করেন, ‘ওষুধ, এমনকি স্বাদ ও সুগন্ধির মতো জিনিস তৈরির ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
নোবেল কমিটির মতে, ফ্রান্সের অঁরি কাগান এবং জাপানের কেনসো সোয়াই কীভাবে একটি ‘রাসায়নিক রহস্যের’ সমাধান করেছিলেন, সেই পথের গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো হলো:
লুই পাস্তুর
১৮৪৮ সালে ফরাসি রসায়নবিদ লুই পাস্তুর টারটারিক অ্যাসিডের ওপর পোলারাইজড আলো ফেলেন। তিনি লক্ষ্য করেন, কিছু অণু আলোকে বাম দিকে বাঁকিয়ে দেয়, অন্যগুলো ডান দিকে।
এই দুই ধরনের বিপরীতমুখী বৈশিষ্ট্যকে ‘কাইরালিটি’ বলা হয় এবং একে অপরের দর্পণ-প্রতিচ্ছবি এই দুটি বিপরীত রূপকে ‘এনান্টিওমার’ বলা হয়।
পরবর্তী গবেষণায় দেখা যায়, জীবন্ত প্রাণীর মধ্যে অ্যামিনো অ্যাসিড ও শর্করা এই দুই দর্পণ-প্রতিচ্ছবির মাত্র একটিমাত্র রূপে বিদ্যমান থাকে। তবে পরীক্ষাগারে তৈরি করলে উভয় রূপই পাওয়া যায়।
ব্রডউইথ বলেন, ‘অবিশ্বাস্য বিষয় হলো, পরস্পরের দর্পণ-প্রতিচ্ছবি হওয়া অণুগুলো জৈবিক ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে।’
নোবেল কমিটি উল্লেখ করেছে, অনেক ওষুধের অণুর ক্ষেত্রে ‘একটি চিকিৎসাগত প্রভাব সৃষ্টি করে, অন্যটি অপ্রয়োজনীয় এবং কখনো কখনো ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।’
‘অপ্রতিসম’ বিক্রিয়া
পাস্তুরের আবিষ্কারের ওপর ভিত্তি করে জার্মান রসায়নবিদ ভিলি মার্কভাল্ড ১৯০৪ সালে প্রথম ‘‘অপ্রতিসম’ রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটান।
তিনি একটি একমুখী অণুকে অনুঘটক হিসেবে ব্যবহার করে দেখতে পান, এর ফলে অন্যটির তুলনায় একটি এনান্টিওমার সামান্য বেশি উৎপন্ন হয়।
এই প্রভাবকে যদি বাড়ানো সম্ভব হয়, তাহলে কৃত্রিম রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে দর্পণ-প্রতিচ্ছবির মাত্র একটি রূপই উৎপন্ন করা সম্ভব হতে পারে—যেভাবে জীবন্ত প্রাণীর মধ্যে তা ঘটে।
গাণিতিক ভিত্তি
এরপর ১৯৫৩ সালে ব্রিটিশ পদার্থবিদ চার্লস ফ্র্যাঙ্ক সমমুখী কাইরালিটির একটি গাণিতিক ব্যাখ্যা দেন।
তার মডেল অনুযায়ী, একটি ‘দিকের’ সামান্য প্রাথমিক ভারসাম্যহীনতা নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সেই রূপটির প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
এখন চ্যালেঞ্জ ছিল এমন একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটানো, যা তার প্রস্তাবিত সব শর্ত পূরণ করবে।
কাগানের আবির্ভাব
১৯৮০-এর দশকে কাগাঁ একটি ‘কাইরাল’ অনুঘটকের গঠন পরিবর্তনের মাধ্যমে অণুগুলোর একটির উৎপাদন কীভাবে ব্যাপকভাবে বাড়ানো যায়, তা আবিষ্কার করেন।
তার উদ্ভাবিত ‘নন-লিনিয়ার’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আরও বিশুদ্ধ রাসায়নিক পদার্থ উৎপাদন সম্ভব হয়।
২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী উইলিয়াম নোলস ও ব্যারি শার্পলেস এবং জাপানের রিয়োজি নোরি ‘অ্যাসিমেট্রিক ক্যাটালাইসিস’ নিয়ে কাজের জন্য রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান।
তবে ওই পুরস্কারে কাগাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
সোয়াই : ‘স্ব-অনুঘটন’
কাগাঁর গবেষণায় অনুপ্রাণিত হয়ে কেনসো সোয়াই ১৯৯৫ সালে এই প্রক্রিয়াকে আরও উন্নত করেন।
তিনি এমন একটি অণু শনাক্ত করেন, যা অনুঘটককে নিজেই পুনরুৎপাদনে সহায়তা করতে পারে এবং ‘অটোক্যাটালাইসিস’ বা স্ব-অনুঘটন নামের একটি প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত অণুটির আরও বেশি উৎপাদন ঘটাতে পারে।
২০০৩ সালে সোয়াই এমন একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া উদ্ভাবন করেন, যাতে উৎপন্ন রাসায়নিক পদার্থের ৯৯.৯৯ শতাংশই ছিল একটি মাত্র এনান্টিওমার।
নোবেল কমিটি বলেছে, ‘জীবন নিজেকে বাদ দিলে এর আগে কেউ কখনো এমন কৃতিত্ব অর্জন করেনি।’
‘সোয়াই বিক্রিয়া এখন পর্যন্ত পরিচালিত সবচেয়ে দর্শনীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগুলোর একটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট বি-টু বা ক্রিটিক্যালিটিতে যাওয়ার অনুমতির জন্য অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বাডরা) এই অনুমোদন প্রদান করবে।
এই পর্যায়ে প্রথমবারের মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর বিভাজন ঘটানো হবে। এর ফলে চুল্লিতে ধীরে ধীরে স্থায়ী ও নিরাপদ উপায়ে শক্তি বা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। পূর্বে এই ইউনিটের সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জনজীবনে ভোগান্তি লাঘবে সকলের দৃষ্টি এখন এই নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দিকে। সবার মনে একটাই প্রশ্ন—কবে নাগাদ আসবে এই বিদ্যুৎ?
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) গাইডলাইন অনুযায়ী, রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ‘স্টেজ বি-ওয়ান’ মোটামুটি সফলভাবে শেষ হয়েছে। সর্বশেষ স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ পরীক্ষার জটিলতাও কেটে গেছে।
পরবর্তী ধাপ হচ্ছে বি-টু। এই ধাপে পারমাণবিক চুল্লিকে প্রাথমিক অপারেশনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়। এরপর ক্রিটিক্যালিটি পর্যায়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর বিভাজন তৈরি করা হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চুল্লিতে ধীরে ধীরে স্থায়ী ও নিরাপদভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।
এই ধাপে সফলভাবে এগিয়ে উৎপাদন ক্ষমতা ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছালে বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবির হোসেন বলেন, ‘আমরা বাডরাকে সব কাগজপত্র জমা দিয়েছি। তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়ার পর আমরা পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাব। আগের সব কাজ এখন সম্পূর্ণ। বাডরার পারমিশন পেলেই ইনশাআল্লাহ আমরা পরবর্তী পর্যায়ে (বি-টু) প্রবেশ করব।’
এদিকে, রূপপুরের সব নথিপত্র পর্যালোচনা করে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, রূপপুর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য আটটি সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজও ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন বর্তমানে ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, কারণ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওডেসা সমুদ্রবন্দরের মূল কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। বন্দরের অচল অবস্থার কারণে দেশটি ইতোমধ্যেই ৫ বিলিয়ন (৫০০ কোটি) মার্কিন ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
রুশ সংবাদ সংস্থা তাস (TASS)-এর সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিরাপত্তাজনিত কারণে বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজগুলো দীর্ঘদিন ধরে ওডেসা, চর্নোমোরস্ক এবং ইউঝনি বন্দর এড়িয়ে চলছে। বর্তমানে এসব বন্দরে কেবল ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর সাথে যুক্ত বা অনুমোদিত জাহাজগুলোকে ভিড়তে দেখা যাচ্ছে। ফলে সার্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
বিকল্প রুট হিসেবে ইউক্রেন বর্তমানে দানিউব নদীর ওপর অবস্থিত ইজমাইল বন্দর এবং রোমানিয়ার কনস্টান্টাইন বন্দর ব্যবহার করে পণ্য পরিবহনের চেষ্টা করছে। তবে বিকল্প এই দুই বন্দর মিলে ইউক্রেনের পূর্বের মোট রপ্তানি সক্ষমতার সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ (এক-তৃতীয়াংশ) সামাল দিতে পারছে।
এই পরিবহণ সংকটের সরাসরি প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ইউক্রেন নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৪৪ শতাংশ কৃষি পণ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ ইউক্রেন থেকে মেটালার্জিক্যাল পণ্যের রপ্তানি একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, কৃষি ও ধাতু—এই দুই খাত মিলিয়ে ইউক্রেনের মোট বার্ষিক রপ্তানির প্রায় ৬৫ শতাংশ সরবরাহ হতো, যা থেকে বছরে প্রায় ২৬ বিলিয়ন (২,৬০০ কোটি) ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় হতো। গত ২২ জুলাই থেকে ওডেসা বন্দরের এই স্থবিরতা অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: তাস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ