১০:৫৯ এম
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যার মামলায় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে, যিনি এজাহারে ৪ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।
রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ৫টা নাগাদ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আটক করে। এরপর পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে, কারাগারে রাখা আবেদনের জন্য জানতে চায়।
রমনা মডেল থানার মামলা নম্বর-১৮ অনুযায়ী, যে মামলার তারিখ ২১ অক্টোবর ২০২৫। দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় দায়ের করা মামলায় আশরাফুল হক ডনকে এজাহারে ৪ নম্বর আসামি হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার এজাহারে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ উল্লেখ রয়েছে। ওই দিন সালমান শাহের মৃত্যুর সময় তার বাসায় উপস্থিত কয়েকজনের এবং ঘটনার পরবর্তী বিবারের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ (২৫) বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ছিলেন। এজাহারে বলা হয়েছে যে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সালমান শাহর মা নিলুফার জামান চৌধুরী, নিলা চৌধুরী, বাবা মৃত কমর উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং ছোট ভাই শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটন রোডের ইস্কাটন প্লাজার ১১/বি নম্বর বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। ওইদিন তাদের সিলেট যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
বাসায় গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান শাহ ঘুমিয়ে থাকেন। এসময় তার স্ত্রী সামিরা ও কর্মচারী আবুল এই সংবাদ জানান। ওই সময় চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্দিকও সালমান শাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন। সালমান ঘুমিয়ে আছেন শুনে তার বাবা-মা সামিরাকে বলেন, সিলেট যাওয়ার পথে তারা তাদের ছেলের সঙ্গে দেখা করবেন। এরপর তারা বাসা থেকে চলে যান।
এজাহার অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমান শাহর বাবাকে জানান যে, সালমান শাহর সঙ্গে কিছু একটা ঘটেছে।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
এ খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ইস্কাটনের বাসায় এসে পৌঁছান। তখন তারা সালমান শাহকে শয়নকক্ষে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন, যা এজাহারে উল্লিখিত হয়েছে।
এজাহারে বলা আছে, সালমান শাহকে এই অবস্থায় দেখে, দুই-একজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন। অন্য একটি কক্ষে বসেছিলেন তার স্ত্রী সামিরার আত্মীয় রুবি।
সালমান শাহকে এই অবস্থায় দেখে তার মা চিৎকার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য বলেন। এই সময়ে সামিরার এক পরিচিত ব্যক্তি সালমান শাহর মাকে উদ্দেশ্য করে ‘You get out from this house’ বলেন, যা এজাহারে উল্লেখ আছে।
পরবর্তীতে সালমান শাহর বাবা-মা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় তার গলায় দড়ির দাগ দেখতে পান বলে মামলার নথিতে দাবি করা হয়েছে। একইসাথে তার মুখমণ্ডল ও পা নীল হয়ে গিয়েছিল বলেও এজাহারে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের
প্রথমে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পরীক্ষা করে বলেন, সালমান শাহ বেশ কিছুক্ষণ আগে মারা গেছেন।
আদালতে পুলিশের দেওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আশরাফুল হক ডন বেশ কিছুদিন ধরে পলাতক ছিলেন। রমনা থানা পুলিশের অভিযানের ওপর ভিত্তি করে রোববার ভোর ৫টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করেছে।
পরে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ডন জামিনে মুক্তি পেলে মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে এবং তিনি পুনরায় পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে পুলিশ আদালতকে জানিয়ে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন