ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চেরির স্বাস্থ্যগুণ: পুষ্টি উপাদান, উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম


চেরির স্বাস্থ্যগুণ: পুষ্টি উপাদান, উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

চেরি ফল ভিটামিন ও খনিজে ভরপুর, যা শরীরের দৈনন্দিন পুষ্টির প্রয়োজন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রতি ১০০ গ্রাম চেরিতে দৈনিক চাহিদার প্রায় ১৮ শতাংশ ভিটামিন সি এবং প্রায় ১০ শতাংশ পটাশিয়াম পাওয়া যায়।

‘ইন্ডিয়ান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্ট্রি’-তে প্রকাশিত একটি গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ভিটামিন সি শরীরকে বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করে এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে অদ্ভুত স্থাপত্যের পর্যটনস্থল, নাগরদোলায় চড়ার সুযোগ নেই

অন্যদিকে, পটাশিয়াম পেশির সংকোচন ও প্রসারণ সচল রাখতে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক পর্যায়ে রেখে চলতে সাহায্য করে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক উপাদান রয়েছে চেরিতে। ‘অ্যাডভান্সেস ইন নিউট্রিশন’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা থেকে জানা যায় যে, চেরিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক (অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি) উপাদান রয়েছে। পাশাপাশি, ‘ফুডস’ জার্নালের আরও একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, চেরি ফ্ল্যাভোনয়েড সমৃদ্ধ একটি ফল, যা শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস (কোষের ক্ষয়) এবং প্রদাহ থেকে রক্ষা করে।

এটি হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও ভূমিকা রাখে। চেরির নির্যাস বা এক্সট্রাক্টেও একই ধরনের উপকারী গুণাগুণ রয়েছে। এছাড়া এর পলিফেনল উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামত করতে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে।

চেরির অন্য একটি বড় গুণ হলো এটি শরীরের প্রদাহ ও পেশির ব্যথা উপশম করতে সক্ষম। এই কাজে টক চেরি বিশেষভাবে কার্যকরী।

আরও পড়ুন: উৎসবে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে

চেরি শরীরের পেশির দ্রুত ক্লান্তি দূর করা, ক্ষত নিরাময় করা এবং পেশির শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। ‘মলিকিউলস’ জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চেরি শারীরিক কর্মক্ষমতা বাড়ায়।

চেরিতে থাকা পটাশিয়াম হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এক কাপ চেরি থেকে শরীরের দৈনিক চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পটাশিয়াম পাওয়া যায়।

পটাশিয়াম হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করে দিতে সক্ষম হয়। ফলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।

শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের উচ্চ মাত্রা উচ্চ রক্তচাপ, কিডনিতে পাথর এবং হার্ট ফেইলিউরের মতো সমস্যা তৈরি করে। ‘এভিডেন্স-বেসড কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড অল্টারনেটিভ মেডিসিন’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, চেরি খেলে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমে এবং গেঁটে বাতের লক্ষণ, আচমকা তীব্র ব্যথা ও জয়েন্ট ফুলে যাওয়া হ্রাস পায়।

আরও পড়ুন: দাঁড়িয়ে কাজ করলে হাঁটু ও কোমরে ব্যথার ঝুঁকি

ছয়টি গবেষণার একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নিয়মিত চেরি বা চেরির রস পানের ফলে গেঁটে বাতের প্রকোপ কমেছে এবং রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রাও হ্রাস পেয়েছে।

চেরিতে মেলাটোনিন নামক উপাদান রয়েছে, যা শরীরের ঘুম এবং জাগরণের প্রাকৃতিক চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করে।

‘ইউরোপিয়ান জার্নাল অব নিউট্রিশন’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় ২০ জন ব্যক্তির ওপর পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের একদলকে প্লাসিবো (নকল ওষুধ) এবং অন্য দলকে সাত দিন ধরে টক চেরির রস দেওয়া হয়। চেরির রস পানকারী দলটির শরীরে মেলাটোনিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং তাদের ঘুমের সময় ও মান উভয়ই উন্নত হয়।

দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় চেরি যুক্ত করা খুব সহজ। এটি বিভিন্নভাবে খাওয়া যেতে পারে। তাজা ফল হিসেবে সরাসরি খাওয়া যায় অথবা বিভিন্ন ডেজার্ট বা মিষ্টি খাবারে যোগ করা যেতে পারে। শুকনো চেরি, চকলেট চিপস এবং নারকেলের ফ্লেক্স একসঙ্গে মিশিয়ে স্ন্যাক্স হিসেবে তৈরি করা যেতে পারে। ফলের সালাদে চেরি মেশানো যায় এবং স্মুদিতে এটি পুষ্টির মান বাড়াতে ব্যবহার করা হয়। ভিন্ন স্বাদের জন্য চেরি পনিরের সঙ্গে খাওয়া যায় কিংবা হালকা রোস্ট করে গ্রহণ করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: রাতে ঘুম না আসলে ক্যামোমাইল চা পান করুন

তবে একসঙ্গে প্রচুর পরিমাণে চেরি খেলে কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের পেট সংবেদনশীল, তাদের অতিরিক্ত চেরি খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত; অন্যথায় ডায়রিয়া, গ্যাস এবং পেট ফাঁপার মতো সমস্যা হতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে চেরি থেকে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে। এছাড়া, ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্যতালিকায় চেরি যুক্ত করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রাপ্তবয়স্করা সাধারণত দিনে ১৫ থেকে ২৫টি চেরি খেতে পারেন। শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা দিনে প্রায় ১৫ থেকে ২০টি চেরি খাওয়া নিরাপদ। অতিরিক্ত চেরি খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে, তাই সবসময় পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস করাই উচিত।

সূত্র: সামা টিভি 

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের পূজায় চমকে গেলেন ময়ূখ, চট্টগ্রামের জন্য আলাদা পুরস্কার চাইলেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বর্ষায় ছাদবাগানের যত্নে মানুন কিছু সহজ নিয়ম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৪৩ এম


বর্ষায় ছাদবাগানের যত্নে মানুন কিছু সহজ নিয়ম

বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিতে ছাদ বা বারান্দার গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং তারা আরও সতেজ দেখায়। কিন্তু অনেকেই এই ধারণা পোষণ করে থাকেন যে, বৃষ্টির পানি পেলেই গাছের আর আলাদা যত্নের প্রয়োজন নেই।

এ বিষয়ে উদ্যান বিশেষজ্ঞদের মতামত হলো, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বরং বর্ষাকালেই গাছের গোড়ায় পানি জমা, শিকড় পচা এবং পোকামাকড়ের আক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। এজন্য এই সময় ছাদবাগানের জন্য বিশেষ যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো টবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ঠিক রাখা। যদি অতিরিক্ত পানি জমে থাকে, তাহলে গাছের শিকড় পচে যেতে পারে। তাই টবের নিচের ছিদ্র খোলা আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা দরকার। টব বা ড্রামের চারপাশে জমে থাকা পানিও দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে।

বর্ষার বৃষ্টির পানিতে গাছের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান। এ কারণে, এই সময় অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। তবে গাছের পুষ্টির জন্য চা-পাতা, ডিমের খোসা, সবজির উচ্ছিষ্টসহ বিভিন্ন জৈব সার ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো গাছের বৃদ্ধি ও ফলন বাড়াতে সাহায্য করে।

এ সময় গাছের প্রতি পোকামাকড়ের আক্রমণও বেড়ে যায়। বিশেষ করে নতুন পাতায় বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর পোকা বাসা বাঁধতে শুরু করে। তাই বর্ষার শুরু থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে নিম তেল, রসুন, শুকনো মরিচের গুঁড়া, গোলমরিচ, হলুদ বা কাঠের ছাই ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রয়োজনে কৃষিবিদের পরামর্শ নিয়ে রাসায়নিক কীটনাশকও ব্যবহার করা যেতে পারে।

এছাড়াও, গাছের শুকনো বা পচা ডাল নিয়মিত ছেঁটে ফেলতে হবে এবং টবের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। বর্ষার ফাঁকে যখন রোদ উঠবে, তখন গাছগুলোকে কিছু সময়ের জন্য রোদে রাখলে সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে এবং গাছ আরও সবল হয়।

উদ্যান বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে সামান্য যত্ন ও নিয়মিত পরিচর্যাই ছাদবাগানকে সবুজ, সতেজ ও রোগমুক্ত রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কোন রোগে কি ফল খাবেন, জেনে নেওয়া উচিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৪৭ এম


কোন রোগে কি ফল খাবেন, জেনে নেওয়া উচিত

প্রকৃতির আশীর্বাদ হচ্ছে— ফল। কিন্তু এই ফল সবার জন্য একটি নয়। যদি আপনার শরীরে এ তিনটির কোন একটি রোগ থাকে, তাহলে আপনাকে সেই ফল 'উপকারী' মনে করে ইচ্ছামতো তা খেতে হবে না। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সবসময় চিকিৎসক বা একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে আপনি আপনার শরীরের জন্য কতটুকু ফল খাওয়া দরকার, ততটুকুই ফল খেতেই হবে।

এজন্যই ফল শরীরের জন্য খুব উপকারী হলেও নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক সমস্যায় কিছু ফল নেতিবাচক বা 'বিষ'-এর মতো হয়ে উঠতে পারে। শর্করার অতিরিক্ত উপস্থিতির কারণে ভুল ফল নির্বাচন রোগব্যাধি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

সুতরাং, আপনার সুস্থতার জন্য ফল খাওয়ার বিকল্প নেই। তবে, আমরা অনেকেই জানি না যে, একজনের জন্য যে ফলটি অমৃত, অন্যজনের জন্য সেটিই বিষের মতো কাজ করতে পারে।

বিশেষত যদি আপনি ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা অথবা আইবিএসে (পেটের রোগ) ভোগেন, তাহলে যে কোনো ফল আপনার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সুতরাং ফল খাওয়ার ব্যাপারে অনেক বেশি সচেতন থাকা জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফল খাওয়া উচিত।

জেনে নিন কোন রোগে কোন ফল খাবেন—

ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ফলের সতর্কতা

অনেকের মনে ভুল ধারণা থাকে যে, ফলের মিষ্টি যেহেতু প্রাকৃতিক, তাই এটি ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষতি করে না। এটি একেবারেই ভুল ধারণা। ফলের মাঝে এক ধরনের শর্করা বা চিনি থাকে, যাকে বলা হয় ফ্রুক্টোজ। কিছু কিছু ফল খেলে রক্তে সুগারের মাত্রা খুব দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

যেমন— পাকা আম, কাঁঠাল, পাকা কলা, লিচু, আতা ফল, খেজুর এবং কিসমিসের মতো এই ফলগুলোতে শর্করার পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। এসব ফল 'গ্লাইসেমিক ইনডেক্স' অনেক বেশি। এগুলো খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্তে সুগারের ঝড় বয়ে যায়, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে তোলে। এজন্য ডায়াবেটিস রোগী চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দিনে অল্প পরিমাণে আপেল, পেয়ারা, নাশপাতি, জাম অথবা জামরুল খেতে পারেন।

কিডনি রোগীর জন্য ফল যেন 'নীরব ঘাতক'

কিডনি রোগীর জন্য ফল খাওয়ার নিয়ম সাধারণ মানুষের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা। কিডনি যখন দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন শরীর থেকে বাড়তি খনিজ ও বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে বের হতে পারে না। এ ক্ষেত্রে কলা, ডাবের পানি, কমলালেবু, মালটা, আঙুর, আমড়া এবং শুকনো ফল সাবধানে খেতে হবে। সবচেয়ে মারাত্মক ফল হলো কামরাঙা। এই ফলগুলোতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে। সুস্থ কিডনি পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখে, কিন্তু অসুস্থ কিডনি তা করতে পারে না। রক্তে পটাশিয়াম বেড়ে গেলে বুক ধড়ফড় করা থেকে শুরু করে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে। এবং কামরাঙায় এক ধরনের বিষাক্ত উপাদান (টক্সিন) থাকে, যা কিডনি রোগীকে সরাসরি মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে। আরও কিছু বিষয় হচ্ছে, কিডনি রোগীর রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসকরা ফল খাওয়ার অনুমতি দেন।

আইবিএস বা পেটের রোগীর সমস্যা

আইবিএস হলো একটি সমস্যা, যেখানে মানুষের পরিপাকতন্ত্র বা পেট অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। কিছু নির্দিষ্ট ফল খেলে তাদের পেটে তীব্র গ্যাস, পেট ফাঁপা, মোচড় দিয়ে ব্যথা অথবা বারবার পাতলা মলত্যাগ শুরু হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আপেল, নাশপাতি, তরমুজ, চেরি, পিচ এবং যে কোনো অতিরিক্ত মিষ্টি ফল বা ফলের রস এই সমস্যা বাড়ায়।

এ ছাড়া এসব ফলে এমন কিছু শর্করা কিংবা সুগার অ্যালকোহল থাকে, যা আইবিএস রোগীর অন্ত্র সহজে হজম করতে পারে না। বিজ্ঞানী ভাষায় এগুলোকে বলা হয়, হাই-ফডম্যাপ খাবার। এগুলো পেটে গিয়ে গ্যাস তৈরি করে, যার ফলস্বরূপ প্রচুর গ্যাস এবং পেটের অস্বস্তি তৈরি হয়। আইবিএস রোগীরা পাকা পেঁপে, পাকা কলা, ডালিম অথবা লেবুর রস খেতে পারেন। এগুলোকে বলা হয় 'লো-ফডম্যাপ' খাবার, যা পেটে সহজে গ্যাস তৈরি করে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অ্যাশেজের ধাক্কার পর আর রক্ষা হলো না ম্যাককালামের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৫২ এম


অ্যাশেজের ধাক্কার পর আর রক্ষা হলো না ম্যাককালামের

ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তবে, ম্যাককালাম ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন।

এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ফলে টেস্ট দলের অধিনায়ক বেন স্টোকসের অবসরের পর এখন কোচের পদটিও শূন্য হয়ে গেল।

ইসিবি জানায়, আসন্ন অ্যাশেজকে সামনে রেখে টেস্ট দলে নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তারা এই সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি, ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারানো এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্সের কারণে বোর্ড পরিবর্তনের দিকে হাঁটছে।

ম্যাককালাম টেস্ট দলের দায়িত্ব হারিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে জানান, “টেস্ট দলের দায়িত্ব পালন আমি ভীষণ উপভোগ করেছি।” বোর্ডের সিদ্ধান্তকে তিনি সম্মান জানিয়ে সাদা বলের দুটি সংস্করণে সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার কথাও বলেছেন।

ইসিবির প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গোল্ড বলেন, “ম্যাককালাম ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে এনেছিলেন এবং তাঁর অধীনে দল বেশ কয়েকটি স্মরণীয় জয় পেয়েছে।” তবে, বোর্ড মনে করছে, আগামী অ্যাশেজের আগে পরিবর্তন আনার এটি উপযুক্ত সময়।

২০২২ সালে টেস্ট দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর, ম্যাককালাম অধিনায়ক বেন স্টোকসকে সঙ্গে নিয়ে ‘বাজবল’ দর্শনের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে নতুন মাত্রা যোগ করেন। তাঁর অধীনে প্রথম ১১ টেস্টের ১০টিতেই জয় পায় ইংল্যান্ড। কিন্তু, এরপর পারফরম্যান্সে ধারাবাহিক অবনতি ঘটে। ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়া কিংবা ভারতের বিপক্ষে কোনো টেস্ট সিরিজ জয় করতে পারেনি।

ম্যাককলামের টেস্ট কোচ হিসেবে রেকর্ড ৪৯ ম্যাচে ২৭ জয়, ২ ড্র ও ২০ হার। তবে, সর্বশেষ ৯টি টেস্টের মধ্যে ৭টিতে ইংল্যান্ড পরাজিত হয়েছে।

২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত ম্যাককালামের সঙ্গে ইসিবির চুক্তি থাকলেও সেটি এখন শুধুমাত্র সাদা বলের দলের জন্য কার্যকর থাকবে। আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠেয় ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

এদিকে, নতুন টেস্ট কোচ খোঁজার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু করেছে ইসিবি। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ, রিচার্ড ডসন, রায়ান ক্যাম্পবেল, জাস্টিন ল্যাঙ্গার এবং সাবেক কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীতে বৃষ্টি কমতে পারে আজ, বাড়তে পারে উত্তরাঞ্চলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৫৮ এম


রাজধানীতে বৃষ্টি কমতে পারে আজ, বাড়তে পারে উত্তরাঞ্চলে

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে ঢাকায় এর আগের দিনে এটিই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। একই সময়ে গতকাল রোববার দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত চট্টগ্রামে হয়েছে, যেখানে রেকর্ড করা হয়েছে ১৬০ মিলিমিটার।

আবহাওয়া অধিদপ্তর এর তথ্য অনুযায়ী, আজ সোমবার রাজধানীতে বৃষ্টির তীব্রতা কমে আসতে পারে। তবে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানুয়ানি করেছেন, গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সাধারণত জুলাই মাসে ঢাকায় গড়ে প্রায় ৩৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। সে হিসাবে মাত্র এক দিনে মাসের গড় বৃষ্টিপাতের প্রায় অর্ধেক নেমে এসেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে দেশের মধ্যাঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই প্রভাবের ফলে ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুরসহ আশপাশের এলাকায় খুব অল্প সময়ের মধ্যে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হয়েছে। একই পরিস্থিতি চট্টগ্রামের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে।

নাজমুল হক বলেছেন, এপ্রিল এবং মে মাসে বজ্রসহ বৃষ্টি সাধারণত বিচ্ছিন্নভাবে হয়ে থাকে। কিন্তু জুন-জুলাইয়ে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে বৃষ্টিপাতের বিস্তৃতি অনেক বেশি হয় এবং একটি শহরের প্রায় সকল এলাকা এর আওতায় চলে আসে।

তবে চলতি মৌসুমে ঢাকায় এটি সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টিপাত হলেও অতীতের কয়েকটি রেকর্ডের তুলনায় কম। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় এক দিনে সর্বোচ্চ ৩৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল ২০০৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল ২০০৯ সালের ২৮ জুলাই। এছাড়া ১৯৫৬ সালে এক দিনে ৩২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। ২০২২ সালে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে ২৪ ঘণ্টায় ২৫৫ মিলিমিটার এবং ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড় ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ২০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গতকাল সকালে বান্দরবানের সাঙ্গু, সুনামগঞ্জ এবং সিলেটের কুশিয়ারা নদী ও নেত্রকোনার সোমেশ্বরী নদীর পাঁচটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

কেন্দ্রের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরীসহ কয়েকটি নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে পারে। এর ফলে নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া এবং হালদা নদীর পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%