প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিতে ছাদ বা বারান্দার গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং তারা আরও সতেজ দেখায়। কিন্তু অনেকেই এই ধারণা পোষণ করে থাকেন যে, বৃষ্টির পানি পেলেই গাছের আর আলাদা যত্নের প্রয়োজন নেই।
এ বিষয়ে উদ্যান বিশেষজ্ঞদের মতামত হলো, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বরং বর্ষাকালেই গাছের গোড়ায় পানি জমা, শিকড় পচা এবং পোকামাকড়ের আক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। এজন্য এই সময় ছাদবাগানের জন্য বিশেষ যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো টবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ঠিক রাখা। যদি অতিরিক্ত পানি জমে থাকে, তাহলে গাছের শিকড় পচে যেতে পারে। তাই টবের নিচের ছিদ্র খোলা আছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা দরকার। টব বা ড্রামের চারপাশে জমে থাকা পানিও দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে।
বর্ষার বৃষ্টির পানিতে গাছের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান। এ কারণে, এই সময় অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। তবে গাছের পুষ্টির জন্য চা-পাতা, ডিমের খোসা, সবজির উচ্ছিষ্টসহ বিভিন্ন জৈব সার ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো গাছের বৃদ্ধি ও ফলন বাড়াতে সাহায্য করে।
এ সময় গাছের প্রতি পোকামাকড়ের আক্রমণও বেড়ে যায়। বিশেষ করে নতুন পাতায় বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর পোকা বাসা বাঁধতে শুরু করে। তাই বর্ষার শুরু থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে নিম তেল, রসুন, শুকনো মরিচের গুঁড়া, গোলমরিচ, হলুদ বা কাঠের ছাই ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রয়োজনে কৃষিবিদের পরামর্শ নিয়ে রাসায়নিক কীটনাশকও ব্যবহার করা যেতে পারে।
এছাড়াও, গাছের শুকনো বা পচা ডাল নিয়মিত ছেঁটে ফেলতে হবে এবং টবের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। বর্ষার ফাঁকে যখন রোদ উঠবে, তখন গাছগুলোকে কিছু সময়ের জন্য রোদে রাখলে সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে এবং গাছ আরও সবল হয়।
উদ্যান বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে সামান্য যত্ন ও নিয়মিত পরিচর্যাই ছাদবাগানকে সবুজ, সতেজ ও রোগমুক্ত রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন