০৮:১২ পি.এম
সড়ক দুর্ঘটনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাতের মৃত্যু ঘটেছে। এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলে তিন দফা দাবি করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, দাবি মানা না হলে আবারও মহাসড়ক অবরোধ করবেন।
সোমবার বেলা ১১টায় উপাচার্যের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এসব দাবি তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা। যথাক্রমে, নিহত ইয়াসিনের পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও হল প্রভোস্টের অবহেলার জন্য জবাবদিহি এবং আহত ইয়াসিনকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা না করার ব্যাখ্যা দাবি করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল যে, দুর্ঘটনার পর প্রায় দুই ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আহত ইয়াসিনের খোঁজ নেয়নি। আহত ইয়াসিন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অবহেলার কারণে পড়ে ছিলেন। আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন, দ্রুত তাঁকে ঢাকায় নেওয়ার ব্যবস্থা করা হলে তাঁর জীবন বাঁচানো সম্ভব হতো।
আরও পড়ুন: সুইজারল্যান্ডের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রাছেল মন্তব্য করেন যে, বিকেল ৫টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিআরটিএ কর্তৃপক্ষকে তিন দাবির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানাতে হবে। এরপর তারা আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাজিব জানালেন যে, দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ইয়াসিনের মৃত্যুর দায় প্রশাসন থেকে এড়ানো সম্ভব নয়।
তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. আবদুল আলিম বছির দাবি করেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রক্টর ঢাকায় গিয়ে আহত শিক্ষার্থীর সঙ্গে ছিলেন। পাশাপাশি প্রশাসনের অবহেলা থাকলে তা মেনে নেওয়ার কথাও জানান।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। যানজট থাকায় ঘটনাস্থলে যেতে কিছুটা সময় লেগেছিল। আহত শিক্ষার্থীকে এসি অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল।
আরও পড়ুন: এস এম জিলানী: গুপ্ত ও ফ্যাসিস্টরা নতুন চক্রান্ত শুরু করেছে
উপাচার্য আরও বলেন যে, প্রক্টর ও হল প্রভোস্টের জবাবদিহির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
এদিকে বৈঠকের সময় বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনিমের উপাচার্যের কক্ষে উপস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেছেন।
এর পূর্বে রবিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন দপদপিয়া সেতুতে বিআরটিসির বাসের সঙ্গে থ্রি-হুইলারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় ইয়াসিনসহ পাঁচজন আহত হন। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। গুরুতর আহত ইয়াসিনকে ঢাকায় নেওয়া হলে রাত ১০টার দিকে তিনি মারা যান।
ইয়াসিনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রবিবার রাত ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। এর আগে রাত ৮টা থেকে পৌনে ১০টা পর্যন্ত তারা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এর ফলে ব্যস্ততম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং যাত্রী ও পণ্যবাহী পরিবহনের চালকদের দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হয়।
আরও পড়ুন: গোলাম মোস্তফা: ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদের সূচনা
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান জানালেন, সোমবার ভোররাতে ইয়াসিনের মরদেহ পরিবারের সদস্যরা তাঁর গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁও নিয়ে যান। বাদ মাগরিব সেখানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন