ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘তেলাপোকাদের’ চিহ্নিত করে গুন্ডা দমন আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা শুভেন্দুর


‘তেলাপোকাদের’ চিহ্নিত করে গুন্ডা দমন আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা শুভেন্দুর

ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে বেশ কিছু দিন ধরে ভারত উত্তাল ছিল। নয়াদিল্লির রাজধানী থেকে আন্দোলনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছিল দেশের বিভিন্ন রাজ্যে, যেখানে পশ্চিমবঙ্গও অন্তর্ভুক্ত। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ সহ, নিজেদের তিন দাবি আদায় করেছে ভারতীয় তরুণদের নতুন প্লাটফর্ম তেলাপোকা বা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তাদের দাবি আদায় করার পর, ইতোমধ্যে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছে তারা।

তবে, বিষয়টিকে এখানেই শেষ হতে দিচ্ছেন না পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে গুন্ডা দমন আইনে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) ধর্মতলায় বামপন্থি ছাত্র সংগঠন এবং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পক্ষ থেকে বিশাল এক মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এই মিছিল থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের লক্ষ্য করে পানির বোতল এবং জুতো ছোড়া হয়েছে এবং তাদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে।

আরও পড়ুন: মোজতবা খামেনি বাবার পথ বেছে নিয়েছেন, সরকার উৎখাতই একমাত্র উপায়: নেতানিয়াহু

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজ্য বিধানসভায় তিনি জানিয়েছেন, এই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে গুন্ডা দমন আইন প্রয়োগ করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী বিবৃতিতে বলেন, মিছিল থেকেই সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে বোতল ও জুতো ছোড়া হয়েছে। তিনি জানান, তিনি নিজে আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেছেন। ইউনাইটেড ককরোচ মার্চ নামে এই আন্দোলনের ঘোষণা করা হয়েছিল। স্বঘোষিত ককরোচ পার্টির দেবদত্ত গঙ্গোপাধ্যায় এবং বামপন্থিদের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, সমবেত মিছিলকারীরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যাওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ করা যাবে না। ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে একে ছাত্র সংগঠন বলা হলেও, তাদের কোনো বৈধ ছাত্র সংগঠন আছে বলেও জানা নেই।

এরপর, পুলিশের সংযমের প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুলিশকে শুরুতেই নজরদারি চালাতে বলা হয়েছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যাওয়া পর্যন্ত বলপ্রয়োগে কঠোরভাবে বারণ ছিল। খিদিরপুর, রাজাবাজার, বেলগাছিয়া ও রাজারহাট থেকে লোক এনে ডোরিনা ক্রসিংয়ে বোতল ও জুতো ছোড়া হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের টার্গেট করা হয়েছে। বারবার প্ররোচনা থাকা সত্ত্বেও, বলপ্রয়োগ এড়িয়ে গেছে কলকাতা পুলিশ। এই বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর গুন্ডা দমন আইন যুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: নজিরবিহীন নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি

অভিযোগিত आंदोलनকারীদের চিহ্নিত করে রাজ্য বিধানসভায় তাদের নামও প্রকাশ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, আফরোজ, নাহিদ, তনভির, রাহুল ও জামালের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, ছয়জন সাংবাদিক বন্ধু বর্তমানে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহত সাংবাদিকদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ তারা গ্রহণ করেছেন। মোট ছয়টি মামলা হয়েছে এবং বিধানসভায় পাশ হওয়া গুন্ডা দমন আইন এই মামলাগুলোতে যুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের তদন্তে এরই মধ্যে ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা আদতে কোনো সাধারণ ছাত্র বা নিট আন্দোলনের অংশ নন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প ও প্রবাসীদের নিয়ে ত্রিপাক্ষিক ইকোসিস্টেম গড়বে সরকার: মাহদী আমিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:২৭ পি.এম


বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প ও প্রবাসীদের নিয়ে ত্রিপাক্ষিক ইকোসিস্টেম গড়বে সরকার: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন জানিয়ে দিয়েছেন যে, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প কারখানা এবং প্রবাসীদের মেধা ও অভিজ্ঞতাকে এক ছাতার নিচে এনে একটি শক্তিশালী ত্রিপাক্ষিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হবে।

আজ শনিবার রাজধানীর নভোথিয়েটারে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

‘বৈশ্বিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী এই সামিট অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে সামিটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে মাহদী আমিন বলেন, দেশে প্রচুর শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় থাকা সত্ত্বেও শিল্পের সঙ্গে শিক্ষার প্রয়োজনীয় মেলবন্ধনের অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, সরকার এই দূরত্ব ঘুচিয়ে তরুণদের মেধা বিকাশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে শিল্পখাত এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ব্রেইন ড্রেনকে 'ব্রেইন সার্কুলেশনে' রূপান্তরের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ও নামি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বহু বাংলাদেশি শিক্ষক, প্রকৌশলী ও গবেষক সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। প্রবাসীদের এই মেধা ও অভিজ্ঞতাকে দেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রায় যুক্ত করতে সরকার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে।

গবেষণা ও শিক্ষার মানোন্নয়নের বিষয়ে মাহদী আমিন জানান, দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই মানসম্মত আধুনিক ল্যাবরেটরি এবং গবেষণার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। এই বাস্তবতায় এবারের বাজেটে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতে রেকর্ড পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই অর্থ কেবল ভবন নির্মাণে নয়, বরং উন্নত ল্যাব স্থাপন ও গবেষণা বান্ধব পরিবেশ তৈরিতে ব্যয় হবে।

এছাড়া, যুক্তরাজ্যসহ উন্নত দেশের আদলে ভবিষ্যতে বিশেষায়িত ‘গবেষণা কেন্দ্র’ গড়ে তোলার মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষাব্যবস্থাকে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি প্রয়োগমুখী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ইন্টার্নশিপ, সামার স্কুল, ভিজিটিং লেকচার এবং শিল্প বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে দক্ষ করে তুলতে হবে। একইসঙ্গে তিনি মূলধারার সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে মূলধারায় রূপান্তরের আহ্বান জানান।

তরুণ সমাজের উদ্যোক্তা মনোভাব এবং মেধার প্রশংসা করে মুখপাত্র বলেন, সরকারি দিকনির্দেশনা ও সঠিক ইকোসিস্টেম পেলে আমাদের উদীয়মান তরুণরা চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, রোবোটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রগুলোতে বৈশ্বিক নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সমুদ্রে জীবনের স্বপ্ন ডুবে গেল রোহিঙ্গা যুবকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:২৮ পি.এম


সমুদ্রে জীবনের স্বপ্ন ডুবে গেল রোহিঙ্গা যুবকের

পরিবার ও স্বজনদের কাছে দোয়া চেয়ে পাঠানো অডিও বার্তায় সিরাজ উল্লাহর কণ্ঠস্বরে ভয় স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। বার্তাটি প্রেরণের পর ২৪ বছর বয়সী সিরাজ উল্লাহ একটি নৌকায় ওঠেন। এই নৌকাটি তাকে মিয়ানমারে চলমান সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে মুক্তি দেওয়ার আশা ছিল।

কিন্তু এর পরিবর্তে, জুন মাসের শেষের দিকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে সমুদ্রযাত্রা করে নিখোঁজ হওয়া ৫০০ রোহিঙ্গা শরণার্থীর একজন হয়ে যান সিরাজ।

ভয়েস মেসেজে তিনি বলেন, "দয়া করে আমার এবং সব যাত্রীর জন্য দোয়া করবেন। আমরা জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছি, কিন্তু আমাদের আর কিছুই করার নেই। আমি এই জীবন আর সহ্য করতে পারছি না।" সিরাজ আশা করেছিলেন, মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পরে তিনি পেশাদার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে সক্ষম হবেন। কিন্তু এক মাস পার হওয়ার পর, এখন আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাদের বহনকারী নৌকাটি ডুবে গেছে।

সিরাজের শেষ বার্তাটি থেকে নিশ্চিত হয় যে, চলতি বছর হাজার হাজার রোহিঙ্গা যে বিপজ্জনক পথ পাড়ি দিয়েছে সেই সম্পর্কে তিনি পুরোপুরি অবগত ছিলেন। গত এপ্রিল মাসে আন্দামান সাগরে নৌকাডুবিতে ২৫০ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়।

কয়েক দশকের নিপীড়ন ও সামরিক সহিংসতার পরে মিয়ানমারে এখন আনুমানিক ৫ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা অবশিষ্ট রয়েছে বলে অনুমান করা হয়। অথচ এক দশক আগে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১৪ লাখ। বর্তমানে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত ক্যাম্পগুলোতে শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছে।

দালাল ও মানবপাচারকারী চক্র মালয়েশিয়ায় উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ—উভয় স্থান থেকেই রোহিঙ্গাদের প্রলুব্ধ করে আসছে। প্রায়ই এসব মানুষকে উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার জন্য অনুপযোগী নৌকায় গাদাগাদি করে তোলার আগে ব্যাপক নির্যাতন ও চাঁদাবাজির শিকার হতে হয়।

সিরাজের ভাতিজা মমতাজ উল্লাহ জানিয়েছেন, গত ২২ জুন তার পরিবারের সঙ্গে সিরাজের শেষ কথা হয়। ওই সময় একটি নৌকা প্রথমবার রওনা হওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে এবং কয়েক দিন পরে আবার যাত্রা শুরু করে। মমতাজ বলেন, "আমরা জানি না সে বেঁচে আছে কিনা। আর দশজনের মতো আমরাও ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। মনে হচ্ছে যেন আমাদের টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে।"

সাম্প্রতিক সময়ে এমন গুজব ছড়িয়েছে যে, প্রতিপক্ষ পাচারকারীরা নৌকাটি ছিনতাই করে থাকতে পারে, তবে এ বিষয়ে অন্য কোনো নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়নি।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, মিয়ানমার উপকূলে সম্প্রতি দুটি নৌকা ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর একটিতে ২৫০ এবং অপরটিতে ২৮০ জন যাত্রী ছিল। অনেকটাই নিশ্চিত যে, সিরাজ এই দুটি নৌকার কোনো একটিতে ছিলেন।

তিনি স্বেচ্ছায় যাত্রা করেছিলেন। তবে এক মানবাধিকার গবেষক (যিনি তার সংস্থার পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি পাননি) দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, অন্যান্য পরিবারগুলোর দাবি যে, তাদের স্বজনদের মিয়ানমার ও বাংলাদেশের বিভিন্ন অংশ থেকে অপহরণ করে বন্দিশিবিরে আটকে রাখা হয়েছিল। পরিবারগুলোর সদস্যরা পাচারকারীদের মুক্তিপণ দিতে রাজি না হওয়া পর্যন্ত তাদের সেখানে জিম্মি করে রাখা হয়।

২০০০- এর দশকের শুরু থেকে বঙ্গোপসাগর ও মালয়েশিয়ার মধ্যে একটি বিশাল অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে। মিয়ানমার ও বাংলাদেশের পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে চাওয়া রোহিঙ্গাদের মরিয়া আকাঙ্ক্ষাকে পুঁজি করে তারা লাভবান হচ্ছে।

১৯৮২ সাল থেকে মিয়ানমারে এই মুসলিম সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে। এরপর থেকে তারা কয়েক দফায় বহিষ্কার ও নিধনের শিকার হয়ে মূলত বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশে আসার পর রোহিঙ্গাদের চলাফেরার ওপর বিধিনিষেধের পাশাপাশি কাজ বা শিক্ষার সুযোগও সীমিত।

সিরাজ উল্লাহ ২০১৭ সালে প্রথমবার মিয়ানমার ছাড়েন, যখন সামরিক বাহিনীর চরম সহিংস অভিযানের মুখে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশে তিনি তার ভাতিজা মমতাজের সঙ্গে থাকতেন। মমতাজ বলেন, "আমরা একসঙ্গে পড়াশোনা করেছি, খেলাধুলা করেছি। আমরা চাচা-ভাতিজার চেয়ে বন্ধু বা ভাইয়ের মতোই বেশি ছিলাম। ছোটবেলা থেকেই সিরাজের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল একজন পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড় হওয়া। এতসব প্রতিকূলতার পরও সে তার এই স্বপ্নটি আঁকড়ে ধরেছিল।"

রোহিঙ্গা দলগুলোর হয়ে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলে ফুটবলার হিসেবে পুরস্কারও জিতেছিলেন সিরাজ। কিন্তু বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে খেলার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় তার পক্ষে এ আগ্রহ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

২০২২ সালে তিনি প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়া পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। সেবার তাদের নৌকা ঝড়ের কবলে পড়ে এবং যাত্রীরা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের হাতে ধরা পড়ে। অনুমতি ছাড়া গ্রাম ছাড়ার কারণে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে রোহিঙ্গাদের কারাদণ্ড দিয়ে থাকে। তাকে মুক্ত করতে তার পরিবারকে ২৯ লাখ মিয়ানমার কিয়াট ঘুস দিতে হয়েছিল।

গত ২৪ মাসে মিয়ানমারের পরিস্থিতির আবারও মারাত্মক অবনতি হয়েছে। রাখাইন নৃগোষ্ঠীর বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মি এবং মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে নতুন করে দেড় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের হত্যা, জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করা এবং মানবঢাল হিসেবে যুদ্ধে যুক্ত করার অভিযোগ রয়েছে।

সিরাজের মতো তরুণদের কাছে সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার এ চরম ঝুঁকি নেওয়াটাই হয়তো বাঁচার একমাত্র উপায় বলে মনে হতে পারে। মমতাজ বলেন, "আমরা তার না যাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেছিলাম। কারণ আমরা জানতাম এ পথ কতটা বিপজ্জনক। কিন্তু সে মনে করত তার সামনে আর কোনো বিকল্প নেই... এটি কেবল সিরাজের গল্প নয়, এটি আরও হাজারো রোহিঙ্গা পরিবারের গল্প। আমরা এখনও আশা করি, সিরাজ বেঁচে আছে, আমরা দোয়া করি একদিন সে বাড়িতে ফিরে আসবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:২৮ পি.এম


স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে সহজলভ্য করার জন্য এবং মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

শুক্রবার (২৫ জুলাই) সকালে তিনি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আকস্মিক পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় তিনি হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতে সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণে বর্তমান সরকার চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আমাদের উদ্দেশ্য মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা। এ বিষয়ে শিগগিরই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে। চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

মন্ত্রী করোনা পরিদর্শনকালে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাসেবার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।

এ সময়ে মন্ত্রী হাসপাতালের স্টোরে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এবং বাথরুমে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সরকারি ওষুধ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমার দেশের দরিদ্র মানুষ ওষুধ পায় না, আর এখানে লাখ লাখ টাকা সরকারি ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়ে রয়েছে। এমনকি বাথরুমেও সরকারি ওষুধ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে।’

এ ধরনের অনিয়মের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মো. নাসের রিকাবদার, মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতিসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

পরে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে বিকেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও পরিদর্শন করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাজ্যে ‘‘দ‍্য ওয়ান পাউন্ড হসপিটাল’’ এর উদ্যোগে মতবিনিময় ও নেটওয়ার্কিং সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শহিদুল ইসলাম, সি‌লেট

শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:২৯ পি.এম


যুক্তরাজ্যে ‘‘দ‍্য ওয়ান পাউন্ড হসপিটাল’’ এর উদ্যোগে মতবিনিময় ও নেটওয়ার্কিং সভা অনুষ্ঠিত

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক জনকল্যাণমূলক দাতব্য সংস্থা ‘‘দ‍্য ওয়ান পাউন্ড হসপিটাল’’ উদ্যোগে যুক্তরাজ্যের ব্রাইটনের ক্রওলি শহরে ২৪ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার রাত ১১টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় ও নেটওয়ার্কিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাইটনের বিশিষ্ট মুরব্বী আলহাজ্ব এম এ কাইয়ুম। প্রেস-মিডিয়া ডাইরেক্ট শাহ সোহেল আমিনের পরিচালনায় এই সভায় হাসপাতালের কার্যক্রম, আয় ব‍্যয়ের হিসাব প্রদান করা হয়, পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং প্রবাসীদের সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

উপস্থিত বক্তারা স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করার পাশাপাশি এক সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার স্বরূপ বক্তব্য রাখেন।

বক্তব‍্য রাখেন সেক্রেটারী জেনারেল হেড অব ফাইন্যান্স কাউন্সিলর মোহাম্মদ আয়াছ মিয়া, ট্রেজারার মাওলানা সিরজুল ইসলাম সাদ, ট্রাষ্টি এম আবুল হাশেম, সমুজ আলী, আসিক আলী, উপদেষ্টা-ডা. আতাউর রহমান, এম এ কাইয়ুম, ফজলুর রহমান, মসলান্দর আলী, আবুল কালাম আজাদ চোটন, আসাব আলী, আবুল হক, সৈয়দ মনুয়ার আহমেদ, ফয়সল আহমেদ, খয়রুল ইসলাম, আশিকুর রহমান, আবদুল হান্নান, ইউসুফ আলী, তাহিদ মিয়া কয়েস, মির্জা শাহিন বেগ, শিপার বেগ, ফারুক আলী, ফারুক হোসেন।

ফাউন্ডার মেম্বার হিসেবে খালেদ মাসুদ রনি, কো-অর্ডিনেটর ফারুক মিয়া প্রমুখ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অনেকেই ফাউন্ডার মেম্বার হতে প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। বক্তারা বলেন, ব্রিটিশ রেজিস্টার্ড চ্যারিটি The £1 Hospital–এর একটি সম্পূর্ণ অলাভজনক মানবিক প্রকল্প, যা সিলেটসহ বাংলাদেশের অসহায় মানুষদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করবে।

বক্তারা মানবিক কাজে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

দ‍্য ওয়ান পাউন্ড হসপিটাল (£1 Hospital) একটি যুক্তরাজ্য নিবন্ধিত জনকল্যাণমূলক দাতব্য সংস্থা। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র মানুষের দোরগোড়ায় সাশ্রয়ী মূল্যে এবং বিনামূল্যে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছানো।

মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য包括: জরুরি স্বাস্থ্যসেবা: বাংলাদেশের সবচেয়ে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। হাসপাতাল নির্মাণ: সিলেটের বিশ্বনাথে ব্রিটিশ মানের একটি ৫০ শয্যাবিশিষ্ট সাধারণ (জেনারেল) হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা। সাশ্রয়ী ও বিনামূল্যে সেবা: সাধারণ ও দুস্থ মানুষের জন্য কম খরচে অথবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং ওষুধের ব্যবস্থা করা। বহুমুখী চিকিৎসা কার্যক্রম: প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্রি ফ্রাইডে ক্লিনিক (শুক্রবার বিনামূল্যে চিকিৎসা) চালুর পর একে সপ্তাহের প্রতিদিনের পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে রূপান্তর করা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%