প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে বেশ কিছু দিন ধরে ভারত উত্তাল ছিল। নয়াদিল্লির রাজধানী থেকে আন্দোলনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছিল দেশের বিভিন্ন রাজ্যে, যেখানে পশ্চিমবঙ্গও অন্তর্ভুক্ত। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ সহ, নিজেদের তিন দাবি আদায় করেছে ভারতীয় তরুণদের নতুন প্লাটফর্ম তেলাপোকা বা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তাদের দাবি আদায় করার পর, ইতোমধ্যে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছে তারা।
তবে, বিষয়টিকে এখানেই শেষ হতে দিচ্ছেন না পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে গুন্ডা দমন আইনে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) ধর্মতলায় বামপন্থি ছাত্র সংগঠন এবং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পক্ষ থেকে বিশাল এক মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এই মিছিল থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের লক্ষ্য করে পানির বোতল এবং জুতো ছোড়া হয়েছে এবং তাদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজ্য বিধানসভায় তিনি জানিয়েছেন, এই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে গুন্ডা দমন আইন প্রয়োগ করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বিবৃতিতে বলেন, মিছিল থেকেই সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে বোতল ও জুতো ছোড়া হয়েছে। তিনি জানান, তিনি নিজে আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেছেন। ইউনাইটেড ককরোচ মার্চ নামে এই আন্দোলনের ঘোষণা করা হয়েছিল। স্বঘোষিত ককরোচ পার্টির দেবদত্ত গঙ্গোপাধ্যায় এবং বামপন্থিদের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, সমবেত মিছিলকারীরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যাওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ করা যাবে না। ককরোচ জনতা পার্টির পক্ষ থেকে একে ছাত্র সংগঠন বলা হলেও, তাদের কোনো বৈধ ছাত্র সংগঠন আছে বলেও জানা নেই।
এরপর, পুলিশের সংযমের প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুলিশকে শুরুতেই নজরদারি চালাতে বলা হয়েছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যাওয়া পর্যন্ত বলপ্রয়োগে কঠোরভাবে বারণ ছিল। খিদিরপুর, রাজাবাজার, বেলগাছিয়া ও রাজারহাট থেকে লোক এনে ডোরিনা ক্রসিংয়ে বোতল ও জুতো ছোড়া হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের টার্গেট করা হয়েছে। বারবার প্ররোচনা থাকা সত্ত্বেও, বলপ্রয়োগ এড়িয়ে গেছে কলকাতা পুলিশ। এই বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর গুন্ডা দমন আইন যুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগিত आंदोलनকারীদের চিহ্নিত করে রাজ্য বিধানসভায় তাদের নামও প্রকাশ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, আফরোজ, নাহিদ, তনভির, রাহুল ও জামালের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, ছয়জন সাংবাদিক বন্ধু বর্তমানে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহত সাংবাদিকদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ তারা গ্রহণ করেছেন। মোট ছয়টি মামলা হয়েছে এবং বিধানসভায় পাশ হওয়া গুন্ডা দমন আইন এই মামলাগুলোতে যুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের তদন্তে এরই মধ্যে ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা আদতে কোনো সাধারণ ছাত্র বা নিট আন্দোলনের অংশ নন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন